ওপারেও আমরা ২

ওপারেও আমরা ২

মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে ঠিক মাথার উপর একটা মেয়ের লাশ সিলিং ফ্যানে ঝুলতে দেখে যে কারও আঁতকে উঠে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কথা। রাফি হয়তো দ্বন্দ্বে রয়েছে যে, সে অজ্ঞান হয়ে যাবে নাকি চিৎকার দিবে। রাফি হা করে ঝুলন্ত লাশটাকে দেখছে। লাশটার পরনে শুধু একটা সবুজ রঙের ছায়া আর সবুজ রঙের ব্লাউজ। একটা সবুজ শাড়ি ফ্যানের সিলিংয়ে বাধা।

ঐটাই গলায় পেঁচানো। রাফি এবার কিছুটা হুশ ফিরে পেয়ে, “বাবা, বাবা, মা, কোথায় তোমরা তাড়াতাড়ি আমার ঘরে এসো। লাশ লাশ !”বলে চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু তার বাবা-মা কেউই তার ঘরে এল না। কোনো সাড়াও দিল না। রাফি লাশ থেকে চোখ না সড়িয়ে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামল। বাবা-মায়ের ঘরের দিকে যেতে নিয়ে সে আরেক দফা চমকে উঠল। সে এখন কোথায় আছে! এটা নিঃস্বন্দেহে তার বাড়ি নয়। রাফি থাকে একতলা একটা ছাপড়া বাড়িতে। সেই ঘরের দেয়ালগুলো ইটের, ছাদ টিনের আর মেঝে সিমেন্টের। কিন্তু সে এখন যেই বাড়িতে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেটা বিল্ডিং বাড়ি।

মেঝেতে টাইস, বিশাল ছাদ। রাফি বেশ চমকে গেল। সে এই বাড়িতে এল কীভাবে! আগামীকাল সকালে তার অনার্স জীবনের শেষ পরীক্ষা। সে তার ঘরের বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়ছিল। এরপর আর কিছু মনে নেই। সে হয়তো পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু তারপর সে এইরকম একটা বাড়িতে আসল কীভাবে! আর তার ঘরের সিলিংএ যে মেয়েটার লাশ ঝুলছে সেই বা কে? রাফি পুরো বাড়ি খুঁজে তারা বাবা-মা বা অন্য কাউকে খুঁজে পেল না। সে যে ঘরে শুয়েছিল সে ঘরে আবার গেল। মেয়েটা এখনও সিলিংএ ঝুলে আছে। জিহ্বা মুখ থেকে বাহিরে আর চোখ দুটোও খোলা। মনে হচ্ছে চোখদুটো তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। রাফির অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু মানুষতো চাইলেই অজ্ঞান হতে পারে না। রাফি কিছুই বুঝতে পারছে না। এই পুরো ঘটনাটা স্বপ্ন হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? হতে পারে সে অতিরিক্ত রাত জেগে পড়ার কারণে এখন স্বপ্ন দেখছে।

কিন্তু সে শুনেছিল স্বপ্নের কোনো রং এবং গন্ধ থাকে না। রাফি কেরোসিনের গন্ধ পাচ্ছে আর মেয়েটার পরনে যে সবুজ ছায়া আর ব্লাউজ রয়েছে, এটা স্পষ্ট দেখছে। তাহলে! এটা কী স্বপ্ন নয়? স্বপ্ন না হলেও এই পুরো ঘটনাটা বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ সে একটু আগেও তার নিজের ঘরে শুয়ে শুয়ে পড়ছিল। মুহুর্তের মধ্যে এই রকম একটা বাড়িতে তার চলে আসার কথা না। এছাড়া তার বিছানার উপর একটা অপরিচিত মেয়ের লাশ ঝুলবে এটাও সম্ভব না। তার মানে এটা না স্বপ্ন না বাস্তব। তাহলে কী তন্দ্রার মধ্যে রয়েছে সে? হয়তো অতিরিক্ত পড়ার কারণে তার এই অবস্থা। না! তন্দ্রাতেও এতো সুন্দর ভাবে চিন্তা-ভাবনা করা যায় না। রাফি আর কোনো যুক্তি না খুঁজে এটাকে তন্দ্রা হিসাবেই ভেবে নিল। সে ভাবতে লাগল সে যা দেখছে সব মিথ্যা। কিছুক্ষণ পর সে নিজেকে আবার আবিষ্কার করবে তার সেই চির পরিচিত বিছানায়।

চোখের সামনে দেখবে পদার্থ বিজ্ঞানের বই। রাফি বিছানাতে বসে বসে অপলক দৃষ্টিতে সেই ঝুলন্ত লাশটাকে দেখতে লাগল। হঠাৎ ঘরের দেয়ালে তার চোখ যেতেই সে বেশ হকচকিয়ে গেল। দেয়ালে রাফির ছবি ঝুলছে। রাফির পাশে সবুজ শাড়ি পড়া অপরুপ সুন্দরী এক মেয়ে। মেয়েটার পরনে সবুজ শাড়ি। রাফি দীর্ঘক্ষণ মেয়েটার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকার পর আবিষ্কার করল ছবিতে তার পাশের মেয়ে আর সিলিংএ ঝুলন্ত মেয়েটি একই। কিন্তু তার সাথে এই মেয়েটির ছবি এল কোথা থেকে বুঝতে পারল না। অবশ্য তন্দ্রায় সবই সম্ভব। তাকে মশা কামড়াচ্ছে। এটাও কী তন্দ্রার অংশ! ঝিম মেরে বিছানায় বসে বসে পুরো ঘর পর্যবেক্ষণ করছে রাফি। হঠাৎ তার পানি পিপাসা পেল। সে দেখল ঘরের টেবিলে একটা পানির বোতল। বোতলটা নিতে গিয়ে দেখল বোতলের নিচে একটা কাগজে কিছু লেখা আছে। কাগজটা পড়তে শুরু করল রাফি:

প্রিয় সাদিক,
তোমার প্রিয় সবুজ শাড়িটা পরে ঝুলন্ত অবস্হায় আমাকে দেখে কী তোমার অনেক খারাপ লাগছে? আসলে আমার কিছুই করার ছিল না। বলতে পার পাপের প্রায়শ্চিত্ব করেছি। তুমি যখন অফিসের কাছে শহরের বাহিরে থাকতে তখন আমি নানান পুরুষের সাথে পরিক্রিয়ার ঝড়িয়ে পড়ি। এখন আমার ভয় হচ্ছে, তুমি এসব জানলে আমাকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারবে না। আমি তোমাকে অনেক ঠকিয়েছি। আর না। তুমি ভালো থেকো।

ইতি
শিল্পা

রাফি চিঠিটা পড়ে হা করে রইল। সাদিক কে! ও কোথায়! ওকে চিঠিটাতো দিতে হবে। রাফির আবার প্রস্রাব চাপল। সে দ্রুত ঘরের ওয়াশরুমে ঢুকে কাজ সাড়ল। এবার সে নিশ্চিত সে তন্দ্রায় নেই। তার সাথে যা ঘটছে সব বাস্তব। তার বাড়িতে একটা মেয়ের লাশ ঝুলছে। অবশ্য বাড়িটাতো তার না। অন্য কারও। নিশ্চই কেউ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এইরকম জটিল একটা সমস্যায় তাকে কে ফেলবে? আর তার বাবা-মা ইবা কোথায়! তাকে এই বাড়িতে এত রাত্রে আনল কে! সে কোথায় আছে শহরের ভেতরে নাকি বাহিরে! যাই হোক আগে তাকে এই বাড়ি থেকে বের হতে হবে। রাফি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। কম করে হলেও ৬ তলার উপরের একটা ফ্লাটে সে এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে। হয়তো কোনো বড় এপার্টম্যান্টের ফ্লাটে রয়েছে। রাফি দ্রুত দরজার কাছে যায়। দরজা ভেতর থেকে লক করা। চাবি খুঁজতে খুব একটা কষ্ট হয়নি তার। শোবার ঘরেই ছিল। তবে এবার শোবার ঘরে গিয়ে মেয়েটার ঝুলন্ত লাশ দেখে বেশ ভয় পেয়ে যায় সে। ভয়ে হাত পা প্রায় ঠান্ডা হয়ে যায়। লাশটার চেহারা আগের মতোই আছে। জিহ্বা মুখের বাহিরে, চোখ দুটো খোলা এবং বড় বড়। এতক্ষণ এই লাশটা দেখেও বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে যায় নি রাফি। তবে এখন কেন ভয় লাগছে সে জানে না।

রাফি ঘর থেকে বের হলো। অনেক রাত বলে প্রকৃতি নীরব, এপার্টমেন্টটাকেও নির্জন নির্জন লাগছে। প্রতি তলায় ৪ মুখ থেকে ৪টা ফ্লাট রয়েছে। প্রতিটি ফ্লাটের দরজা মুখোমুখি। লিফট আছে। তবে মধ্যরাত বলে লিফট বন্ধ। রাফি সিড়ি দিয়ে নিচের তলায় নেমে এল। একজন লিফটম্যান বা দাঁড়োয়ান সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। রাফিকে দেখেই দাঁড়োয়ান সালাম দিয়ে বলতে লাগল, “আরে সাদিক স্যার! এখনও ঘুমান নাই! আজকেও আবার বউয়ের সাথে ঝগড়া হইছে নাকি?” রাফি কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল। তাকে সাদিক স্যার বলে ডাকছে কেন! চিঠিটাতেওতো সাদিক বলে সম্বধন করেছিল ঐ ঝুলন্ত মেয়েটি। তাহলে কী সাদিকের চেহারার সাথে তার চেহারার মিল রয়েছে! লোকটাকে কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না রাফি। তার মাথা ঘুরছে নাকি পৃথিবীটা জোরে ঘুরছে এটা বুঝতে পারে না রাফি। দাঁড়োয়ান লোকটাও তার চারপাশ দিয়ে ঘুরছে! রাফি আর কিছু চিন্তা করার আগেই তার চোখ বন্ধ হয়ে যায়। মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সে।

রাফি ভেবেছিল সে যখন চোখ খুলবে তখন দেখবে সে তার ঘরের বিছানায় শুয়ে রয়েছে। তার সামনে পদার্থ বিজ্ঞানের বই। কিন্তু তা হলো না। সে চোখ খুলে দেখল সে যেই ফ্লাট থেকে বেরিয়ে ছিল সেই ফ্লাটের একটা সোফায় সে শুয়ে রয়েছে। ঝুলন্ত সেই মেয়েটিকে মেঝেতে নামিয়ে রাখা হয়েছে। পুরো শরীর একটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। শুধু মুখটা খোলা। চোখদুটো বন্ধ আছে। কিন্তু জিহ্বা এখনও মুখের বাহিরে বেরিয়ে রয়েছে। মেয়েটার লাশের পাশে আরেকটা মেয়ে বসে আছে। মেয়েটা বসে বসে কাঁদছে। এই মেয়েটা হয়তো ঐ লাশের মেয়েটার বোন। চেহারার অনেকটা মিল রয়েছে। ঘরে বেশ কয়জন পুলিশের পোশাক পরা লোক দেখা যাচ্ছে। ফ্লাটের বাহিরেও যে চেচামেচি হচ্ছে এটা বোঝা যাচ্ছে।

হয়তো লোক ভীর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাফি সোফা থেকে উঠে বসতেই লাশের পাশের ঐ মেয়েটা রাফির দিকে এগিয়ে এল। রাফি কিছু বুঝে উঠার আগেই মেয়েটা ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে দিল রাফির গালে। রাফি হা করে তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে। একটা মহিলা কন্সটেবল এসে মেয়েটাকে কিছুটা দূর সড়িয়ে নিল। নাহলে নিশ্চিত মেয়েটা আরও কয়েকটি থাপ্পর দিত রাফির গালে। মেয়েটা কিছুটা রেগে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে রাফিকে উদ্দেশ্য করে বলে, “শুয়োরের বাচ্চা! তুই এখন অজ্ঞান হওয়ার ভান করিস! যেন কিছুই জানিস না। আপু আত্মহত্যা করেনি। ওকে তুই খুন করেছিস। আপু আমাকে আগেই বলেছিল যে তুই আপুকে মেরে ফেলবি। কিন্তু আমি সে কথা কানে নেইনি। তাই আজ এই দিন এল। আবার চিঠিতে লিখে রাখিস আমার আপু পরক্রিয়া করে। আমি আপুর হাতের লেখা চিনি না, না? কুত্তার বাচ্চা। তুই কেন করলি এমন? আমার এই পৃথিবীতে আপন বলে আর কেউ থাকল না! ”

রাফি হা করে তাকিয়ে থাকে মেয়েটার দিকে। রাফি বিস্মীত , হতভম্ভ, স্তম্ভিত সব এক সাথে হয়ে গেছে। তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। হচ্ছেটা কী, এসব! সে কোথায় চলে এসেছে! কী বিপদে পড়ল সে। এরই মধ্যে এক পুলিশ অফিসার এসে রাফিকে বলল, আপনার শালিকা সালেহা আপনার নামে হত্মার মামলা করেছেন। ময়না তদন্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত আপনাকে থানায় থাকতে হবে। চলুন আমার সাথে।

বাহিরে সূর্য উঠেছে অনেক আগে। রাফিকে পুলিশ ভ্যানের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটা এম্বুলেন্স এসে মেয়েটার লাশ নিয়ে গেছে। রাফি যেই পুলিশ ভ্যানে উঠবে, হঠাৎ গতদিনের সেই দাড়োয়ানটা ছুটে এল তার কাছে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে রাফিকে বলতে লাগল, সাদিক স্যার, আমার কোনো দোষ নাই। আমারে ক্ষমা কইরা দিবেন। গতরাতে আপনে যখন অজ্ঞান হয়ে পইড়া গেলেন, তখন আমি আর আরেকটা লোক আপনারে ধইরা আপনার ফ্লাটে নিয়া গেলাম। দরজা খোলা ছিল। ভেতরে ঢুইকা দেখি আপনের বউ সিলিংএ ঝুলতেছে। আমরা ভয়ে চিৎকার দিলাম। আপনার মুখে পানি দিলাম তাও উঠলেন না! পরে আশেপাশের ফ্লাটের লোক আইল। তারা পুলিশ খবর দিছে। আপনে বড় ভালা মানুষ। আপনের কিছু হইব না। এই কথাগুলোর মানে রাফি বুঝল। সে যাচ্ছে পুলিশ ষ্টেশনে।

জেলখানার ভেতর বসে আছে রাফি। বাজে দুর্গন্ধ আর সহ্য হচ্ছে না তার। সে এখনও কিছুই বুঝতে পারছে না। তার মাথা আউলা হয়ে যাচ্ছে। তার বাবা-মা কোথায়! তার পরীক্ষা। সে এই কোন শহরে চলে এসেছে। তার নাম রাফি। সবাই তাকে সাদিক,সাদিক করছে কেন! এত বড় ঝামেলায় রাফি এর আগে কখনই পড়েনি।

জেলখানার ঐ ঘর থেকে রাফিকে নিয়ে যাওয়া হলো একটা ছোট ঘরে। ঘরের দরজা জানালা কিছুই নেই। মইয়ে করে নেমেছে তারা। মাথার উপর অনেক পাওয়ারের একটা বাল্ব। মাথা যেন সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাশে একটা ট্রেতে নানান সাইজের ডিম। ডিম থেকে গরম ধুয়া উড়ছে।তার সামনের চেয়ারে সিবিল ড্রেসের একজন অফিসার বসে আছেন। অফিসার রাফির দিকে কিছুটা এগিয়ে এসে প্রশ্ন করল:

-সিগারেট চলবে?

রাফি কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে উত্তর দিল: স্যার, আমি সিগারেট খাইনা। (যদিও সে খায়।) তো, সাদিক সাহেব। আপনি এখন রিমান্ডে আছেন। আপনার পাশে যে ডিম রয়েছে এর মাধ্যমে আমরা ডিম থেরাপী দেই। আশা করি বিষয়টা আপনি আগেও শুনেছেন। এর অভিজ্ঞতা কিন্তু ভয়াবহ হতে পারে। বিদ্যুতের সকটের ব্যবস্হাও আছে। আপনাকে দেখে ভদ্রলোক বলে মনে হচ্ছে। আশা করি বেশি ঝামেলা করতে হবে না। আপনার স্ত্রীকে কীভাবে খুন করেছেন বলুন।

কথাগুলো শুনে রাফির গলা শুকিয়ে গেছে। সে সামনের টেবিল থেকে পানির গ্লাসটা নিল। এরপর অফিসারকে তার জীবনের পুরো ঘটনাটা খুলে বলল, তার নাম যে সাদিক না, রাফি। সে এবার অনার্স পরীক্ষা দিবে। সে ঘুমাচ্ছিল। ঘুম থেকে উঠে দেখে এই অবস্হা। সব কথা খুলেলে বলে অফিসারকে। তার বিশ্ববিদ্যালয় আর শহরের নাম শুনে অফিসার এমন ভাবে তাকাল যে এই নামের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শহরের নাম সে কখনও শুনেইনি। রাফির পুরো ঘটনাটা শুনে অফিসারটা হাসতে হাসতে প্রায় মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। এইরকম মজার কথা যেন সে কখনই শুনেনি। হাসি থামিয়ে সাথে সাথে অফিসার লোকটা নিজের মুখ গম্ভীর করে রাফিকে বলল, দারুন গল্প জানোতো। এই ধরণের গল্প বইয়ের প্রকাশকদের সাথে করো। পুলিশের সাথে করে কোনো লাভ নেই।

আমরা তোমার স্ত্রীর শরীরের ময়নাতদন্ত করেছি। তার শরীরের রক্তে পটাসিয়াম সায়ানাইড পাওয়া গেছে। বিজ্ঞান এখন তোমার গল্পের মতো এত পিছিয়ে নেই। আমরা এটা ধরতে পেরেছি। এরপর তুমি তোমার স্ত্রীর গলা পেচিয়ে খুন করেছ। আর তার লাশ এমন ভাবে সিলিংএ ঝুলিয়ে রেখেছ যেন সে আত্মহত্যা করেছে। সেই চিঠিটাও তোমার স্ত্রীর হাতের লেখার সাথে মিলেনি। অন্য কাউকে দিয়ে লেখিয়েছ। এখন ভালোয় ভালোয় স্বীকার কর। রাফি আসলেই এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। তার সবই গুলিয়ে যাচ্ছে! রাফি বলল যে, বিশ্বাস করুন আমি কিছুই জানি না। এবার শুরু হলো ডিম থেরাপী। রাফি কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে স্বীকার করল যে, এই খুনটা সেই করেছে। যদিও সে এই বিষয়ে কিছুই জানে না। পুলিশরা তার স্বীকারোক্তিতে খুশি হলো। লিখিত স্টেটমেন্ট নেওয়া হলো।

পরেরদিন কোর্টে নেওয়া হলো রাফিকে। এখন সে প্রায় পাগল হয়ে গেছে। নির্বাক একটা মানুষ। এত দ্রুত এইসব ঘটনার জন্য রাফি মোটেও প্রস্তুত ছিল না। এখন সে পাগল প্রায়। কোর্টে পুলিশের শেখানো মতো সব দোষ স্বীকার করল সে। রাফির পক্ষে কোনো উকিল নেই। রাফির রায় হলো মৃত্যুদন্ড। জেলের একটা ছোটঘরে রয়েছে রাফি। আর এক সপ্তাহ পর তার মৃত্যুদন্ড হবে। তার খুব মন খারাপ লাগছে। বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে তার। তার বাবা-মা কেমন আছে? দেখতে দেখতে ৬টা দিন চলে গেল। পরের দিনই রাফির মৃত্যু কার্যকর হবে। রাফির শেষ ইচ্ছামত তার জন্য গরম ভাত আর চিংড়ি ভূণা রান্না হচ্ছে।

ঘুম থেকে উঠে মাথার উপরে টিনের চাল দেখে চমকে উঠে সাদিক। সে বুঝতে পারে না যে সে কোথায় রয়েছে। তার মাথার উপর সিলিংএ তো শিল্পার ঝুলন্ত লাশ থাকার কথা। সে গতরাতে নিজ হাতে শিল্পাকে খুন করেছে। বিদায় হয়েছে ঝামেলার। এখন ফাসির ধরিতে ঝুলতেও সমস্যা নেই। শিল্পার সাথে সাদিকের বিয়ে হয়েছে ৩ বছর হলো। এর মধ্যে একটা দিনও শান্তিতে সংসার করতে পারেনি সাদিক। শিল্পার চেহারাটাই শুধু সুন্দর। আর কিছু নয়। খুতখুতে স্বভাবের একটা মেয়ে। বিয়ের ৩ বছরেও একটা সন্তানের মুখ দেখাতে পারেনি শিল্পা। উল্টো সারাক্ষণই সন্দেহ করে সাদিককে।

এই ঝামেলা আর সহ্য করতে পারেনি সাদিক। তাই গতরাতে অনেক কষ্টে পটাশিয়াম সায়ানাইড জোগাড় করে সে। এর স্বাদ মিষ্টি। এছাড়া এটা খাইয়ে কাউকে মারলে পুলিশের বাপেরও সাধ্য নেই যে ধরে এটা একটা অস্বাভাবিক মৃত্যু। সাদিক ভেবেছিল মিষ্টি কিছুর সাথে শিল্পাকে এটা খাইয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিবে। কিন্তু পটাশিয়াম সায়ানাইড মেশানোর সময়েই শিল্পার হাতে ধরা পড়ে যায় সাদিক। শিল্পা রসায়নের ছাত্রী। তাই তার এই কেমিকেলটা চিন্তে মোটেও কষ্ট হয়নি। শিল্পা সাদিকের উপর ক্ষেপে যায়। সে পুলিশকে কল করতে চায়। ঠিক তখনি সাদিক আর কোনো উপায় না দেখে শিল্পার পরনের শাড়িই শিল্পার গলায় পেচিয়ে তাকে খুন করে। এটাকে আত্মহত্যা প্রমাণ করতে লাশটাকে সিলিংএ ঝুলিয়ে দেয় শাড়ির সাথে। সাদিকই শিল্পার হাতের লেখা নকল করে একটা আত্মহত্যা পত্র লিখে টেবিলে রাখে।

সে বুঝতে পারে না তারপর সে কী করবে। পুলিশ ঘরে ঢুকলে হয়তো সব বুঝে ফেলবে। হাতের লেখা মেলাবে। পরে বুঝবে এটা একটা খুন। এবং ফলসরুপ তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। সাদিক ঠান্ডা মাথায় প্লান করে যে সে তারপর কী করবে। ঘরে কেরোসীন তেল রয়েছে। এটা দিয়ে শিল্পাকে রাতেই পুড়িয়ে দিবে সে। ঘরে পুড়ানোটা রিস্কি হবে। তাও কিছু করার নেই। বেশি আগুন জ্বললে সে পুরো বাড়িতে আগুন ধরিয়ে বাড়ির বাহিরে চলে যাবে। সবাই ভাববে আগুনে পুড়ে শিল্পার মৃত্যু হয়েছে। এটা একটা এক্সিডেন্ট। শিল্পার আপন বলতে এই পৃথিবীতে একটা ছোট বোন আছে নাম সালেহা। সেও বেশি সন্দেহ করবে না।

সিলিংএ শিল্পার লাশ ঝুলছিল আর বিছানায় শুয়ে সাদিক ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করছিল। তার মাথায় এল রান্নাঘরে পটাশিয়াম সায়ানাইড মিশ্রিত শরবত রয়েছে। এটা আগে ফেলে দিতে হবে। পুলিশের চোখে পড়লে সর্বনাশ! এসব ভাবতে ভাবতেই চোখ লেগে যায় সাদিকের। চোখ মেলে সে নিজেকে আবিষ্কার করে এই টিনের চালওয়ালা ঘরটিতে। তাহলে শিল্পার লাশ কোথায়? তাকে কী পুলিশ এখানে ধরে নিয়ে এসেছে! তাহলেতো সব শেষই। এখন সাদিকের অপরাধ স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু এই ঘরটা দেখে সাদিকের কিছুতেই মনে হচ্ছে না যে, এটা জেলখানা। তাহলে সে কোথায়! সাদিক কিছুই বুঝতে পারছে না বাহিরে সূর্য উঠেছে। মানে সকাল। সাদিক বিছানা থেকে উঠে একটা বড়সড় ধাক্কা খেল। একজন মাঝবয়সী অপরিচিত মহিলা সাদিককে বলছে, কীরে রাফি! এত বেলা করে ঘুমোচ্ছিস কেন? আজ না তোর পরীক্ষা? পরীক্ষার হলে গিয়ে আবার ঘুমাস নে! তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে আয়। খাবার খেয়ে পরীক্ষা দিতে যাবি।

সাদিক হতভম্ভ দৃষ্টিতে মহিলাটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সে কিছুই বুঝতে পারছে না! এই মহিলাটি কে? তাকে রাফি বলে ডাকছে কেন! এমন ভাবে কথা বলছে যেন সাদিক তাদের সন্তান। ঘরের দেয়ালের দিকে তাঁকিয়ে যেন আরেক দফা চমকে গেল সাদিক। দেয়ালে একটা ছবি ঝুলছে। মাঝখানে সাদিকের ছবি। তার ডানপাশে একটু আগে যেই মহিলাটি তাকে ডাকতে এসেছিল তার ছবি। বাম পাশে একটা ভদ্রলোকের ছবি। হয়তো ঐ মহিলার স্বামী ইনি। ছবিটা দেখেই মনে হচ্ছে এটা একটা পারিবারিক ছবি।

দুই পাশের দুজন তার বাবা-মা। তবে সাদিক এদের চিনতে পারেনি। সাদিকের যখন মাত্র ১৩ বছর বয়স তখনই তার বাবা-মা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এরপর থেকে সে তার মামার বাড়িতে মানুষ হয়। ছবির এই দুজনকে দেখে কিছুতেই তার পরিচিত ব্যাক্তি বলে মনে হচ্ছে না। খুন করার পর যে কারও মস্তিস্ক এলোমেলো হয়ে যায়। সাদিক ভাবল তারও হয়তো মস্তিস্ক এলোমেলো হয়ে গেছে। আর সেই এলোমেলো মস্তিস্ক তাকে এইসব উদঘট ঘটনা দেখাচ্ছে। তাহলে কী সে কোনো স্বপ্নের ঘোরে রয়েছে! না। স্বপ্ন রঙীন এবং গন্ধযুক্ত হয় না। কিন্তু সে নানান রং দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসের গন্ধও পাচ্ছে। সাদিক বুঝতে পারছে যে সে একটা রহস্যের মধ্যে জড়িয়ে রয়েছে। এই রহস্যটা কী এটা জানার জন্য আগে তাকে এই বাড়িটা থেকে বের হতে হবে। তাকে জানতে হবে সে কোন শহরে বর্তমানে রয়েছে। এবং তাকে এখানে আনল কে! আর ওই মহিলাটাই বা কে! এই দেয়ালে তার এই অদ্ভুত ছবিইবা এল কীভাবে!!

সাদিক তার ঘর থেকে বের হতেই একজন ভদ্রলোক তাকে খাবার টেবিলে ডাকলেন। ঐ ছবির বাম পাশের ভদ্রলোকই যে ইনি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই সাদিকের। খাবার টেবিলে সেই ভদ্রলোকটার সাথে ভদ্র মহিলাটা নানান বিষয়ে কথা বলছিল। কথার আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারে না সাদিক। সে কোনোমতে খাওয়া শেষ করে দ্রুত বাড়ি হতে বেরিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের হতেই তার সামনে একটা বাইক এসে দাঁড়ায়। বাইকটাতে আছে তারই সমবয়সী একটা ছেলে। ছেলেটা বাইক থামিয়ে উল্লাসের সাথেই তাকে বলল, কী রে দোস্ত! আজকেতো শেষ পরীক্ষা। প্যারা অফ। জাস্ট চিল। সাড়ে ৯টা বেজে গেছে। তাড়াতাড়ি বাইকে উঠ।

সাদিক কিছু না বুঝেই বাইকে উঠতে যায়। হঠাৎ সেই বাইকের ছেলেটা কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে বলে, ঐ! তোর পরীক্ষায় যাওয়ার ফাইল কই? এডমিট কার্ড, কলম! নেশা করছিস নাকি! যা ঘর থিকা এইগুলা নিয়া আয়। সাদিক বাড়ির দিকে যাবে ঠিক তখনই বাড়ির ভেতর থেকে সেই মহিলাটি একটা ফাইল হাতে তার কাছে আসে। আর বলে, গাধা কোথাকার। ফাইল ছাড়া বাড়ি থিকা বের হইছিস কেন? পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা নাই? দেইখা শুইনা যাস।

ফাইল নিয়ে সাদিক, ছেলেটার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে রওনা হয়। বাইকে ছেলেটা নানান কথা বলছিল সাদিককে। তবে তাকে সম্বধন করছিল রাফি বলে। সাদিক কিছু না বুঝেই হাঁ , হুঁ করতে থাকে পুরোটা পথ। সাদিকের মাথা কাজ করছিল না। তাই সময়ের স্রোত তাকে যেইদিকে নিয়ে যাচ্ছিল, সাদিক সেই দিকেই যাচ্ছিল।

এডমিট কার্ড দেখে তার সিটে গিয়ে বসে সাদিক। এই রকম নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা সে এর আগে কখনই শুনেনি। সাদিক ম্যাথ নিয়ে মাস্টার্স করেছে। তবে আজ পরীক্ষা দিল ফিজিক্স। পরীক্ষা তেমন খারাপ হয়নি। খাতায় নাম লিখল এডমিট কার্ডে দেওয়া নামটা। পরীক্ষা দিয়ে সেই ছেলেটাকে অসুস্হ্যতার কথা বলে সোজা চলে এল রাফির বাসায়। মানে যে বাড়িতে সে সকালে নিজেকে আবিষ্কার করে। তার বাড়েবাড়ে শুধু শিল্পার কথা মনে পড়ছিল। ঐখানে কী কান্ড হচ্ছে জানতে ইচ্ছা করছিল। কিন্তু সে কোন দুনিয়ায় চলে এসেছে নিজেই জানে না।

সাদিক এরপর টানা ৭দিন ঐ বাড়ি থেকে বের হলো না। কেউ তার সাথে দেখা করতে এলেও কথা বলে না সে। সেই ভদ্রলোক আর মহিলাও যেন তাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। সারাদিনই তার কাছে এসে নানান কথা বলে। সে সারাদিন ঘর থেকে বের হয় না কেন জানতে চায়। যদিও তারা তাকে রাফি বলেই সম্বধন করে। সাদিক শুধু বলে যে, তার বাহিরে যেতে ভালো লাগে না। এখন কয়েক সপ্তাহ রেস্ট নিবে। তার কথাগুলো শুনে ভদ্রলোক আর মহিলা বেশ অবাক হয়। কিন্তু সাদিকের কিছুই করার নেই।

এইভাবেই এক সপ্তাহ পার হয়ে যায়। এক দুপুরে সেই ভদ্রলোকটা সাদিকের ঘরে এসে সাদিককে বলে, রাফি, বাবা। তোমার অনার্স শেষ। তোমার বিয়ের বয়স হয়েছে। তাই আমি-আর তোমার মা তোমার বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তুমি জামা-কাপড় পরে তৈরি হও। আজ বিকালেই আমরা পাত্রী দেখতে যাব।

সাদিক কথাটা শুনে হকচকিয়ে গেল না। সে এখন এই জীবনের সাথে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। রাফির লেখা ডায়েরী পড়ে তার সম্পর্কে অনেকটা জেনে নিয়েছে সে। সাদিক এখন রাফির মতো ব্যবহার করতে শুরু করেছে। রাফির জীবনটা তার কাছে বেশ উপভোগ্য বলে মনে হচ্ছে। বিকাল বেলা সাদিক সেই ভদ্রলোক আর মহিলার সাথে একটা গাড়িতে করে পাত্রীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। সাদিকের আচরণ এখন স্বাভাবিক। রাফির মতো। তাই তারাও খুশি।

সাদিক একটা ঘরে বসে আছে। তার সামনে অত্যন্ত রুপসী একটা মেয়ে। পরনে সবুজ শাড়ি। এটাই পাত্রী। মেয়েটার নাম ঐশি। সাদিক ও এই মেয়েটিকে একটি ঘরে একান্ত কথা বলার জন্য পাঠানো হয়েছে। কেউ কোনো কথা বলছে না। সাদিক রাফির পৃথিবীতে এসে নিজেকে আবারও সৌভাগ্যমান বলে মনে করছে এখন।

সাদিক মেয়েটার দিকে তাঁকিয়ে আছে। হঠাৎ তার পেট ঘুলিয়ে গেল। তার মনে হচ্ছিল এখনই বমি করে দিবে সে। সাদিক অবাক হয়। হঠাৎ তার বমি পাচ্ছে কেন! সাদিকের মনে হচ্ছে তার সামনের মেয়েটা তার চারপাশে ঘুরছে। না! এবার পৃথিবীটা তার চারপাশে ঘুরছে। সাদিক ওয়াক করে সম্পূর্ণ নিজের অনিচ্ছায় মেয়েটার শরীরের উপর বমি করে দেয়। মেয়েটা আঁতকে উঠে ভয়ে চিৎকার দেয়, ওমাগো! সাথে সাথে সাদিক অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যায়।

সাদিক ভেবেছিল। সে যখন চোখ খুলবে তখন দেখবে ঐ ভদ্রলোক আর মহিলা সহ এই বাড়ির সবাই তার দিকে হা করে তাকিয়ে রয়েছে। সেই মেয়েটা বিরক্তিভরা চোখ নিয়ে তার দিকে তাঁকিয়ে থাকবে। কিন্তু না। তা হলো না। সাদিক চোখ খুলে নিজেকে আবিষ্কার করল একটা ছোট ঘরে। অনেক্ষণ গবেষণার পর সাদিক বুঝতে পারল সে একটা জেলখানার ভেতরে রয়েছে। সে ভাবল, মেয়েটার উপরে বমি করার অপরাধে কী তাকে জেলে ঢুকানো হয়েছে! এটাতো অসম্ভব। সাদিক হতভম্ভ দৃষ্টিতে জেলের গেটের দিকে তাঁকিয়ে রয়েছে। হঠাৎ পুলিশের পোশাক পরা একজন লোক তার ঘরের তালা খুলে ভেতরে এল।

লোকটার হাতে গরম ভাত আর চিংড়ি মাছ ভূনা। লোকটা সাদিককে বলল, কাল সকাল ৮টায় আপনার ফাঁসি হবে। এই নেন আপনার ইচ্ছামত শেষ খাবার। সাদিক বিস্মিত দৃষ্টিতে লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল। সাদিক যেন কিছুই বুঝতে পারছে না। লোকটা খাবার দিয়ে চলে গেল। সাদিকের সামনে গরম ভাত আর চিংড়ি ভূনা রাখা। ভাত থেকে এখনও ধোয়া বের হচ্ছে। রাফি চোখ খুলে পুরোই বিস্মিত হয়ে গেল। সে আবার একটা অচেনা বিছানায় শুয়ে রয়েছে। তবে এবার তার মাথার পাশে বসে তার বাবা আর মা চিন্তিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এছাড়া এই ঘর ভর্তি অনেক মানুষও দেখা যাচ্ছে। রাফি কিছুতেই বুঝতে পারছে না সে এখানে এল কী করে।

সে এখন কোথায়! সে তো জেল খানায় ছিল। অদ্ভুত একটা দুনিয়ায় প্রবেশ করে গিয়েছিল সে। যেখানে তাকে সবাই সাদিক বলে ডাকছিল এবং খুনি ভাবছিল। তার ফাঁসি হওয়ার কথা চলছিল। তার জন্য গরম ভাত আর চিংড়ি ভূণা করা হচ্ছিল। হঠাৎ জেলখানার ভেতরেই রাফির পেট ঘুলিয়ে যেতে লাগে। মাথা ঘুড়াতে শুরু করে। আর সে বমি করে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপরেই সে তাকে এখানে আবিষ্কার করে। তাহলে কী সে আবার তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে! সে বিছানা থেকে উঠে তার বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কান্না করা শুরু করে। পাত্রী পক্ষের সবাই রাফির দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। ঐশি নামের একটা রুপসী মেয়ে শুধু বিরক্তি ভরা মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত