বকুলফুলের মালা

বকুলফুলের মালা

গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে সবে মাষ্টার্সে ভর্তি হয়েছি।আল্লাহর রহমতে প্রত্যেক ইয়ারেই ফার্স্ট ক্লাশ ছিল আর যার দরুন রেজাল্টও ভালো এসেছে। বিসিএসের পড়াশুনার করছি আর পাশাপাশি চাকরীর জন্য কয়েক জায়গায় এপ্লাই ও করেছি এরই মধ্যে। কিন্ত এখন পর্যন্ত সবগুলোর রেজাল্ট ই নেগেটিভ।তবুও এপ্লাই করে যাচ্ছি,যদি ভাগ্য সহায় হয়। তখন থাকতাম মিরপুর-১০ এ।

একটি তিনতলা বিল্ডিংয়ের ছাদের কুটিরে।ছাদের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যাচেলার ইউনিটের মত দুটো রুম করা।বিল্ডিংটার বাউন্ডরির এরিয়া বেশ বড়ই ছিল,চারপাশেই দেয়াল ঘেরা বাউন্ডরি,বাসার চারদিকে গোল করে বেশ কয়েকটা বড় গাছ লাগানো আর বাসার প্রধান দরজা সোজাসোজি গেট সম্মুখে পর্যন্ত সারিবদ্ধ টগর,গাদা আর গোলাপ ফুল গাছের সারি।আর এই গেট সম্মুখেই ভেতরেই বাম পাশেই একটা বড় বকুল ফুল গাছ।মফস্বলে ইদানিং বকুল গাছ দেখা পাওয়াটা বেশ ভার।

বাসার মালিকপক্ষ দেশের বাইরে থাকে আর দোতলায় তাদের এক রিলেটিভ থাকতো পরিবার নিয়ে আর নিচতলায় থাকতো বাড়ীর কেয়ারটেকার।ভাড়াটিয়া বলতে তিনতলার আমরাই।দোতলার বাড়ীওয়ালার রিলেটিভ রা ভাড়া দিতো কি না সঠিক জানি না।তিনতলায় মালিকেরা থাকতো কিন্ত এখন তো আর তাদের থাকা সম্ভব না।ছাদের কুঠিরের মত করে বাসাটায় আমি আর আমার এক জুনিয়র ছোটভাই থাকতাম।কলেজের ই এক পরিচিত ছোট ভাই।বছরের বার মাসের নয় মাসই ওর দেশের বাড়ী থাকা পড়ে। পরীক্ষার সময় শুধু এসে থেকে থেকে পরীক্ষা দিতো।সেই সময় যা ওর একটু দেখা পাওয়া যায়, তাই ধরতে গেলে আমি সারা বছরটায় বেশীর ভাগ সময় একাই থাকতাম বাসাটায়।

তখন জানুয়ারি মাস চলছিল আর সেদিন জানুয়ারির ২২ তারিখ ছিল।ঢাকায় তেমন ঠান্ডা লাগে না। সকাল সকালই ঘুম থেকে উঠলাম কারন আজকে একটা ইন্টারভিউ আছে। বাইরে বের হয়ে দেখি ভীষন কুয়াশা পড়েছে।প্রত্যেক সকালের দাত ব্রাশটা সারি ছাদের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত হাটাহাটি করে।এটা এখন আমার দৈনিকের অভ্যাস হয়ে গেছে।

চারদিকে কুয়াশার কারন এ কিছুই দেখা যাচ্ছে না। হাটছি আর ব্রাশ করছি তো হঠাত করে বাসার মেইন গেটের দিকে নজর গেল।মেইন গেটের সাথে বাসার বাউন্ডরীর ভিতর যে বকুলফুল গাছটা রয়েছে সেটার নিচে কেমন জানি একটা ছোট মানব আকৃতির ছায়া দেখতে পেলাম। ভাল মত দেখার জন্য ছাদের রেলিং ধরে একটু ঝুকলাম। ভালোমত দেখা যাচ্ছে না,একটা মানুষ বকুল গাছটার নিচে বসে আছো মনে হচ্ছে, ঝুকে নিচে কি জানি তুলছি।বানরের মত কুজো হয়ে বসে আছে মানবটা।ভূত দেখতাছি নাতো।।বার কয়েক চোখ্ টা ডলা দিলাম।না ঠিকই দেখতাছি।চিমটা কেটে সিউর হলাম।

ব্যাপারটা কেমন জানি লাগল আমার কাছে।এই কুয়াশা ভরা সকালে কে আবার বাড়ীর বাউন্ডরীর ভিতর।দেয়াল টপকিয়ে তো কেউ এ বাড়ীতে তো সহজে আসে না আর ফিরোজ কাকা তো এত সকালে গেট খুলে না।আর ওটা যে ফিরোজ কাকা নয় আমি তা পুরোপুরি শিওর। ফিরোজ কাকা আমাদের বাসার কেয়ারটেকার। নিচের কেচিগেটের এক্সট্রা চাবি আমার কাছে ছিল তাই তাড়াতাড়ি রুম থেকে চাবিটা নিয়ে নিচের দিকে দৌড় দিলাম।তাড়াতাড়ি নিচে গিয়ে কেচিগেট খুলে সোজা এক দৌড়ে বকুলতলা গেলাম। গিয়ে দেখি গাছতলা কেউ নাই।একদম খালি। ছাদ থেকে কি আমি তাহলে ভুল দেখলাম না তো।হ্যালোসিনিয়েশন তো একবার হয়, দুবার হয় কিন্তু বারবার তো হয় না।এসব ভাবছি আর গাছটার চারদিকে নিচে তাকিয়ে ঘুরছি।না কেউ নাই এই বলে ফেরত যাব তখন ই হঠাত নজরে পড়ল পায়ের ছাপ।

ভালোমত ঝুকে লক্ষ করলাম গাছতলায় কিছু পায়ের ছাপ রয়েছে। বুজলাম কেউ তো এখানে এসেছিল।আর কিছুক্ষন এদিক-ওদিক ছোক ছোক করে সোজা রুমের দিকে হাটা শুরু করলাম। রুমে গিয়েই দেখি ঘড়িতে এর মধ্যে সাড়ে সাতটা বেজে গেছে।ঢাকার শহরে এমনিতেই জ্যামে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয় তাই তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে সকালের কিছু নাস্তা খেয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ভাইভার ওখানে পৌছেছি সকাল দশটায় আর ভাইভা সেন্টারে ঢুকলাম বিকাল চারটায়। সারা দিনে পেটে একদানাও পরলো না। বিকেল পাচটার দিকে ভাইভা আমার শেষ হলো। অফিস থেকেই সোজা টিউশনি পড়াতে গেলাম।

বাসায় আসতে আসতে রাত আটটা বেজে গেলো।ব্যস্ততায় আর ক্লান্তিতে সকালের কথাটা মন থেকে ভুলে গেল।তাড়াতাড়ি কিছু খেয়ে সোজা বিছানায়। চোখ বোজার সাথে সাথে ঘুম। পরেরদিন সকালবেলাও তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পরলাম। ইদানিং এই অভ্যস টা হয়ে গেছে।সকাল দেরী করে উঠতে আর ইচ্ছা করে না।বরাবরের মতই আজকেও ছাদে হাটছি আর ব্রাশ করছিলাম। আজকে কুয়াশা পড়ে নি কিন্ত ঠান্ডা বেশ লাগছে।এর মধ্যেই গতকালের ঐ ছায়ার কথাটা মনে পড়ল।তাই তাড়াতাড়ি গেটের সাথে বকুলগাছটার তলার দিকে তাকালাম। আজকে আর কাউকে দেখতে পেলাম না। ফ্রেশ হয়ে বিসিএস কোচিংয়ে চলে গেলাম। দুপুর সাড়ে বারটার দিকে কোচিং থেকে বের হলাম।বাসায় কোনমতে এসে গোসলটা সেরে দুপুরের খাবার খেতে বাইরে গেলাম।

খেয়ে এসে মিনিট দশে রেস্ট নিয়ে সোজা স্টুন্ডেন্টের বাড়ীর দিকে হাটা শুরু করলাম। আগে বাপের হোটেলে খাইতাম তো তাই টের পেতাম না কিন্ত এখন বুঝি বাস্তবতাটা কতটা কঠিন। টিউশনি শেষ করে বাসায় আসতে আসতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল।বাসায় এসে বেশ কিছুক্ষন পড়াশুনা তারপর নয়টার দিকে বের হলাম রাতের খাবার খাওয়ার জন্য।হোটেলে খাবাট খেয়ে এসে রুমে ঢুকবো এর মধ্যেই ফোনে একটা মেসেজে এলো। ওপেন করে দেখলাম চাকরির পরীক্ষার ডেট একটা কোম্পানিতে এপ্লাই করছিলাম তাই সেটার ইন্টারভিউর তারিখ ও সময়ের মেসেজ ও স্থান কাল।

পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠলাম।বরাবরের মত আজও ছাদের এপাশ টু ওপাশ হাটছি আর ব্রাশ করছি।আজ আবার বেশ কুয়াশা পড়েছে। গত দুদিন আগে যে এরকমেরই একটা কুয়াশাভরা ভোরে বকুল গাছতলায় একটা ছায়া দেখতে পেলাম হটাত করেই কেন জানি মনে হলো আজও বুঝি ঐ ছায়াটা দেখতে পাবো।তাড়াতাড়ি ছাদের একপাশ থেকে অন্যপাশের এসে রেলিং ধরে ঝুকে গাছের গোড়ার দিকে তাকালাম। না আজকে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।গত পরশুর চেয়েও আজকের কুয়াশা বেশ ঘন পড়েছে।বকুল গাছের আগাটা কেবল অস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।কিন্ত কেন জানি আমার মনে হচ্ছে নিচে গিয়ে দেখে আসতে পারলে ভালো হত।নিচে গেলেই সব প্রশ্নের উত্তর পাব। শেষ পর্যন্ত মনের জীদের কাছে হার মানতেই হলো। রুম থেকে এসে চাবিটা নিয়ে নিচে চলে গেলাম।এবার আর আগের বারের মত তাড়াতাড়ি কেচিগেট খুলে শব্দ করার মত বোকামি করলাম না।

আস্তে করে গেটটা খুলে পা টিপে টিপে নিশব্দে গাছটার কাছে গেলাম।আমার মনের কাছে আমি ঠিকই পরাজিত হলাম। গাছটার নিচে একটা মানুষ বসে আছে। মানুষ না একটা নয়-দশ বছরের মেয়ে বসে আছে।কমলা রঙের একটা বিবর্ন জ্যাকেট পরা মেয়েটা বসে বসে গাছ থেকে  ঝরে পরা বকুলফুল গুলো তুলছে। আমি যে ওর পিছনে দাড়িয়ে এসব লক্ষ করছি সেদিকে ওর কোন ভ্রক্ষেপ ই নাই। ও ওর মত ফুল তুলছি আর পিছনে আমি তা দেখছি।বুজলাম এই মেয়েটাকেই গত পরশু কুয়াশার চাদরে দেখেছিলাম।তারাতারি গেট খোলার শব্দে দেয়াল টপকে ও পালিয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু আজকে আর যাবে কোথায়।আর ওর বা হাতে একটা ঝুড়ি। সে ফুল টুকছে আর রাখছে ওটার ভিতর। মেয়েটা ফুল তুলছে একজমনে আর আমি পিছন থেকে হঠাত করে বলে উঠলাম, এই মেয়ে এখানে কি করো? কিছুটা রাগী স্বরেই বললাম।আমার এই কথাটা শুনে মেয়েটা ভূত দেখার মত চমকে উঠলো।এক পাক খেয়ে পিছনে ফিরে আমার দিকে তাকালো। শ্যামলা চেহারার রোদে পোড়া মেয়েটার চেহারা। চেহারা টা শ্যামলা হলেও চেহারায় খুব সুন্দর একটা মায়াবী সুন্দরতা কাজ করছিল।কিন্তু এখন ওর চেহারায় যেন একটা মহামারী আতঙ্ক কাজ করতিছে।

আমাকে দেখেই এক পাক খেয়েই সোজা গেটের দিকে দৌড় দিবে এর মধ্যেই আমি ওর ঝুড়ি সহ বা হাতটা চেপে ধরলাম।কিছুটা জোরে ই চেপে ধরলাম।এ অবস্তায় মেয়েটার চেহারাটা দেখে সাথে সাথে আমার ভিতরের রাগটা পানি হয়ে গেল।কারন ও যে আমাকে দেখে খুব ভয় পেয়েছে সেটা ওর চেহারা দেখেই বুঝতে পেরেছি। তবুও কিছুটা গলার স্বর গম্ভীর করে বললাম,, এই মেয়ে তুমি দৈনিক সকালে এখানে আসো কেন?আমার এই কথাটুকু বলার দেরী এর মধ্যেই মেয়েটা ভ্যা ভ্যা করে কান্না শুরু করে দিলো।কান্না করতাছে আর বলছে,,সার আমি বকুলফুলের মালা বানাইয়া বেচী।হেই জন্য আমি দৈনিক এইখানে আসি ফুল টোকাইতে।সার মাফ কইরা দেন। আমারে এবারের মত ছাইরা দেন।আমি আর আমু না এই খানে।

এইসব বলতাছে আর মেয়েটা কান্না করতিছে। বুজলাম মেয়েটা দৈনিক বকুলফুল টোকাইয়া মালা বানাইয়া বিক্রি করে।মেয়েটা এখনও ফুপাইয়া কান্না করতিছে তাই রাগ কইরা বল্লাম,ঐ কান্না থামা নয়তো তোমারে কিন্তু পুলিশে ধরাইয়া দিবো।কথাটা ম্যাজিকের মত কাজ করলো। সংগে সংগে মেয়েটা কান্না থামাইয়া নীরব বালিকায় রুপান্তরিত হইলো।

নাম কি তোমার?

– রুপা বাসা কই?
– কালু মিয়ার গলি। চিনতে পারলাম যে ওটা একটা বস্তির গলি।তোমারা কয় ভাই-বোন?
-দুই ভাই এক বোন। তারা কি করে?
– আমার বড় দাদায় ভ্যান চালায় আর মাইজা দাদায় কাম করে। ওওও। তা তোমার বাবা-মা কি করে?
-আমার বাপ নাই, মা পরের বাড়ী কাম করে। তা তুমি পড়ালেখা করো না।
-না।পড়ালেখা করলে কাম করবে কেডা। খামু কি? মানে?

দেখলাম রুপা মাথা নিচু করে ফেলল।ওর দুচোখ পানিতে ছলছল করে উঠলো।ছোট হলেও কি হবে। এই বয়সেই ও বুঝতে পেরেছে বাস্তবতা কতটা কঠিন।তারপর ও আস্তে আস্তে বলল,বড় ভাই হের সংসার লইয়া আছে আর মাইজা ভাই হে থাহে তার মতো। আমি আর আমার মায় এখন এক লগে থাহি। মায় বেশী কাম করতে পারে না।বেশী কষ্ট করলেই হের কাশি-শ্বাস উইঠা যায়। তাই আমিও নামছি ফুলের মালা বেচতে যাতে আর কিছু টাহা কামাই হয়।আমি আপনার এইহানে আসি ফুল টোকাইতে খুব সকালে যাতে কেউ টের না পায়। সার এহন আমারে ছাইরা দেন।আমি আর আমু না। রুপার কথাগুলা এতখন তাজ্জব হইয়া শুনছিলাম। এতটুকুন একটা নয়- দশবছরের মেয়ে এই বয়সেই বুঝে গেছে জীবন কতটা কঠিন।ফুল টোকাইয় মালা বানাইয়া জীবিকা নির্বাহ করে। তা তুমি পড়াশুনা করো না?

– তিনবেলা খাওন জোটে না তো পড়াশুনা করুম কেমনে। পড়ছিলাম আমাগো ঐহানের একটা স্কুলে ছোড ওয়ান পর্যন্ত। তা তোমার মায়ের কি হইছে?

– জানি না। ফার্মেসি কাক্কু কইলো তো দেহি কাশ হইছে বলে। ওষুধ খাওয়াও নাই। দেখলাম রুপা করুনভাবে হেসে উঠলো। বুঝলাম প্রশ্নটা করে বোকামী করেছি। যার ঠিকমতো তিনবেলা খাবার ই জোটে না সে আবার ডাক্তার দেখাইবে কেমনে।

দাড়াও এইখানে। যাবে না কিন্ত এই বলে সোজা রুমে গেলাম। মানিব্যাগে আড়াই হাজার টাকা আছে। দু হাজার টাকা নিলাম।মাসের আর সাত দিন আছে। পাচশো টাকায় কোন মতে চালান যাবে বাকী সাত দিন। নিচে গিয়ে দেখি রু্পা গাছের আড়ালে দাড়িয়ে আছে।পকেট থেকে দু হাজার টাকার নোটটা রুপার দিকে এগিয়ে দিয়ে বল্লাম,,নেও এই টাকাটা।তোমার আম্মুকে ডাক্তার দেখাই ও। রুপা সাথে সাথে টাকাটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল,,না ছার আমি এই টাকা নিতে পারবো না। আমি এবার ওকে ধমক দিয়ে বললাম,আমি তোমার স্যার লাগি না। টাকাটা নিতে বলছি তো নিবা নয়তো রুপা আস্তে করে আমার হাত থেকে দুহাজার টাকার নোট দুটি নিলো।নেবার সময় লক্ষ্য করলাম ওর হাত দুটি হালকা কাপছিল। তাহলে কি বলে ডাকমু আপনারে?

– ভাইয়া

হঠাত করে রুপা বলে উঠল, আচ্ছা ভাইয়া আপনার নাম কি তাহলে? আমিও একটু স্মিত হেসে বললাম, আমার নাম সাজিদ আর হ্যা রুপা এখন থেকে তুমি দৈনিক এখানে আইসো বকুলফুল তুলতে।কেউ যদি তোমাকে কিছু বলে তাহলে আমার নাম বইলো। এতক্ষন পর রুপার বিবর্ন মুখে হাসির ছোয়া দেখতে পেলাম।সত্যিই ওর এই হাসি মুখটা খুবই মায়াবী লাগছে। রুপা হটাত করে বলে উঠলো,,ভাইয়া আপনার জন্য ও আমার একটা উপহার আছে এই বলে ও ওর বাম জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকালো। হাতটা বের করলো একটা বকুলফুলের মালা নিয়ে। আমার ডান হাতটা জোর করে ওর কাছ টেনে নিয়ে প্যাচাচ্ছে আর বলছে, ভাইয়া এটা আমারর প্রিয় লাকি মালা। আমার মা আমাকে বানিয়ে দিছে। তাই এটা আমি সবসময় আমার সাথে করে রাখি। আপনিও আমার এখন থেকে প্রিয় একজন তাই আপনাকে আমি এই মালাটা দিলাম। আমি নিতে না চাইলে ও জোর করে আমার হাতে পেচিয়ে দিলো।

আমি মালাটা হালকা শুকে দেখলাম,এখনও মালাটা থেকে খুব সুন্দর বকুলফুলের ঘ্রান আসছে। বাহ! খুব সুন্দর গন্ধ আসতাছে তো। রুপা খুশি হয়ে জোরে জোরে মাথা ঝাকালো। সকালের রোদ কুয়াশা কেটে আস্তে আস্তে বের হচ্ছে রুপা আবারও গাছের নিচে বসে ফুল তোলা শুরু করে দিলে আর আমি এই রুপা নামক ছোট মেয়েটার মায়াবী চেহারার দিকে দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবতাছি হুমায়নে আহমেদের শুভ্র গল্পের শেষদিকের সেই বিখ্যাত লাইনটি,, “FULL MANY A FLOWER IS BORN TO BLUSH UNSEEN.”

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত