গল্প কে বললো?

গল্প কে বললো?

বাংলা সাহিত্যের এক প্রথিতযশা লেখিকা,টেবিলে মাথা নিচু করে খস খস করে গল্প লিখছে।হটাৎ টেবিলের পাশে ফোন টা বেজে উঠলো।লেখিকা উঠে গিয়ে ফোন টা ধরলো।ফোন এর ওপাশ থেকে “ম্যাম, আপনার বই ছাপতে আরো দশ হাজার টাকা লাগবে নইলে বই ছাপতে পারবো না”।

এদিক থেকে লেখিকা বললেন “বিশ্বাস করো আমার কাছে আর একটা পয়সাও নেই,তোমরা যে 30 হাজার টাকা নিয়েছো সেটা কোনো রকমে ধার দেনা করে দিয়েছি লেখাটা ছেপে বের করো বই বিক্রির পর টাকা দিয়ে দেব”।
ওপার থেকে প্রকাশক বললো “না আমাদের নিয়ম অনুযায়ী পুরো টাকা না পেলে আমরা বই ছাপতে পারবো না র টাকাও ফেরত দিতে পারবো না।”

নিরুপায় লেখিকা অনেক ভাবনা চিন্তার পর নিজের লেখা খাতা গুলো নিয়ে বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে এগিয়ে গেলো রেল লাইনের দিকে পাতা ছিড়ে ছিড়ে ওড়াতে লাগলো আর বলতে লাগলো নানা কবিতা “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”।

হটাৎ করে একটা ট্রেন ধেয়ে এলো লেখিকা ঝাঁপ দিলেন ট্রেন এর সামনে। পু ঝিক ঝিক ঝিক….

10 বছর পর…..
এখনকার দিনে ফেসবুকের রমরমা একটা কিছু লিখে পোস্ট করলেই হলো ঝুড়ি ঝুড়ি লাইক আর কমেন্ট রবীন্দ্রনাথের আমলে ছিল কাব্য,উপন্যাস,বড় গল্প,ছোট গল্প(শেষ হয়েও হইলো না শেষ)।
এখন কার দিনে মানুষের সময় কম তাই সাহিত্যের পিন্ডি চটকে অনু,পরমাণু,গল্প ছাড়িয়ে আরো ছোটো হতে শুরু করেছে। জানিনা এর পর হয়তো পজিট্রন, বা মেসন গল্পও আসবে।যেমন যুগ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

তখনকার দিনে সাহিত্য চর্চা করা লোকেরাই সাহিত্যের সমালোচনা করতো এখন এই ফেসবুকের দৌলতে পাড়ার চুল্লু খোর লেদু কাকাও গল্পের ভালো মন্দ বলে।লোকে তখন বই কিনে গল্প পড়তো পুজো বা বইমেলায় এখন এক এক টা পেজ দিনে চারটে করে গল্প পোস্ট করে এতো গল্প লেখে কে? আমাদের রবি ঠাকুরও এতো লেখেনি।
তাহলে হচ্ছে টা কি এর গল্প ওই নাম পাল্টে একটু এদিক ওদিক করে আর একজন চালিয়ে দিলো।

তারপর আছে কম্পিটিশন শত শব্দের গল্প,দশ শব্দের গল্প! এ যুগে রবি দাদু থাকলে চাপ হতো,আরো মুশকিল হতো বঙ্কিম দাদুর ওনারা প্রতি কম্পিটিশন এ ডিস্কোয়ালিফাই হতো।

যাই হোক আমাদের অভ্র , হটাৎ করে বাই উঠেছে লেখক হবে,অভ্র মধতবিত্ত ঘরের ছেলে সবে থার্ড ইয়ার এ উঠে মিষ্টির প্রেমে মশগুল হয়েছে অমনি মিষ্টির একটা বড়লোক বয়ফ্রেড গোগো জুটে যেতেই অভ্রর প্রেম এ ছেদ পড়লো।

কদিন মনখারাপ, কদিন রাত জেগে ফেসবুকে “দরদে ডিস্কো” পোস্ট করতে করতে আর লাইক পেতে পেতে হটাৎ মনে হলো সেও লেখক হতে পারে।

দিন রাত এক করে কবিতা লিখতে লাগলো গল্প লিখতে লাগলো।
ফেসবুকে যত পেজ আছে দিনলিপি, সাক্ষর, মেলছেডানা, গরমমসলা, গল্পমালা তে লেখা শুরু করলো।কখনো কখনো তার গল্প চলতো কখনো চলতো না। ধীরে ধীরে অভ্র একখান চাকরি পেলো চাকরি আর লেখা চলছিল সমান তালে।

এদের মধ্যে গল্পমালার এডমিন বুম্বা অভ্র কে ফোন করে আরো ভালো গল্প লেখার পরামর্শ দেয় এই আর কি।অভ্রর গল্প গুলো ঠিক গল্প হতে হতেও গল্প হয় না তাও ফেসু যুগ(ফেসবুকে র যুগ)! তাই লাইক কমেন্ট এর অভাব হয় না।এভাবেই চলছিল জীবন । অভ্র হয়ে উঠতে চাইছিল বিরহ প্রেমের লেখক।

ধীরে ধীরে অভ্রর বন্ধু পরিধি বাড়তে লাগলো। প্রচুর লেখক লেখিকাও নিজেদের ফেসবুকে বন্ধু সাম্রাজ্য বাড়াতে অভ্র র কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো।

হটাৎ সেদিন রাত বারোটা পাঁচ অভ্রর কাছে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এলো “নামহীন”।অভ্র ওর প্রোফাইল টা চেক করলো দেখলো অভ্র ছাড়া কোনো ফ্রেন্ড নেই। আর প্রোফাইল টাও ছোট শুধু প্রোফাইল এ দুটো লাইন

“কলম খোঁচায় গল্প পাতি,
তোমার শব্দে মাতামাতি”।
অভ্র ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলো।
পরের মুহূর্তেই ফেসবুক মেসেন্জারে মেসেজ “hi অভ্র আমি নামহীন”
অভ্র ভাবলো এ কেমন নাম! তাও কিছু বললো না যদি খারাপ লাগে ওর।
অভ্র বললো “hi”।
নামহীন বললো “তুমি খুব ভালো লেখো অভ্র এতো সময় পাও কি করে চাকরি সামলে”।
অভ্র বললো “ওই র কি”।
অভ্র আরো জিগ্যেস করলো তুমি কি গল্প লেখো?
নামহীন বললো “না গল্প এখন আর লিখি না গল্প শোনায়”
অভ্র বললো “কেন লেখো না ?”
নামহীন বললো “আমার লেখা কেউ ভালোবাসেন তাই,তাই গল্প শোনায়”
অভ্র জিজ্ঞেস করলো ” তুমি ছেলে না মেয়ে”
নামহীন “একটা স্মাইল পাঠিয়ে বললো মেয়ে”
এভাবে গল্প চলতে চলতে নামহীন একটা বেশ ভালো গল্প অভ্র কে চ্যাট করতে করতে পাঠালো”
অভ্র চমকে উঠলো আরে এতো দারুন গল্প নামহীন।

নামহীন বললো ” এবার তুমি এটাকে নিজের শব্দে লিখে গল্পমালা তে পাঠাও তোমার নাম দিয়ে।”
অভ্র গল্প টা ফ্রেশ করে লিখে নামহীন কে দেখালো। গল্প টা ছিল বহু বছর আগের ভাঙা প্রেম,প্রেমিক প্রেমিকা ক্যানসার হসপিটালের পাশাপাশি বেড এ শুয়ে একসাথে মৃত্যুর দিন গুনছে শেষ জীবনের ভালোবাসা দিয়ে,একে অপরের ভালোবাসার পরিপূরক হয়ে বাঁচতে চাইছে। গল্পটার নাম দিলো “প্রেমাশ্রয়”।
নামহীন বললো “এবার তোমার নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও”।
অভ্র বললো “না না তা কি করে হয় তোমার গল্প আমার নাম দিয়ে যেতে পারে না”।
নামহীন বললো “পাঠাও না তোমার নামে”
অভ্র শেষমেষ পাঠালো কিন্তু লেখিকার নাম দিলো নামহীন।

#প্রেমাশ্রয়
#নামহীন

গল্পমালার এডমিন এটা দেখেই অভ্র কে ফোন করলো “অরে দাদা লেখকের নামটা দেবেন তো ঠিক করে,ঠিক আছে এবারের মতো আমি এডিট করে নিচ্ছি পরের বার থেকে ঠিক করে পাঠাবেন,গল্পের প্রচুর চাপ আপনারা ঠিক করে না পাঠালে চলে”।

অভ্র গম্ভীর গলায় বললো “না নামটা ওটাই রাখবেন কিছু চেঞ্জ করার দরকার নেই”।
বুম্বা ভাবলো অভ্র হয়তো ছদ্মনাম ব্যবহার করছে।

যাইহোক গল্পটা পোস্ট করার পর লোকজন গল্পটা উপভোগ করে পড়লো প্রচুর লাইক প্রচুর কমেন্ট।এতদিনে সবাই বুঝলো বাজারে এক জাত লেখক এসেছে।

অনেকে জানতে চাইলো “নামহীন” এর আসল নাম কি বুম্বা রিপ্লাই দিলো “অভ্র”।
অভ্র রিপ্লাই দিতেই যাচ্ছিল “আমি না”।
তখন হটাৎ করে নামহীন এর মেসেজ এলো “অভ্র থামো লোকে তোমাকেই চিনুক”।
অভ্র বললো “এ অন্যায়”।
নামহীন বললো “দুনিয়াতে তো এর চেয়েও বড়ো অন্যায় হয়”।
অভ্র থেমে গেলো।

সেদিন রাত্রে আবার নামহীন পিং করলো।আবার একটা নতুন গল্প বললো এবারের গল্পটা ছিল “এক সাঁওতাল মেয়ে মালিনীর গল্প যে পড়াশোনা করতে চেয়ে নিজের বিয়ে ভেঙে দিয়ে রাতারাতি খবরের শিরোনাম এ।তাকে বিয়ে করে কলকাতার বাবু ইমন এর বিখ্যাত সমাজসেবী হবার চেষ্টা।কিন্তু কালো বউ কে মেনে নিতে পারে না তাই উন্নতির শিখরে উঠে মালিনিকে নিয়ে নদী তীরে বেড়াতে যায় মালিনীর ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে মালিনী যখন গভীর প্রেমে আক্রান্ত তখন ইমন মালিনিকে ধাক্কা মেরে মালিনিকে স্রোত যুক্ত নদীতে ঠেলে ফেলে দেয়।

নদীর অপর দিকে ভেসে আসা মালিনিকে রক্ষা করে এক মুসলিম ছেলে হাজিবুল। হাজিবুল বলে পুলিশে খবর দিতে কিন্তু মালিনী অন্যায় এর বিচার চায় না পরিবর্তে সংসার চায়।

ওদের সুখের সংসারে এক ছেলের জন্ম হয় যার নাম হিমু। হিন্দুর “হি” আর মুসলমানের “মু” জুড়ে গল্পের নাম “হিমু”।

এই গল্পটাও পোস্ট হয় গল্পমালা তে।
আবার পাঠক আপ্লুত আবার লাইক আর কমেন্ট এর ভিড়।সবাই জয় জয় কার দিচ্ছে অভ্রর।
এভাবেই নামহীন এর গল্প চলতে লাগলো অভ্র র নামে।
অভ্র একদিন পিং করে বললো নামহীন তোমার ফোন নম্বর দাও কথা আছে।
নামহীন বললো ফোন নম্বর দেব পরে এখন বলো কি হয়েছে।
অভ্র বললো “তোমার বাড়ি কোথায়? তোমার সাথে দেখা করতে চাই।”
নামহীন বললো এতো তাড়ার কি আছে দেখা তো হবে একদিন।
অভ্র রেগে বললো “ফোন নম্বর দিতে চাও না দেখা করতে চাও না,তুমি চাও কি?”
নামহীন বললো “কেন এতো রাগ করছো তোমাকে তো গল্প বলছি”।
অভ্র বললো “চাই না তোমার গল্প তোমার নিশ্চই কোনো মতলব আছে”।
নামহীন একটা স্মাইল পাঠিয়ে বললো “আছে আছে তোমাকে দিয়ে আমার একটা গল্প লেখাতে হবে যে”।
অভ্র বললো “কি গল্প বলো”
নামহীন বললো “জীবনের গল্প”।
অভ্র বললো “তোমার জীবনের গল্প তুমি লেখো”
নামহীন বললো “আরে আমার বাবুসোনা রাগ করেছে”।
অভ্র বললো থাক গল্প বলো।

নামহীন শুরু করলো ” এক ছোট শহরে এক মেয়ে ছিল মেয়েটির নাম জয়া যেমন সুশ্রী দেখতে তেমন তার গুন।জয়া ক্লাস 12 পাস করে পড়তে গেলো কোলকাতায় এক কলেজে।সেখানে রাজ বলে একটি ছেলে তাকে প্রেম নিবেদন করে জয়া রাজি হয় বছর দুয়েক প্রেম করার পর রাজ বিয়ের প্রস্তাব দেয়,জয়া প্রথমে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাইনি কিন্তু রাজ এর জোরাজুরিতে রাজি হয়।

বিয়ের পর জয়া জানতে পারে জয়ার আগে রাজের জীবনে ইশা বলে একটি মেয়ে এসেছিল কিন্তু সে সময় রাজ চাকরি না পাওয়ায় ইশা রাজ কে ছেড়ে চলে যায়।

বিয়ের পর রাজের অল্প রোজগারের সংসারে অভাব আসতে দেয়নি জয়া সব কিছু হাসি মুখে মেনে নিয়েছে।
বছর ঘুরতেই তাদের কোল আলো করে আসে পিউ।

পিউর সমস্ত কিছু জয়া একা হাতে সামলাচ্ছিলো কোনোদিন রাজ কে কষ্ট বুজতে দেয়নি।
ধীরে ধীরে সংসারে অভাব দূর হচ্ছিল।

কিন্তু একদিন রাত্রে রাজ জয়া কে ডেকে বলে “জয়া অনেকদিন ধরে তোমাকে একটা কথা বলবো ভাবছিলাম আমাকে ভুল বোঝো না”।

জয়া বললো “এতো ভনিতা করার কি আছে যা বলবে বোলো না আমার খুব ঘুম পাচ্ছে কাল সকালে পিউর আবার স্কুল আছে”।

রাজ বললো “জয়া আমার আবার ইশার সাথে দেখা হয়েছিল এখন রোজই দেখা করি, ইশা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু আবার আমার জীবনে ফিরতে চাই ওকে কি ফিরিয়ে দেব বোলো”।
জয়া বললো “তাহলে তুমি কি ডিভোর্স চাও”

রাজ বললো না “আমি দুজন কে নিয়েই চলতে চাই দুজনকেই ভালোবাসতে চাই,তুমি পারবে না মানিয়ে নিতে,তুমি প্লিজ একবার ওর সাথে দেখা করো”।

এসব শুনে জয়া বললো “প্লিজ এতো উদার আমি না আমাকে মুক্তি দাও”।
সেদিনের মতো রাত কেটে গেলো।কদিন পরে জয়া রাজ এর মোবাইল ঘাঁটতে গিয়ে কিছু মেসেজ পড়ে বুজতে পারলো রাজ আর ইশার মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক আছে।

রাগে ঘেন্নায় জয়া রাজ এর বাড়ি ছেড়ে নিজের বাবা মার কাছে ফিরে এলো।
কিন্তু রাজ কিছুতেই তাদের সন্তানকে নিয়ে যেতে দিলো না।জয়া সবকিছু ছেড়ে একা থাকা শুরু করলো আর অবসর সময় নিজের মতো গল্প লিখতো।ধীরে ধীরে বাংলা সাহিত্যে তার নাম হলো কিন্তু সাংসারিক অভাব পিছু ছাড়লো না।
নিজের অল্প চেষ্টায় বই ছাপানোর উদ্যোগ নিলো কিন্তু এক বাজে পাবলিশার্স এর হাতে পড়ে সে বইতো ছাপাতে পারলো না এমনকি আর্থিক দিক থেকে সর্বশান্ত হলো। কিন্তু নামী লেখিকা হলেও তাকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে এলো না।”

এই পর্যন্ত বলে নামহীন অভ্র কে বললো “গল্পের বাকিটা তুমি লিখে কোথাও পোস্ট কোরো”।
অভ্র বললো “শেষটায় যদি বলি লেখিকা আত্মহত্যা করলো”।
নামহীন আর কোনো উত্তর দিলো না।
অভ্র গল্প টাকে শেষ করে গল্পমালা পেজ এ পাঠালো।
গল্পটা খুব চললো।এই গল্পের জন্য অভ্র সেরার সেরা লেখক হয়ে উঠলো।
ইদানিং কালে অভ্রর গল্পের জন্য অভ্র কে পুরস্কৃত করার কথা ভাবা হলো।
অভ্র ভাবলো এবারে নামহীন কে প্রকাশ্যে আনতে হবে সব প্রশংসা নামহীন এর প্রাপ্য।
সেদিন রাতে অভ্র মেসেঞ্জার এ নামহীন কে কিছু লিখতে যাবে এমন সময় দেখলো সে কিছু লিখতে গেলেই দেখছে

“you can not reply to this conversation”.
যার মানে দাঁড়ায় নামহীন অভ্র কে কিছু না বলে ব্লক করে দিয়েছে।কিন্তু এমন করলো কেন ? এবার কি হবে নামহীন এর সাথে অভ্র যোগাযোগ করবে কি করে।

এই সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে অভ্র ঘুমিয়ে পড়লো,হটাৎ স্বপ্নে দেখলো নামহীন এসেছে তাকে বলছে অভ্র আমি তো আর এই পৃথিবীতে নেই অনেকদিন আগেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছি।
অভ্র বলছে তাহলে তোমার গল্প কিভাবে তুমি আমাকে বললে।

নামহীন বললো এই যত গল্প তোমাকে বলেছি এগুলো প্রকাশক আমাকে ঠকিয়ে আমার গল্প অন্যের নাম দিয়ে চালিয়েছে।কিছু গল্প কে দম বন্ধ করে মেরে ফেলেছে।তাই তোমার হাত দিয়েই সে সব গল্পের পুনরুত্থান হলো।আর শেষের গল্পটা আমার জীবনের যেটা তুমি সঠিক ভাবে আত্মহত্যা দিয়ে শেষ করেছো। বিদায় বন্ধু আমাকে আর খুঁজো না!

অভ্রর ঘুম ভেঙে গেলো বিশ্বাস অবিশ্বাসের টানা পড়েন এ অভ্র জেরবার।
মনে একটাই প্রশ্ন তাহলে কি গল্প গুলোকে বাঁচাতেই নামহীন তাকে গল্প বলতো অশরীরী হয়ে
নাকি অন্যকিছু।

অভ্র মেসেঞ্জার টা আবার খুলে দেখলো নামহীন এর চ্যাট উইন্ডো থেকে সেই মেসেজ না করতে পারার বার্তা।
“আবার আসিবো ফিরে ধান সিরিটির তীরে এই বাংলায়,
হয়তো মানুষ নয়”

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত