ব্ল্যাকমেইল

ব্ল্যাকমেইল

আমি কি দেখতে এতোটাই খারাপ? রুমে শুয়ে শুয়ে ফেসবুকে গল্প লিখছিলাম মাথা তুলে চেয়ে দেখি নাদিয়া আমার খাটের নিকট দাঁড়িয়ে আছে। আমি শুনেও না শুনার ভান করে বললাম,,, কিছু বললি আমাকে? এখন তো আমার কথা তোমার কানে যাবে না অন্যকেউ বললে ঠিকই যেতো।(নাদিয়া) এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে না বলে কি বলতে এসেছিস বলে চলে যা। আমার কাজ আছে।(আমি)

তোমার যে কি কাজ সেটা আমার ভালো করেই জানা আছে,সারাদিন শুধু মেয়েদের পিছন পিছন ঘুরা।(নাদিয়া) কি আমি মেয়েদের পিছন পিছন ঘুরি!!!আমার মতো একটা ইনোসেন্ট ছেলের নামে এতো বড় অপবাদ তুই দিতে পারলি?(আমি) এখন সাধু সাজার চেষ্টা করছো কেন,যখন ঘুরো তখন মনে থাকে না?(নাদিয়া) আমি আবার কখন মেয়েদের পিছন ঘুরলাম?(আমি) কেন বিকালে ঐ যে কি যেন নাম নাতাশা নাকি বাতাশা ঐ মেয়ের সাথে তুমি ঘুরতে যাওনি বুঝি?(নাদিয়া) এই রে ধরা পড়ে গেছি,,তাই কথা কাটানোর জন্য বললাম,, আরে সেটা আমি ছিলাম না, মনে হয় অন্য কেউ ছিলো। জানি তুমি মিথ্যে বলবে তাই প্রমাণ সাথে করে নিয়ে এসেছি।(নাদিয়া) প্রমাণ মানে?(আমি) প্রমাণ মানে তুমি যে ঘুরতে গিয়েছিলে সেটা আমি ভিডিও করেছি। আর সেটা আমি খালাকে দেখাবো। খালা দেখুক তার গুণধর পুত্র সারাদিন কি করে বেড়ায়।(নাদিয়া) ভি..ভি..ভিডিও মা..মা..মানে?(আমি) হুম,,ভিডিও।আর সেটা আমি এখন খালাকে দেখাতে নিয়ে আসছি।(নাদিয়া) প্রমাণসহ ধরা পড়ে গেছি। এখন কি করি আমি? আম্মু যদি এই ভিডিও টা দেখে তবে আমি নিশ্চিত,,আমাকে বাড়ি ছাড়া করবে।

তাই এবার খুব নরম সুরে নাদিয়ার দিকে মুখ করে বললাম,, দেখ তুই তো জানিস আমি কেমন? কি আর করবো বল,আসলে ঘটনা হয়েছে কি জানিস বিকেলে যেই না আমি বাসা হতে বেরিয়েছি তখনি দেখি ঐ পিচ্চি মেয়েটা মানে নাতাশা আমার দিকে এগিয়ে এসে বলে কিনা সে নাকি একটু কাজীরবাজারের দিকে যাবে। একা একা যেতে পারবে না বলে আমাকে তার সাথে যেতে বললো। আর আমি তো কারো উপকার না করে থাকতে পারিনা তাই আর কি একসাথে যাওয়া… প্লিজ তুই এই ভিডিও টা আম্মুকে দেখাস নে। যেই এসে বললো তার সাথে যেতে হবে ওমনি তুমি ঢং ঢং করে চলে গেলে? কই আমাকে তো কোনদিন তোমার সাথে নিয়ে যেতে বললে নিয়ে যাও নাই? আর কি বললে ও পিচ্চি মেয়ে?(নাদিয়া) পিচ্চি মেয়ে নয়তো কি?সবে তো নাইনে পড়ে।(আমি)

ক্লাস নাইনে পড়া মেয়েকে তোমার পিচ্চি মনে হয়!!!(নাদিয়া) হ্যা,,(আমি) কিইইই!!!!( রাগী সুরে)…(নাদিয়া) না,,না,,মনে হয় না।(আমি)..(মনে মনে বলি পড়েছি যমের হাতে খানা খেতে হবে একসাথে) এখন ক্লাস ফাইভ এ পড়াও মেয়েদের তোমার চেয়ে বেশি বুদ্ধি আছে,,গাধা কোথাকার।(নাদিয়া) দেখ নাদিয়া তোকে আগেও বলছি আর এইবার শেষ বারের মতো বলে দিচ্ছি আমাকে যা খুশি বলে ডাক কিন্তু গাধা বলে ডাকবি না কখনো। (আমি) একশ বার ডাকবো,,গাধাকে গাধা বলবো না তো কি ডাকবো শুনি?(নাদিয়া) দেখ ভালো হবে না কিন্তু বলে দিলাম?(আমি) নাদিয়া আমার মুখের কাছে ওর মুখটা নিয়ে এসে বললো,,, কি করবে শুনি? নাদিয়ার গরম নিঃশ্বাস আমার মুখে পড়তেই আমার সারা শরীরের ভিতর দিয়ে মনে হলো একটা শীতল শ্রোত বয়ে গেলো। এর আগেও বেশ কয়েক বার ঠিক এই কাজ টাই নাদিয়া করেছিলো। প্রতিবারের মতো এইবারেও আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললাম,, যখন করবো তখন দেখতেই পারবি আমি কি করতে পারি। তুমি আজীবনেও কিছু করতে পারবে না,,যা করার আমাকেই করতে হবে।(নাদিয়া) তু..তু..তুই আবার কি করবি?(আমি) যা করার করবো,,,আপাতত তোমার এই ভিডিও টা আমি খালাকে দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি বলেই চলে যেতে লাগলো নাদিয়া।

সর্বনাশ এই মেয়ে দেখছি সত্ত্যি সত্ত্যি চলে যাচ্ছে। কই যাচ্ছিস?বলে পেছন থেকে ওর হাতটা ধরে উঠলাম। দেখি নাদিয়া আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আমি নাদিয়ার হাতটা ছেড়ে দিয়ে বললাম,,প্লীজ আমার এত বড় সর্বনাশ তুই করিস না,,আম্মু যদি দেখে তাহলে আমাকে বাড়ি হতে বের করে দিবে।(ইমোশনাল ভাবে) আচ্ছা ঠিক আছে দেখাবো না, তবে ১ টা শর্ত আছে।(নাদিয়া) আমি তোর কোন শর্তে রাজী না।(আমি) তাহলে আমি গেলাম বলে আবারো চলে যেতে লাগলো নাদিয়া। এইই যাস না। (আমি) কি রাজী তো?(নাদিয়া) আচ্ছা।(আমি) আচ্ছা না বলো রাজী?(নাদিয়া) আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোর সব শর্তে রাজী।বল কি শর্ত?(আমি) আজ থেকে আমি যা বলবো তোমাকে তাই করতে হবে,,এখন বল রাজী কি না?(নাদিয়া) ইয়ামপসিবল…কোনদিন না।(আমি) খা…লা…।(নাদিয়া)

এই করস কি!!! বলে নাদিয়ার মুখ চেঁপে ধরলাম। মুখ চেঁপে ধরা অবস্থায় বললাম,, আচ্ছা আমি রাজী। আম্মুকে বলিস না কেমন? কিরে কি হলো আবার তোদের?পাশের রুম হতে মায়ের চিৎকার। আম্মুটাও কেমন জানি,, যখন আমি ৩-৪ ডাকি তখন শুনে না আর এখন ১ টা ডাক দিতেই শুনে ফেললো কিছু হয়নি। (আমি) উওওও…নাদিয়া আমার হাতের আঙ্গুলে কামড় দিয়েছে। এদিকে আমার হাতের আঙ্গুলে কামড় দিতেই নাদিয়ার মুখ ছেড়ে দিলাম। ছেড়ে দিতেই নাদিয়া বললো,,,খালা তোমার ছেলে আমাকে মারে। এত বড় হয়ে গেলি তবুও তোদের বাঁদরামি কমলো না।(মা) আমি তো কিছুই করি নাই তোমার ছেলেই তো আমাকে শুধু শুধু মারতে আসে।(নাদিয়া) আমি অগ্নিময় দৃষ্টিতে নাদিয়ার দিকে চেয়ে আছি। আমার এমন চাহনী দেখে নাদিয়া পরে দেখে নিবো এই বলে একটা ভেংচি কেটে এক দৌঁড়ে আমার মায়ের কাছে চলে গেলো।

আমি অবাক হয়ে ওর চলে যাওয়া পথের দিকে চেয়ে আছি আর ভাবছি এই মেয়ে আমাকে একবারে শেষ করে দিবে।
ওর কথা তে রাজী হয়ে বড় ভুলই করলাম নাকি!! আবার ভাবছি রাজী না হয়ে তো কোন উপায় ছিলো না,, যে ধরনের মেয়েরে বাবা রাজী না হলে সত্ত্যি সত্ত্যি আম্মুকে ভিডিও টা দেখাতো এটা আমি ১০০%নিশ্চিত। দেখি কি হয়? আপাতত গল্প লেখাটা শেষ করি। আপনাদের তো আমার পরিচয়টাই দিতে ভুলে গেছি। যাইহোক কোন ব্যাপার না,,এখন তো দিচ্ছি। আমি ফিরোজ। বাবা মা’র একমাত্র সন্তান।লেখাপড়া করি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।আব্বুর ব্যবসা আছে আর আম্মু তো সারাদিন সিরিয়াল নিয়েই পড়ে থাকে। আর নাদিয়া হচ্ছে আমার খালাতো বোন।পড়ে অনার্স ১’ম বর্ষে। নাদিয়া’রা ২ ভাই বোন। নাদিয়া বাবা মানে আমার খালুজান ব্যাংকের ম্যানেজার। আর খালা উনিও যেন আম্মুর হুবুহু কপি,আম্মুর মতো উনিও সারাদিন হিন্দি সিরিয়াল নিয়েই পড়ে থাকে। আমি ভেবে পাই না যে এইসব ফালতু সিরিয়াল কি করে দেখে এরা।

একদিন সময় করে ২ জন কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম,, আচ্ছা তোমরা কি করে এইসব গাঁজাখুরি সিরিয়াল কেমনে সহ্য করো!!! ২ জনের কাছে এক’ই উত্তর পেয়েছিলাম, উত্তর টা হচ্ছে খবরদার আর কোনদিন এইসব নিয়ে কথা বলবি না বললে তোর খবর আছে!! আমিও আর কোনদিন তাদের ঐ সব নিয়ে কোন কথা বলি নাই। থাকো তোমাদের ঐ প্রানের সিরিয়াল নিয়ে। আর আমার খালাতো ভাই শুভ মানে নাদিয়ার ছোট ভাই এইবার এস.এস.সি দিবে। এইটুকু পিচ্চি আমাকে বলে কিনা ওর নাকি ২টা গার্লফেন্ড আছে। আমি ওর কথা শুনে অবাক,,সালার আজ পর্যন্ত কোন মেয়েকে পটাতে পারলাম না আর ওর নাকি ২টা গার্লফেন্ড। অবশ্য শুভ’র সাথে আমি সব কিছুতেই ফ্রী আর ওর কথাতেই তো আমি নাতাশা কে পটানোর চেষ্টা করছিলাম ৭ দিন ধরে। মনে হচ্ছিলো পটেই গেছে তাইতো আজ ওকে নিয়ে ঘুরতে গেছিলাম আর ঠিক এই সময় সব কিছু ভুন্ডুল করে দিলো নাদিয়া।

ধুরর যাই শুভ’র সাথে কথা বলে আসি এই ব্যাপারে। ও যদি আমাকে কোন সাজেশন দিতে পারে হাজার হলেও এই লাইনে আমার চেয়ে শুভ বেশি এক্সপার্ট। আমাদের বাসা হতে শুভ’দের বাসা খুব বেশি দূরে না,,হেঁটে গেলে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট লাগবে। যেইভাবা সেই কাজ,,টি শার্ট একটা গায়ে চেপে বেরিয়ে পড়লাম,,,কিন্তু আমার পোড়া কপাল, আমার সাথে এই ফাজিল মেয়ে মানে নাদিয়াও আছে। বাইরে যাওয়ার আগে মাকে বলতে গিয়েছিলাম যে,আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। আমি আবার সব সময় এই কাজ টা করে থাকি মানে কোথাও যাওয়ার আগে মাকে বলে যাই। কিন্তু বলতে যেয়েই যত ঝামেলা হলো, যেয়ে দেখি নাদিয়া আম্মুর সাথে বসে বসে একসাথে সিরিয়াল দেখছে। এই মেয়েটাও আম্মু আর খালার চেয়ে কম সিরিয়াল দেখে না বলে আমার মনে হচ্ছে।

আমি যেইনা বলে চলে আসবো ঠিক তখনি নাদিয়া বলে উঠলো,এই দাঁড়াও আমিও যাবো তোমার সাথে। তুই কোথায় যাবি?(আমি) বাসায় যাবো,তুমি আমাকে পৌঁছে দিয়ে আসবে।(নাদিয়া) এখানে এসেছিস কার সাথে?(আমি) কার সাথে আবার আসবো,একা একা এসেছি।(নাদিয়া) তাহলে যাবিও একা একা বুঝলি?(আমি) কি!!!একা একা যাবো??(নাদিয়া) হ্যা,একাই যাবি..(আমি) মা আমি গেলাম বলে যেইনা আমি চলে আসবো ঠিক তখনি নাদিয়া তার হাতের মোবাইল টা আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে লাগলো। মোবাইল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখানোর কি মানে হতে পারে সেটা আমার আর বুঝতে বাকী রইলো না।। আরে আমি তো মজা করছিলাম দেখি তুই কি বলিস,,,আমি তো তোকে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তো এখানে এসেছি। তোকে কি আমি একা একা যেতে দিতে পারি বল!!! আয় আমার সাথে।

খালা আমি যাই কাল সকালে আবার আসবো বলে আম্মু কে বিদায় দিয়ে নাদিয়া আমার পিছন পিছন আসতে লাগলো। আমি নাদিয়ার দিকে চেয়ে দেখি ওর মুখে বিজয়ীর হাসি। ও হয়তো ভাবছে চান্দুপেয়েছি তোমাকে জব্দ করার অস্র। আমার সাথে বাহাদুরি!!! আমি মুখে মলিন হাসি দিলাম একটা। (মনে মনে বলি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা তাইনা!!বলি সময় হোক দেখা যাবে কে কাকে ব্ল্যাকমেইল করে)। ২ জন ই রাস্তা দিয়ে হাঁটছি কিন্তু কারো মুখে কোন কথা নেই। তাই নাদিয়ায় প্রথমে বলে উঠলো,, আর কতদিন আছো? ও হ্যা আপনাদের তো বলতে ভুলে গিয়েছি, ক্লাশ, পরীক্ষা শেষে ২০ দিনের ছুটি পেয়েছি। বাড়ি এসেছি হলো ১১ দিন হবে।

এর মধ্যে ৭ দিন ধরে ঐ নাতাশার পেছন পেছন লেগে ছিলাম। আমি বললাম,, আর ১ সপ্তাহের মতো আছি কিন্তু তা আর হয়তো থাকা হবে না। কেন? কেন?(নাদিয়া) কেউ হয়তো আমার সুখ দুই চোখে দেখতে পারছে না,,তাই ভাবছি কালকেই চলে যাবো।(আমি) তুমি কি আমাকে বলছো কথাটা?(নাদিয়া) আমি তোকে বলতে যাবো কেন?(আমি) আমি কিন্তু শিশু না একটু হলেও বুঝি।(নাদিয়া) বুঝলে ভালো না বুঝলে নাই।(আমি) হুহহ..বলে মুখ বাঁকালো নাদিয়া। আমি মনে মনে বলি,, যতটা বোঁকা ভাবছিলাম ততটা বোঁকা না,,বুদ্ধি একটু হলেও আছে। এই সন্ধ্যায় কোথায় যাচ্ছো তুমি?নাদিয়া প্রশ্ন করলো আমাকে। সেটা তোর না জানলেও চলবে,বাড়ি যাচ্ছিস বাড়ি যা,,বেশী কথা বলবি না।(আমি) তুমি সব সময় আমার সাথে এইভাবে কথা বলো কেন? খুব ইমোশনাল ভাবে কথাটি বললো নাদিয়া। তাই আর না বলে থাকতে পারলাম না।

তোদের বাসায় যাচ্ছি,শুভ’র সাথে জরুরী কিছু কথা আছে।(আমি) আমাদের বাসায় যাচ্ছো আর আমাকে সাথে নিয়ে আসতে চাচ্ছিলে না যে?(নাদিয়া) এমনি,,কি বলবো ভাবতে না পেরে বললাম।(আমি) তুমি এমন কেন বলো তো?(নাদিয়া) আমি আবার কেমন?(আমি) এই যে সবসময় আমার সাথে এই ভাবে কথা বলো,আচ্ছা আমি দেখতে এতোটাই খারাপ নাকি আমার সাথে তোমার কথা বলতে ভালো লাগে না কোনটা?(নাদিয়া) আমি নাদিয়ার কথা শুনে হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। চেয়ে দেখি নাদিয়া আমার দিকে টলমল চোখে চেয়ে আছে। আমি চুপ করে আছি। আমার চুপ করা দেখে নাদিয়া বললো,,,আমাকে বলো,তোমার যদি আমার সাথে কথা বলতে ভালো না লাগে তবে আমি আর কোনদিন তোমার সামনে আসবো না। এই মেয়ে সব সময় ব্ল্যাকমেইল করে,,কিছুক্ষন আগে করলো ভয়ের ব্ল্যাকমেইল আর এখন করছে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল।

এখানে ভালো লাগা না লাগার কথা আসছে কেন? তুই হইলি আমার খালাতো বোন, তোর সাথে কথা না বলে কি আমি থাকতে পারবো?(আমি) ঐ খবরদার আমাকে তোমার বোন বলবে না?(নাদিয়া) আশ্চর্য,,, বোন কে বোন বলবো না তো কি বলবো শুনি?(আমি) আমি তোমার মায়ের পেটের বোন না যে আমাকে বোন বলে ডাকতে হবে!!!..রাগী সুরে..(নাদিয়া) রাগ করছিস কেন? আচ্ছা ঠিক আছে তুই বল তোকে কি বলে ডাকবো?(আমি) জান বলে ডাকবে।(নাদিয়া) কি বললি আরেকবার বল দেখি?(আমি) জান বলে…আস্তে করে কথাটি বলে মাথা নিচু করে ফেললো নাদিয়া। কেন ডাকবো?(আমি) কেন ডাকবে বুঝো না বুঝি? আমার দিকে চেয়ে।(নাদিয়া) না বুঝি না, বুঝিয়ে বল।(আমি) হ্যা,,এখন তো বুঝবেই না।দুনিয়ার সব কিছু বুঝো আর জান কেন ডাকে বুঝো না।..কিছুটা রাগী সুরে..(নাদিয়া) বললাম তো বুঝি না, বুঝিয়ে বল।(আমি)

আমি তোমাকে ভালোবাসি আর এর জন্য ডাকবে। এইবার বুঝেছো???(নাদিয়া) হুম বুঝলাম,,,কিন্তু সেটা তো আর এখন সম্ভব না।(আমি) আমার মুখে এই কথা শুনার পর নাদিয়ার মুখটা মলিন হতে শুরু করলো। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে নাদিয়া বললো,,,কেন সম্ভব না? কারণ আমি নাতাশা কে ভালোবেসে ফেলেছি।(আমি) কথাটা বলার সাথে সাথে নাদিয়ার চোখ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পড়তে লাগলো। সত্ত্যিই তুমি নাতাশা কে ভালোবাসো? চোখের পানি মুছে নাদিয়া আমার দিকে এক দৃস্টিতে চেয়ে কথাটা বললো। হ্যা,,বাসি।(আমি) আচ্ছা,,, ঠিক আছে। বাসায় যাই চলো বলে চলে যেতে লাগলো নাদিয়া। মুখে ঠিক আছে বললে কি হবে? নাদিয়ার ভিতর যে ঝড় বইছে সেটার আওয়াজ আমি ঠিকই শুনতে পারছি।

আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা তাইনা!!! এখন কেমন লাগে!!! আমি মনে মনে বলি,,, মেয়ে তুমি চলো ডালে ডালে আর আমি চলি পাতায় পাতায়। আমি আগে থেকেই কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম যে নাদিয়া আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু মুখে বলছিলো না। তাইতো আমি আর শুভ ২ জন মিলে প্ল্যান করছিলাম। দেখি কাজে দেয় কি না? হ্যা কাজে দিয়েছে এবং সেটা খুব ভালোভাবেই দিয়েছে। কিন্তু একি নাদিয়া আমাকে একা ফেলে চলে যাচ্ছে কেন? এই আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছিস কেন? দাড়া আমিও তো যাবো তোর সাথে?(আমি) চেয়ে দেখি হেঁটেই চলেছে। তাই আবারো ডাক দিলাম,,, কি হলো দাড়াচ্ছিস না কেন? কোন পাত্তা নেই আমার কথার। তাই বাধ্য হয়ে দৌঁড়ে গেলাম নাদিয়ার কাছে। যেয়েই পেছন থেকে হাত টা টেনে ধরে আমার দিকে ঘুরিয়ে নিলাম। আরে বাবা!!!! মেয়ে দেখছি কেঁদে কেঁদে নাকের জল আর চোখের জল এক করে ফেলেছে।

আমি নাদিয়ার চোখ মুছে দিয়ে বললাম,,, কান্নাও করতে পারিস দেখছি। হাত ধরছো কেন?(নাদিয়া) বেশ রেগে আছে ,,তাই বললাম,,, যে আমাকে ভালোবাসে তার হাত ধরবো না তো কি ঐ নাতাশার হাত ধরবো নাকি!!!(আমি) আমি বাসি কিন্তু সে তো বাসে না।(নাদিয়া) সে টা কে শুনি?(আমি) কে আবার তুমি।(নাদিয়া) কে বলেছে বাসি না?(আমি) তুমিই তো বললে বাসো না।(নাদিয়া) মিথ্যে বলেছি।(আমি) বিশ্বাস করি না।(নাদিয়া) কি করলে বিশ্বাস করবি?(আমি) আমাকে জড়িয়ে ধরলে।(নাদিয়া) আমি আর দেরী না করে নাদিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম,,, ভালোবাসি রে,,, তোকে খুব ভালোবাসি।। এই ছাড়ো বলছি।(নাদিয়া) না, ছাড়বো না।(আমি) রাস্তার মাঝে লোকজন দেখছে তো।(নাদিয়া)

আমি এইবার ছেড়ে দিলাম,,আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ আছে কি না? না নেই,,বাঁচলাম। নাদিয়া আমার কান্ড দেখে হাসছে। মেয়েটির হাসির মাঝেও চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কিন্তু এই পানি আনন্দের,,অনেক সুখের। এখানেই থাকবো নাকি বাসায় যাবে? নাদিয়ার ডাকে ঘোর কাটলো। ও হ্যা,,,চল চল..খুব ক্ষুধা পেয়েছে তোর মুটিকে জড়িয়ে ধরে।(আমি) কি আমি মুটি!!!দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা। আমাকে মুটি বলা আর আমাকে কাঁদানোর সাজা তোমাকে পেতেই হবে। এই বলে নাদিয়া আমার হাত টা ধরে ওদের বাড়ির দিকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। আমি মনে মনে বলি,,, কি মেয়েরে বাবা!!!কিছু বললেই ব্ল্যাকমেইল করতে চায়।

যাইহোক,,আগে খালার বাসা’য় ও সরি শাশুড়ির বাসায় যাই,,জামাই আদর খেয়ে আসি। খালা তোমার মেয়ের জামাই আসছে,,,খাবার রেডি করো তাড়াতাড়ি। কিন্তু নাদিয়া যে বললো সাজা দিবে,,কি সাজা দিবে ও?? যেই সাজা’ই দেক না কেন নিশ্চয় সেই সাজা টা রোমান্টিক সাজা হবে সেই সাজা পেতেই এখন যাচ্ছি,, সবাই দোয়া করবেন যাতে আপনাদের মাঝে আমি ভালোভাবে ফিরে আসতে পারি আর আপনাদের যেন আরো ভালো ভালো গল্প উপহার দিতে পারি….

(সমাপ্তি)

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত