ছবি তুলতে গিয়ে

ছবি তুলতে গিয়ে

দিব্যদের মহালক্ষ্মী অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অবশ্য যদি আকাশ ক্লাউডি না থাকে। দিব্যর দিমা মিসেস প্রতিভা চ্যাটার্জি মাতঙ্গিনী গার্লস স্কুলের হেডমিস্ট্রেস। ভারি গম্ভীর বলে সকলেই নাকি চোখ তুলে কথা বলতে ভয় পায়। দিব্য যেদিন সোনালিদির থেকে কথাটা শুনল, বিশ্বাস করতে পারেনি। দিমা ভারি সুইট। আজই তো আপার্টমেন্টের ছাদে উঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি তুলছিল প্যানোরামা মোডে। দিব্যকে ফটোগ্রাফির নেশা তো দিমাই ধরিয়েছে। বার্থ ডে তে দিমা ডিজিটাল এস এল আর ক্যামেরা গিফট করেছে দিব্যকে। দিব্য আজ দিমার ছবি তুলেছে সেই ক্যামেরায়। দিমা মুখে হাসি রাখলেও ভ্রু সামান্য কুঁচকে ছিল। দিব্য বুঝেছে দিমা দিব্যকে ঠিক বিশ্বাস করছে না। ক্যামেরার ফোকাস ঠিক হচ্ছে কিনা সেটাই সংশয় দিমার। দিব্য ভারি মজা পেয়ে ক্যামেরা জুম করে দিমার ভ্রু কোঁচকানো মুখ ধরে নিল।

দিমার আরেকটা ছবি তুলতে যেতেই শব্দটা পেল দিব্য। হুসসস খিসস জাতীয় একটা শব্দ হল কোথাও। শব্দটা দিমাও পেয়েছে। গলা বাড়িয়ে ছাদ থেকে নীচের দিকে তাকাল দিমা। দেখাদেখি দিব্যও মাথা ঝুঁকিয়ে তাকাল। কিন্তু নীচে সৃজন কাকু, আন্টি আর রোজকে দেখতে পেল। কাল রোজের বার্থ ডে। ওঁরা বোধহয় রোজের জন্য গিফট কিনতে যাচ্ছেন।

স্কুটি টেনে বের করছে অলিভিয়াদি। এই শব্দটা কি স্কুটির শব্দ? না। সেটা স্কুটির শব্দ ছিল না। ঠিক যেন …কোন পাখি বা কোন বেড়াল? হুসসস খিসসস করে কোন পাখি ডাকে? আর বেড়াল? হেসে ফেলেই দিমার দিকে তাকাল ও। দিমা একঝাঁক ঘরে ফেরা পাখির ছবি তুলতে ব্যস্ত। দিব্যও একই সাবজেক্টের ছবি তুলতে রেডি হল। দিমার ট্রাইপডটা এখন কাজে লাগবে না বলে এককোনে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দিব্য তাড়াহুড়ো করছিল। পাখিরা চলে যাচ্ছে। ইস , চান্সটা নষ্ট হল। ঠিক তখনই ফের শব্দটা হল। খানিকটা দূর থেকেই শব্দটা হল বলে মনে হচ্ছে। কোনদিক থেকে এল আওয়াজটা?

বিকেলের লালচে আভায় ভরে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দিব্য ক্যামেরাটা ট্রাইপডে বসিয়ে নিল ফের। কম আলোয় ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছবি তোলাটা রিস্ক হয়ে যাবে। শাটার স্পিড কমে যায় এই আলোয়। ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রেখে ছবি তুলতে গিয়ে ক্যামেরা একটু প্যান করতেই লেন্সে ধরা পড়ল একটা অদ্ভুত জিনিস। ক্যামেরা বসাতে গিয়ে একটু কি হেলে গিয়েছিল নীচের দিকে? একটা বাড়ির ছবি উঠে গেছে। এটা একটা বাড়ি …ঝোপঝাড়ে ঠাসা…।

আরে , এটা তো ওদের অ্যাপার্টমেনটের অপোজিটের বাড়িটা। যে বাড়ির কোন নাম নেই। ঝোপে, গাছপালায় ভর্তি বাড়িটা সবসময় অন্ধকার অন্ধকার! দিমা সেদিন বলছিল বাড়িটাতে নোনা ধরে গেছে। দিমা এ পাড়ায় বহুবছর ধরে আছে। এই বাড়িটাতেই নাকি প্রথম বড় একটা গেট বসানো হয়েছিল। কালো রঙের লোহার গেট। সেই থেকে বাড়ির নাম কারা রেখেছিল গেটওলা বাড়ি। কিন্তু ঝোপের মধ্যে এটা কী? দিমাকে দেখাতেই দিমা প্রথমে খানিকটা হেসে নিল। পরে মুখ গম্ভীর করে বলল –বেড়াল দিয়ে পিঠে ভাজাচ্ছি কিনা কে জানে। দেখি , কী তুলেছ ! ট্রাইপডে ক্যামেরা বসিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা তুলতে গিয়ে গ্রাউন্ড ফ্লোর তুললে কী করে? বলতে বলতে দিমা ছবিটা দেখল। খানিকটা অবাক অবাক গলা দিমার –এটা কী ধরণের প্রাণী রে? চেনা নয়তো। বাঁদর কি? কোথায় ছিল?

মাথা নাড়ল দিব্য। জানেনা ও। এই ধরণের কালো, ডাবা ডাবা চোখ, মোটা ল্যাজ কাদের হয়? চেনা চেনা , অথচ নাম ভুলে যাওয়া প্রাণীটাকে একটা বস্তার মধ্যে ঢোকানো হচ্ছে মনে হয় ! যে ঢোকাচ্ছে , তার মুখটাও চেনা। ওই গেটওলা বাড়িতেই থাকে লোকটা। কেন ঢোকাচ্ছে? বস্তায় ঢুকতে আপত্তি বলেই কি শব্দটা করেছে ওটা? হুসসস খিসসস !

লোকটাও শব্দ করতে পারে প্রাণীটাকে বস্তায় ঢোকার জন্য। দিমা এখন কফি বানাচ্ছে নিজের হাতে। আয়েশ করে খাবে টিভিতে থ্রিলার ছবি দেখতে দেখতে। দিমা চুপ করে বসে কিছু ভাবছিল। কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। দিব্য সেই কথাটা মনে করিয়ে দিতে যেতেই দিমা ঠান্ডা কফির মত চোখে তাকাল –তোর সেই ছবিটা আরেকবার দেখা তো। যেটায় বাঁদরের মত দেখতে একটা প্রাণীকে দেখা যাচ্ছে।

বলতেই দিব্য ক্যামেরা নিয়ে হাজির। ছবিটাতে লোকটাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বস্তার মুখটা অচেনা প্রাণীর মুখের দিকে এগিয়ে রেখেছে সে। মানে প্রাণীটিকে বস্তায় পুরে ফেলছে লোকটা। কিন্তু কেন?

রাতে বৃষ্টি নেমেছে। দিব্য ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে গেটওলা বাড়িটাকে দেখার চেষ্টা করছিল । খানিকটা দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির জলে ঝাপসা চারপাশ। বাড়িটাকে ভাল করে দেখা যাচ্ছে না। দিব্য জানালার কাচে মুখ চেপে বাড়িটা দেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে যেতেই ভীষণ চিৎকারে চমকে উঠল। ক্যাঁক ক্যাঁক ! ওই বাড়ি থেকেই কি শব্দ এল? দিমা কোথায়? দিব্য চুপচাপ রেইন কোট পরে নিয়ে ছাদে উঠে গেল। ছাদের শেষ সীমায় পৌঁছে গেল দিব্য। ওই যে ! বাড়িটাকে এখন একটু দেখা যাচ্ছে। এদিকটা মনে হচ্ছে বাড়ির পেছন দিক। কোনদিনও ভাল করে বাড়িটা দেখাই হয়নি ! একটি , না,তিন চার জন লোক …ঘরের বারান্দায় বসে…কিছু খাচ্ছে…! এই লোকগুলোকে কি কখনও দেখেছে দিব্য? না তো।

“দিব্য , কোথায় তুমি?”

এই রে, দিমা খোঁজাখুঁজি শুরু করেছে। মা চলে এসেছে ঠিক। দিব্য দ্রুত নেমে যায় ছাদ থেকে। ভুল করে রেইন কোট খোলেনি। মনে পড়াতে চটপট খুলে ছাদের সিঁড়িতে ফেলে রাখল। ওকে দেখে মা অভিমান করল, “এ কী? ফ্ল্যাটে ঢুকে তোকে দেখতে পেলাম না কেন? স্টাডি লিভ কি ক্যামেরা নিয়ে কাটাচ্ছিস?”

দিব্য মাকে জড়িয়ে ধরতে মা হেসে ফেলল, “হয়েছে। পাস্তা খেয়ে নাও।”

পাস্তা খেতে খুব ভালবাসে দিব্য। প্লেট টেনে নিয়ে খেতে গিয়ে ঝট করে একটা ছবি মাথার মধ্যে ভেসে উঠল। তিন চার জন লোক কিছু খাচ্ছিল। ছবিটাতে একটা অদ্ভুত কিছু আছে। সেটাই খিঁচ খিঁচ করে যাচ্ছে। সেটা কী?

“ভাবনাটা গুছিয়ে রাখো মনের লকারে। সময় পেলে খুলে দেখ। আগের কাজ আগে করো।”

এটা হল দিমার বাণী। মা বলে, দিমা নাকি মাকেও এক কথা বলত ছোটবেলায়। শুনে দিমা ল্যাপি থেকে চোখ না তুলেই বলল, “এখনও বলি। নিজেকেও বলি বুঝলে?”

দিব্য স্টাডি টেবিলে বসে সব ভাবনা স্মুথলি সরিয়ে ফেলল। এখন হিয়া ম্যামের দেওয়া নোটস চোখের সামনে। প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক বাবা এখন বাড়িতে অনুপস্থিত। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগ দিতে রুকস্যাক গুছিয়ে দিল্লি চলে গেছে। দিব্য বাবার মত অধ্যাপক হওয়ার খুব ইচ্ছে। তাহলে ও –ও যেতে পারবে রুকস্যাক গুছিয়ে। ম্যামের নোটস পড়তে গিয়ে আজকের প্রাণীটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। ছবিটা ম্যামকে দেখালে ম্যাম ঠিক বলে দিতে পারবে ওটা কোন প্রাণী। বাবা ফিরতে এখনও দিনচারেক বাকি।

এই ! দেখেছ। ভাবনাকে ইচ্ছে করলেই সরিয়ে ফেলা যায় না বাবা। সে সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়বেই পড়বে তোমার লকার খুলে। আচ্ছা, ওই যে একটা বিচ্ছিরি শব্দ হল, ক্যাক ক্যাঁক করে, সেটা কি ওই প্রাণীর চিৎকার? দিমা তো কিছু বলল না এই ব্যাপারে !

আজ পড়ায় মন বসছে না। কেমন একটু অস্থিরতা ঘিরে রেখেছে আজ দিব্যকে। বই-খাতা সরিয়ে রেখে উঠে দাঁড়াল দিব্য। জলের বোতল থেকে জল খেতে মাথাটা হেলিয়ে দিতে একটি ছবি সিনেমার মত ভেসে উঠল। গেটওলা বাড়ির আধ অন্ধকার , বৃষ্টি ভেজা বারান্দায় লোকগুলো খাচ্ছিল। প্রত্যেকটি লোকের নেড়া মাথা , দাঁড়ি গোঁফ কিচ্ছু নেই ! আর …আর… লোকগুলো সকলেই অরেঞ্জ কালারের গোল গলা টি পরে ছিল। ওরা কারা? ইস , বাবা যে কবে ফিরবে !

রাতের খাবার খেতে খেতে অন্য কথা , অন্য গল্পে ঢুকে গেটওলা বাড়ির কথা ভুলে গেল দিব্য। ঘুমিয়ে পড়েছে নির্দিষ্ট সময়ে। মা রাতে বাবার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলছে দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ল ও। রাতে পাশ ফিরে শুতে গিয়ে শুনতে পেল কোথায় খিস খিস, অমম্যা জাতীয় শব্দ। একটি গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছে…!

খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল দিব্যর। আর ঘুম ভেঙে ওয়াশ রুম থেকে ঘুরে এসে ওয়ার্কাউট করে নিল দিব্য। তারপর সোজা ছাদে উঠে গেল। বাড়িতে কেউ নেই নাকি? খুব চুপচাপ দেখাচ্ছে ! কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নেমে এল দিব্য। কেউ দেখতে পেলে হাজার এক্সপ্লানেশন দিতে হবে। কেন এত ভোরে ছাদে গেলে তুমি? ছাদের দরজা বন্ধ ছিল না? চাবি পেলে কার থেকে? আসলে দিব্য দেখেছে অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ারটেকার শ্যামাদা খুব ভোরে উঠে ছাদে গিয়ে ওয়ার্ক আউট করে। আর তাই ছাদের চাবি ঝোলানো থাকে ছাদের সিঁড়ির শেষ ধাপের উপরে একটি কাঠিতে। আজো শ্যামাদা দিব্যর আগে এসে ফের চলেও গেছে মনে হয়। দরজা তো খোলা ছিল। ছাদের শেষ সীমায় গিয়ে গেটওলা বাড়িটাকে দেখে কিছু লাভ হলনা। মনে হয় বাড়ির লোকগুলো কোথাও চলে গেছে ! চলে গেছে মানে? কোথায় গেছে ওরা? সকলে মিলে চলে গেল …কখন গেল? বিকেলে ছিল। ভোরে নেই ! মানে রাতে গেছে ! অনেক রাতে গাড়ির শব্দ পেয়েছিল দিব্য। সেই গাড়িতেই কি চলে গেছে ওরা? কারা ছিল গাড়িতে? কোথায় গেল ওই লোকগুলো রাতের বেলা গাড়ি চেপে? দিব্য সিঁড়ির ধাপে দাঁড়িয়ে পড়ে। দিমা ঠিক বলে। লাভ ক্ষতি খুঁজে নিতে জানতে হয়। যেমন আজ হল। কেউ বাড়িতে নেই বলে হতাশ হয়েছিল ও। কিন্তু , দেখ,একটু গভীরে ভাবতেই একটা ছবি চোখের সামনে ফুটে উঠল ! আর যেটা সামনে এসে গেল , তা থেকে বোঝা যাচ্ছে ছবিটা বড্ড ভুতুড়ে , এই সব ছবিতে আলো কম ! আলোটা খুঁজতে হবে ! এই মহালক্ষ্মী অ্যাপার্টমেন্টের অপোজিটে রহস্যময় কান্ডকারখানা ঘটবে , আর দিব্য বসে দেখে যাবে? কভি নেহি !

দিমা স্কুলে যাবে। মা কলেজে। দিব্যর স্টাডি লিভ চলছে। ও টিউশনে যাবে দৃপ্ত স্যারের কাছে। দিব্য দিমা আর মায়ের সঙ্গে বসে হেভি ব্রেকফাস্ট করে নেয় অন্যদিন। আজ দিমা যখন ডাকল , দিব্যর ইচ্ছে করছিল না খেতে। দিমা খবরের কাগজ রেখে খেতে শুরু করতে যেতেই দিব্যর দিকে তাকাল। অবাক হল অবশ্যই , অন্যদিন দিব্য রেলিশ করে খায়। আজ কী হল?

“ইচ্ছে করছে না। খাচ্ছি।”

“আজ খুব মন খারাপ করা খবর পড়লাম। কলকাতা যেন বন্যপ্রাণী আর তাদের দেহাংশ পাচারের করিডর হয়ে উঠেছে !”

মা কফিতে চুমুক দিতে দিতে দিমাকে সাপোর্ট করল –ঠিক বলেছ। গন্ডারের শিঙ ,বাঘের চামড়া,হাড়…এসবের কথা কবে থেকে শুনে আসছি। এখনও বন্ধ হয়নি এগুলো। কিছু মিথ্যে ধারণা থেকে এই অন্যায়গুলো চলে আসছে!

দিব্য রুটি ছিঁড়ে আলুচচ্চড়িতে জড়িয়ে নিল, “কী লিখেছে আর? কেউ কি ধরা টরা পড়েছে?”

দিমা মাথা নাড়ল, “হুম, ধরা পড়েছে দুজন। উত্তর কলকাতার এক বাড়ি থেকে প্রচুর পাখি পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি,ধৃতেরা বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। ময়ূর পাওয়া গেছে বারোটা। এদের মধ্যে ছয়টির রঙ সাদা। বেআইনিভাবে বন্যপ্রাণী রাখার অভিযোগে সেই দুজনকে গেফতার করা হয়েছে। আরও লিখেছে। নিজে পড়ে নিও।”

দিমার থেকে কাগজটা নিয়ে পড়ে নিল দিব্য। ভাবা যায় না এই উত্তর কলকাতাতেই থাকে অর্কপ্রভ। ওর ক্লাসমেট। অর্ককে জিজ্ঞাসা করতে হবে তো , এই বাড়িটা ওদের বাড়ি থেকে কতটা দূর ! অর্ক কি খবরটা পড়েছে? হয়তো জানেই না কী সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে চলছিল ওদের বাড়ির কাছেই।

আচ্ছা ! দিব্য কি জানে গেটওলা বাড়িতে কারা থাকে? এরকম কত ঘটনার কথা জানা যায়না। মনে কতরকম ভাবনা আসে।

যাকগে। এখনই বেরিয়ে পরতে হবে। আটটা থেকে কোচিংক্লাস। এখন দৃপ্ত স্যার।

রাস্তায় বেরিয়ে আট্টু হলেই গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগতো দিব্যর। একটা কালো রঙের আগাগোড়া ঢাকা ভ্যান দাঁড়িয়ে গেটওলা বাড়ির সামনে। এমন তাড়াহুড়ো করে এসে দাঁড়িয়েছে , অ্যাপার্টমেন্টের গেট থেকে বেরিয়েই ভ্যানের মুখোমুখি হয়ে পড়ল দিব্য। ড্রাইভার লোকটা ভারি বিশ্রি ভাবে খিঁচিয়ে উঠল। চমকে তাকাতেই দিব্য দেখল, অরেঞ্জ কালারের টি শার্ট পরা লোকটি ক্লিন শেভড। মাথায় চুল নেই। গাড়ি ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যেতেই গাড়ির ভেতর থেকে অদ্ভুত স্বর শুনতে পেল দিব্য। যেন কেউ আঘাত পেয়েছে। কেন যে দিমাকে ডাকার কথা মনে হল ! কেন যে খবরের কাগজের খবরটা ভেসে উঠল চোখে !

আজ আর টিউশনে যাওয়া হল না। দিব্য ফিরে গেল ফ্ল্যাটে। একটা ফোন করতে হবে এখনই। নাহলে দেরি হয়ে যাবে। কুছ তো হ্যায় !

বাড়ি সার্চ করার আগে গাড়ি সার্চ হল। গোয়েন্দা পুলিশ চটপট কাজ সেরে ফেলছে। ভ্যান থেকে বের হল খাঁচায় আটকানো দুটো শিম্পাঞ্জির বাচ্চা। বাড়ি সার্চ করে একটি চিতা বাঘের বাচ্চা , দুটো হায়েনা ,আর ময়ুর ছটা।

ধরপাকড় হল। চারজন ধরা পড়ল। এদের মধ্যে দুজন কোন এক শপিং মলে চাকরি করত আগে। চুরি করায় চাকরি চলে যায়। দাঁড়ি গোঁফ কামিয়ে ছদ্মবেশ নিতে চেষ্টা করেছিল। হয়তো সাধু সেজে এসব কাজ করা সুবিধের ছিল বলে অরেঞ্জ কালার ইউজ করতো। খানিকটা গেরুয়া মনে হবে।

আজ মহালক্ষ্মী অ্যাপার্টমেন্টের সামনে ভিড় জমে গেছে পুলিশ ভ্যান দেখে। আশ্চর্যতম ঘটনায় পাড়ার লোক স্তম্ভিত। দিমা আর মা অফিসারের সঙ্গে কথা বলছিল। মা অবাক –অফিসার , কী করে খোঁজ পেলেন এখানকার? আমরা এত কাছাকাছি থেকেও কিচ্ছু জানতে পারিনি !

-আমাদের কাছে ফোন এসেছিল। ঠিকানা জানিয়ে বলা হয়েছিল যে , এই বাড়িতে চোরাই জিনিস রাখা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে ডাকাতি দমন শাখার ওসির নেতৃত্বে এই দলটি হানা দিয়েছে।

-কে ফোন করেছিল? এ পাড়ারই কেউ নিশ্চয়?

-দিব্য করেছিল। দিমার শান্ত গলা।

-মানে? তুমি জানো? মা ঘুরে তাকাল দিমার দিকে।

-হ্যাঁ , যা ঘটেছে , ও এসে আমাকে বলেছিল ভ্যানে কিছু আছে বলে। তাছাড়া ছবিতে একটি অচেনা প্রাণীকে দেখে খানিক ধারণা হয়েছিল আমার। বলেছিলাম পুলিশে ফোন করতে। তাই…!

ওটা শিম্পাঞ্জির বাচ্চা ছিল তাহলে? দিব্যর ছবি উঠছে মিডিয়ার ক্যামেরায়। দিব্য পোজ দেয়।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত