ভয়ঙ্কর খেলা

ভয়ঙ্কর খেলা

পরীক্ষার জন্যেই পারমিতা এই একমাস ফেসবুকের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল l মাঝে মাঝে মনে হতো , একটিবার খুলে দেখি l কিন্তু মায়ের কড়া হুকুম অমান্য করার সাহস পেতো না সে l

অবশেষে পরীক্ষা মিটলো l পারমিতা ফিরে গেলো তার ফেস বুক জগতে l সেদিন রাত্রে ঘরে শুয়ে শুয়ে নানা গ্রূপগুলো দেখছিলো l নতুন গ্রূপ গুলো ডিসকভার করতে করতে হঠাৎ একটা গ্রূপে গিয়ে চোখটা আটকে গেলো তারl অদ্ভুত নামের একটা গ্রূপ l ভয়ঙ্কর l নিশ্চয়ই কোন ভূতের গল্প লেখালেখির গ্রূপ l ওর ভূতের গল্প সব থেকে প্রিয় l ভয়ও পায় , আবার পড়তেও ছাড়ে না l জয়েন রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ডিনার করতে গেলো l

খেয়ে দেয়ে ও নিজস্ব বেড রুমে চলে এলো l সাইড ল্যাম্প জ্বালিয়ে ফোনটা চালু করলো l ওই গ্রূপটার বিষয়ে একটা কৌতূহল জাগছে l বুঝে পেলো না কারণটা কি ?

ঘড়িতে সবে সাড়ে দশ l কাল দেরি করে উঠবে l এখন পরীক্ষা শেষ l

কিন্তু গ্রূপটাখুলেই অবাক হয়ে গেলো l দুটো প্রশ্ন দেওয়া আছে l ( এক ) আপনি ভূত , প্রেত , আত্মা বিশ্বাস করেন ? ( দুই ) এটা সম্পূর্ণ ভৌতিক চর্চা গ্রূপ l এখানে আসতে চান কেন ?

পারমিতা আজ পর্যন্ত এই ধরণের প্রশ্নের মুখোমুখি হয় নি l ওর সুন্দর মুখটাতে চিন্তার ছাপ পড়ে l কি উত্তর দেবে ? একটু ভাবে সে l তারপর প্রথম প্রশ্নের উত্তরে লেখে l ভূতে বিশ্বাস করি না l আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে লেখে জানতে চাই আত্মার অস্তিত্ব আছে কি না ! দুটো উত্তর লিখে সেন্ড করে দিলো l পাঁচ মিনিটের মধ্যে উত্তর এসে এলো l

আপনার জবাবে আমরা খুশি l এই ভয়ঙ্কর গ্রূপে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি l আপনি কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের উপস্থিতি বুঝতে সক্ষম হবেন l আমাদের এই গ্রূপ লাইভ থাকে l রাত্রি নটা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত l এই সময়ের মধ্যে আপনার যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর আমরা দেবোl শুধু আমাদের নির্দেশগুলো যথাযথ পালন করবেনl
পারমিতা একটা অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করতে থাকেl এইভাবে সরাসরি পরিষ্কার ভাষায় কোথাও লেখেনি বা পড়েনি , যে অন্ধকার জগতের বিদেহী আত্মারা আছে l

ওর চাঁপা ফুলের মতো আঙ্গুল দিয়ে টাইপ করে l আমি নিজের চোখে ভূত দেখতে চাই l লেখাটা সেন্ড করেই কেমন যেন গা টা শিরশির করে উঠলো ! কিন্তু ওই যে ভূতের গল্পের ওপর আকর্ষণ আবার তার সাথে ভয় ! উত্তর আসার অপেক্ষায় বড়ো বড়ো চোখে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে l এসিটা ইতিমধ্যে ঘরের তাপমাত্রা খানিকটা নামিয়ে এনেছে l ঘর জুড়ে একটা শীতের আভাস..l সাইড ল্যাম্পের হালকা আলো l রাত্রির ক্রমশ বয়স বাড়ছে l বিছানায় বসা একা পারমিতা l চারিদিক নিঝুম , নিস্তব্ধ l শুধু শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের একটানা গুনগুন শব্দ !
উত্তর এলো l আপনার আশা আগামী তিনদিনের মধ্যে পূরণ হবে l তবে , আমাদের পাঠানো বার্তাগুলো সঠিক ভাবে পালন করুন l …কাউকে এই ব্যাপারে জড়িয়ে ফেলবেন না l সম্পূর্ণ নিজের মনে রাখবেন l এবার প্রথম নির্দেশ পালন করুন l

একটা বাতি জ্বালিয়ে বাথরুমে যান l আলো জ্বালাবেন না l এবার বাথরুমের আয়নার দিকে তাকিয়ে , এক মনে বলে যান রক্তাক্ত দেহ l কথাটা ততক্ষন বলবেন , যতক্ষণ না আপনার পিছনে কোন প্রেতের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন l আপনার মনোসংযোগ যত বেশি হবে , তত তাড়াতাড়ি ওই বিদেহী অন্য জগতের আত্মা আপনার পিছনে এসে উপস্থিত হবে l যদি আয়নায় ওর উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন ? জপ মন্ত্র বন্ধ করে দিয়ে ,হাতের জ্বলন্ত বাতিটা নিভিয়ে দেবেন l এরপর সেই আত্মা আপনার সঙ্গেই থাকবেl

আজকে এই পর্যন্ত l এরপর দ্বিতীয় পদক্ষেপ আগামীকাল রাত্রে জানাবো l একটা কথা মনে রাখবেন , মাঝপথে ভয় পেয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে ! মহা বিপদের মাঝে পড়ে যাবেন l অশুভ রাত্রি l

মোবাইলটা বন্ধ করে দিলো পারমিতা l সারা শরীর জুড়ে একটা ভয় ছড়িয়ে আছে l মনে পড়ে গেলো , কিছু মাস আগে কাগজে পড়েছিল মোমো খেলার কথা ! সেই ধরণের কিছু নয় তো ? এও এক প্রকার মৃত্যুই বলা যায় ! এখনই তার শরীর আতঙ্কে কাঁপছে ! তারপরেই সাবধান বাণীটা মনে পড়ে গেলো l

— মাঝ পথে এই গ্রূপ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, মহাবিপদ! তাহলে ওদের কথামতো রান্নাঘরে গিয়ে বাতি দেশলাই আনতে হয় ! এরপর যদি সত্যি ওই ভয়ঙ্কর মন্ত্র পড়তে পড়তেl ভাবতে পারে না আর পারমিতা !

বিছানার ওপর জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকে সে l কি করবে ভেবে পাচ্ছে না l ঘড়িতে পৌনে বারোটা বাজছে l পাশের ঘরে বাবা মা এতক্ষনে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন l পারমিতা মন ঠিক করে নিলো l এখনও যখন শুরু করেনি , তখন তো আর বিপদের সম্ভাবনা থাকছে না l তার থেকে ঘুমিয়ে পড়া ভালো l বেশ শীত শীত করছে l রিমোট দিয়ে এ. সি টা চব্বিশে করে দিয়ে পাতলা কম্বলটা টেনে নিলো l

এই সময় ড্রেসিং টেবিলটার দিকে চোখ পড়তেই নিশ্বাসটা এক মুহূর্তের জন্যে আটকে গেলো l ভয়ার্ত চোখে দেখলো

— ওখানে একটা বাতি আর দেশলাই পড়ে আছে l ওই দুটো জিনিস রান্নাঘর থেকে এখানে কে আনলো ? একটু আগেও চোখে পড়েনি ! আবার ভয়টা জড়িয়ে ধরতে শুরু করলো ওকে l তবে কি ইতিমধ্যে অশরীরি জগতে ঢোকার পাসওয়ার্ড ও পেয়ে গেছে ? নাহলে ওগুলো ডানা মেলে এখানে উড়ে আসতো না !

মনে হলো কোন অদৃশ্য শক্তি পারমিতাকে আদেশ করছে এখুনি বাতি , দেশলাই নিয়ে বাথরুমে যেতে ! ক্রমশ নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে সে l পায়ে পায়ে খাট থেকে নেমে ড্রেসিং টেবিলের দিকে গেলো l কাঁপা হাতে ওগুলো হাতে তুলে নিলো l আয়নায় চোখ পড়তেই নিজের মুখটা দেখতে পেলো l সুন্দর মুখটা যেন একটা ভয়ের মুখোশ হয়ে গেছে l ফর্সা মুখটার পরতে পরতে আতঙ্কের ছায়া l এবার ধীর পায়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাথরুমের দিকে এগোলো l বাথরুমের আলো জ্বালাবার আগেই মস্তিষ্কে যেন একটা বিপদ সংকেত কে বাজিয়ে , আলো জ্বালাতে নিষেধ করলো l

অন্ধকার বাথরুমে ঢুকে বাতিটা জ্বালিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো l পা দুটো অসম্ভব কাঁপছে তার l বাতির স্বল্প আলোয় আয়নায় নিজের মুখটা দেখে মারাত্মক ভয় পেলো l ওটা কে ? সুন্দরী পারমিতা ? কি কুৎসিত দেখতে লাগছে! মনে হচ্ছে কোন হরর ফিল্মের এলো চুলো পেত্নী l

মাথার ভেতরে একটা কথা অনবরত মৌমাছির মতো গুনগুন করে যাচ্ছে রক্তাক্ত দেহ l এবার ওর মুখ দিয়ে বিড়বিড় করে কথাগুলো বেরোতে শুরু করলো l ও যেন এখন একটা কলের পুতুল ! অন্য কেউ ওকে পরিচালনা করছে l সারা বাথরুম জুড়ে গুঞ্জরিত হচ্ছে দুটো বাক্য l রক্তাক্ত দেহ…রক্তাক্ত দেহ l বেশ খানিকটা সময় কাটার পর পারমিতার মনে হলো ওর কানের পাশে পড়ে থাকা চুলগুলো কারো নিঃশ্বাসের হাওয়ায় অল্প অল্প উড়ছে ! যেন কেউ ঘাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছে l কথাটা মনে হতেই ও আতঙ্কের শেষ সীমানায় পৌঁছলো l

তার হৃৎস্পন্দন দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে l শিরায় শিরায় এক অস্থির উত্তেজনা ! ভয়েতে তার শরীরের সমস্ত রক্ত কণিকাগুলো যেন নাচতে শুরু করেছে l হঠাৎ পিছন থেকে কেউ ফুঁ দিয়ে তার হাতের বাতিটা নিভিয়ে দিলো l কালো অন্ধকার এক নিমেষে আস্ত বাথরুমটাকে গ্রাস করে নিলো l. © Sankar Chatterjee.

ও একটা অস্ফুস্ট আর্তনাদ করে বাথরুম থেকে এক ছুটে ঘরে এসে ঢুকলো l ঘরে তবু সাইড ল্যাম্প থেকে আবছা আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে l ওই আলোয় সে ড্রেসিং টেবিলের বড়ো আয়নাটার দিকে তাকালো l আর সাথে সাথে চূড়ান্ত ভয় পেলো l মনে হতে লাগলো , স্নায়ুগুলো আর কিছুক্ষণের মধ্যে অকেজো হয়ে যাবে l কেননা ও আয়নায় পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে তার ঘাড়ের কাছে এক ডেলা জমাট অন্ধকার আটকানো l নিজের অজান্তেই হাত দিয়ে অন্ধকারটা সরাতে গেলো l মনে হলো এক খন্ড বরফ ছুঁয়ে ফেললো ! খাটে ধপাস করে বসে পড়ে l

তাহলে ওদের কথা ঠিক l আত্মা ওর পিছনে চলে এসেছে l কিন্তু এর হাত থেকে ওকে যত তাড়াতাড়ি মুক্তি পেতে হবেl নাহলে ও ভয়ে হার্টফেল করতে পারে যে কোন সময়ে l অসংলগ্ন হাতে মোবাইলের ওপর আঙ্গুল বোলাতে লাগলো l তখনি মনে পড়ে গেলো , ওরা জানিয়েছিল l আবার কাল রাত্রে ওদের সঙ্গে যোগাযোগ হবে l

সারা রাত সে একা ওই বীভৎস আত্মাকে নিয়ে ঘুমোবে ? অসম্ভব l পাশের ঘরে গিয়ে বাবা মাকে ডাকবে ? পাগলের মতো ছিটকে খাট থেকে নেমে দরজার কাছে ছুটে গেলো l ছিটকিনি খুলতে গিয়ে বোকা বনে গেলো l কোথায় ছিটকিনি ? কোথায় দরজা ? পুরো ঘরটাই যেন সিমেন্টের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা ! মুখ দিয়ে ভয়ার্ত আর্তনাদ বেরিয়ে এলো l সেই বিকট চিৎকার ধ্বনি চার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ওর কানেই ফিরে এলো l ভয়ের ওজন ক্রমশ বাড়ছে l যা ওর স্নায়ুগুলোকে ধীরে ধীরে বিকল করে চলেছে l

বিস্ফারিত চোখে ঘরের চারদিকে উন্মাদের মতো তাকাচ্ছে l যদি বেরোবার কোন রাস্তা দেখা যায় ? চোখ দুটো ঘুরতে ঘুরতে আয়নার দিকে স্থির হলো l দেখলো ঘাড়ের কাছে ওই মুণ্ডু আকারের অন্ধকারটা নেই l যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে l মাথাটা একটু হালকা হলো l যাক , আপাতত ওই বিভীষিকা দূর হয়েছে l মনেও শক্তি ফিরে আসছে l ওর অহেতুক ভয়ের কারণে বোধহয় দৃষ্টি বিভ্রম হয়েছিল ! পরিবেশ আর বার্তাবরণ এর জন্যে দায়ী l

কিন্তু ভুল ভাঙতে ওর এক মিনিটও দেরি লাগলো না l কেননা ঘরের দরজাটা এখনও অদৃশ্য ! এই সময় খিক খিক করে একটা চাপা হাসির শব্দ ওর কানে এসে পৌঁছলো ..l হাসির উৎস খুঁজতে গিয়ে বিছানার ওপর নজর পড়লো l ভয়ে হৃৎপিন্ডটা যেন লাফিয়ে গলার কাছে এসে ঠেকলো ! খাটের এক কোণে সেই কালো জমাট অন্ধকারটা যেন ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে l এবং থির থির করে কাঁপছে l সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে রইলো পারমিতা l ও আতঙ্কের চোখে দেখতে পাচ্ছে কালো ছায়াটা নিজের খেয়ালে একটা মানুষের শরীরের আকার ধারণ করছে l

ও আর নিজেকে সংযত রাখতে পারলো না l উদভ্রান্তের মতো খাটের ওপর থেকে মোবাইলটা খামচে তুলে নিলো l মায়ের ফোন নম্বরটা মেলালো l তারপর দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করতে লাগলো l এদিকে চোখের সামনে ওই কালো অন্ধকারের কুন্ডলি ক্রমশ মানুষের চেহারা নিচ্ছে l ও প্রান্তে যেন অনন্তকাল ধরে রিং হয়ে চলেছে l একটা সেকেন্ড যেন একেক ঘন্টা মনে হচ্ছে l এবার সাড়া মিললো l

ফোনে গম্ভীর গলা ভেসে এলো l ” আপনাকে বলা হয়েছিল অন্য কারোর সাথে যোগাযোগ করবেন না l

“এতো সেই অ্যাডমিন এর কণ্ঠস্বর ! পারমিতার গলাটা শুকিয়ে গেলো l কোন রকমে উচ্চারণ করলো l

“প্লিজ, আমাকে বাঁচান l এইরকম নারকীয় দৃশ্য সহ্য করতে পারছি না l আর কয়েক মিনিট চললে আমি সত্যিই মারা যাবো l ”

“এর মধ্যে আপনি আত্মায় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন দেখছি ? এর পরেও দুটো পদক্ষেপ আছে l সেগুলো এর থেকেও ভয়ঙ্কর ! ”

” না…l ” হিস্টিরিয়া গ্রস্ত রোগীর মতো চেঁচিয়ে ওঠে পারমিতা l ” মনে প্রাণে বিশ্বাস করছি আত্মার উপস্থিতি l কেননা নিজের চোখের সামনে ওই ভয়াল রূপ দেখতে পাচ্ছি l দয়া করে এই বিভীষিকা থেকে আমাকে মুক্তি দিন l ” ভয়ে কেঁদে ফেলে ও l কেননা পারমিতার চোখ ওই কালো শরীরটার ওপর আটকানো l এখন ওটাকে দেখলে মনে হচ্ছে ছাল ছাড়ানো একটা রক্তাক্ত মানুষ বিছানায় শুয়ে রয়েছে l

ওই কুৎসিত লালচে দেহটা ধীরে ধীরে উঠে বসছে l এবার আর পারমিতার চোখ দুটো ওই কালান্তক দৃশ্য সহ্য করতে পারলো না l চোখ মস্তিস্ককে জানান দিয়ে দিলো তার অপারগতার কথা l মস্তিস্কও অনেকক্ষন থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করছিলো l সেও তার কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দিলো l

সঙ্গে সঙ্গে পারমিতার দু চোখ জুড়ে অন্ধকারের কালো পর্দা নেমে এলো l অন্যান্য স্নায়ুগুলো নিস্তেজ হতে শুরু করেছে l পারমিতার হাতের মুঠোয় ধরা মোবাইলটা , পাঁচ আঙুলের শাসন অমান্য করে মেঝেয় পড়ে ভেঙে গেলোl ওর সারা মুখে ভয়াল মৃত্যুর আতঙ্ক !

শেষ বারের মতো পারমিতা শরীরের সব শক্তি একত্রিত করে চিৎকার করে উঠলো l যেন মৃত্যু পথযাত্রীর অন্তিম আর্তনাদ ! তারপর জ্ঞান হারিয়ে ফেললো !

কত ঘন্টা দিন সময় কেটেছে পারমিতা জানে না l আচমকা ওর কানে সুদূর থেকে একটা গুম গুম শব্দ ক্ষীণ ভাবে ভেসে এলো l ভারী চোখের পাতা গুলো জোর করে টেনে খুললো সে l চারিদিকে অন্ধকার l এক ফোঁটা আলোর রেশ নেই কোথাও l এবারে ওই শব্দটা কান দুটোতে আছড়ে পড়লো l

এক ঝটকায় মুখ থেকে কম্বলটা সরাতে আলোয় ভরা ঘরটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো l দরজার আওয়াজের সঙ্গে বাবা মায়ের গলার শব্দ ভেসে এলো l

“ওরে দরজা খোল l এতো বেলায় চেঁচাচ্ছিস কেন ? কোন ভয়ের স্বপ্ন দেখেছিস নাকি ? ”

— পারমিতা অবাক হয়ে যায়l হতভম্ভ সে l সারা রাত ধরে ও স্বপ্ন দেখছিলো ? স্বপ্ন এতো ভয়ঙ্কর আর জীবন্ত হয় ? এখনও সমস্ত দেহ জুড়ে ভয়ের শিহরণ খেলা করছে l

কোনও রকমে জবাব দেয় l ” আমি ঠিক আছি l একটু বাদেই উঠছি l

— ঘড়িতে দেখে সাতটা বেজে গেছে l এসি বন্ধ করে উঠে পড়ে l মাথাটা এখনও ভারী লাগছে l ফোনটা দেখলো বালিশের পাশে অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে l তাহলে ওটা একটা দুঃস্বপ্নই ছিল l

বাথরুমে ঢুকে মুখ ধোবার ব্রাশ নিতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে গেলো ও l রাতের স্বপ্নটা যেন আবার হামাগুড়ি দিয়ে ফিরে আসছে  একটা দৃশ্য দেখে , ও কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না l কালকের রাতের ঘটনাটা স্বপ্ন না সত্যি ?
সত্যি হলে মোবাইলে ওই ভয়ঙ্কর নাম লেখা গ্রূপটা কোথায় উধাও হয়ে গেলো ? তাছাড়া ওর হাত থেকে পড়ে

মোবাইলটা টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিলো ! আর এখন সেটা আস্ত l তন্ন তন্ন করে দেখেও খুঁজে পেলো না ওই গ্রূপের কোন চিহ্ন ! তার মানে ওটা ভয়ঙ্কর স্বপ্ন !

কিন্তু স্বপ্ন হলে এই বাথরুমে পোড়া বাতি আর দেশলাইটা এলো কোত্থেকে ? যেটা ও রাত্রিতে জ্বেলে অতৃপ্ত আত্মাকে আহ্বান জানিয়েছিল! এর উত্তর পারমিতা আজও খুঁজে বেড়ায় l

( সমাপ্ত )

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত