বউয়ের জ্বালায় বর দ্বয় জেলে

বউয়ের জ্বালায় বর দ্বয় জেলে

দুই প্রতিবেশীর ঝগড়া লেগেছে। যাদের একজনের স্বামী অর্থাৎ রুনা আপার স্বামী করে সরকারি জব। ত আরেকজনের, অর্থাৎ রিয়া আপার স্বামী করে বেসরকারী ব্যাংকের জব।… এই ২জনের এমনিতেই খুব ভাব। ভাব বলতে ২জন একদম গলায় গলায় বান্ধবী। এমন বান্ধবী যে,কেউ কোন কথা কাউকে না বলে থাকতেই পারে না। এই যেমন আজকে ঝগড়ার আগমুহুর্তে, সন্ধার সময় রিয়া আপা মেকাপ কিনে রুনা আপার ফ্লোরে মেকাপের বাক্স টা নিয়ে দেখাতে এসেছে। সাথে ত হাজার টা বুলি/কথা ফ্রি বলেই চলেছে, এই যেমন ধরুন, যানেন না ভাবি, এই মেকাপের কালেকশন টা এমন যে মার্কেটের কোথাও আপনি খুজে পাবেন না। আমার হাবি(হাজবেন্ড) বলছে এইটা নাকি শুধুমাত্র আমার জন্যই দোকানে এসেছে…(কথাটা বলেই রিয়া কানের কাছে চুলগুলো গুযে নিলো) রুনা তখন চোখ মুখ বাঁকা করে,মনে মনে বলতে থাকে, উমমম, আসছে। মেকাপ নাকি ওনার জন্য স্পেশালী বানাইহে,পল্টিবাজ।

রুনা আপা তখন চিন্তা করে, আচ্ছা উনি আমায় এগুলো দেখাইয়া পার পেয়ে যাবে নাকি, নাহ, কি করি কি করি,….বলতেই হঠাৎ, রুনা আপা আলমারি টা খুলে গতদিনের নিয়ে আসা শাড়িটা বের করে ভাবি, দেখেন, নতুন কালেকশন। দোকানদার বলছে এই শাড়ি টা নাকি দোকানে স্যাম্পল হিসেবে এসেছে। আর একটাও খুজে পাবেন না ভাবি।(রুনা) রিয়া মুখ অন্যদিকে বাঁকা করে, তবে রুনার আড়ালে রুনা বলতেই থাকে, জানেন ভাবি, দোকান দার আরো কি বলছে?? কি বলছে??(রিয়া)

বলছে আমার গায়ে নাকি শাড়িটা খুব সুট করবে…(রুনা লজ্জায় লাল হয়ে মুচকি হাসছে) কি বলেন আপা?? আপনারে দেখেই এমন কইছে, তাইলে আমারে দেখে ত কইতো এই শাড়ি আপনার লাইগাই তৈরী হইছে…(রিয়া) রুনা রাগ করে, থামেন ত ভাবি। সব জিনিস কি খালি আপনার লাইগাই বানায় নাকি? মাইনষের কি আর খাইয়া দাইয়া কাম নাই?? আর আপনে শাড়ি পড়বেন কেমনে শাড়ি পড়লে ত শুধু শাড়িই খুজে পাওয়া যাবে আপনারে আর পাওয়া যাবে না।

বলে রাখা ভালো, এই ২জনের ২ই টা খুত/দোষ আছে।, রিয়ার গায়ের কালার ফর্সা হলেও মানুষ টা অনেক চিকন এত চিকন যে মনে হই, হালকা ধাক্কা দিলেই উনি পড়ে যাবে। আর রুনা আপা যেমন মোটা ঠিক তেমনি কালো। তবে কেউ ওনাকে কোনদিনও সরাসরি কালো বলেন না। মনে মনে বলেন। সরাসরি কালো বললে উনি তাকে আস্ত চাবায়ে খাওয়ার অবস্থা হয়ে যায়। একদিনের এক ঘটনা শুনেন, কসমেটিকস এর এক দোকানে গিয়েছেন রুনা আপা কসমেটিকস কিনতে।

ত পাশে ছিলেন ওনার হাবি জনাব খুরশিদ সাহেব। দিন টা ছিলো ফ্রাই ডে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও খুরশিদ সাহেব কে রুনা আপার সাথে যাওয়া লাগছে, কসমেটিকস এর দোকানে গিয়ে, বর খুরশিদ সাহেবের দিকে তাকিয়ে, আচ্ছা জানো, গতবার না এখান থেকে কি যেনো ক্রিম নিয়ে গিয়েছিলাম, এই জন্য আমার মুখেতে দেখো কত পিম্পেল বেরোইছে। আর স্কিন টা কতটা কালোও হয়ে গিছে তাই না বলো…। চলো ত এখান থেকে আর কিছু নিবো না। মেইনলি এই কথাগুলো দোকানদার কে অপমান করার জন্যই রুনা আপা ওই দোকানে গিয়েছিলো। কিন্তু দোকানীও কম না,

ম্যাম আপনার রং ত যাযাবরের লাহান ইরুমি দেখতাছি, বরং আগে আরো কড়াইয়ের কালি ছিলো এখন আমার দোকানের ক্রিম টা মাইখে ভাতের পাতিলের লাগান হইছে। খারাপ ত হইনাই…(দোকানদার) দোকানীর কথাখানা শেষ ও হইনি। সাথে সাথেই ওখানে কোন বাতাস ছাড়াই ঘূর্ণিঝড় আয়লা শুরু হয়ে গেলো। ঘূর্ণিঝড়ের তোড়ে, দোকানের যত মাল ছিলো সব নিচে, তবে এগুলোর হিসেব কিন্তু বেচারা খুরশিদ সাহেব কেই দিতে হয়েছিলো।

এই ব্যাপার টা টেলিকষ্ট হতে বেশি সময় লাগেনি। ওইদিনের পর থেকেই রুনা আপাকে আর কেউ কালো বলতে পারেন নি। তবে আজ রুনা আপা রিয়াকে ওভাবে কথা বলাতে রিয়াও ছাড়েনি,,সরাসরি বলে দিয়েছে, দেহেন ভাবি, আমার টা তাও একটু হলেও দেখা যাইবো, আর আপনে যে কালারের শাড়ি কিনছেন, হেইডার সাথে আপনের গায়ের কালারের ত কনু পার্থক্য খুজে পাবেন না…(রিয়া) রুনা এবার রাগে অগ্নী বরন চোখ করে,কি কইলা রিয়া?? তুমি এইডা কি কইলা?? তাও ত আমার বর তোমার বরের মতো সস্তা জিনিস দেয় না আমারে…(রুনা)

হই, ঘুষের টেকায় ওমন কথা কওনি যায়। কাম কইরা টাহা জোগার কইরা দেহেন কেমন লাগে, ওতো ফুটিনি তহন আইবো না…বোজলেন..(রিয়া) ততক্ষনে খুরশিদ সাহেব আর রিয়ার বর আবির সাহেব ঘটনা স্থলে এসে উপস্তিত। এতক্ষণ তাদের মুখে হাসি থাকলেও ২ জনের বউদের দ্বারা তাদের করা এতদিনের অপকর্মের তথ্যগুলো ফাঁস হতে দেখে তারা যেমন করেই, হোক রিয়া আর রুনাকে আটকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। কি কস তুই?? তুই যে গত সপ্তাহে কইলি তোর বর নাকি কই থাইকা ৪ লাখ টাহা আনছে, কেডাই নাকি ব্যাংকের ব্যাপারে টাকে টাকা দিছিলো কিন্তু হেয় নাকি টাকা নেয় নাই মিথ্যা কয়ে টাকা আইনা রাখছে…(রুনা)

আবিরের মাথায় হাত পড়ে যায় ওই আপা মুখ সামলাইয়া কথা কবেন…প্রমাণ দেহান দেহি, (রিয়া) প্রমাণ আমার কাছে রাইখাই দিছি, এই যে ফোনেতে দেখ রিয়া এবার ওর ফোন টা বাইর কইরা খুরশিদ সাহেব গত মাসে যে ১৫ লাখ টাকা নির্বাচনের সময় হাতিয়ে নিয়েছিলেন সেই কথার অডিও রেকর্ড বের করে দেয় খুরশিদ সাহেব ফ্লোরে বসে পড়ে চোরের বউ। তোর সাহস কত তুই আমার কথা রেকর্ড করছোস?? (রুনা) জালিয়াতির বউ আপনের এত সাহস আপনে আমার কথা ফোনে ভিডিও করে রাখছেন। কালনাগিনী… (রিয়া) বিশ্বাসঘাতকী….দুধ কলা দিয়ে এত দিন কাল সাপ পুষছি…(রুনা) খবরদার আমারে কাল সাপ কবেন না। আমি আপনের লাহান কালা নি??(রিয়া)

রুনাকে কালো বলাতে ২ জনের মধ্যে এবার হাতাহাতি লেগে যায় এই সুযোগ টাকে কাজে লাগায়…. ওদের শত্রু, ৩য় প্রতিবেশী নিশি। নিশি ফোন করে দেয় দুদকে থাকা ওর মামার কাছে। কিছুসময় বাদেই, দুদক টিম এসে সবকিছু সার্স করে ২জনের বাসা থেকেই প্রচুর কালো টাকা পায়। যার অভিযোগে এখন খুরশিদ আর আবির সাহেব জেলে বসে আছেন জীবনে আর যাই করুন না কেনো দুনিয়া উল্টায়ে গেলেও কোন সিক্রেট বিষয় নিজের স্ত্রীর কাছে বইলেন না। নইতো আজ না হোক কাল, আপনার অবস্থাও ঠিক খুরশিদ আর আবির সাহেবের মতোই হবে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত