অতঃপর প্রতিশোধ

অতঃপর প্রতিশোধ

– ইচ্ছে উঠ, আর কত ঘুমোবি?
– উফফ্ মা, এই বিকেলবেলা কেউ ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম।
– জানি কি স্বপ্ন দেখছিলি, তুই তোর কলেজের টিচারের গায়ে গোবর ঢেলে দিচ্ছিস তাইতো?
– হুম, গোবর ঢালতেই যাচ্ছিলাম তার আগে তুমি ঘুমটা ভাঙিয়ে দিলে।
– গত একমাস ধরে এই স্বপ্নের কথা শুনছি। তুই কবে শুধরোবি বলতো? কবে এই বাদরামো করা বাদ দিবি? সরাসরিতে হচ্ছে না এখন স্বপ্নের মধ্যেও সবাইকে জ্বালানো শুরু করলি।
– সবাইকে কোথায় মা, শুধু ওই গোমড়ামুখো নতুন টিচারটাকে। সবসময় ক্লাসে পড়া নিয়ে রাগ দেখায়। আমার উপর চেচামেচি করে, বকা দেয়। হোমওয়ার্ক করতে দেয়। তুমিই বলো মা, অনার্স ৩য় বর্ষের ক্লাসে হোমওয়ার্ক, আমরা কি ছোট বাচ্চা নাকি। (আমাকে পুরো ক্লাসের সামনে হোমওয়ার্ক নিয়ে অপমান করেছে এর শোধ তো নিতেই হবে)

– কে বলেছে ছোটই আছিস। তুইতো অনেক বড় হয়ে গেছিস। বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছে তোর। আর তাইতো তোর বাবার বন্ধুর ছেলে কালকে তোকে দেখতে আসবে।

– কিহহ। কি বলছ মা তুমি। দেখতে আসবে মানে। আমার কি এখনো বিয়ের বয়স হয়েছে নাকি। আর তোমরা আমাকে না জানিয়ে পাত্রপক্ষ ডেকেছ। প্লানটা নিশ্চই বাবার তাই না? বাবা কোথায়?

– তোর বাবা বাইরে গেছে।
– কিরে বিয়ের কনের ঘুম ভাঙলো?
– ভাইয়া তুইও। তারমানে তোমরা সবাই এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছো? মানবো না আমি। আমি হর্তাল ডাকবো।
– ইচ্ছে মা আমার ওরা তো শুধু দেখতে আসবে। বিয়ে তো আর হচ্ছে না।
– এইযে মা সত্যি করে বলো তো, ভাইয়ার কথাটাই সত্যি নাকি?
– কি কথা?
– এইযে তোমরা আমাকে রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছ।
– কি যা তা বলছিস ইচ্ছে।
– তাহলে এমন সৎ মায়ের মতো আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর প্লান করছ কেন?
– এইসব উল্টোপাল্টা কথাবলা বন্ধ করবি। পড়শু তোকে দেখতে আসবে এটাই ফাইনাল। আমি তোর আর কোন কথা শুনতে চাই না।
– মা শুনো আমার কথাটা। যাহ, চলে গেলো নাহ।

এতো ১০ নং বিপদ সংকেত। আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর প্লান চলছে। নিশ্চই এতে কোন ৩য় পক্ষের হাত আছে। কিন্তু ৩য় পক্ষটা কে হতে পারে। ১ম পক্ষ হলো বাবা মা, ২য় পক্ষ হলো ভাইয়া। ৩য় পক্ষটা কে? নাহ এতো দেখছি রহস্যজনক। “ইচ্ছে ভাব ভাব তোর ডিটেকটিভ মাইন্ড কে কাজে লাগা। এই ৩য় পক্ষটা নানি নয়তো আবার। উফফ এই চিন্তার মাঝে কে ফোনের ঘন্টা বাজাচ্ছে।

– হ্যালো
– হ্যালো ইচ্ছে, আমি শেষ হয়ে গেলাম। (লুবা> বেস্ট ফ্রেন্ড)
– ন্যাকা কান্না বাদ দিয়ে বল কি হয়েছে?
– আশফির (লুবার বফ) সাথে ঝগড়া হয়েছে।
– আ মোর মরন। খুব ভালো হয়েছে, ফোন রাখ।

আমি আছি আমার জ্বালায় আর উনি এসেছে তার বফ এর সাথে ঝগড়ার খবর নিয়ে। নাহ, কিছুই তো মাথায় আসছে না। কি করবো? আফসুস, এখন মনে হচ্ছে জীবনে একটা প্রেম করলেভালো হতো। আর কিছু হোক আর না হোক পালিয়ে তো যেতে পারতাম। রুহান আর ইমন এরা দুজন কতদিন আমার পিছনে ঘুরেছিল, আমিতাদেরকে নাকানি চুবানি দিলাম। এখন তারা মিলা আর সাথীর সাথে প্রেম করছে। ইস আগে যদি জানতাম বাবা মা এমন করবে তাহলে দুজনেরই প্রপোজ করতাম। আর কিছু না হোক দুইটা অপশন তো হাতে থাকতো। আরে ধুর আমি এতো কিছু ভাবছি কেন? আমাকে দেখতে আসলে সরাসরি বলে দিব আমার বরফ আছে। তাহলেই বিয়েটা ভেঙে যাবে। যাক চিন্তামুক্ত হয়ে শান্তিতে একটা ঘুম দিলাম। এক ঘুমেই রাত পার হলো। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চুপচাপ সবার সাথে নাস্তা করলাম। আমাকে এতো শান্ত দেখে সবাই হয়তো অবাক হয়েছে হি হি হি। সবাই তো আর জানেনা, আমি কি প্লান করেছি হি হি, আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর প্লান।

– কিরে ইচ্ছে তুই ঠিক আছিস তো?(ভাইয়া)
– কেন আমার আবার কি হবে!
– না আজকে ঘরের পরিবেশে সাইক্লোন ঘূর্নি ঝর কিছুই নেই তো তাই আরকি বললাম। (তোমরা যা খুশি বল আই ডোন্ট কেয়ার, পরে টের পাবে ইট মারলে পাটকেল খেতে হয় হু) আমার এখন আর কোন কাজ নেই তাই বসে বসে এটম খাচ্ছি আর চাপার জোর বাড়াচ্ছি।

– কিরে তুই এখনো রেডি হস নি। ওরা তো এসে গেছে
– কে এসেছে?
– তোর বাবার বন্ধুর ছেলে তোকে দেখতে এসেছে। জলদি জলদি রেডি হয়ে নে।
– ইস, পারবো না রেডি হতে যেভাবে আছি সেভাবেই যাব তাদের সামনে।
– আচ্ছা ঠিক আছে, মাথায় ঢাকা দিবি তো নাকি।

ভাবছি তাদের সামনে চোখ ট্যারা করে থাকব, তাহলে তারা আমাকে অপছন্দ করবে। আমি গিয়ে তাদের সামনে দাড়ালাম। চোখ তুলে তাকাতেই আমার চোখ যেনো ছানাবড়া হয়ে গেলো। এ যে গোমড়ামুখো স্যার। তারমানে ইনিই বাবার বন্ধু এবং পাত্র। সর্বনাশ। তিনিও চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। চিন্তায় মাথাটা ফেটে যাচ্ছে এখন কি হবে। আমি এতো চিন্তা করছি কেন। সুযোগ পেয়েছি প্রতিশোধ নেওয়ার, আমাকে বকা দেওয়া। দাড়াও বাছাধন বিয়ের জন্য পাত্রি দেখার শখ মেটাব। যখন জানতে পারবেন যে পাত্রী বিয়েই করবে না তখন মজাটা বুঝবেন। হি হি হি এক ঢিলে দুই শিকার। আমাদের দুজনকেই আলাদাভাবে কথা বলার জন্য পাঠানো হলো। দুজনেই চুপচাপ আছি।কি আজব ক্লাসে তো খুব চেচামেচি করতে পারে এখন চুপ করে আছে কেন।

– শুনুন মিস.ইচ্ছে আপনি গিয়ে আপুনার বাবামাকে বলবেন যে আপনি এ বিয়ে করবেন না।
-এহ্য্য্য,
– এই বিয়েতে আমার কোন মত নেই। শুধুমাত্র বাবার জন্য এখানে এসেছি। যাই হোক আমার ধারনা মতে আপনিও নিশ্চয়ই বিয়েতে রাজি নন। কি হলো বুঝতে পেরেছেন?

– হুম, জ্বি স্যার।
– গুড।

এটা কি হলো, আমি বিয়েতে না বলে উনার উপর প্রতিশোধ নিতে চাইলাম। কিন্তু উনিই না বলে গেলেন। আমার সব প্লান এ পানি ফেলে দিলো এভাবে। এখন কি করবো, কিভাবে প্রতিশোধ নেব। আর উনি আমাকে না বলে গেলো আমাকে! আমার জানামতে আমিতো মোটেও অসুন্দর না। অসুন্দর হলেতো রুহান আর ইমন আমার পিছনে ঘুরত না। নাহ এটা আমার অপমান। আমাকে রিজেক্ট করা।

বাবা মাকে গিয়ে বললাম, আমার ছেলে পছন্দ হয়েছে৷ বাবা মা একথা শুনে খুব খুশি হয়ে বিয়ের ডেট ফিক্সড করে ফেললো। এইবার হারে হারে টের পাবেন চান্দু আমাকে বকা দেওয়ার মজা হি হি হি। আপনার বিয়ে না করার প্লান এ গোবর ঢেলে দিলাম হি হি হি। গতদিন কলেজে গিয়ে এর প্রভাবটা বেশ গোমড়ামুখোর চেহারায় প্রতিফলিত হচ্ছিলো। ক্লাস শেষে আমাকে দেখা করতে বলে চলে গেলো। আমিও কি কম নাকি, ক্লাস শেষে সরাসরি বাসায় হি হি। আর আজ থেকে ইদের ছুটি শুরু তাই কলেজও বন্ধ। এইভাবে গোমড়ামুখোকে জব্দ করতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। উফফ এই ফোনের রিংটোন তখন থেকে বেজেই চলেছে। শান্তিমত ঘুমোতেও দিচ্ছে না অসহ্য। আননোন নাম্বার

– এইযে কি সমস্যা কি আপনার। ঘুমোন টুমোন না নাকি। এই বিকেলবেলা কেউ কাউকে ফোন দেয়। কে আপনি
– মিস. ইচ্ছে। আমি আপনার ম্যাথ টিচার আলভী।
– ওহ আপনি। কেন ফোন করেছেন, আর আপনি আমার নাম্বার কই পেলেন
– নাম্বার আপনার মায়ের কাছ থেকে নিয়েছি। আপনি সেদিন দেখা করেন নি কেন? ( – এইরে এখন কি বলি)
– আচ্ছা সেদিনের কথা বাদ। আপনার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে,আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই।

– কিন্তু আমি দেখা করতে চাই না।

ফোন রেখে দিলাম। উফফ বড় বাচা বেচে গেছি। পরেরদিন ঘুম থেকে উঠেই রুম থেকে বের হতে গিয়ে দেখি মি. গোমড়ামুখো বাইরে বসে আছে।এখন কি হবে। উনি যদি আমাকে দেখে বকাঝকা শুরু করে দেয় তখন। নাহ আজ কিছুতেই রুম থেকে বের হওয়া যাবে না। মা আমাকে ডাকছে আর দরজা ধাক্কাচ্ছে। দরজা আমি কিছুতেই খুলব না।

– মা যাওতো এখান থেকে। আমি বের হব না। মা ডেকেই চলেছে। এদিকে খিদেও পেয়েছে। নাহ মা যে হারে চেচিয়ে ডাকছে, কখন না আবার মায়ের চিৎকারে পাশের বাসার লোকজন চলে আসে। দরজা খুলে বের হতেই গোমড়ামুখো আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল,

– কি ব্যাপার মিস.ইচ্ছে আমার ভয়ে দরজা খুলছিলেন না নাকি। আমিও না শুনার ভান করে মায়ের সামনে গিয়ে বললাম

– খিদে পেয়েছে।
– খিদের হিসেব পরে, আগে বল আলভী তোর কলেজের টিচার এটা আমাকে আগে বলিস নি কেন?
– এতে বলার কি আছে। এসব বাদ দিয়ে এখন খেতে দেও তো, খিদে পেয়েছে।
– খিদে পেয়েছে তো রেডি হয়ে আয় যা।
– রেডি হয়ে আসবো মানে?
– তোরা নাকি বাইরে ঘুরতে যাবি। আলভী বললো।
– কিহহ
– সেকি ইচ্ছে তুমি আন্টিকে বল নি। কালকেই তো ফোনে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্লান করলাম।
– এএএ, কখন!!!!!!
– ও হয়ত ভুলে গেছে আন্টি।

কি ব্যাপার ইনি এতো আদিখ্যেতা দেখাচ্ছে কেন? আমি যে উনার উপর প্রতিশোধ নিতে এমন করছি সেটা বুঝে যায়নি তো। এমন যদি হয় তাহলে তো আমি শেষ। আরকিছু না বলে চুপচাপ রেডি হয়ে খাওয়া করে গোমড়ামুখোর সাথে বেড়িয়ে পড়লাম।রিকশায় পাশাপাশি বসে আছি। আচ্ছা আমি কি উনাকে জিজ্ঞেস করবো আমরা কোথায়যাচ্ছি। কিন্তু যদি বকা দেয়, সেদিন ওভাবেফোন রেখে দেওয়ার জন্য। একটা প্রশ্ন করবো এর জন্য এতো ভাবছি কেন আমি, ধুরর

– আমরা কোথায় যাচ্ছি।
– আমার দাদুর বাসায়।
– কেন?
– সেটা গেলেই দেখবে?

আমি আর কিছুই বললাম না। প্রায় ৪৫ মিনিট পর আমরা পৌছুলাম। বাড়ির ভিতর ঢুকতেই সবাই এমন আচরণ করতে লাগলো যেন আমি নতুন বউ। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, গোমড়ামুখো আমাকে সবার কাছে তার হবু বউ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিল। আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমি গোমড়ামুখোকে জব্দ করতে চাইলাম উল্টো আমিই যেন জব্দ হয়ে গেলাম। আর গোমড়ামুখো আমাকে আপনি থেকে তুমি করে বলছে।

কিছুই বুঝতে পারছিনা। সারাদিন ঘুরাঘুরি করে রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। এবং স্বপ্নে দেখলাম গোমড়ামুখো আমাকে বলছে, আমার প্রতিশোধ নেওয়ার প্লান এর বারোটা বাজাবে। আমার ঘুমটাও ভেঙে গেলো। নাহ প্রতিশোধ নিতে চাই না।কাল সকালেই সবাইকে বলবো আমি এ বিয়ে করবো না। ঘুমভাঙলো দশ টায়। রুম থেকে বেরিয়ে দেখি পুরো বাসা মেহমান এ ভরা। এসব কি। সবাই মিলে আমাকে ধরে হলুদ লাগিয়ে দিলো। সন্ধ্যা হতেই আমাকে বউ সাজিয়ে গোমড়ামুখোর পাশে বসিয়ে দিল। কাজি কবুল বলতে বলল আমি কবুল বলে কাগজে সাইন করে দিলাম। পুরো দিনের এই আকস্মিক ঘটনায় শুধু এতটাই মাথায় ঢুকলো যে আমি যা চাই নি তাই হলো। গোমড়ামুখোর সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলো। এখনো যেন ঘোরের মধ্যে আছি। আমি এখন গোমড়ামুখোর ঘরে বসে আছি। গোমড়ামুখো রুমে ঢুকেই বলতে লাগলো

– আমি জানি তুমি এখনো ঘোরের মধ্যে আছ। আমি বিয়ের জন্য না বলে কেন এভাবে হুট করে বিয়ে করলাম। আসলে আমি জানতে চাচ্ছিলাম তোমার এ বিয়েতে মত আছে কি না।
– মানে কি আপনার!!!
– মনে আছে ইচ্ছে তিন বছর আগে কলেজের কাছে একটা বাস এক্সিডেন্ট হয়েছিল।

সেই এক্সিডেন্ট এ অনেক লোক আহত হয়েছিলো। আহত লোকদের জন্য অনেক রক্তের প্রয়োজন ছিল। আর তখন কলেজের প্রায় অধিকাংশ স্টুডেন্ট রক্ত দিয়েছিল। কিন্তু কয়েকজনের রক্তের গ্রুপ মিলছিল না। তখন কলেজেরি ১ম বর্ষের একটা মেয়ে রাস্তার যাত্রীদের থামিয়ে জোর করে তাদের কাছ থেকে রক্ত নিয়েছিল । সেই যাত্রীদের মধ্যে আমিও ছিলাম। আর প্রথম দেখায় সেই মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। মনে মনে এটা ঠিক করে নিয়েছিলাম যে বিয়ে যদি করতেই হয় এই মেয়েকেই করব। পরে মাথায় আসল যে যদি মেয়েটা আবার অন্য কাউকে ভালোবাসে। এটা জানার জন্য গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করে ছয়মাস আগে মেয়েটার কলেজে টিচার হিসেবে যোগ দিলাম। তারপর জানতে পারলাম যে মেয়েটা অনেক বদমেজাজি এবং ঝগড়ুটে। আর তার কোন বফ নেই।

– কি বললেন আমি ঝগড়ুটে আর বদমেজাজি। আপনি ঝগড়ুটে এবং বদমেজাজি। ক্লাসের মধ্যে সবসময় চেচামেচি করেন, বকাঝকা করেন।আর সবসময় এমন ভাব নিয়ে থাকেন যেন কেউ আপনার মাথায় গরম পানি ঢেলে দিয়েছে।

– আস্তে, সবাই কি ভাববে বল তো। বিয়ের রাতেই নতুন বউ ঝগড়া করছে।
– আমি কোন বউ টউ না।
– তাহলে স্ত্রী।
– স্ত্রী ও না
– তাহলে ওয়াইফ
– ধুর ছাই কার সাথে কি নিয়ে চেচামেচি করছি।

নিজের জন্য একবস্তা সমবেদনা নিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। যেই আমি নিজেকে অনেক চালাক ভাবতাম সেই আমি এতো বড় fool হলাম। মা ঠিকই বলে আমার মাথায় গোবরটাও নেই। পরেরদিন আমার বৌভাত এর অনুষ্ঠান এ আমি আর গোমড়ামুখো পাশাপাশি বসে আছি। সকাল থেকে তিনি আমার সাথে অনেকবার কথা বলতে চেয়েছে কিন্তু আমি কথা বলি নি।

– আরে ইচ্ছে তুই!
– নিতু( স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড) তুই!
– হোয়াট আ প্লেসেন্ট সারপ্রাইজ! তুই কনে।
– হুম। তারপর কেমন আছিস?
– হুম অনেক ভালো।

টপ ইন্ডাস্ট্রিয়ালক ে পটিয়ে বিয়ে করেছি। নাও মাই লাইফ ইস সেট। বাই দা ওয়ে তোর তো এরেঞ্জ মেরেজ তাই না? অবশ্য তোর দ্বারা প্রেম ভালোবাসা এমনকি কাউকে পটানো সম্ভব না। আর তোর যা চয়েস তাতে কোন ছেলে তোকে পছন্দ করবে এমনটা নেই বললেই চলে, আচ্ছা তোর হাসবেন্ড তোকে পছন্দ করে বিয়ে করেছে নাকি। আসলে তোর জন্য চিন্তা হচ্ছে। এনিওয়ে হেভ এ গুড লাইফ।

– এক্সকিউজ মি নিতু, এক মিনিট হু গোমড়ামুখো একটু দূরে তার ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলছিল। আমি তার হাত ধরে নিয়ে এসে নিতুর সামনে এসে দাড়ালাম।

– ইউ আর রাইট নিতু, আমার দ্বারা কাউকে পটানো সম্ভব না হয়ত। হি ইস মাই হাসবেন্ড। সে আমাকে তিন বছর আগে আমাকে ফার্স্ট দেখেছিল, আর তখন থেকে সে আমাকে ভালোবাসে এবং আমিও তাকে ভালোবাসি। আই এম ভেরি হ্যাপি। তাই রিকুয়েস্ট করবো যে আমাকে নিয়ে তোর এতো চিন্তা করতে হবে না। আমার কেয়ার করার জন্য আমার হাসবেন্ড আছে। এখন তুই আসতে পারিস। গোমড়ামুখো আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।

– হা করে থাকলে মুখে মাছি ঢুকে যাবে।
– এটা কখন হলো?
– কোনটা?
– এইযে ভালোবাসাটা!
– যেদিন ফার্স্ট টাইম আপনি ক্লাসে এসেছিলেন সেদিনি আপনার উপর ফিদা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আপনার বিহেইভিয়ার এর জন্য ভালোলাগাটাকে ত্যাগ করেছিলাম।
– তাহলে সকাল থেকে কথা বললে না কেন?
– প্রতিশোধ নিলাম। আমাকে বোকা বানানোর প্রতিশোধ হি হি হি।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত