সারপ্রাইজ

সারপ্রাইজ

-নামো রিস্কা থেকে নামো বলছি!
-আচ্ছা আমি চাকরিটা না পেলে কি করব আমিওত চেষ্টা করে যাচ্ছি নাকি?
-আমি কোনো কথা শুনতে চাইনা।আমি অনেক বিয়ে ভেঙ্গেছি আর পারবনা,তুমি জানো? বাসায় আমাকে কতটা পেরায় থাকতে হয়?
-আমি এখন কি করব বল প্রিয়া/?
-তুমি বসে বসে ঘাস কাটো।আমি আর পারবনা ২০তারিক আমার বিয়ে এই নাও কার্ড,মামা চলো।
-প্রিয়া আমার কথা শুনো প্লিজ আমাকে আর একটা শুযগ দাও।প্রিয়া প্রিয়া।

নাহ এ হতে পারেনা ৪ বছরের ভালবাসা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো।নাহ মানা যায়না। হায় আমি রাকিব,বেকার ঘুরে বেরাই যার কারনে প্রিয়া আমাকে ছেরে চলে গেল। চাকরির জন্য কম চেষ্টা করিনি তবে হয়নি। কারন একটাই টাকা আর মামার জোর যার একটাও আমার নেই। ওইদিকে প্রিয়ার পরিবার বিয়ার চাপ দিচ্ছে প্রিয়াকে। এতদিন লেখাপরার নাম করে বিয়ে আটকাইছে।এতদিনে আমি কিছুই করতে পারিনি। হাটতে হাটতে বাসায় চলে আসছি।ভাবছি মাকে কি জবাব দিবো। কত আশা নিয়ে বসে আছে চাকরিটার জন্য।

-রাকিব কিরে বাবা চাকরিটা পেলি?
-না মানে…
-মন খারাপ করিস না বাবা আয় খেতে আয়।

মায়েরা এরকমেরি।চাকরিটা আমার খুব দরকার বুঝেই না হওয়ার কারনে আমাকে শান্তনা দিচ্ছে। বাবা নেই।আমি মা আর আমার একটা বোন। বোনাটার পরিক্ষার ফিস দিতে হবে অথছো ঘরে টাকাই নেই এতদিন বাবার জমানো টাকা দিয়ে সংসার চলছে।

-রাকিব আয় বাবা খেয়ে নেয়
-হে মা আসছি।
-বস এখানে।
-মা কাজল কোথায়?,
-এই যে ভাইয়া এসে গেছি।
-হুমম বস।কিন্তু মা বাসায়ত বাজার ছিলনা বাজার কোথায় পেলা? তাও আবার মাছ মাংশ।
-ই মানে বাবা আমার কাছে কিছু টাকা ছিলো তোকে বলিনি তা দিয়ে কিনেছি।
-ওহ আচ্ছা।
-ভাইয়া আমার পরিক্ষার ফিসটা দিলে কখন।
-আমি ফিস দিছি?কি বলিস আমিত দেইনি।
-কই কলেজে গেলাম স্যার বলল ফিসের টাকা দিয়েছে বললাম কে দিছে ত তোমার কথা বলল।
-আমি ত টাকা দেইনি নায় বেপারটা দেখতে হচ্ছে। মা আমি একটু আসছি। এ হতে পারেনা আমি ত টাকা দেইনি ত দিলো কে? একবার কলেজে খোজ নিতে হবে। হ্যালো সার আমি একটু কথা বলতে পারি।

-আরে রাকিব আসো বসো আর কি হয়েছে বল?
-সার আমার বোনের ফিসটা ত আমি দেইনি ত কে দিলো।
-দেখ যেই দেক কাজল পরিক্ষাত দিতে পারবে।
-কিন্তু সার এটা কে দিলো?
-সেটা আমি বলতে পরবনা।তুমি বাসায় যাও? আর তোমার বোনও এটা জানে কে দিছে।
-কিন্তু ও ত বলছে আপনি নাকি বলছে আমি দিছি?
-ওটা ও বলেছে যাতে তুমি চিন্তা না করো টাকা নিয়ে তাই।
-ধন্যবাদ সার আসি আসসালামু আলাইকুম। বাসায় গিয়ে……
-কাজল কাজল!
-কি হয়েছে এরকম চিতকার করছিস কেন?? মা কাজল কোথায়??
-কি হয়েছে ভাইয়া এত জোরে ডাকো কেন??
-তুই আমাকে মিথ্যা বললি কেন?
-কি মিথ্যা বলছি ভাইয়া?
-নাটক করা বন্ধ কর।সত্যি করে বল ফিসের টাকা কে দিয়েছে??
-……।

-চুপ কেন বল বলছি?
-আহা ওকে এত ধমকাচ্ছিস কেন
-মা তুমি থামো আমাকে কথা বলতে দাও।বল বলছি?
-ভাইয়া যে টাকা দিছে সে তোমাকে বলতে না করেছে।
-তুই যদি আমাকে না বলিস ত এমন যায়গা চলে যাবো খুজেই পাবি নাা।
-বলছি ভাইয়া।ভাবি প্রিয়া ভাবি দিয়েছে এমন কি আজকের বাজারো প্রিয়া ভাবি দিয়েছে।
-মা তুমিও আমাকে মিথ্যা বললে।
-আসলে
-থাক আর বলতে হবেনা।কিন্তু প্রিয়া এটা কেন করলো ওর ত ২দিন পর বিয়ে।
-কার সাথে বিয়ে জানিস?তোর সাথে।
-মানে??
-তোর চাকরি অনেক আগেই হয়েছে প্রিয়ার বাবার অফিসে।কিন্তু তোকে জানাতে মানা করেছে তোকে সারপ্রাইজ দিবে বলে। প্রিয়ার বাবা সেদিন এসে তোর সাথে প্রিয়ার বিয়ের ডেট ফাইনাল করে গেছে।

-এত কিছু হয়ে গেছে আর আমি কিছু জানিনা? আমি একটু আসছি।
-কোই যাচ্ছিস খেয়ে যা। প্রিয়া এত বড় ধোকা দিল আমাকে?প্রিয়ারকাছে যেতে হবো। আমি জানি প্রিয়া এখন কোথায়।
-তুমি এখানে?আমি ত বলেছি আমি আর পারবনা।
-বাহ নাটক খুব ভালোই করতে পারো
-মানে কিসের নাটক?
-আমি সব জেনে গেছি আর এও জানি ২০তারিক বিয়েটা আমার সাথেই হচ্ছে
-তুমি জেনে গেছো?আসলে তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।
-আমাকে কষ্ট দিয়ে সারপ্রাইজ।
-সরি আর হবেনা। আরে কই যাও সরি বলছিত
-পথ ছারো.
-নাহ আগে জড়িয়ে ধরো তারপর।
-প্রিয়া পথ ছারো নয়লে।
-না ছারবো না মরবা মারো মরে যাবো তবুও ছারব না।
-ঠাসসসসসস।

-আর একবার মরার কথা বললে ত।
-আর একটা মারো তবু ওসরি আর হবেনা।
-ওকে এবার চলো.
-আগে জড়িয়ে ধরো তারপর।
-এইখানে সবাই দেখবে ত।
-দেখুক তুমি ধরো।
-ওকে এই এই ধরলাম।
-হুমম বেশি কষ্ট পেয়েছিলে বাবু?
-হুমমম
-ওরে বাবুটা সরি আর কষ্ট দিবনা।উমমম্মাহ -এই এটা কি করলা
-চুমা দিছি।তুমিও দাও।
-না আমি পারবনা।
-দাও বলছি নয়লে।
-ওকে দিচ্ছি উম্মাহ
-হিহিহি চলো
-পাগলি
-হুমমম তোমার।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত