সোনার তরী (পর্ব-3)

সোনার তরী (পর্ব-3)

একটু পর ঝুমের বাবা ঘর থেকে একটা পাঞ্জাবী পরে বেড়িয়ে এলো। তুর আর হুমায়ন ভয়ে জেনো জমে গেছে।
ঝুমের বাবা : আপনারা আমার সাথে চলুন। পাশের গ্রামে একজন বড় হাকিম আছে।উনি অনেক কিছু
জানে দেখি কিছু করতে পারে কি না।আমার একটা মাত্র মেয়ে আপনারা কেন জেনে শুনে ওকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন।
হুমায়ন : কোনো হাকিমের কাছে যেতে হবে না স্যার।ঝুম ভালো আছে ওখানে।
ঝুমের মা : ভালো আছে মানে। আপনি কি করে জানলেন।
তুর ল্যাপটপ অন করল।আর আগের ফুটেজ গুলো দেখাল উনাদের।এবার একটু শান্ত হলেও মন মানছে
না বলে কেদেই চলেছে ঝুমের মা।
তুর : স্যার স্যার ঝুম আবার কিছু একটা লিখছে দেখুন
সবাই ল্যাপটপ কে ঘিরে দাড়াল।

ঝুম : (পাথরে লিখে) স্যার এখান থেকে শুধু আমি না আর ও ৫ জন মুক্তি পাবে যদি আমি ওদের কথা শুনি।
হুমায়ন : (খাতায় লিখে) ওদের কথা শুনে মানে।কি করতে বলছে ওরা।

ঝুম : স্যার আমি ওদের থেকে ২ দিন সময় নিয়েছি
ওদের অতৃপ্ত আত্মাকে মুক্তি দিবো বলে।খুঁজে দিবো ওদের কেটে যাওয়া মাথা।।

হুমায়ন : ঝুম আগে বেরিয়ে আসো ওখান থেকে। দেখতে পাচ্ছো আমি তোমার বাড়িতে।
তোমার মা বাবা সব জেনে গেছে।

ঝুম : স্যার আমি যদি ফিরে গিয়ে ২ দিন দেবার কথা আমি না রাখি তাহলে ওরা এখানে থাকা বাকিদের মেরে ফেলবে।যারা এখনো এইখানে ফিরে যাবার আশা নিয়ে দিনের পর দিন মাটি কেটে কেটে বেচে আছে তাদের এক নিমিষে শেষ করে দিবে ওই মাথা বিহীন বাচ্চা গুলা।
ওরা শুধু আমাকে আজ রাত ১২ টাই ফিরিয়ে দিবে আর কাজ হলে বাকিদের দিবে।

হুমায়ন : ওকে ঝুম তুমি আগে এসো তোমার সাথে প্ল্যান করে সব হবে।

ঝুম : না আগে কথা দেন যে আমার সাথে মিলে ওদের মাথা খুঁজে দিবেন।
হুমায়ন : ঝুম এতো বছর আগের মাথা আমরা কই পাবো। এটা এতো সহজ না।
ঝুমের বাবা : আরে আপনি এটা লিখছেন ক্যান।এই কথা বললে ঝুম ওখান থেকে ওদের রেখে আসবে
না।আমার মেয়ে অনেক জেদি। দেখি খাতা আমি কিছু লিখবো।

ঝুম আমি বাবা লিখছি বাবু তুই চলে আয় আমি তোকে হেল্প করব।যা যা করা লাগে আমি সব করব।
ঝুম : বাবা আমি জানি মাথা গুলো কথায় আছে।শুধু ওগুলো বের করতে তুমি হেল্প করবে।
ঝুমের বাবা : আচ্ছা তুই আয়।
ঝুম মাথা কাটা বাচ্চাদের থেকে সব জেনে নিয়ে রাতের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
তুর : উফফ আজ দিন টা এতো বড় কেন। কিছুতেই জেনো রাত আসছে না।

রাত ঠিক ১১:৫৫ টা বাজে।ঝুমের মা বাবা, তুর আর হুমায়ন উঠানের পাশে একটা আম গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিল।
চারিদিক থেকে পানির আওয়াজ আর মাঝিদের হেইয়া হেইয়া আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল।ঠিক ১২ টাই সারা উঠান সোনা পানিতে ভরে গেলো। গাছের আড়াল থেকে সবাই উকি মেরে দেখছিল।
এক এক করে ২ টা নৌকা ভেসে উঠল এক পার থেকে আরেক পারে যাচ্ছিল কিন্তু ঝুম এখনো
আসেনি।সবাই চিন্তায় পরে গেলো। প্রতিদিনকার মতো এক পাশ থেকে আরেক পাশে চলে
গেলো নৌকা পানি কমে আসছিল। নৌকা উধাও হয়ে গেলো। সবাই ভয় পেয়ে গেলো ঝুমকে না
দেখে।অনেকক্ষণ সবাই অপেক্ষা করল কিন্তু ঝুম এলো না। হুমায়ন নিজের ল্যাপটপ অন করল।চারিদিক শুধু অন্ধকার দেখা যাচ্ছে ক্যামেরাই।সবাই হতাশ হয়ে পরল।

তুর : স্যার এটা কি হল।ঝুম কোথায় ওর সাথে খারাপ কিছু হয়নি তো।
ঝুমের মা : চুপ একদম চুপ আমার মেয়ের এই অবস্থার জন্য তোমরা দায়ী। আমার ঝুমকে মেরে
ফেলছে ওই আত্মা গুলো।

হুমায়ন : এটা তো হবার কথা না। আর কোনো বিপদ হলে তো ঝুম নিজের হাতের বক্স খুললেই বিপদ মুক্ত হবে,,
তুর : স্যার চুপ,, কারো ডাক শুনতে পাচ্ছেন।
ঝুমের মা : হুম হুম আমি পেয়েছি আমি পেয়েছি এটা আমার ঝুমের গলা।আমায় ডাকছে আমার ঝুম।
চারিদিক তন্নতন্ন করে লাইট জালিয়ে সবাই খুঁজতে লাগলো ঝুমকে।ঝুম তুর আর ওর মাকে ডাকছিল।
ঝুমের বাবা : মোনামি (ঝুমের মা) মনে হচ্ছে ডাকতা বাড়ির ভেতর থেকে আসছে।
সবাই দৌড়ে বাড়ির মধ্যে গেলো। ঝুম নিজের ঘরে থেকে ডাকাডাকি করছিল।বাইরে থেকে ঝুমের
রুমের দরজা লক করা ছিল।তুর দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। ঝুম তুরকে জরিয়ে কাঁদতে লাগলো।
ঝুমের মা ঝুমকে জড়িয়ে কেঁদে দিলো।
হুমায়ন : ঝুম ওরা তোমায় রুমে দিয়ে গেছে।আমরা তো তোমার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছিলাম।
তোমাকে না দেখতে পেয়ে সবার কি যে অবস্থা হয়ে ছিল উফফ।

ঝুমের বাবা : ঝুম ওখানে কে কে আছে । আর ওই মাথা কই আছে।
ঝুম : বাবা ওখানে মুন্সি দাদু সহ আরও অনেকে আছে।ওই মাথা কাটা বাচ্চা গুলা ওদের দিয়ে মাটি কাটায় প্রতিদিন।
ঝুম সব কথা সবাইকে খুলে বলল।মাথা গুলো যে রাজবাড়ীতে আছে সে কথাও বলে দিলো,,,,,,,
হুমায়ন : আমাদের দেরি করলে চলবে না আমাদের এখনি বেরিয়ে পরা উচিৎ। যেতে যেতে সকাল
হয়ে যাবে।দেখতে হবে ওই রাজবাড়ী কেমন আর আমরা পাবো কি না মাথা গুলা।
ঝুম : স্যার যাবো তো স্যার যাবো
কিন্তু,
তুর : কিন্তু কি ঝুম।
ঝুম : এই গাধা (তুরকে উদ্দেশ্য করে) আমার ক্ষিধে পাইছে আমি আগে খাবো।
তুর : উব ভুতের মত দাত বের করছিস ক্যান ভুতের সাথে থেকে তুই ও ভুত হয়ে গেছিস।
ঝুম :……

ঝুমের মা বাবা, হুমায়ন : ঝুম ফ্রেশ হয়ে এলো। ঝুমের মা খাবার দিলো
খেয়ে গাড়ি নিয়ে সবাই বেরিয়ে পরল তখনো রাত।
রাত প্রায় ৩:৩০ বাজে।গাড়ি করে রাজবাড়ি পৌছাতে ২ ঘণ্টা সময় লাগলো। এখনো অনেক অন্ধকার চারিদিক। আযান পরেনি ৪:৩০ বাজে।রাজবাড়ীর সামনে এসে গাড়ি দাড়াল।গাড়ির হেড লাইট রাজবাড়ীর দিকে ঘুরিয়ে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলো সবাই।
আলোই যতো দূর দেখা গেলো ততো দূর শুধু গাছপালা আর লতা দিয়ে ভরা রাজবাড়ী। দেখেই
বুকের মধ্যে ভয়ে হিম হয়ে আসছে।মনে হচ্ছে এই বুঝি এখনি রাশি রাশি পাখি আর বাদুর উড়ে
এসে গায়ে পরবে।ভাঙা রাজবাড়ি জেনো ওদের দেখে মাথা চারা দিয়ে দাড়াতে চাইছে।
হঠাত আচমকা নুপুরের আওয়াজ আর তবলার শব্দে ভরে গেলো চারিদিক। ভয় পেয়ে গেলো
সবাই।

হুমায়ন : এখান থেকে চলো সবাই। আযানের পর আর দিনের আলোতে ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব না।

হুমায়নের কথায় সবাই ঘুরে গাড়ির দিকে যেতেই গাড়ির আলো অফ হয়ে গেলো। ভয় পেয়ে গেলো সবাই।বুকের মধ্যে সবার জেনো ঝড় বয়ে যাচ্ছিল।তুর হঠাত খুব জরে চিৎকার দিলো,,,,,,,,,

আরো গল্প পড়তে লিংক এ ক্লিক করুন……

সোনার তরী (পর্ব-2)

সোনার তরী (পর্ব-4)

 

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত