মুসলিম

মুসলিম

যোহরের ৪ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ে সালাম ফেরালাম। মোনাজাত করে দ্বিতীয় কাতারে এসে চোখটি কাকে যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিল। নাম বা কে সেটা মনে করতে পারছিনা। একটু চেষ্টা করলাম নামটা মনে করার। কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছিনা। কে নামাজ পড়তে আসে নি আজ? অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু মনে করতে পারলাম না। কে আজ অনুপস্থিত আছে? মনে করার চেষ্টা ব্যর্থ হলো।

বাড়িতে যেতে হবে তাড়াতাড়ি করে । নামাজ কায়েম করে তাড়াতাড়ি বাড়িতে যেতে বললো বিবিসাহেব। তাই যহরের ২ রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ে দোয়া দরুদ পাঠ করে মোনাজাত করে মসজিদ থেকে বের হলাম।
সবে নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হলাম।

মসজিদ থেকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। একটু দ্রুত হাঁটা দিয়েছি। কিছুক্ষণ পথ অতিক্রম করার পর মনে পড়ে গেল লোকমান ভাই আজ নামাজ পড়তে আসে নাই । লোকমান ভাই কি অসুস্থ নাকি? না কোন সমস্যায় পড়েছে? বুঝতে পারছিনা কি হয়েছে! যাক আছরের আজানের আগে লোকমান ভাইয়ের বাড়ি থেকে ঘুরে আসবো। দেখি লোকটা কোন বিপদে আছে কিনা। কথাটা মনে মনে বলছি আর দ্রুত পথ অতিক্রম করছি বাড়ির দিকে । “ইমাম সাহেব তাড়াহুড়া করে কই যাচ্ছেন? কন্ঠটা শুনে ডান দিকে তাকালাম। দেখি মাথায় টুপি দিয়ে লোকমান ভাই মসজিদের দিকে ছুঁটছে হন হন করে !

—আরে লোকমান ভাই, আজ এতো দেরি করেছো যে! কিছু হয়েছে নাকি বাড়িতে?  “লোকমান সাহেব মুখ কালো করে বলে উঠলো,
—আর কইয়েন না হুজুর। আপনার ভাবির প্রচন্ড জ্বর আইছে শরীরে তাই মাথায় পানি ঢাললাম কতক্ষণ। তা আপনে নামাজ না পইড়া কই যাইতাছেন।
—আরে লোকমান ভাই ঘড়ি কি আজও ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে?
—ক্যান হুজুর ? ঘড়ি তো ঠিক চলতাছে দেখলাম।
—লোকমান ভাই। এই মাত্র নামাজ পড়ে বের হয়েছি। আপনার ভাবিসাহেবা আজকে তাড়াতাড়ি যেতে বললো।
—জামাত শেষ হইয়া গেছে হুজুর।
—হ্যা লোকমান ভাই।

লোকমান সাহেব মনটা ছোট হয়ে গেল। একটু আগে হাসিখুশি ভাবে কথা বললো। আর এখন মুখে হাসি নেই। সেটা মতিন হুজুর স্পষ্টদৃষ্টিতে দেখতে পেলো। মতিন হুজুর একটু মন খারাপ করে মনে মনে বললো, লোকমান ভাই কষ্ট পেয়েছে নাকি আমার কথায়?

—ছেলেপেলের জন্য ঘড়িডা টিকবো না হুজুর। হারা দিন ঘড়িডা দিয়া খেলাধুলা করে। মনে হয় আতা-পাতা কইরা টাইম কমাইছে। আইচ্ছা হুজুর আপনের দেড়ি হইতাচে। আপনে বাড়ি যানগা। ভাবিসাহেবা পথ চাইয়া আছে মন কয়। “কথাটা বলে লোকমান সাহেব বাড়ির পথে হাঁটা শুরু দিয়েছে। সেটা দেখে মতিন হুজুর লোকমান সাহেবরে বললো,,

—এই লোকমান ভাই মসজিদে যাবেন না। লোকমান ভাই নামাজ পড়বেন না?
—না হুজুর। জামাত তো শেষ হইয়া গেছে গা। এহন যাইয়া কি হইবো।
—লোকমান ভাই একটু দাড়ান। কথা আছে।
—জরুরী কি কথা কইবেন কি হুজুর? যদি জরুরী হয় তাইলে কন। আপনের আবার দেড়ি করাইয়া লাভ নাইক্যা।
—হুমম লোকমান ভাই। খুব জরুরী কথা। “মতিন হুজুর লোকমানের কাছে গিয়ে দাড়ালো।
—হুজুর রইদের (রৌদ্রের) মধ্যে খাড়াইয়া কথা কইবেন। চলেন ওই হানে গিয়া বইসা হুনি।
—না লোকমান ভাই। তাড়াতাড়ি আপনাকে বলে বাড়ি যেতে হবে।
—আইচ্ছা তাইলে কন। কি জরুরী কথা।
—তুমি মসজিদে গিয়ে নামাজ কায়েম করে এসো।
—হুজুর জামাত তো শেষ হইয়া গেছে। থ্যাইকগা আছরের নামাজ পড়ুম নি। এহন ধরতে হারি নাই আছরে যাইমু নি হুজুর।

—শোন লোকমান ভাই, তুমি যদি ইচ্ছে করে দেড়ি না কর। তাহলে মসজিদে গিয়া দেখ যে জামাতের নামাজ শেষ। তুমি যদি গিয়ে আফসোস কর পরে একা একা নামাজ পড়ে নাও তাহলে তুমি জামাতের সওয়াব পাবে।
“মতিন হুজুরের কথাটা শুনে লোকমান সাহেব আশ্চর্য হয়ে গেলো। মতিন হুজুর আবার বলতে শুরু করলো,

—শোন লোকমান ভাই, হাদিসে এসেছে,,,

“নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন,, যে ব্যক্তি উত্তমরুপে অজু করিয়া নামাজ পড়িবার জন্য মসজিদে গমন করে এবং সেখানে গিয়া দেখে যে জামাত শেষ হইয়া গিয়াছে, সে জামাতের ছওয়াব পাইবে এবং ইহার কারণে জামাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ছওয়াব বিন্দুমাত্রও হ্রাস করা হইবে না। (আবু দাউদ)

ফায়দাঃ ইহা আল্লাহ তায়ালার কত বড় মেহেরবাণী যে, শুধু চেষ্টা করিলেই জামাতের ছওয়াব পাওয়া যাইবে। আল্লাহর এত বড় দানও যদি আমরা গ্রহণ না করি তবে ইহাতে কাহার ক্ষতি হইবে? এই হাদীছ দ্বারা আরও জানা গেল যে, শুধু জামাত হইয়া গিয়াছে এই আশংকায় মসজিদে যাওয়া মুলতবী করিয়া দেওয়া উচিত নহে। মসজিদে যাওয়ার পর যদি জানা গেল যে, জামাত শেষ হইয়া গিয়াছে তবুও তো ছাওয়াব মিলিয়াই যাইবে। হ্যাঁ পূর্ব হইতে হইয়া গিয়াছে বলিয়া সঠিক সংবাদ জানা থাকিলে মসজিদে না যাওয়াতে কোন দোষ নাই।)

—হুজুর তাইলে আমি যদি মসজিদে যাইয়া নামাজ পইড়া লই। তাইলে আমি কি জামাতের ছওয়াব পামু?
—হ্যাঁ। অবশ্যই পাবেন লোকমান ভাই। যদি আপনার নামাজের নিয়ত সঠিক থাকে আগে থেকে। তাহলে, ইনশা আল্লাহ্। আল্লাহ পাক আপনাকে জামাতের ছওয়াব দিবেন। কারণ, আল্লাহুর খাজানায় ( আল্লাহুর কাছে ) ছওয়াবের খাজনা কখন শেষ হবে না যদিও সে পৃথিবীতে সবাইকে দিয়ে দেয় । আল্লাহুর দরবারে কখন কিছু শেষ হবেনা। সব পরিপুর্ন ভরা থাকে।

—তাইলে হুজুর আমি মসজিদে যাইয়া নামাজ পইড়া আইসিগা। আপনে বাড়ি যানগা।
—ঠিক আছে লোকমান। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়ে আরও হাদীস শোনাব লোকমান ভাই জামাতে না পেলে পরিপুর্ন ছওয়াব পাওয়া যায় আরও বিভিন্ন হাদিস শোনাব প্রতিদিন।
—আইচ্ছা হুজুর। আপনে যানগা। আমার আবার দেড়ি হচ্ছে।
—ঠিক আছে লোকমান ভাই। যান আপনি নামাজ পড়ে এসেন মসজিদ থেকে।

“লোকমান সাহেব মসজিদ দিকে চলে গেল। মতিন হুজুর আল্লাহুর দরবারে অনেক অনেক শুকুরিয়া জানালো। আবারও বলে উঠলো, আলহামদুলিল্লাহ্! মতিন সাহেব বাড়ির পথে দ্রুত হাঁটা দিল।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত