তারাবাড়ি

তারাবাড়ি

পৌষসংক্রান্তির আর মোটে ক’দিন বাকি। শহরের আকাশ ছেয়ে আছে ঘুড়িতে। সিকি তাইয়া, দেড় তাইয়া মাপের ঘুড়িই বেশি। তার মাঝে এক-আধটা তিন তাইয়ার ঘুড়ি উঠলে মনে হয় আকাশে রাজসভা বসেছে। ঘুড়িটা তিলকধারী কি চাঁদিয়াল হলে তো কথাই নাই। এরকম একটা ঘুড়ি কাটতে পারলে বন্ধুরা একটু সমীহের চোখে দেখে। কিন্তু ভালো মাঞ্জা ছাড়া ঘুড়ির লড়াই তো আর কোনও কাজের কথা না, আর কেনা মাঞ্জাও মানিকের পছন্দ না।

তাই মানিক বলেছিল আজকে মাঞ্জা করা হবে। ও-ই বাড়ি থেকে কাচের শিশি-বোতল আর হামানদিস্তা নিয়ে আসবে। সেই কথামতো চেন মার্কা সুতোর দুটো রিল, কালার, ভাতের মাড় বানানোর সরঞ্জাম নিয়ে মানিকদের বাড়ির পাশের মাঠটায় হাজির হয়ে গেছিল পাপান, তাতাই আর তাতাইয়ের ছোটো ভাই। শীতের সকাল, সাড়ে ন’টা দশটা হবে।

মাঠ না বলে অবশ্য বলুকার গাবা-ই বলে লোকে। গাবা মানে নিচু জায়গা, আসলে শুকনো নদীর খাত। হেজে আসা প্রাচীন নদী বল্লুকার দু’পারের প্রায় একশো, দেড়শো হাত চওড়া নাবাল জমি। বর্ষাকালে নদী ফুলে ফেঁপে উঠলে সবটাই নদী হয়ে যায়।

ভরা বর্ষার নদীতে মাঝে মাঝে কচুরিপানার দলের সাথে মৃত গবাদি পশুর লাশও ভেসে আসে, মানিকদের বাড়ির কাছে বাঁকটায় আটকে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কেউ বাঁশ দিয়ে ঠেলে দিলে আবার স্রোতের বেগে ভেসে চলে যায়, কিন্ত বোঁটকা পচা গন্ধটা থেকেই যায় বেশ কিছুদিন।

বর্ষার বেগ কমে এলে সেই জমি আবার নতুন ঘাসে ছেয়ে গিয়ে সবুজ হয়ে ওঠে। নদীতে জল কমে আসে, তখন আবার ছোট্ট সোঁতাটি দিয়ে ছোটো ছোটো নৌকাবোঝাই জিনিসপত্র নিয়ে লোকেরা যায়। প্লাস্টিকের শিট দিয়ে ঢেকেঢুকে খড়-বিচালি, মাটির হাঁড়ি-কলসি। পশ্চিম থেকে পুবের দিকে। হাওয়ার বেগ থাকলে তারা পাল খাটায়, না থাকলে লগি ঠেলে ঠেলে পার হয় পথটুকু। এঁকেবেঁকে গিয়ে নদী নাকি কাটোয়ার কাছে গঙ্গায় পড়েছে।

দুর্গাপুজোর পর খুব তাড়াতাড়ি নদীর জল শুকিয়ে আসে। জলটাও ঘোলা রঙ থেকে ক্রমশ কালো হয়ে আসে। কুকুরও হেঁটে পার হয়ে যায়।

আজকের দিনটা বেশ সোনালি রোদ্দুরের দিন। সকালের কুয়াশা কেটে গিয়ে চারদিক এখন ঝকঝক করছে। মাঞ্জার জন্য একদম পারফেক্ট আবহাওয়া। এখন মানিক সময়মতো এলেই হয়।

লোকমুখে বেনেপাড়া নামটাই চলে। পাড়াটা বেশ পুরনো। মানিকদের বাড়িটাও। একসময় নাকি ওদের বাড়ির লাগোয়া স্নানের ঘাট ছিল, নৌকো বাঁধার মতো চাতালও ছিল। সেকালের ছোটো ছোটো চ্যাপটা ইটের তৈরি ঘাটের খিলেনের টুকরো এখনও দেখা যায় গাবা, মানে সেই ঢালু জমি যেখান থেকে শুরু হয়েছে ঠিক সেখানে। নদী শীর্ণ হতে হতে এখন কোথায় সরে গিয়েছে ভাবলে অবাক লাগে।

কিন্তু মানিকদের বাড়িতে এখন ওর ঠাকুমা আর ও ছাড়া কেউ নেই। মানিকের কাকা কোথায় যেন চাকরি করে, ন’মাসে ছ’মাসে একবার আসে। আর কেউ না থাকুক, মানিকের ঠাকুমা দাপটে একাই একশো। একবেলা হবিষ্যান্ন করলে কী হবে, সাবুর মাড় দেওয়া থান কাপড় পরে, ছোটো ছোটো করে ছাঁটা চুল মাথায়, কপালে চন্দনের টিকা নিয়ে বেরিয়ে যেই হাঁক দেন, মানকে…, অমনি মানিক খেলা ফেলে দৌড় দেয়, তার ভাগের দু’ওভার ব্যাটিংয়ের মায়া ছেড়েই। পাড়ার লোকেও নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে, থানা-পুলিশ, দারোগা-কনস্টেবলের আর দরকার কী, যতদিন পাড়ায় তারাঠাকরুন রয়েছেন…

ক’দিন আগে তারাঠাকরুনের ঘরে জগা চোর ঢুকে সিন্দুকের চাবি হাতানোর চেষ্টায় ছিল। আধো ঘুমেই তারাঠাকরুন তার হাতটা এমন চেপে ধরেছিলেন, যে বেচারা বাপ বলে কেতরে পড়েছিল। তারাঠাকরুন তাকে এক ধমক দিয়ে চুপ করে থাকতে বলে নিজে জপের মালা হাতে নিয়ে বসেছিলেন। রোজকার রুটিন। তারপর সকালের প্রথম কাক ডাকবার পর পাড়ার লোকেদের ডাকিয়ে তাদের হাতে জগাকে তুলে দেন।

অবশ্য পাড়ার লোকে জগাকে শেষপর্যন্ত পুলিশের হাতে দেয়নি। চুরি করতে ঢোকাটা বোধহয় জগার নেশার মতন হয়ে গেছে। ঠাকরুনের বসতবাটির তিন বছরের খাজনা বাকি পড়েছে একথা জেনেও যে জগা আহাম্মকের মতো তারাবাড়িতে চুরি করতে ঢুকবে এ জানলে জগার ওস্তাদ, স্বয়ং কালু চোরেরও খেদের অন্ত থাকত না। তা কালুর তো বেশ কিছুদিন খোঁজই পাওয়া যাচ্ছে না। সে থাকলে হয়তো জগাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে এরকম আত্মহত্যে করতে যেতে দিত না, একথা সবাই বার বার বলল।

পাপানের জেঠু শাকওয়ালির সাথে দর কষাকষি করছিলেন। কালুর নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ উঠতে বললেন, “দ্যাখো গে, সে হয়তো সন্নেসি হয়েই চলে গিয়েছে কোথাও।”

এ হেন আজগুবি কথা শুনেটুনে কারও মুখে একটা ফ্যাকফ্যাকে হাসির রেখা দেখা দিয়ে থাকবে। তিনি বেজায় খাপ্পা হয়ে গিয়ে বললেন, “তোমরা কালকের ছেলে, দস্যু রত্নাকরের গল্পটা তো জানোই না মনে হয়। তিনি পরে ঋষি বাল্মিকী হয়ে রামায়ণ লিখেছিলেন। এসব শাস্ত্রে আছে। আর এই তো, গেল বছর দেওয়ালির আগের দিন কালু এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, স্যার, আপনার বৈঠকখানা ঘরে ও কার মাথা পাথরের? আমি তখন তাকে বুদ্ধের কথা, রাজার ছেলের সন্ন্যাসী হয়ে দেশে দেশে অহিংসাধর্মের প্রচারেরর কথা বললাম। আমাদের দেশ ছাড়াও চিনে, তিব্বতে, জাপানে তাঁর এখনও কত ভক্ত রয়েছে, সেসব একটু বললাম। তাতে সে মাথায় হাত ঠেকিয়ে প্রণাম পর্যন্ত করলে। তিব্বতি মুখোশটাকেও। আর তার পরদিন থেকেই তো তার আর খোঁজ নেই। সে এখন হিমালয়ের কোলে কোথাও বসে তপস্যা করছে জানলে আমি অবাক হব না।”

“তা সেই বুদ্ধর মাথাটা জায়গামতো আছে তো?” তাতাইয়ের কাকার এরকম চাঁচাছোলা প্রশ্নে এবার সবাই হেসে ফেলাতে পাপানের জেঠু হাত দিয়ে মূর্তিটা দেখিয়ে গম্ভীর হয়ে গেলেন। বেলা হয়ে যাচ্ছিল, জগার কানে আরেকটা মোচড় দিয়ে তাকে সেবারের মতো ছেড়ে দেওয়া হল।

এগারোটা বাজতে চলল, মানিকের পাত্তা নেই। তখন পাপান অন্যদের বলল, “তোরা একটু দাঁড়া, আমি বরং তারাঠাকুমাকে জিজ্ঞেস করে আসি গে।”

তারাঠাকরুনের একটা অন্য নাম অবশ্য আছে। পিওন রেজিস্ট্রি করা চিঠি নিয়ে আসে মাঝে মাঝে। দরজা থেকেই হাঁক দেয়, “মোক্ষদাসুন্দরী দাসী নামে রেজিস্ট্রি চিঠি আছে।” আসলে বাড়িটার নাম তারাবাড়ি থেকেই পাড়ার লোকের মুখে মুখে তারাঠাকরুন নামটা প্রচলিত হয়ে গিয়েছে।

বাড়িটার নাম তারাবাড়ি কেন কেউই জানে না মনে হয়। এককালে যে বিশাল দেউড়ি ছিল, সেটাতে একটা পুরনো ফলক ছিল। পাপান জেঠুকে বলতে শুনেছে, তাতে নাকি তারাবাড়ি নামটাই লেখা ছিল। কিন্তু সে দেউড়িও নেই আর সে ফলকও নেই। তবে তাতে কিছু যায় আসে না। তারাঠাকরুন নামটা এমন পাকাপাকি হয়ে গিয়েছে যে তারাঠাকরুন নিজেও নিজের ভালো নামখানা ভুলতে বসেছেন।

প্রাচীনকালের প্রকাণ্ড বাড়িটার উঁচু উঁচু ছাদ, সুরকির পোক্ত গাঁথুনি, শালকাঠের ফ্রেমে সেগুনের পুরনো জানালা-দরজা খুব সরেস মাল বলেই বাড়িটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে, প্রায় কোনও মেরামতি ছাড়াই। সেকালের মস্ত উঠোনের বাঁপাশে একটা চারচালা মন্দির, তাতে এ-বাড়ির ঠাকুরের এখনও রোজ পুজো হয়। উঠোনের শেষে খিলেনঘেরা দালান, সারি সারি ঘর। দালানের একপ্রান্তে দোতলায় যাবার সিঁড়ি দু’বার বাঁক নিয়ে দোতলায় গিয়েছে। সিঁড়ির প্রথম বাঁকটার পাশ বরাবর যে পুরনো রান্নাঘর ছিল, সেটা ভেঙেচুরে একটা ইটের পোড়ো ঢিপি হয়ে পড়ে আছে। সেদিকটা কন্টিকারি, শিয়ালকাঁটা আর সব আগাছার জঙ্গল গজিয়ে অগম্য হয়ে আছে। নদীর মাঠ থেকে বাড়ির এই দিকটাই প্রথমে নজরে আসে। জগা এইদিকটা দিয়েই মনে হয় বাড়িতে ঢুকেছিল, কারণ তারপর থেকে ঠাকরুন সিঁড়ির জানালাটা ইট গাঁথিয়ে বন্ধ করে নিয়েছেন। বাইরের দিকে ভাঙা ইটের স্তূপ তেমনই পড়ে রয়েছে।

ঘটনার পরে মানিকের কাকা অবশ্য মিনমিন করে একবার বলতে গেছিলেন, এ-বাড়ি না রেখে প্রোমোটারকে যদি দিয়ে দেওয়া যায়… তাতে ঠাকরুন এমন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন যে কাকা নিজেই আর এমুখো হননি বেশ কিছুদিন।

পাপান বাড়িতে ঢুকেই দেখতে পেল মণ্ডাদিদি উঠান ঝাঁট দিচ্ছে। মণ্ডা আর ঠাণ্ডাদিদি দুই বোন, পাড়ার সব বাড়ির ঠিকে কাজ ভাগাভাগি ওদের মধ্যে। পাপানকে দেখেই ফ্যাকফ্যাক করে হেসে বলল, “আজ খুব ক্ষ্যাণ দেখছি। একজন চেলাকাঠ খেতে খেতে বেঁচে গেছেন, আরেকজন এয়েছেন।”

মণ্ডাদিদির এই সবজান্তা ভাবটা দেখতে পাপানের পিত্তি জ্বলে যায়। কিন্তু আজ কাজটা উদ্ধার করতে হবে কিনা, তাই মুখখানা সিরিয়াস রেখে বলে, “কেন? চেলাকাঠ আবার কে খেতে গেল?”

মণ্ডাদিদি চোখ গোলগোল করে বলল, তাও জাননি? মানিকদাদাবাবুর বেড়াল পিঠেপায়েসের দুধে মুখ দিয়েছে যি গো! ঠাকরুন তারে চেলাকাঠ দে পিটিয়েছেন। ভয়ে মানিকদাদাবাবু তাকে নিয়ে সেঁধুয়েছে কোথায় দেখগে।”

কোনও মানে হয়? মানিক বেড়াল নিয়ে আদিখ্যেতা করার আর দিন পেল না! এরপর আর ঘটনাস্থলে না থাকাই নিরাপদ। পাপান ভারি বিবেচক ছেলে।

মাঠে ততক্ষণে অন্যরা তিনটে ইট জড়ো করে কাঠকুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছে। ডেকচিতে করে মাঞ্জার মশলা চড়ানো হয়ে গেছে।

সুতোর রিল ওই আঠালো রঙে চুবিয়ে তারপর কাগজে রাখা কাচগুঁড়োর মধ্য দিয়ে টানা দিতে হবে, আরেকজন কাগজ ভাঁজ করে তাই দিয়ে নিকোতে অপ্রয়োজনীয় অংশটুকু। এই কাজের জন্য লম্বা করে দুটো খুঁটি পুঁততে হবে। পাপান একটা খুঁটি নদীর খুব কাছে পুঁততে পুঁততেই দেখল, ওপারের টাউন হল পাড়ার দিক থেকে একটা বিশাল কালোয় কমলা তিলকধারী এদিকেই উড়ে আসছে। তার ওড়ার ধরন দেখেই পাপান টের পেয়ে গেল, সাথে প্রচুর সুতো আছে। ঘুড়িটা মানিকদের বাড়ির পিছনের ভাঙা ইটের গাদার দিকে ভেসে যাচ্ছে। কাজেই অন্য খুঁটিটা হাতে নিয়েই সে দৌড়ল ঘুড়ির পিছনে। একটু খুশিও হল এই ভেবে যে অন্যরা আগুন জ্বালতে এত ব্যস্ত যে কেউই খেয়াল করেনি ঘুড়িটাকে।

হতচ্ছাড়া ঘুড়িটার সুতো তার হাতে এলেও ঘুড়িটা কিন্তু গিয়ে পড়ল কাঁটাঝোপের জঙ্গলে। বেশি টানাটানি করলে ছিঁড়ে উঠে আসবে সেই রাজকীয় ঘুড়ি। তাই পাপান সাবধানে সুতো হাতে জড়াতে জড়াতে এগোয় ঘুড়ির দিকে। এইসময়েই সে দেখতে পেল, ভাঙা ইটের স্তূপের মধ্যে ফলকটাকে, যার ওপর লেখা অক্ষরগুলির মধ্যে শুধু ‘সকে’ শব্দটাই সে পড়তে পারল।

ভালো করে পড়বার জন্য আগাছা সরিয়ে হাত দিয়ে ফলকটাকে পরিষ্কার করে ধরতে গিয়ে হাতের চাপ লেগে থাকবে। অমনি কিছু বোঝার আগেই পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল তার।

পাপান যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ঠিক সেখানে একটা দরজা যেন মুহূর্তের জন্য খুলে গিয়ে কিছু আলগা ইট, পুরনো সুরকি-বালুসমেত তাকে একটা অন্ধকার কুঠুরির মধ্যে ফেলে দিল। ঘটনার আকস্মিকতা কাটলে পাপান বুঝল, তার হাতে ধরা মাঞ্জা থেকে একটু আঁচড় আর একটা ইট থেকে পায়ে একটু চোট ছাড়া বড়োসড়ো কোনও আঘাত লাগেনি তার। দরজা না বলে ফাঁদ বলাই সঙ্গত কারণ, তারপরে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল সেই পাটাতন।

ভেতরটা জমাট অন্ধকার, প্রথমে কিছু ঠাহর হয় না। কেবল একটা হালকা বোঁটকা, সোঁদা গন্ধ ভেসে আসছে কোথাও থেকে। কিন্তু চোখ সয়ে এলে প্রথমেই নজরে পড়ে একদিকের দেয়ালজোড়া বিশাল কারুকার্য। পাপানদের বাড়ির সেই মুখোশটার মতো ভয়ানক দেখতে কেউ যেন বসে আছে। ডান পায়ের পাতা একটা বড়োসড়ো হাঁড়ির ওপর কীসব ছুঁয়ে আছে। অন্যদিকের দেওয়ালে এক নারীমূর্তি ছেলে কোলে বসে আছে, কিন্তু দুটো কষের দাঁত এমনভাবে বের করা যে দেখলেই একটা অজানা ভয়ে তার গা শিরশির করে উঠবে। হাতে ধরা অন্য খুঁটিটা দিয়ে দরজা বা পাটাতনটায় বেশ জোরের সঙ্গে ধাক্কা দিতে লাগল পাপান, যদি তাতে সেটা আবার খুলে যায়। দরজা খুলল না, কিন্তু ভেতরের অন্ধকার থেকেই একটা কাঁপা কাঁপা গলার আওয়াজ এল, “কে!”

পাপান আওয়াজের মালিককে চিনতে পেরে বলল, “মানিক, তুই এখানে! আর আমরা তোকে সারা বাড়ি খুঁজে এলাম। তুই এখানে এলি কী করে! তুইও দরজা দিয়ে গলে ভেতরে এসেছিস?”

পাপান যে চাতালটায় দাঁড়িয়ে আছে সেটা থেকে কয়েক ধাপ সিঁড়ি যেখানে নেমে গিয়েছে, সেদিক থেকে দেখা গেল মানিক এগিয়ে আসছে। ডানহাতে কোলের কাছে ধরা মিনি, যার মাথায় চেলাকাঠ ভাঙবেন বলে হুমকি দিচ্ছিলেন তারাঠাকরুন। মিনিকে দেখেই বোঝা যায় সে ভয় পেয়েছে। মাঝেমাঝেই কোলে থেকেও খচমচ করে উঠছে। মানিক একবার সেই ভয়ংকরী মূর্তির দিকে তাকাল, ফিসফিস করে বলল, “একটু আগেও যেন নড়ছিল রাক্ষুসীটা। এরা মনে হয় এখানে কিছু পাহারা দিচ্ছে।”

পাপান বলল, “হতে পারে। এরকম ছবি আমার জেঠুর কাছে দেখেছি। কিন্তু ওই সিঁড়িগুলো কোথায় গিয়েছে? তুই-ই বা এখানে এলি কী করে? আর এই আবছা আলোটাই বা কোথা থেকে আসছে?”

মানিক বলল, “বলছি বলছি। আগে তুই বল, তুই কোথা দিয়ে গলে ভেতরে এলি।”

পাপান তখন ঘুড়ির পেছনে পেছনে দৌড়ে এসে এই রাস্তা আবিষ্কারের বৃত্তান্ত মানিককে বলল। মানিক সব শুনে বলল, “এই দরজাটা মনে হয় বাইরে থেকে ছাড়া খোলা যাবে না। তার চেয়ে যেদিক দিয়ে আমি ঢুকেছি, সেদিক দিয়েই চেষ্টা করা যাক।”

ওরা আবার সিঁড়ি ধরে অনেকটা নেমে যেতে যেতে একটা গোলাকার কক্ষে এসে পড়ল, যার ছাদও গম্বুজাকৃতি, আর ঠিক কেন্দ্রে একটি উঁচু বেদীর ওপর একটি বিশাল বুদ্ধের মূর্তি, তার একটু সামনে একটা অপেক্ষাকৃত ছোটো ধাতুর দেবীমূর্তি। গোলাকৃতি ঘরের দেয়ালজোড়া তাকগুলিতে অজস্র ছোটো ছোটো পাটার মতো কিছু দেখা যাচ্ছে। আর কিছু শঙ্খ আর ঘন্টা। ঘন্টার হাতলগুলো অবশ্য একটু অন্যরকমের দেখতে।

কিন্তু যে হালকা বোঁটকা গন্ধটা পাপান চাতালে দাঁড়িয়ে একটু একটু পাচ্ছিল, সেটা যেন এখন বেশ অনেকটাই তীব্র। তাকগুলির নিচে মেঝেতে কী যেন একটা কালচে ঢিপির মতো হয়ে আছে। গন্ধের উৎস সম্ভবত সেটাই। গন্ধে পেটের নাড়িভুঁড়ি উলটে উঠে আসা বমির তাড়না অগ্রাহ্য করে ঢিপিটায় একটু খোঁচা দিয়ে কালো কালো কিছু ঝুরঝুর করে খসে পড়ল, আর সেই ঢিপিটাও ধপাস করে পড়ে গেল।

মানিকের গলা কেঁপে গেল। “এ তো একটা নরকঙ্কাল!”

পড়ে যাওয়া হাড় ক’খানার দিকে তাকিয়ে ছিল পাপান। মানুষ চেনার আর কোনও উপায় নাই, কিন্তু গড়নে কিছু একটা ছিল, যেটা খুব চেনা বলে মনে হচ্ছিল তার। কিন্তু তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে দিচ্ছিল, এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি বেরনো যায় ততই ভালো। এই লোকটা নিশ্চয়ই চুরি করতে এসেছিল। যদি এখানে যখ দেওয়া থাকে, সেই যখেই যদি ঘাড় মটকে দিয়ে থাকে ব্যাটার! ভাবলেই গা শিরশির করে তার।

পাপানের জেঠু বলেন, বিপদে কখনও ধৈর্য হারাতে নেই, তাতে বিপদ আরও বেড়ে যায়। মনের ভাব গোপন রেখেই পাপান ওপরের তাকের একটা পাটা হাতে নিয়ে একটু চাপ দেয়। তাতেই পাটাটা কোনা বরাবার ঝুরঝুর করে গুঁড়িয়ে গেল। পাপান বলে উঠল, “আরে! এগুলো তো তালপাতার পুঁথি মনে হচ্ছে। সঙ্গে এত বুদ্ধমূর্তি… এটা কি তবে একটা মনাস্ট্রি? তোদের বাড়ির নিচে? তুই জানতিস?”

মানিকের অতশত জানা নেই। সে ঠোঁট উল্টোল। বলল, “কে জানে! আচ্ছা, দেখ তো, ওই মূর্তিটায় কোনও হিরের চোখ-টোখ আছে কি না। থাকলে আমরা বড়োলোক হয়ে যাব। বইয়ে পড়েছি এরকম পাওয়া যায়। চাঁদার জঙ্গলে দেবীমূর্তির কপালে হিরে… এইসব।”

পাপান বলল, “আরে, আগে এখান থেকে বেরোনোর রাস্তা করতে হবে। তা না হলে যা-ই পাস, কাজে কিচ্ছুটি আসবে না।”

বাইরে একটু আগেই উজ্জ্বল রোদ দেখে এসেছে পাপান। আর কোনওদিন দেখতে পাবে কি না, ভাবতেই তার গলার কাছে দলা আটকাচ্ছিল, কথা বুজে আসছিল।

মানিক বলল, “ওই দ্যাখ, মূর্তির পিছনে ওই অন্ধকার প্যাসেজটা দেখতে পাচ্ছিস? ওখান থেকে আবার সিঁড়ির ধাপ উঠে গিয়েছে বাড়ির দিকে। কাল ওই দরজাটা দিয়ে আমি এই ঘরটায় এসেছিলাম। ভিতরবাড়ি থেকে। কিন্তু এখন আর সেই রাস্তাটা কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না।”

সেই চাতাল থেকে গোলঘর অবধি পথে ছাদ বরাবর ফোঁকর আছে, অল্পস্বল্প বাইরের আলো যাতে প্রবেশ করতে পারে। অথচ প্যাসেজের ভেতরে উঁকি দিয়ে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

পাপানের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। বলল, “একটা কাজ করা যাক।” বলে তাক থেকে দুটো ঘন্টা তুলে নিয়ে একটা মানিকের হাতে ধরিয়ে দিল, অন্যটা রাখল নিজের কাছে। পকেটের থেকে মাঞ্জার জন্য কিনে আনা সুতোর রিল বের করে একটা প্রান্ত দেবীমূর্তির ডানহাতটিতে বেঁধে দিল। বলল, “চল, এবার সুতো ছাড়তে ছাড়তে আমরা ভেতরে যাই। ফিরে আসতে হলে সুতো গোটাতে গোটাতে ফিরে আসব।”

অন্ধকারের মধ্যেই ওরা টের পাচ্ছিল, বেশ বড়ো বড়ো বড় সিঁড়ির ধাপ কয়েকটা উঠে একটা প্রশস্ত চ্যাটালো জায়গায় শেষ হয়েছে। সেখানে হাতড়ে তিনদিকের দেয়ালে তিনটে পথের আদল টের পাওয়া গেল।

মানিককে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে বলে পাপান গায়েব হয়ে গেল কিছুক্ষণ। তারপর ফিরে এসে মানিককে জিজ্ঞাসা করল, “তুই কি পুরোটা রাস্তা সোজা হয়েই হেঁটে এসেছিলি?”

“হ্যাঁ। কেন বল তো?”

“তাহলে একদম ডানদিকের রাস্তাটা হবে না। ওটাতে ঢুকে দেখলাম ওর ছাদটা ক্রমশ ঢালু হয়ে গিয়েছে।”

“তাহলে কি বাঁদিকেরটা ধরব?”

“আচ্ছা চল, তাই করা যাক।”

এই সুড়ঙ্গটায় প্রথম বাঁকটার পরই ফিকে আলোর আভাস দেখা যাচ্ছিল। একটা ঠাণ্ডা হাওয়ার স্রোত তো ছিলই। দ্বিতীয় বাঁকটায় ঘুরতেই মনিক বলে উঠল, “আরে, ওই তো!”

পাপান দেখল, এখানেও দেয়ালে একটু উঁচুতে একটা দরজার মতো। কিন্তু তার সামনে ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিলের পায়া, আর হাবিজাবিতে প্রায় ঢাকা। এটা তার মানে পরিত্যক্ত সেই রান্নাবাড়ি। অতীতে এখানে নামা-ওঠার জন্য হয়তো কাঠের সিঁড়ি ছিল, কিন্ত এখন আর কিছু নেই। পাপান স্পষ্ট বুঝতে পারল, আসার সময় মানিক ফোঁকর গলে টুক করে পড়ে গেলেও বাইরে যাবার প্রয়োজনীয় উচ্চতা তাদের এখনও নেই।

অবসন্ন দেহে দু’জনে ধপ করে বসে পড়ে। মানিক তাও কী ভেবে একবার উঠে দাঁড়াল। মিনিকে উঁচু করে তুলে ধরল ফোঁকরের দিকে, যেন সে অন্তত পালিয়ে বাঁচতে পারে। মিনি, অকৃতজ্ঞ মিনি একটা ছোটো তুড়ি লাফ দিয়ে ফোঁকর ছুঁলো, তারপর মিঁয়া…ও আওয়াজ করে উধাও হয়ে গেল।

মানিক ভাবল, যাক, একটা প্রাণী তো বেঁচে গেল!

এই ভূগর্ভের কুঠুরিতে সময়ের হিসাব পাওয়া যায় না। কিন্তু খিদে-তেষ্টার জ্বালা থেকে বোঝা যাচ্ছিল, তারা আর বেশিক্ষণ লড়তে পারবে না।

পাপান কাঁদতে চাইছিল না, কিন্তু বেশ টের পাচ্ছিল তার গাল ভিজে যাচ্ছে। মা’র কথা মনে হচ্ছিল তার।

ঠিক তখনই আশ্চর্য কাণ্ডটা ঘটল।

সকালে মানিক বা মিনি কারও ঘাড়েই ঠিক চেলাকাঠটা পড়েনি। মিনির একটা মজাদার স্বভাব আছে। কারও হাতে উদ্যত লাঠি দেখলেই সে তার চারদিকে এমন পাক দিতে থাকে যে আক্রমণকারী একটু ধাঁধায় পড়ে যায়। ঠিক এই ফাঁকে মানিক এসে ছোঁ মেরে তাকে তুলে নিয়ে গেছিল। ঠাকুমার বেড়ালকে এত গালমন্দ করায় তার হঠাৎ খুব অভিমান হয়েছিল। প্রথমে ভেবেছিল, বেড়ালকে নিয়ে সোজা কান্দাহার পালিয়ে যাবে। সেটা কোথায় ঠিক মনে না পড়লেও অনেকদূর এ-নিয়ে তার সন্দেহ ছিল না। কিন্তু যাব বললেই তো আর যাওয়া যায় না, একটা প্রস্তুতি আছে। ততক্ষণ লুকিয়ে-সুকিয়ে থেকে, যাওয়ার প্ল্যানটা করলেই হবে, ভেবে রান্নাবাড়িতে ঢুকেছিল সে। একটা কোনায় ভাঙাচোরা আসবাবের মধ্যে একটা ইজি চেয়ার দেখে সেটাতে বসার চেষ্টা করছিল সে। এই ফাঁকে মিনি তার কোল থেকে নেমে আরও ভেতরের দিকে সেই না খিলান না ফোঁকর দিয়ে গলে যায়, পিছুপিছু মানিক।

একমাত্র নাতি, কাজেই যতক্ষণে দুপুরের খাবার সময় হল, তারাঠাকরুনের রাগ পড়ে এসেছে। কিন্তু কোথায় মানিক! সারা বাড়ি তোলপাড়, বলুকার মাঠ খোঁজা হল, সারা পাড়া ধুলোপায়ে ঘুরে এলেন তারাঠাকরুন নাতির কোনও খবর না পেয়েই। উলটে জানা গেল, পাপানের জন্য অপেক্ষা করে ফিরে এসেছে বাকি দুটো ছোঁড়া। পুলিশে খবর দেবার জন্য লোক গেল। ঠাকরুন যেই দাওয়ায় উঠতে যাবেন অমনি কোত্থেকে সেই হতচ্ছাড়ি বেড়াল এসে পাক দিতে লাগল। ঠাকরুন তাড়াতে গেলে সে রান্নাবাড়ির দিকে দৌড়য়, মিঁয়াও মিঁয়াও করে, আবার ফিরে আসে। এরকম বার কয়েক হওয়াতে তাঁর খটকা লাগল।

বেড়ালের পিছুপিছু তিনি এসে রান্নাবাড়িতে ঢুকলেন। বেড়াল সটান সেই আসবাবের ফাঁক দিয়ে ঢুকে গেল, আর ওখান থেকেই ডাক দিতে লাগল।

মানিক-পাপান দু’জনেরই একটু তন্দ্রামতো এসেছিল। মিনির ডাকে চটকা ভেঙে গেল। বেশ বোঝা যাচ্ছিল ঘরে আরও লোকজন এসে জুটেছে। পাপান পাগলের মতো কান্না জড়ানো গলায় কিছু বলবার চেষ্টা করেও বলতে না পেরে মানিকের হাতে ধরা ঘন্টাটা বাজাতে থাকল অনেকবার।

আধঘন্টার মধ্যে পাড়ার লোক ভেঙে পড়ল তারাবাড়িতে। মানিক আর পাপানকে মণ্ডাদিদি জোরাজুরি করছে ইয়াবড়ো কাঁসার গ্লাসের সবটা দুধ খেয়ে নেবার জন্য। তারাঠাকরুন দাওয়ায় থেবড়ে বসে আছেন। মিনিকে বলছেন, “মা, তোর জন্যই ছেলেদুটোকে ফিরে পেলুম। মা ষষ্ঠীর দিব্যি, দুধে মুখ দিলেও কোনওদিন কিছু বলব না আর।”

একবার হেসে, একবার কেঁদে সারা হচ্ছেন।

পুলিশকে সঙ্গে করে পাড়ার লোক নিচে ঢুকেছিল। গলিত শবদেহ দেখেই কালুচোরকে চিনে ফেলেছিল সবাই। তার একটা হাত নুলো ছিল। কঙ্কালের হাড়ের গড়ন দেখেই ধরে ফেলেছিল পাড়ার লোকে। তার বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল দেহ। সাথে জগাও এসেছিল। গুরুর অবস্থা দেখে তার সে কী কান্না! ঠাকরুন পর্যন্ত চোখ মুছছিলেন।

তারপর ভেতরকার জিনিসপত্রের একটা তালিকা করে সব তুলে দেওয়া হয়েছিল সরকারের হাতে। ওই শঙ্খগুলি নাকি রূপায় বাঁধানো, ঘন্টাগুলি আগাগোড়া রূপার, মাঝে মাঝে দামী পাথর বসানো। আর সব প্রাচীন পুঁথি। দেবীমূর্তিটি পঞ্চধাতুর। বাঁ কাঁধের ওপর একটা পদ্মফুল, সে নাকি বৌদ্ধদেবী তারা। হয়তো তারার মন্দিরের ওপর বানানো বাড়ি বলেই তারাবাড়ি নামটা থেকে গিয়েছিল।

পাপানের জেঠু বলছিলেন, “পাড়াটা প্রাচীন, দেড়শো-দু’শো বছরের পুরনো বসতি বেনেদের জানতাম। কিন্তু এ তো অবিশ্বাস্য! এক ধাক্কায় ইতিহাস আরও সাত-আটশো বছর পিছনে নিয়ে যাচ্ছে! এ অঞ্চলের ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে।”

পাপানের জেঠু ইতিহাস শুরু করলেই ভিড় পাতলা হয়ে যায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না।

যাই হোক, দুটো প্রবেশপথই আবার নতুন করে ইট গেঁথে, ওপরে গ্রিলের গেট লাগিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হল যতদিন না পুরাতত্ত্ব বিভাগ আরও ভালো করে খোঁড়াখুঁড়ি করার জন্য হাজির হয়। পাপান আর মানিকের একটু দুঃখই হল, যদি একটা রুপোর ঘন্টাও রাখতে দিত।

পাড়ায় ছোটোরা তো বটেই, এখন বড়োরাও ওদের একটু সমীহের চোখে দেখেন। ওদের দু’জনকে একসাথে দেখলেই সবাই ফিসফিস করে কথা বলে নিজেদের মধ্যে। ঘাঁটায় না বেশি। এমনকি মণ্ডাদিদিও না। কিন্তু পাপান আর মানিকের মাথায় এখন একটাই চিন্তা। হাইটটা পাঁচফুটের নিচে হবার জন্যই এই আবিষ্কারটা আর গোপন রাখা গেল না। কাজেই ভবিষ্যতের জন্য একটু প্রস্তুতি নিয়ে রাখা প্রয়োজন। সাঁতার, ফুটবল চলছে জোরকদমে।

তাছাড়া সেদিন হঠাৎ পাপানের মাথায় আরেকটা বিদ্যুৎ খেলে গেল। মানিককে বলল, “জানিস, আমার বিশ্বাস ওই কুঠুরিতে আরও সহজে যাওয়ার আরেকটা পথ আছে। যেটা দিয়ে স্রেফ হেঁটে হেঁটে ঢুকে বা বেরিয়ে আসা যাবে।”

“কীরকম? আমরা দেখতে পেলাম না কেন?”

“আরে, আমরা তো মাঝের রাস্তাটাই ট্রাই করিনি! বুদ্ধদেব সর্বদা বলে গেছেন।”

“সে আবার কী!”

“মনে নেই? মঝঝিম পন্থা।”

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত