আমি একজন খুনি

আমি একজন খুনি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবার পর, মুনিয়া গ্রাম থেকে বয়ে আনা পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কটা বেশ ধূর্ততার সাথে ব্রেকাপ করে দিলো।। আমি টাংগাইল করটিয়া কলেজ থেকে রাস্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করে বের হলাম, মাস্টার্সের ক্লাস শুরু হয় নি এখনো।। এই ফাঁকে নিজ হাতে মুনিয়াকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পড়াইছি।। এমনকি ভর্তি পরীক্ষার দিন, চান্স পাওয়ার পর ভাইবার দিন আমি নিজে মেয়েটাকে ঢাকা-টাংগাইল আনা নেয়া করছি।। মুনিয়া আর আমাদের বাড়ি একই গ্রামে, তবে পাশাপাশি নয়।।

আমাদের বাড়ি মধ্যপাড়া, আর মুনিয়াদের বাড়ি গ্রামের একবারে শেষ মাথায়, উত্তর পাড়া।। গ্রামের প্রায় সবাই আমাদের প্রেমের ব্যাপারটা জানে।। উভয় পরিবারের মধ্যে বেশ ভালোই দহরম মহরম।। আমার ইচ্ছা মাস্টার্সের পর চাকরি বাকরি কিছু একটা হলেই মুনিয়াকে বিয়ে করে ফেলবো।। আমার জীবনের বড় একটা স্বপ্ন ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার, কিন্তু এইচ এস সি পরীক্ষার মাস দুয়েক আগে হঠাৎ আব্বা মারা যান।। আমার পরীক্ষাটা বেশ খারাপ হয়, রেজাল্ট এত খারাপ হয় যে ঢাকা ভার্সিটিতে পরীক্ষা দেয়ার নূন্যতম পয়েন্ট ছিলো না।। আবার পরীক্ষা দেই নি ইচ্ছা করে, বাড়িতে মা একা থাকবেন- বড় দুইবোন আছে, বিয়ে হয়ে গেছে।। আব্বা মারা যাবার পর চাচাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেই বাড়ির কাছে করটিয়া কলেজেই অনার্স করি।।

মুনিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে অনেক খুশি, কিভাবে কিভাবে যেন সুফিয়া কামাল হলের গণরুমেও সিট পেয়ে গেলো।। মুনিয়া ঢাকা গিয়ে শুরুতে শুরুতে ফোনে ম্যাসেঞ্জারে বেশ যোগাযোগ করতো, কিন্তু আস্তে আস্তে কেমন যেনো যোগাযোগ কমিয়ে দিতে থাকলো।। আমি কোন অভিযোগ করতাম না, ইতিহাস সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনায় নাকি ভালোই চাপ আছে।। এভাবে মাস খানেক যাবার পর আমাদের কথা কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এলো।। আমি সহ্য করতে না পেরে, একদিন অভিযোগ জানিয়ে বললাম- তুমি কি একটু ক্লাস শেষ করে কল টল দিতে পারো না, ক্যাম্পাসে নতুন গেছো আড্ডা টাড্ডা একটু কম দিলে কি হয়?

মুনিয়া ক্রূর হয়ে জবাব দেয়- কে বলছে তোমাকে, আমি আড্ডা দেই।। শুনো নিজে তো পড়ছো ন্যাশনালে তাও রাস্ট্রবিজ্ঞানে, ঢাবির পড়াশোনার ব্যস্ততা তুমি কি বুঝবা।। এখানে ক্লাসে প্রাক্টিক্যাল থাকে, এসাইনমেন্ট থাকে, প্রেজেন্টেশন থাকে, ফিন্ড ওয়ার্ক থাকে।। রাত দিন ফোনে প্যাঁচাল পারলে আর পাশ করে বেরুতে হবে না।। আমি তো আর উড়ে যাচ্ছি না, একটু মন লাগিয়ে পড়তে দাও।।

মুনিয়ার কথাগুলো একনাগাড়ে শুনে গেলাম, আমার চোখ দিয়ে টপ টপ পানি পড়ছে।। বাবা মারা যাবার পর বহুবার বাবার কবরে গিয়ে কান্না করেছি, এছাড়া আমার বাড়তি কান্নার বাতিক নেই।। কিন্তু অই যে ন্যাশনালে পড়েছো, ঢাবির ব্যাপারটা তুমি কি বুঝবা- এটা শুনার পর থেকে নিজেকে বেশ শূন্য শূন্য লাগছে।। কেমন যেন চাপা কস্ট কাজ করছে মনের মধ্যে।। আমি আর তেমন কথা বাড়ালাম না, মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম- না মেয়েটা আসলেই পড়াশোনার চাপে আছে, আপাতত ওকে একটু স্পেস দেই।। আসলে আগে মুনিয়া গ্রামে থাকতে রোজ বিকেলে দেখা হতো, তাই বিকেল হলেই এখন আমার অশান্তি লাগে, মনের ভিতর হটোপুটি শুরু হয়ে যায়।।

ইদানিং দেখলাম মুনিয়া ফেসবুকে খুব একটিভ থাকে, আমি ভয়ে নক দেই না পাছে পড়াশোনার অসুবিধা হবে ভেবে।। নিজে থেকে কলও করি না, সে মাঝে সাজে দুই দিনে একবার কল দেয়।। আমার কল না করা নিয়ে মুনিয়া কোন অভিযোগ জানায় না বরং কেন যেন মনে হয়, আমার যোগাযোগ শিথীলতা সে খুব ভালোই উপভোগ করছে।। মুনিয়ার পরিবারটা একটু ধার্মিক, মুনিয়া ছোটবেলা থেকেই বোরখা ব্যবহার করতো।। কিন্তু, আজকাল সে ফেসবুকে যেসব ছবি দেয় তাতে বোরখার বালাই নাই।। সেদিন দেখলাম একঝাঁক ছেলেপুলের মাঝে খুব গা ঘেঁষা হয়ে ছবি আপলোড করেছে।। ছবিটা দেখেই বুকে চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছিলো, কিন্তু আমি কিছু বলবো ভেবেও বলি নি।। বরং, সেদিনের কথা ভাবতে বসলাম, বেশ আগে একবার সুযোগ পেয়ে মুনিয়ার গালে একটা চুমু দিয়েছিলাম, মেয়েটা তীব্র প্রতিবাদ করে জানায় বিয়ের আগে এসব তার পছন্দ না।। সেদিনের পর মুনিয়ার সাথে আর স্পর্শের সম্পর্কের যাওয়ার সাহস হয় নি।। সে নিজে আমার গালে বেশ কয়েকবার চুমু দিয়েছে, একবার বেশ আড়ষ্ট ভাবে ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছিলো, সেই অনুভূতি এখনো আমাকে শিহরিত করে।।

মুনিয়ার ফেসবুক এক্টিভেটিস দেখে বুঝলাম সে বন্ধু বান্ধব ক্যাম্পাস লাইফ নিয়ে বেশ মজে আছে।। এখন সপ্তাহে এক আধদিন কথা হয়।। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুক্র শনি দুইদিন বন্ধ, তখনো নাকি সে ব্যস্ত থাকে।। আমি ন্যাশনালের পড়া ছাত্র, ঢাবির মত বিশাল পরিসরের পড়াশোনার ধরণ আমার অজানাই রয়ে গেছে।। আমি হয়তো বোকা মানব, কিন্তু এটুকু বুঝে গেছি যে, এই সম্পর্কের ইতি টানার সময় হয়েছে।। তবুও নিজের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছি, এই আশায় যে মুনিয়া আবার আগের মত আমার জন্যে উতলা হবে।।

গত শুক্রবার বড়সড় ধাক্কা খেলাম, মুনিয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে- অনেক দিন পর বাড়ি যাচ্ছি, মিস ইউ আব্বু আম্মু আর সোনিয়া আমার ছোট্ট বোনটা।। ট্রাভেলিং ঢাকা টু টাংগাইল।। অথচ, মুনিয়া আমাকে জানায় নাই যে ও বাড়িতে আসতেছে।। আমি ভাবলাম, আমি এবার সরাসরি দেখা করে কথা বলবো।। না হয় সম্পর্কটা সামনা সামনি সমাপ্তি ঘোষণা করে দিবো।। কিন্তু, সবচেয়ে অবাক হই, মুনিয়া তিনদিন বাড়িতে থাকে, অন্য লোকের মাধ্যমে খবর পেলাম সে নাকি ঢাকাও চলে গেছে।। আমি সেদিন রাতে বেশ অনেকক্ষণ কান্না করি।। মুনিয়াকে মধ্যরাতে বেহুশের মত কল দেই, ফোন ওয়েটিং।। আমার বুকে ভারি বোঝা নেমে আসে, অস্থির হয়ে যাই আমি, একটার পর একটা কল দেই- বার বার ফোন ওয়েটিং।। একটু পরে ফোন ব্যস্ত দেখায়।। মেয়েটা হয়তো আমার ফোনের জ্বালায় ওয়েটিং বন্ধ করে কথা বলতেছে।। ইস, বিধাতা জানে সেই মূহূর্তগুলা কেমন লাগে, যাদের সাথে এমন ঘটছে তারা জানে- বুকে কেমন হাঁসফাঁস শুরু হয়।। আমি অঝোরে কান্না করছি, মধ্য রাতে দরজা খুলে রাস্তায় হাঁটা দিলাম, সোজা দূর ক্ষেতের পথ বেয়ে গোরস্থানে গেলাম।। রাত আনুমানিক তিনটা বাজে, বাবার কবরের বেড়া ধরে হাউমাউ করে কান্না করছি।।

আজ প্রায় মাস চারেক হবে মুনিয়ার সাথে কোন যোগাযোগ নেই।। সেই রাতে মুনিয়া আর আমাকে ফোন ব্যাক করে নি।। বরং, কথা শেষ করে সে ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে।। আমি সারা রাত বাবার কবরের পাশে ঘাসের চাদরে বসে সকাল পর্যন্ত কল দেই, আলো ফুটলে বাড়ির পথ ধরি।। সেদিন দুপুরে সবশেষ মুনিয়ার সাথে কথা হয়।। যে মেয়েটা সামান্য বকা দিলে, কান্না করে দিতো সেই মেয়েটা উল্টা আমাকে বকা দিয়ে একপাশ করে ফেলে।। -হ্যালো, অই মুনি তোমার সমস্যা কি? সারা রাত ফোনে ওয়েটিং, আবার ফোন বন্ধ, কি সমস্যা!! কোন সমস্যা নেই!! কি বলবা বলো, আমার ক্লাস আছে!! ক্লাস আছে মানে কি, আজকে না শনিবার, আজকে কিসের ক্লাস? আরে ন্যাশনাল, আমাদের মেকাপ ক্লাস হয় শনিবারে।। রাতে এসাইনমেন্টের জন্যে ব্যস্ত ছিলাম ফোনে, পরে জাস্ট ঘুমিয়ে পড়ি।।

আমাকে একবার কল ব্যাক করে জানাইতা, সারা রাত কত চিন্তায় ছিলাম জানো? আপনাকে কে চিন্তা করতে বলেছে, আপনি নিজেকে নিয়ে আগে চিন্তা করেন।। আমার এখন অনেক দূর যেতে হবে।। ভালো করে পড়ে বিসিএস দিয়ে বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।। মুনি তুমি কি চাও বলতো? এই সম্পর্ক কি শেষ? মুনিয়া খানিক চুপ করে থেকে বলে- হ্যাঁ শেষ!! এত প্যারা আমি নিতে পারবো না, আমার লাইফ নিয়ে অনেক দূর যাবার স্বপ্ন।। তোমার এই সন্দেহ ঘ্যান ঘ্যান জাস্ট অসহ্য।। আমি এখন ক্লাসে যাবো, রেখে দিলাম।। খট করে ফোনটা কেটে দিলো মুনিয়া, আমি আর কিছু বলার সুযোগ পেলাম না।। সেই থেকে আর কথা হয় নি, এরমধ্যে কয়েকদফা গ্রামে এসে ঘুরে গেছে, আমি জানছি অন্যের মাধ্যমে।। ফেসবুক থেকে ব্লক খেয়েছি, মোবাইল নাম্বারগুলোও ব্লাক লিস্টে।। আম্মা মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করতো, বড় দুইবোনও মুনিয়ার কথা জিজ্ঞেস করে- আমি মুচকি হেসে মিথ্যে বলি।।

মুনিয়ার আইডি ডিএক্টিভেড হয়ে আছে।। আমি অন্য একটা ফেক আইডি থেকে মুনিয়ার ফ্রেন্ডলিস্টে আছি।। মুনিয়ার লাস্ট স্ট্যাটাসগুলোতে খুব দুঃখ দহনের সুর।। আমার কেমন যেন অদ্ভুত ভাললাগা কাজ করছে, মুনিয়া কোন এক অজানা কারণে কস্টে আছে আমি বুঝতে পারছি।। মুনিয়ার ক্যাম্পাসে যে নতুন প্রেমিকা হয়েছে ছেলেটার নাম রাসেল।। সে মুনিয়ার ডিপার্টমেন্টের ইমিডিয়েট সিনিয়র।। মুনিয়ার ফেসবুক জুড়ে প্রেম রোমান্সের ছড়াছড়ি ছিলো, সেসব দেখে কস্ট পেতে পেতে একসময় আমার বেশ হাসি পেতো।। এবার মুনিয়ার এমন দুরবস্থা দেখে কেন যেন বেশ আনন্দ হচ্ছে।। আমার ধারণা রাসেলের সাথে সম্পর্কে কোন অবনতি হয়েছে, আমার খুব রাসেলের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।। আচ্ছা রাসেল কি জানে মুনিয়ার সাথে আমার পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো।। রাসেল আসলে কি জানে, মুনিয়াকে কতটুকু জানে, ওদের ভালোবাসার সূত্রপাত কিভাবে!! একদিন হঠাৎ মুনিয়া আমাকে আইডি একটিভ করে, ব্লক খুলে নক দেয় হ্যালো রায়হান আছো? হুম বলো।। কেমন আছো? বেশ ভালো, তুমি? আমিও ভালো, তবে মন ভালো নেই।। ও আচ্ছা, শুনো আমি সিদ্ধান্ত নিছি তোমার ছোট বোন সোনিয়াকে বিয়ে করবো।। ওর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলছে বেশ কয়েকদিন ধরে।।

মানে কি, কি বলো এসব।। সোনিয়া তোমার কত ছোট, ও কেবল ক্লাস টেনে পড়ে।। তোমার কি মাথা ঠিক আছে, ও বাচ্চা মানুষ, সোনু প্রেমের কি বুঝে, তুমি ওর মন নিয়ে খেলতেছো নাকি।। আর ও তো জানে তোমার সাথে আমার প্রেম ছিলো, ও কিভাবে রাজী হবে।। গ্রামের লোকজন কি বলবে।। ছিঃ রায়হান তোমার এত অধঃপতন।।
-না আসলে সোনিয়া জোস একটা মেয়ে।। আর শুনো তোমার সাথে তো ক্লাস এইটের মাঝামাঝি প্রেম হইছিলো, সে হিসেবে তো সোনিয়া বেশ বড়ই।। মজার ব্যাপার হলো, সোনিয়া তোমার মত না, সে গায়ে হাত দেয়া খুব পছন্দ করে।। হুটহাট আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়।। সেদিন বাড়িতে আনছিলাম, আম্মা নানার বাড়ি ছিলো।। ধুর, জীবন কত মজার, আর আমি কিনা তোমার ভরসায় ছিলাম।। অই কুত্তা, তোর খবর আছে।। তোকে আমি উচিত শিক্ষা দিমু, তুই দেখ কি করি।।

আমি চট করে মুনিয়াকে ব্লক করে দেই।। আমার পৈচাশিক আনন্দ হচ্ছে, কখনো কখনো মিথ্যে বলেও আনন্দ হয়।। এই মিথ্যা কথাগুলো আমাকে চরম আনন্দ দিচ্ছে।। আমি জানি, হয়তো খানিকক্ষণের মধ্যেই মুনিয়া আমার মিথ্যা ধরে ফেলবে, সে সোনিয়ার সাথে কথা বলে সব বুঝে যাবে।। কিন্তু যে চরম জ্বলুনি আমি একটু সময়ের জন্যে হলেও দিলাম সেটাই বা কম কিসে।। আমি রাসেলের সাথে সাইন্স লাইব্রেরির বাইরে বসে আছি।। মুনিয়া জানে না, আমি ঢাকায় আসছি।। রাসেলের সাথে আমি ফেসবুকে যোগাযোগ করে পরিচয় দেই, বিস্তারিত বলে দেখা করতে চাই।। আর মুনিয়াকে এসব জানাতে না করি।। সেই মর্মে আজ রাসেলের সাথে আমার সাক্ষাত।।

রাসেলের মুখে মুনিয়া সম্পর্কে যা শুনলাম, তার জন্যে আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।। রাসেল আর মুনিয়া কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেছে গত মাসে।। তারপর, আবাসিক হোটেলে বাসর টাসর করে।। ইদানিং মুনিয়া নাকি কেমন যেন হয়ে গেছে।। মুনিয়ার কোন বান্ধবী জানে না বিয়ের ব্যাপারটা।। বিয়েতে সাক্ষীও কাজী অফিস থেকে ধার করা হয়।। রাসেলের ভাষ্যমতে, রাসেল এবং মুনিয়া ছাড়া ওদের গোপন বিয়ের কথা কেউ জানে না।। আমি হিসাব কষে দেখলাম, মুনিয়ার আর রাসেলের বিয়ে হয়েছে মাত্র একুশ দিন আগে।। এরমধ্যেই নাকি, মুনিয়া মিউচুয়ালি ডিভোর্স চায়।। কেউ জানবে না ওদের বিয়ে হইছে, সবাই জানবে প্রেম ছিলো জাস্ট ব্রেকাপ এখন।। এমনকি রাসেল মুনিয়ার কাছে কোনদিন আমার নাম পর্যন্ত শুনে নাই।। আমি রাসেলকে বেশ ভালো করে জিজ্ঞেস করেছি, মুনিয়া এভাবে ডিভোর্স চায় কেনো।। রাসেল কোন সদুত্তর দিতে পারে নি।। রাতে, মগবাজার এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নেই।। মুনিয়াকে আনব্লক করে নক দিলাম- রাসেল কেমন আছে মুনি? বেশ কয়েকঘন্টা পরে মুনিয়া জবাব দেয়- কোন রাসেল।। কয়টা রাসেলকে চিনো? তোমার জামাই রাসেল।।

মুনিয়া ম্যাসেজ সিন করে বসে আছে, কিছুই বলে না।। হঠাৎ মুনিয়া আমাকে কল দিলো।। আমি রিসিভ করলাম।।
রায়হান রাসেলের সাথে তোমার কথা হয়েছে নাকি? হুম হয়েছে, কেন? তোমাদের গোপন বিয়ে জেনে গেছি তাই? রায়হান আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো, আমি বিরাট ভুল করে ফেলেছি, অনেক বড় ভুল।। কি ভুল শুনি? আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে লাভ কি? আমি তোমার কে মুনি? রায়হান, রাসেল অক্ষম পুরুষ, সে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে।। ওর শারীরিক সমস্যা আছে, বিয়ে করেছে আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে এই জন্যে।। রাসেল একটা নেমকহারাম।। রাসেল একটা নেমকহারাম, কথাটা আমার কানে সূচের মত বিঁধলো।। আমি মুচকি হেসে বললাম- এর কোন সমাধান নেই? কি টাইপ শারীরিক সমস্যা শুনি?

মুনিয়া কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো- রায়হান ও সম্পূর্ণ অক্ষম, ওর বেবি ডিক।। এর কোন সমাধান নেই, আমি নেট ঘেঁটে দেখেছি, অনেকের সাথে কৌশলে কথা বলে দেখেছি, রাসেল ছেলেটা সম্পূর্ণ অক্ষম।। ওর কোনদিন বাচ্চা হবে না, বাচ্চা তো দূরের কথা ও শারীরিক ভাবে মিলিত হতেই অক্ষম।। রায়হান, আমি তোমার কাছে ফিরে যেতে চাই না, সেই অধিকার আমার নেই কিন্তু আমি এই ধোঁকাবাজের কাছ থেকে মুক্তি চাই।। আমাকে বন্ধু হিসেবে অন্তত একটা উপায় বলো।। মুনিয়ার বলা- আমি এই ধোঁকাবাজের কাছ থেকে মুক্তি চাই, কথাটা আমার খুব হাসির উদ্রেগ হচ্ছিলো।। কিন্তু, মুনিয়ার কান্না জড়ানো কন্ঠের বিপরীতে হাসি দেয়াটা সমীচিন হবে না।। তাই তিরস্কারের হাসি চেপে বললাম- কাল আমার সাথে দেখা করো।। আমি ঢাকায় আছি।।

ভালোবাসার মানুষের সাতখুন মাফ করে দেয়া যায়।। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ বোধকরি আমি নিজেই।। মুনিয়ার সাথে আজিমপুর ডি ক্যাফেতে বসে আছি।। খুব আধুনিক পোশাকে আবৃত হয়ে, মুখে গাঢ় মেকাপে ঢেসে মেয়েটা আমার সামনে বসা।। নিয়মিত পার্লারে যাতায়াত আছে মুনিয়ার এতে কোন সন্দেহ নেই।। মুনিয়াকে আমার কাছে অচেনা লাগছে, গ্রামের সেই সাদাসিদে মুনিয়া যাকে আমি ভালোবেসে দিশেহারা ছিলাম, কোন ভাবেই সেই মুনিয়ার সাথে এই মুনিয়াকে মিলাতে পারছি না।। মুনিয়ার প্রতি আমার প্রচন্ড দূর্বলতা কাজ করছে।। ভালোবাসার আবেশের আবেগে মুনিয়াকে আমার ক্ষমা করে দিতে মন চাইছে।। কিন্তু, হাজার হোক মুনিয়া রাসেলের বিয়ে করা স্ত্রী।। মুনিয়ার সাথে রাসেলের ডিভোর্স হয়ে গেছে।। মুনিয়া আবার আমার জীবনে ফেরত এসেছে, এখন সে আমাকে দৃশ্যমান ভাবে বহুগুণ বেশি ভালোবাসে, কেনো যেন আমার সেই আগের আবেগ অনুভূতি কাজ করে না।। শুধু মন দিয়ে অভিনয় করে সম্পর্ক টেনে নিয়ে যাচ্ছি।। আমি জানি না এর ভবিষ্যৎ কি, ভয়ানক দোটানা কাজ করছে মনের মধ্যে।।

যাত্রাবাড়ি থানায়, এস আই আমার রুমে এসে আমাকে স্যালুট ঢুকলো।। আমি মাথা নেড়ে কথা বলার সম্মতি দিলাম।। স্যার, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি ৩০২ নাম্বার বাড়িতে একটা লাশের খবর পাওয়া গেছে।। আমি বললাম- ওসি সাহেব কই, উনাকে জানান।। স্যার, উনি লাঞ্চে আছেন, লাঞ্চ থেকে এসেই আপনার সাথে দেখা করবেন।। আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম, আরেক দফা বড় স্যালুট ঢুকে এস আই আমার কক্ষ ত্যাগ করলো।। আমি ভাবতে বসলাম, এই ন্যাশনালে পড়া আমি কি ভেবেছিলাম, কোনদিন বিসিএস দিয়ে টিকতে পারবো।। আমি কি ভেবেছিলাম, আমিও একদিন পুলিশ প্রশাসনের এত বড় পদ পাবো।। আজ আমি একজন বিসিএস ক্যাডার এ.এস.পি।। এই মাত্র যে এস.আই স্যালুট ঠুকে গেলো, ওর নাম রাজ্জাক।। একমাত্র ও স্যালুট ঠুকলে আমার অন্যরকম শান্তি লাগে।।

ছেলেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স মাস্টার্স করা।। রাজ্জাকের স্যালুটে আমার অদ্ভুত অনুভূতি হয়, হয়তো যে অনুভূতি কিছুটা অন্যায়, কিছুটা অযাচিত কিন্তু তবুও জীবনের শেষ গোলের ঠিকানা কে কবে নির্ধারণ করে রাখে।। বিধাতাই ভালো জানেন, কাকে কোন ঘাটের জলে জলযোগ সারাবেন।। আমি সোনিয়াকে কল দিলাম, আমার এলাকায় যেহেতু একটা মার্ডার হয়েছে আজ কাজের চাপ থাকবে।। বাসায় বসে বসে মেয়েটা টেনশন করবে।। সোনিয়া বেশ পরে কল ধরলো- আমি শুধু বললাম, আজ আসতে দেরি হবে।। এলাকায় মার্ডার হয়েছে।। সোনিয়া ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দিলো।। সাধারণত, মেয়েটা এমন করে না, মেয়েটা খুব সাদাসিদে, সোনিয়া যে আমার বউ হবে তা ক্ষুর্ণাক্ষরেও কল্পনা করি নি।। মুনিয়ার সাথে সম্পর্কটা মন থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না।।

আমি মুনিয়াকে স্পষ্ট জানিয়ে দেই, ওর সাথে আমার আসলে হবে না।। অতঃপর মুনিয়ার আর পড়াশোনা হয় না, ঢাবি থেকে পড়াশোনা বাদ গিয়ে গ্রামে ফিরে যায়।। এর কিছুদিন পর সাভারে এক ব্যবসায়ীর সাথে বিয়ে হয়ে গেলো।। আমি বিসিএস এ নিয়োগ পেয়ে, মুনিয়ার ছোট বোন সোনিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই ওদের বাড়িতে।। একটা জেদ থেকেই এই কাজ করা, আমি জানতাম এবার ওর বাবা মা মানা করবেন না।। এমন ছেলে তারা কই পাবে।। ওসি সাহেব রুমে ঢুকে উঁচু হয়ে বো করলেন।। এই লোকটা আচ্ছা বেয়াদব, বেশ বয়স্ক কিন্তু কেনো যেন আমাকে দুই চোখে সহ্য করতে পারেন না।। সবসময় আমাকে হিংসা করেন, কিন্তু বেচারা যেহেতু আমার নিচের পজিশনে আছে, কিছু করার নেই।। আমি লাশ থানার আনার অনুমতি দিলাম।।

থানার বারান্দায় লাশ আনা হয়েছে, আমি সাধারণত এসব ক্ষেত্রে লাশ দেখতে যাই না।। লাশের বউ আর বাচ্চা আমার রুমে বিরস বদনে বসে আছে।। কান্না করে অশ্রু শুকিয়ে গেলে মুখ যেমন মলিন দেখায় মহিলার মুখ তেমন মলিন দেখাচ্ছে।। খুন হওয়া লোকটার দুইটা জমজ ছেলে।। বয়স কত হবে তিন চার।। বাচ্চাগুলো, আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে, যেন আমি ওদের বহুদিনের চেনা কেউ একজন।। আমি দু’তালা থেকে নিচে নামলাম, লাশের গায়ে সাদা চাদর জড়ানো।। লাশকে ঘিরে থাকা উৎসুক লোকজন, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সব নড়েচড়ে উঠলো, আমাকে দেখে।। আমি লাশের কাছে দাঁড়িয়ে এক কনেস্টবলকে ইশারা করলাম।। কনেস্টবল চাদর, সরিয়ে মুখ বের করে দিলো।। আমি লাশ দেখে আবার ঢেকে দিতে বললাম।। গলায় ছুরি চালানের চিহ্ন।।

দুতলার সিঁড়ি বেয়ে রুমের দিকে যাচ্ছি, আচমকা মনের মধ্যে কেমন যেন একটা চঞ্চল টান দিলো।।আমি আবার নেমে এলাম, সবাই আরো অবাক হয়ে নড়েচড়ে উঠলো।। এস আই রাজ্জাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম- লাশের নাম কি? রাজ্জাক বললো- স্যার রাসেল জোয়ার্দার।। পিতা- রহমত জোয়ার্দার।। মাতা- আমেনা বা আমি হাত ইশারা করে রাজ্জাককে থামিয়ে দিলাম।। ছেলেটা একটু বেশিই আমার অনুগত।। কনেস্টবলকে আবার মুখ খুলতে বললাম।। হুম!! যে কারণে আমার মনে চঞ্চল টান দিয়েছিলো, আমি তার কারণ খুঁজে পেলাম।। এটা রাসেলের মৃতদেহ।। সেই রাসেল যে কিনা মুনিয়ার প্রথম স্বামী ছিলো।। কিন্তু, মনের মধ্যে খটকা হলো- রাসেল বিয়ে করলো কিভাবে, আবার দুইটা জমজ ছেলে বাচ্চা।। আমার মনে পড়ে গেলো, রাসেল না অক্ষম পুরুষ ছিলো।।

রাসেলের লাশটা বেশ ভালো করে দেখে নিয়ে উপরে যাচ্ছি।। রাজ্জাক ঝুঁকে আমার পিছে পিছে আসছে, স্যার একটা চিরকুট ছিলো লাশের পকেটে।। আমি স্যার এটা খুলে দেখি নি, ওসি স্যার চাইছিল তাও দেই নাই স্যার।। আপনি আগে দেখেন তারপর না হয়, আমরা দেখবো।। আমি সন্তুষ্ট কন্ঠে বললাম- হত্যার সময় উনার বৌ বাচ্চা কই ছিলো? রাজ্জাক আরো নতজানু হয়ে বললো- স্যার, উনারা কাল বাসায় ছিলেন না, রাসেল সাহেব একাই বাসায় ছিলো।। সম্ভবত রাতে ঘুমের ঘোরে গলায় ছুড়ি দিয়ে খুন করা হয়।। সকালে উনার বউ বাসায় এসে এই অবস্থা দেখে থানায় জানায়।। আমি রাজ্জাকের কাছ থেকে চিরকুট হাতে নিয়ে রুমে ঢুকলাম।। রাজ্জাককে ইশারায় লাশের কাছে যেতে বলে দিলাম।।

রাসেলের বউ নিশ্চুপ হয়ে চেয়ারে বসে আছে।। বাচ্চা দুইটা আমার রুমে রাখা স্যান্ডেল জুতা নিয়ে খেলছে।। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলাম, বাচ্চা দুইটা একদম ওর বাবার কার্বন কপি।। আমি রুমে ঢুকলেও বাচাগুলো এবার আমাকে তোয়াক্কা করলো না, নিজেদের মত খেলাধূলায় ব্যস্ত।। হাতে রাখা চিরকুটটা ভাঁজ মুক্ত করে চোখের সামনে মেলে ধরলাম।। আমি একজন খুনি, কিন্তু- আমি কে? আমি সেই মেয়ে, যাকে এই নেমকহারাম, ধোঁকাবাজ দিনের পর দিন ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।। আমি একজন খুনি, কিন্তু- আমি কে? আমি সেই মেয়ে, যে জীবনে ভুল করে নিজের ভালোবাসার মানুষকে ঠকিয়েছি।। আমি একজন খুনি, কিন্তু- আমি কে? আমি সেই মানুষ যে কিনা অন্যকে হুট করে বিয়ে করে বুঝেছি, আমি আমার আসল ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেছি।। আমি অনুতপ্ত ছিলাম, আমি সরে এসে সব সাজাতে গিয়ে, আবার সব হারানো মেয়ে।। আমি একজন খুনি, কিন্তু- আমি কে? আমি মুনিয়া।।

আমি জানি রায়হান, এই খুনের মামলা আপনার কাছেই যাবে।। কারণ সৌভাগ্য বা দূভাগ্যজনক ভাবে রাসেলের ভাড়া বাসাটা আপনার থানা এরিয়ার মধ্যেই।। আমি রাসেলকে এই মাত্র খুন করলাম।। রাসেল অক্ষম পুরুষ ছিলো না, সে ছিলো আপনার মত করে ভালোবাসতে অক্ষম।। আর তাই সে আমার কাছে সার্বিক ভাবে অক্ষম পুরুষ।। আমি সব আড়াল করে মিথ্যা বলে আপনার কাছে ফিরে যেতে চেয়েছি, ততদিন আপনি রাসেলের কাছ থেকে সব জেনে গেছেন।। আমাকে মাফ করে মেনে নিয়ে, আবার আমাকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।। এই রাসেল আমার স্বামীকে সব বলে দিবে বলে ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিতো।। আমাকে আমার বিয়ের পরেও ওর খালি বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করতো।। ওর বউ বেশিরভাগ বাপের বাড়ি থাকে।।

আমিও নিজের স্বামীকে মিথ্যে বলে, আপনার বাসায় যাচ্ছি বলে রাসেলের সাথে রাত কাটাতাম।। আর সহ্য হলো না, দিলাম গলায় ছুড়ি বসিয়ে।। বেঘোরে হারামিটা ঘুমাচ্ছিলো, এবার চিরতরে ঘুমা।।
এখন সকাল হলে আমি আপনার বাসায় যাবো, আমি জানি আপনি খুব সকালে থানায় চলে যাবেন।। আপনাকে আমার কাছ থেকে যে কেড়ে নিয়েছে তাকে খুন করবো।। সোনিয়াকে খুন করে, আমি আপনার বাসায় বসে থাকবো, পালিয়ে যাবো না।। আপনি এসে আমাকে হ্যান্ডক্যাপ পড়িয়ে গ্রেফতার করবেন।। জীবনে নিজের ভুলে আপনাকে হারাইছি, আমি আপনাকে নিয়ে অন্য কাউকেই সুখী হতে দিবো না।। অনেক সহ্য করেছি, এক খুন শেষ, আরেক খুনেও একি শাস্তি।। বিয়ের মালায় গ্রেফতার না হই, ফাঁসির মঞ্চে যাবার আগে আপনার হাতে গ্রেফতার হবো, আপনার জেল বন্দিনী তো হবো।। কান্নায় আমার বুক ভেসে যাচ্ছে, আমি কাউকে পরোয়া করি না, আমার ভুল সব আমার ভুল।।

চিরকুটের শেষাংশে অনেক উদ্ভট আঁকাবুকি।। চিরকুট পড়ে আমি খুব শান্ত হয়ে আছি, যেন কিছুই হয় নি।। বাচ্চাগুলো এখন দুইজন ভাগ করে আমার দুইটা জুতা পড়ে হাঁটছে।। রাসেলের বউ এখনো নির্বাক মূর্তির মত বসে আছে।। আমি রাজ্জাককে কল দিলাম।। মূহূর্তের মধ্যেই ছুটে এলো রাজ্জাক।। যেন সে প্রস্তুতই ছিলো।। আমি নির্লিপ্ত গলায় বললাম- আমার বাসায় কিছু ফোর্স নিয়ে যাও, গিয়ে দেখো কি অবস্থা।। প্রয়োজনে কাউকে গ্রেফতার করা লাগলে করো।।

রাজ্জাক অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।। খানিক বাদে চট করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।। আমি জানালার পর্দা সরিয়ে নিচে তাকিয়ে আছি, থানার গেট স্পষ্ট দেখা যায়।। আমি দেখতে চাই, রাজ্জাক কতজন ফোর্স বা কাকে নিয়ে আমার বাসার দিকে যায়।। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, রাজ্জার একটা পুলিশ ভ্যানে কয়েকজন ফোর্স সাথে মহিলা পুলিশ আর লাশ বহন করার দুজন লোককে নিয়ে উঠলো।। আনুগত্য প্রকাশে মাঝে মাঝে মিথ্যে বলা লাগে, রাজ্জাক অবশ্যই আগেই চিরকুট পড়ছে।। সে জানে কি দিয়ে কি ঘটে গেছে, কিন্তু যেহেতু ঘটনা যা ঘটার ঘটেই গেছে তাই আমাকে আগেই জানায় নাই।। আমি বিখ্যাত ল’ ইয়ার বন্ধু রোকনকে কল দিলাম- আচ্ছা দোস্ত, একজন খুনিকে যদি মানসিক রোগী প্রমাণ করতে পারিস, সে কি ফাঁসি থেকে বেঁচে যাবে?

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত