আংটিওয়ালা

আংটিওয়ালা

যথাসম্ভব নিঃশব্দে ডালে চুমুক দেবার চেষ্টা করছি।কারণ মা আমাকে বেশ কিছু কথা শোনানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে,সুযোগ পাচ্ছে না তাই এখনও শুরু করছেনা। সম্ভবত এইমাত্র তার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, তাই চিৎকার করে বলে ফেললো-

-এই ছেলেকে বিয়ে করতে তোর সমস্যা কোথায়? মিনমিন করে বললাম-ছেলে দেখতে সুন্দর না।
-তুই নিজে কি এমন সুন্দর রে হারামী??
-মা,আমি কিন্তু মোটেও অসুন্দর নই,তাছাড়া নামকরা ভার্সিটির রয়েল ডেপ্টে পড়ছি,কিসে কম আমি?একটা সুন্দর ছেলেকে বিয়ে করার দাবি আমি করতেই পারি
-তোর মতো নামকরা ভার্সিটির কত মেয়ে ঐ ছেলেকে বিয়ে করার জন্য মুখিয়ে আছে দেখ গিয়ে।লম্বা,ফর্সা, পেশায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,এমন সোনার টুকরো ছেলে পারলে দেখা আমাকে আরেকটা।
-হোক গিয়ে, তবু ঐ ছেলেকে বিয়ে করা যাবেনা।ঐ লোকের নাকের ফুটো অস্বাভাবিক রকম বড়।
-কিহ!!কি বললি তুই!

শিট!কথাটা বলেই মনে হল চরম একটা ভুল করে ফেলেছি, লোকটার নাকের ফুটো একটু বেশি বড় এটা মাতৃসমাজের কাছে কোনো গ্রহণযোগ্য অপরাধ না।

-না মানে,ইয়ে, ঐ লোকের স্বভাবচরিত্রও বদ।
-এ কি রকম কথা, মাত্র একঘন্টার আলাপে তুই কি করে বুঝলি ঐ ছেলের স্বভাব বদ?ঐ ছেলে যাওয়ার আগে আমার পা ছুয়ে সালাম পর্যন্ত করে গেছে,এমন হীরের টুকরো ছেলে কি আপদরে বাবা!!একবার বলছে সোনার টুকরো আবার বলছে হীরের টুকরো,নাকের ফুটোদুটো যে বিশাল গর্তের মতো সেটা তো একবারও বলছেনা। মা কথা শেষ করার আগেই আমি হাত ধুয়ে টেবিল থেকে উঠে পরলাম,এরই মধ্যে বড় আপু এসে হ্যাঁচকা টান মেরে আমাকে আবার চেয়ারটায় বসিয়ে দিল,বলল-

-ঐ ছেলের স্বভাব বদ,তুই কি করে বুঝলি?খবরদার, কথা শেষ না করে এখান থেকে উঠবিনা,আর তোর যখন এতই অপছন্দ তখন আংটি পরাবার সময় চুপ করে ছিলি কেন? ইনি আমার বড় আপু,ছাত্রীজিবনে তুখোড় মেধাবী ছিলেন,বর্তমানে বিয়ে-থা করে সংসারী হয়েছেন,তাকে কথায় হারাবার যোগ্যতা এখনও আমার হয়ে ওঠেনি। আমি কান্না চাপতে চাপতে বললাম-

-ছেলে দেখতে সুন্দর না,তাছাড়া…
-তাছাড়া?
-তাছাড়া ঐ ছেলে আংটি পরাবার সময় আমার হাত অনেকক্ষণ চেপে ধরে বসেছিল।
-বাহ!এতেই তুই বুঝে গেলি ঐ ছেলের স্বভাব বদ?
-অতশত জানিনা,ঐ অতবড় ফুটোওয়ালা নাকের লোকটাকে আমি বিয়ে করতে পারবোনা,ব্যস।
-দাড়া,দাড়া,কথা শেষ না করে উঠে যাচ্ছিস কেন?সুন্দর ছেলে লাগবে তোর,নাকি?তোর দুলাভাইয়ের অফিসের পিয়নটা কিন্তু হেভী সুন্দর,

আরে দেখে তো ওটাকে পিয়ন বলে মনেই হয়না,বিয়ে করবি ওটাকে? আপুর কথা শেষ না হতেই মা ফ্যাকফ্যাক করে হেসে উঠল। অপমান!অপমান!!অপমান!!! বাসার সবাই মিলে যে যেভাবে পারছে আমাকে অপমান করছে,রাতটা শুধু পার হোক,সকালটা হয়ে গেলেই রাজশাহীর বাস ধরবো,কালকের মধ্যে যে করেই হোক ভার্সিটিতে ফিরবো,আর একটা দিনও বাসায় কাটিয়ে ঐ বড় ফুটোওয়ালা নাকের অধিকারীর গুণকীর্তন শোনার কোনো মানেই হয়না।

আংটিটা খুলে ঠুস করে টেবিলের উপর রেখে দৌড়ে আমার রুমে ঢুকে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিলাম। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে। কই?আপুর বিয়ে তো সুন্দর একটা ছেলে দেখেই দেয়া হল,তবে বাপু আমার বেলায় কেন এ বড় ফুটোধারী লোকটা?হোক সে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,তো কি?চেহারার দিকে তাকালে আগে তো তার নাকটার দিকেই গিয়ে চোখ পড়ে।হুহ!দেখতে এসেই আংটি পরিয়ে চলে গেল,একবার জানতে পর্যন্ত চাইলো না,”ম্যাডাম,আমাকে কি আপনার পছন্দ হয়েছে?” এরমধ্যেই ফোনে কল,তাও আবার আননোন নাম্বার। ভালো হল,খুব ভালো হল,সব রাগ এখন এই আননোন ব্যাটার উপর ঝাড়বো।

-হ্যালো,কে বলছেন? ওপাশ থেকে ভীষণ সুরেলা এক পুরুষ কন্ঠ ভেসে এল,অতি যত্নের সাথে কেউ বললো
-আসসালামু আলাইকুম
-অত সালাম দিয়ে কাজ নেই,এতরাতে অচেনা এক মেয়েকে কল করে আবার সালাম দিয়ে সাধু সাজা হচ্ছে?
-আপনি কি কোনো কারনে রেগে আছেন?
-তা দিয়ে আপনার দরকার কি হে বাপু?আপনি কাকে ফোন করেছেন,কেন ফোন করেছেন,তাই বলুন।
-কয়েকঘন্টা আগে যাকে আংটি পড়িয়ে এলাম তার ব্যক্তিগত ব্যাপার জানতে চাওয়াতেও দোষের কিছু আছে বলে

মনে করছিনা,আর আমি তো সামান্য জিনিস জিজ্ঞেস করলাম। সর্বনাশ! এযে সেই আংটিওয়ালা! কি মারাত্বক বদ রে বাবা!!এরই মধ্যে নাম্বার যোগাড় করে পটিয়ে ফেলার ধান্ধা করছে,তা আমি হতে দিচ্ছি না বাছা।তোমার মতো ভেরি লার্জ ফুটোধারী নাকের অধিকারী ব্যক্তিকে আমি ‘তানজিলা’ কখনও বিয়ে করবো না,না না।
গলায় যথাসম্ভব ভারিক্কী ভাব এনে বললাম-

-তা কি মনে করে ফোন করা হল?
-আসলে তখন আপনাকে দেখে সাথে সাথেই অমন আংটি পড়িয়ে ফেলাটা বোধহয় ঠিক হলোনা,আপনি কেমন যেন বিব্রতবোধ করছিলেন,তাই আপনার থেকে কিছু শুনতে ফোনটা করা।

-ও আচ্ছা আচ্ছা, আংটি-ফাংটি সব পরিয়ে বাড়ি ফিরে এখন এই মাঝরাতে এসে আপনার মনে হলো আমার মতামত জানা আপনার উচিত ছিলো।

-দেখুন, এটা কিন্তু মোটেও মাঝরাত না,সাড়ে নটা বেজেছে মাত্র,সে যাই হোক,আপনি কি ভীষণ চড়া গলায় কথা বলছেন!আমি কিছু কথা সাজিয়ে রেখেছিলাম, এখন মনে হচ্ছে খেই হারিয়ে ফেলেছি,আমার মনে হয় ফোনটা এখন রেখে দেওয়াই ভালো হবে।

-ওয়াও!আপনি কি ভীষণ সুবুদ্ধির অধিকারী!এতক্ষণ পরে বুঝলেন আপনার ফোনটা রাখা উচিত,অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

বলে আর একমুহূর্তও অপেক্ষা না করে নিজেই লাইন কেটে দিলাম। এরপরই মনে হল লোকটা কিছু কথা বলতে চেয়েছিল,না শুনেই এভাবে কলটা কেটে দিয়ে বোধহয় একটু বেশি অবিচার করে ফেললাম।হুহ,হোক গিয়ে অবিচার! ঐ অতিমাত্রিক বিগ ফুটোওয়ালা নাকধারী লোকটার সাথে বিগ ফুটোওয়ালা কানধারী কোনো মেয়ের বিয়ে হওয়া উচিত।আংটি পরাবার সময় কেমন কচ্ছপের মতো আমার হাত চেঁপে ধরেছিল তা কি আমি ভুলে গেছি নাকি?সকালটা হলেই আমি পগাড়পার হবো।

কোনোক্রমে সকাল হতেই ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে ফেললাম,বের হতে যাবো ঠিক এমন সময় আপু চোখ ডলতে ডলতে সামনে দাড়ালো,হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো-কিরে কোথায় যাচ্ছিস? ভেঙচি কেটে বললাম-একজন সুন্দর ছেলের খোঁজে বলেই দরজা দিয়ে তাড়াতাড়ি বের হবার জন্য দৌড় লাগালাম,মা-ও বোধহয় আমাকে ধরতে দৌড় লাগাতে চেয়েছিলেন,শেষমেষ দৌড় প্রতিযোগিতায় আমিই জয়লাভ করে বাইরে থেকে দরজা লক করে “মুহাহাহাহা” করে হাসতে হাসতে বের হয়ে গেলাম।

করো এবার যত খুশি বড় বড় গর্তওয়ালা লোকটার গুন কীর্তন। এখন বলছি ভার্সিটিতে ফেরার দিন চারেক পরের কথা,এসেই সেই লাগাতার ক্লাস শুরু। লাইব্রেরিতে বসে আমি আর স্মৃতি নোট রেডি করছিলাম, কোথা থেকে যেন আরেফিন ছেলেটা হাফাতে হাফাতে এসে বলল-তানু, তানু,লম্বা চওড়া এক লোক ডিপার্টমেন্টের সামনে দাড়িয়ে যাকে পাচ্ছে তাকেই তোমার কথা জিজ্ঞেস করছে,এখনই রবীন্দ্র ভবনের সামনে যাও।

কি আশ্চর্য!! কে এই কাঙালীনিকে খুজঁতে আসবে! পাশ থেকে স্মৃতি বলে উঠল-জলদি যা,দেখ গিয়ে তোর কোন যুগের নাগর এসে দাড়িয়ে রয়েছে! ওর দিকে একটা অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে ছুটে বেরিয়ে এসে ডিপার্টমেন্টর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।কই,কেউ তো আমার খোঁজ করছে বলে মনে হচ্ছে না,ধুসস,হুদাই ঐ ছেলে আমাকে ঢপ দিল নাকি।এ বাবা!আজ তো পয়লা এপ্রিল, যা বোঝার বুঝে গেছি।রাগে গা টা রি রি করছে,ডানদিকে মাথাটা ঘোরাতেই চমকে গেলাম,এযে সেই আংটিওয়ালা। কেমন হাসি হাসি মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। যতটা সম্ভব ততটা পরিমাণ ভ্রু কুচকে বললাম-আপনি!

-হুম, আসতে হল। কি বিদখুটে উত্তর,বলে কিনা আসতে হল।
-নিন ধরুন
-কি এটা?
-চকলেট,আপনার ডিপার্টমেন্টের সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে বোর হচ্ছিলাম,কাজ না পেয়ে মুখে চকলেট নিয়ে বসে আছি।

ঐ চকলেট তোর নাকের ভেতর বসিয়ে রাখ শ্লা, তোর দিকে তাকালেই আমার গা জ্বলে যাচ্ছে, নাকের ফুটোদুটো এতো বড় হবার দরকারটা ছিলো কি,উফফ বিভৎস। মনে মনে এসব ভেবে গজরাতে লাগলাম।

-নেবেনা না চকলেট?আচ্ছা থাক নিতে হবেনা, আমরা কোথায় যাচ্ছি জানা যাবে?
-আমি যে আমার মেসে যাচ্ছি তা আমি জানি তবে আপনি আমার পেছন পেছন কোথায় যাচ্ছেন তা জানিনা।
লোকটা এবার সুন্দর করে হাসলো, মা একেবারে ভুল বলেননি।লোকটা যথেষ্ঠ লম্বা,বেশ উজ্জ্বল মুখ,কথা বলার ভঙ্গিতে আত্মমর্যাদা ঠিকরে বেরুচ্ছে। হাসি শেষ করে বললো-

-আপনার হাতে আংটিটা দেখছিনা যে?

আমি চট করে হাতটা ওড়নার আড়ালে লুকিয়ে ফেললাম,এই বদ লোকটার সবদিকে খেয়াল করতে হবে কেন?
সে বললো-আমাকে মাত্র ত্রিশটা মিনিট সময় দেবেন প্লিজ,কোনো ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে বসি চলুন,সেই সকালের বাস ধরেছি,এত লং জার্নি,পেটে কিছুই পরেনি,একটানা এতসময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস নেই তো।
ইসস রে,লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে মায়া লেগে গেল, আহা!বেচারা সেই বরিশাল থেকে রাজশাহী এসে পরেছে।নাহ,ত্রিশটা মিনিট সময় দিয়ে অন্তত ঋণটা শোধ করে দেয়া উচিত,ঠান্ডা গলায় বললাম-চলুন।
মুখোমুখি বসে আছি,কেউ কিছু বলছিনা,হয়তো দুজনেই কথা গোছাচ্ছিলাম,এর মাঝেই সে হঠাৎ ডেকে উঠলো-তানু! চমকে গেলাম, কোনো ছেলের চোখের দিকে সরাসরি তাকানোর অভ্যাস আমার নেই,একবার তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিলাম।

-তানু জানো!ছোটবেলায়, খুব ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতে একবার ভয়ানকভাবে আগুন লেগে গেলো।আমার তো মা নেই,দাদীই বড় করেছেন,তখন আমার বয়স কত?চার কিংবা পাঁচ হবে হয়তো,দাদী নিজেই ঠিক করে হাঁটতে পারতেন না,বাবা দাদীকে কোলে করে বাইরে এনে বাঁচিয়ে দিলেন,কিন্তু আমাকে বের করতে ঐ ঘরে ঢুকতে আর সাহস করলেন না। ঘটনার এ পর্যন্ত শুনে আমার নিশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম, তার চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে ঘটনার বাকি অংশ শুনতে লাগলাম।

-দাদী অনেকক্ষণ ধরে চেঁচিয়ে বাবাকে বলতে লাগলেন আমাকে আনার জন্য ঐ ঘরে আবার ঢুকতে,বাবা কাঁদতে কাঁদতে দাদীকে বোঝাচ্ছিলেন-“মাগো,আবার ঐ ঘরে ঢুকলে আমি আর নাও ফিরতে পারি মা,তখন তোমাকে কে দেখবে মাগো,আমার ছেলেটার চেয়ে যে তোমার প্রাণ আমার কাছে বেশি দামী গো মা” বলে বাবা কাঁদতে লাগলেন।

-তারপর কি হলো??তারপর?
-তারপর কে জানে কোন অশরীরী শক্তির জোরে দাদী নিজেই উঠে দাড়ালেন,দুহাতে সবাইকে ঠেলে সরিয়ে নিজেই সেই ঘরের ভেতর ঢুকে পড়লেন,বাইরে তখন সবার গগনবিধারী চিৎকার আর বাবার আহাজারি।

মিনিট পার না হতেই আমাকে তার আচলের নিচে অক্ষত অবস্থায় নিয়ে দাদী ফিরলেন,জানো তানু?দাদীর হাতের সেই পোড়া দাগ দেখিয়ে সবসময় দাদী বলতেন-“ওরে ও পাগলা,তোর জন্য এমন পোড়া হাতওয়ালা একটা বউ আনুম” দাদী এখন আর বেঁচে নেই, বিশ্বাস করো তানু আজ তিনবছর যাবত মেয়ে দেখে যাচ্ছি, কোনো মেয়ের মুখের দিকে তাকানোর আগে আমি তার হাতের দিকে তাকাই,দেখি তার হাতে আছে কিনা কোনো পোড়া দাগ,সেদিন হঠাৎ তোমার হাতে অমন জন্মদাগ দেখে আমি আর সাত পাঁচ কিছুই ভাবিনি,সাথে সাথে ঐ হাত চেপে ধরে আংটি পড়িয়ে ফেলেছিলাম, আমার জানা হয়নি তোমার আমাকে আদৌ পছন্দ হয়েছে কিনা,জানা হয়নি তোমার কোথাও কোনো পছন্দ আছে কিনা,জানা হয়নি তুমি আমাকে বিয়ে করতে আসলেই রাজি কিনা। এ পর্যন্ত বলে লোকটা থামলো। আমার চোখ গড়িয়ে পানি বের হতে লাগলো।

শিট!এ মুহূর্তে এসে কেঁদে ফেলার কোনো মানে হয়?লোকটা নির্ঘাত বুঝে ফেলবে আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি।
-তোমার হাতদুটো একবার টেবিলটার উপর রাখবে তানু?সেই আংটি পড়ানোর দিন থেকে দেখে আসছি তোমার হাতের জন্মদাগ লুকাবার জন্যই তুমি হাতদুটোকে বারবার ঢেকে রাখো।অথচ আমাকে দেখো?কত করে খুঁজেছি তানু,কত হাজারবার করে খুঁজেছি আমি, ঠিক অমন দুটো হাত।

এই প্রথম আমি কারও সামনে আমার হাতটা সহজ ভঙ্গিতে রাখলাম।যে হাত লুকোতে আমার এতো চেষ্টা সেই হাতের দিকে এই মানুষটা কেমন মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।উফ,বারবার আমার চোখে পানি এসে যাচ্ছে কেন?ওমা!লোকটার চোখও দেখছি খানিকটা ভেজা!আচ্ছা উনি পকেট থেকে ওটা কি বের করছে?আরে এযে সেই আংটিটা,যেটা খাবার টেবিলে ফেলে রেখে চলে এসেছিলাম।কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে আংটিটা আমার হাতের অনামিকা আঙ্গুলে পড়িয়ে দিলো। আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম।

-চলে যাচ্ছো?
-না, আপনার জন্য খাবারের অর্ডারটা দিয়ে আসছি।

সে আবার সুন্দর করে হেসে ফেললো।সম্ভবত সে বুঝে গেছে আমি অন্তত কিছুটা সময়ের জন্য হলেও তার চোখের সামনে থেকে পাঁলাতে চাইছি। হাসিটা ঠোঁটে ধরে রেখেই বললো-“যাও” সামনের দিকে এগুচ্ছি,তবু জানি পেছন থেকে দুটি চোখ এমুহূর্তে ঠিক আমাকেই দেখছে,বিশ্বাসটা সত্যি কিনা পরীক্ষা করার জন্যই একবার পেছন ঘুরে তাকালাম,ইসসস কি ভয়ংকর সুন্দর করে হাসছে লোকটা!লোকটার অজস্র সৌন্দর্য্যে ভরা মুখটা প্রথমদিন কেন আমার চোখে পড়লোনা? আমি মুখ ফিরিয়ে ফেললাম,আচ্ছা কাউকে ভালোবেসে ফেললেই তাকে ভালো লেগে যায় কেন?

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত