অনিলের ভারসাম্যহীনতা

অনিলের ভারসাম্যহীনতা

অনিল অপরাধ-বোধে ভুগে।বয়স ২৪। দেহের একটি উত্তেজনা আছে,সে ঢের বুঝতে পারে। সে উত্তেজনার কেন্দ্র একটি দেহ।নারী দেহ। এই উত্তেজনা কত বয়স থেকে ঠিক শুরু হয়েছে,তা ঠিক মনে পড়ে না।তবে ছোটবেলায়,বয়স তিন চার হবে সমবয়সী এক ফুফাতো বোনের পাশাপাশি ঘুমিয়েছিল। ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখে,বোনটি ঘুমাচ্ছে।অনিল জড়িয়ে ধরে।বোনটি কেঁদে উঠে।অনিল ছেড়ে দেয়।ফুফা এসে বলল-কি হয়েছে মা?
-ভাইয়া আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল।
অনিলের মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে যায়।
-তাতে কি হয়েছে মা,ভাই তো তোমাকে আদর করল।
অনিল আজও ঠিক বুঝতে পারে না,সেদিন কি কারণে জড়িয়ে ধরেছিল,আদর নাকি উত্তেজনা?

অনিলের বাবা নিলয়।বাবার চরিত্র যে কেমন কেমন,তা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। বাসায় ছোট-খালা এলে বাবার চোখমুখে অন্যরকম আনন্দ খেলা করে। বাবা ছোট-খালার হাত ধরে বসে আছেন,এমন দৃশ্য অনেকবার দেখেছে।তাতে দুজনেই বিব্রত হয়েছেন।বিব্রত হচ্ছে কেন,এমন প্রশ্নটা মাথার ভিতর ঘুরে ফিরে আসত। তাহলে কি তারা কোন অনৈতিক কাজ করছেন,ঠিক বুঝতে পারত না। পাশের বাসার এক দাদু বলেন-নিলয়টা হাড়ে হাড়ে শয়তান। মেয়ে দেখলেই মনে হয় জিভে জল এসে যায়।
সেই বয়সে অনিল ঠিক বুঝতে পারেনি কথার মানে। তার কাছে মনে হত,মেয়ে দেখলেই জিভে জল এসে যায়,এটা কেমন কথা?ভাল খাবার হলে জিভে জল আসতে পারে।তাহলে কি মেয়েরা ভাল খাবার?মাথার ভিতর এসব ঘুরতে থাকে। তখন এক ম্যাডাম রোজ পড়াতে আসত। ম্যাডাম তখন ইন্টারে পড়ত আর অনিল ফোরে।ম্যাডামকে তার খুব ভাল লাগত।মাঝেমাঝে শরীরে হাত ভুলিয়ে দিত।তাতে বেশ লাগত ওর। একদিন ওর মা বেড়াতে গেছে। বাবা আর ও বাসায়। ম্যাডাম পড়াতে এসেছেন।ম্যাডাম পড়াচ্ছেন। বাবা বারবার রুমের ভিতর আসছেন আর বের হচ্ছেন। বাবা এমন করছেন কেন,বুঝে উঠতে পারছে না।একবার এসে বলল-অনিল ওই রুমে যাওতো।

অনিল পাশের রুমে যায়। বাবা আলতো করে দরজা লাগিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর বাবাকে কুত্তা বানর ছাগল ইত্যাদি বকতে বকতে ম্যাডাম বাসা হতে চলে যান। ম্যাডামের এমন হঠাৎ রেগে বের হয়ে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারে না অনিল। এরপর আর কোনদিন ম্যাডাম পড়াতে আসে নই। মা রাবেয়া বাবার সাথে বেশ কয়েকদিন কথা বলা বন্ধ করে। এরপর একসময় ঠিক হয়ে যায়।সব ঠিকঠাক চলতে থাকে। অনিল তখন ক্লাস এইটে।বাসায় কেউ নেই।টিভিতে সিনেমা হচ্ছে। সিনেমায় নায়িকাকে কয়েকজন লোক মিলে ধরে।এক লোক একটানে শাড়িটা খুলে ফেলে।বিশেষ অঙ্গটা এই প্রথম বার একেবারে দাড়িয়ে যায়।বুকটা ধড়ফড় করতে থাকে।বিছানার উপর শুয়ে পড়ে।শুরু হয় উথাল পাতাল।সাদা সাদা তরল বের হবার পর উত্তেজনা কমে।মনের ভিতর অপরাধ-বোধ জেগে উঠে।এ কি করল?এ যে বিশাল বড় অপরাধ করে ফেলল।এভাবে চলতে লাগল।এর মাঝে একদিন মা রাবেয়া আত্মহত্যা করে বসে।ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা।বুকের ভিতরে কেমন যেন করে উঠল।সারাদিন কাঁদল।এরপর সপ্তাহ গেল,মাস গেল।বাবার চোখেমুখে দুঃখের কোন চিহ্ন ছিল না।আত্নীয় স্বজন এলে মুখটা ভার করে রাখত যেন মায়ের মৃত্যুতে খুব কষ্ট পেয়েছে।ছোট-খালা মায়ের মৃত্যুর মাস-খানেক পর বাসায় আসেন।খালু পিএইচডি করতে আমেরিকা গেছেন।নিয়মিত ছোট-খালায় আমার দেখাশুনা করেন।বাসার রান্না বান্না,কাপড় চোপড় ধোয়া।মাস-দুয়েক পর ছোট-খালাকে বাবা বিয়ে করেন।ছোট-খালাকে বাবা কিভাবে রাজি করালেন,কিছুই বুঝে উঠতে পারি না।একদিন স্কুল হতে বাসায় ঢুকতেই বাবা ডাকলেন।

-আজ হতে ছোট-খালা বলব না।বলবে মা।
অনিল কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।
-এখনি একবার মা বল।
চুপ করে থাকে।ছোট-খালা বলেন-বাবা এখন হতে আমি তোমার মা হই।তোমার বাবা আজ আমাকে বিয়ে করেছেন।
অনিল কিছু না বলে নিজের রুমে চলে আসে।মায়ের ছবির দিকে তাকায়।খুব কান্না আসে।এভাবে চলছে।তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে।বড় খালা সাথে খালাতো বোন এসেছে।খালাতো বোন টেনে পরে।দেখতে বেশ।বেশ উত্তেজনা হয় দেহের ভিতরে।আবার শুরু হয় উথাল পাতাল।বের হয় চাপা ঘন নিঃশ্বাস।তরল বের হওয়ার পর অপরাধ-বোধ ঘিরে ধরে।তাই বলে খালাতো বোনকে নিয়েও কল্পনায়।নায়িকাদের ভেবে করে,সে এক কথা।নিজেই নিজেকে ধিক্কার দেয়।বোনের সামনাসামনি যেতে লজ্জা পায়।
বছর পাঁচ পর।ভার্সিটিতে থার্ড ইয়ার।ছেলে হিসেবে খুব চুপচাপ।একা একায় থাকে।কথা বার্তা খুব একটা বলে না।একটা কম্পিউটার কিনেছে।নিয়েছে নেট সংযোগ।দেহের উত্তেজনা কমে নাই।যেন যেন দিন বেড়েয় যাচ্ছে।কম্পিউটার কেনার পর আরও বেড়েছে।নিষিদ্ধ জগতের জিনিস একেবারে এখন হাতের নাগালে।চাইলেই দেখতে পারে অমুক স্ক্যান্ডেল।মাঝে মাঝেই বেশ খারাপ লাগে।তার কি শুধু একায় এমন লাগে?এত উত্তেজনা লাগে ভাল মেয়ে দেখলে।ক্লাসের অনেক মেয়েকে ভেবেয় করেছে।নায়িকাগুলো তো আছেই।সে কি নষ্ট হয়ে গেছে?তার চরিত্র কি একেবারে শেষ হয়ে গেছে?সব ছেলেই কি এরকম?নাকি শুধু সে একা।মেয়েরাও কি এমন উত্তেজনা অনুভব করে?ভাল ছেলে দেখে নিজের উত্তেজনা কল্পনায় প্রশমিত করে?এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে মাথায়।এসব প্রশ্নের উত্তর কে দিবে তাকে,বুঝে উঠতে পারে না।বেশ কিছুদিন হল একটা মেয়েকে খুব ভাল লাগে।কিন্তু মেয়েটার প্রতি দৈহিক কোন আশা নেই।কেমন যেন দেখলেই মেয়েটাকে খুব ভাল লাগে।মেয়েটাকে কি ভালবাসতে শুরু করেছে কিনা বুঝে উঠতে পারে না।

রাত্রি বেলা।বাবা আর ছোট-খালার সামনে দাঁড়াল।তারা তিনজনই ছাদে।
-বাবা একটা কথা বলবে?
-বল।
-মা আত্মহত্যা করল কেন?
-আমি কিভাবে বলব?
-মা ডেল কার্নেগী পড়ত,রাসেলর নতুন জীবনের সন্ধানে পড়ত।
-তা পড়তে দেখেছি।
-তাহলে তো মা আত্মহত্যা করার কথা না।
-ঠিক।
-তাহলে তুমি মাকে খুন করেছ।
-এসব কি বলছিস?
-মার শরীর যখন আঁচড়ে পড়ে তখন তোমাকে ছাদ হতে আমি নামতে দেখেছি।
-তোর মাথা ঠিক আছে?
-বোধ হয় নেই বাবা।সে অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।
-ডাক্তার দেখাতে হবে।চল রুমে চল।
-না বাবা।এখনও বাকি আছে।
-কি বাকী আছে?
-বাবা তুমি খুব ঠাণ্ডা মাথায় মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে।কারণ ছোট-খালার রূপে তুমি মুগ্ধ।চাচ্ছিলে খালাকে বিয়ে করতে।সেটা মা থাকতে সম্ভব ছিল না।বাবা গুড বাই।

এই বলে বেশ সজোরে ধাক্কা দেয় বাবাকে।ছোট-খালা হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।অনিলের চোখে মুখে কেমন যেন এক আনন্দ আবার পরক্ষণে কেদে উঠল।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত