সাত রাঙা রংধনু

সাত রাঙা রংধনু

গত সপ্তাহে জেনিয়াকে দেখতে যাওয়ার পর আমাদের দুজনকে যখন আলাদা ভাবে কথা বলতে দিলো আমি কি বলবো ভাবছিলাম।যেই আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনি জেনিয়া খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো “দেখুন আমি চাই না বিয়ের পর একটা ঝামেলা বাধুক। আমি মেয়ে দেখতে সুন্দর, মা শা আল্লাহ, সবাই বলে।আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে আপনার চোখ দেখেই বুঝছি।পছন্দ তো হতেই হবে। আমি তো একটা লক্ষি মেয়ে, পছন্দ না হয়ে উপায় আছে? আমাকে দেখে যে কেউ পছন্দ করবে এটা আমার আব্বুর কথা। তবে সমস্যা হচ্ছে আপনি আমাকে বিয়ে করে শান্তি পাবেন না জনাব।আপনার শান্তির ঘুম বিফলে কাটবে সারাজীবন।সরাসরি যদি বলি আমি মাঝে মাঝে ঘুমের মাঝে নাক ডাকি। সো আগেই বলে দিলাম। পরে কিন্তু আমার দোষ দিতে পারবেন না।এই যে আপনাকে জানাইনি।আমাকে বিয়ে করা অনেকটা নিজেকে কোরবান দেওয়ার মত।তাই ভেবে চিন্তে কোরবান হবেন কেমন?” আমি কথা গুলা শুনে অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে হাসছিলাম।

মনের ভিতর একটা ভয়ংকর ভালো লাগার চাপ অনুভব করলাম। মানুষ কষ্টে বুকের মধ্যে চাপ অনুভব করে আর আমি মানুষটা তার উল্টো।আমার হাসি দেখেই জেনিয়া আবার বললো “এমা আপনি হাসছেন কেন? আমার কথা কি আপনার বিশ্বাস হয় না? আপনারা আমাকে দেখতে আসবেন আমি জানতাম না। আপনারা আসার কিছুক্ষন আগেই আম্মা আমাকে জোর করেই সাজিয়ে দিয়েছে।আমার এই রকম সাজঁগোজ ভালো লাগে না।জোর করে কি সাঁজগোজ করা যায় বলুন? যদি জানতাম আপনারা আমাকে দেখতে আসবেন তাহলে আমি আগে থেকেই ঘুমিয়ে থাকতাম।তারপর এসে দেখতেন আমি কেমন নাক ডাকি।বুঝছেন মি.?” আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না।আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল এক গুচ্ছ নীল পদ্ম আমার সামনে বকবক করছে আর তার জাদুকরি স্নিগ্ধতা আমার ভিতরটাকে নাড়া দিচ্ছে। আমি ইতস্তত করে বললাম “আপনার কথা গুলো খুব সুন্দর জেনিয়া।” ও একটু হাসলো। আমি ভরা চোখে সেই হাসির দিকে তাকিয়েছিলাম। তখন কি রকম অনুভুতি আামার ভিতর কাজ করছিল আমি জানি না। জেনিয়া বললো “শুধু কথা সুন্দর। আমি সুন্দর না?” আমি মাথা চুলকাই। অনুধাবন করি আমার মত ছাগলের কি এই কথা বলার সাহস আছে আপনার নয়নজোড়াতে এই মুহুর্তে বন্ধি হয়ে যাচ্ছি। এমন চমৎকার করে কেন আমার সাথে কথা বললেন জেনিয়া? আমি প্রায় ভাবি আমার একটা কথা বন্ধু হবে।আমি খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তার সাথে সারাদিন কথা বলবো। আপনি কি হবেন আমার কথা বন্ধু? আফসোস এই কথাগুলো আমি তাকে বলতে পারিনি।কি করে বলবো? আমি একটা নিরামিষ ছেলে।যেখানে বকবক করার আমার কথা আর জেনিয়া মাথা নিচু করে হ্যাঁ, হুম এই টাইপের প্রত্যুত্তর দেওয়ার কথা।জেনিয়া বারান্দার দিকে গিয়ে আমায় বললো “এদিকে আসুন।” আমি তার কাছে যেতেই ও বারান্দার গ্রিল ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো “জানেন জাহেদ সাহেব এই বারান্দাটা আমার খুব পছন্দের।আমার মনে যখন বিষন্নতা প্রবেশ করে আমি এই বারান্দায় বসে বিশাল আকাশের মাঝে নিজেকে তলিয়ে দিয়ে বিষন্নতা দুর করার চেষ্টা করি।আমার যদি বিয়ে হয়ে যায় এই বারান্দাটাকে খুব মিস করবো।”

আমি চুপ করে থাকি। সেও চুপ হয়ে গেল হঠাৎ করে।বুঝলাম এই বারান্দাটার জন্য তার মায়া হচ্ছে।আমি বললাম “আজকে আম্মা আমাকে নিজের রুমের ভিতর সারাদিন বন্ধি করে রেখেছে।অফিসে যেতে দেয়নি।আসলে সত্য বলতে কি এখানে আসার আমার ইচ্ছা ছিল না।কিন্তু এখন বুঝতে পারছি কি ভুলটাই না আমি করতে যাচ্ছিলাম।না আসলে শিশিরের এমন শিতল ছোয়া আর তার স্নিগ্ধতাকে নিজের ভিতরে কি করে জড়াতে পারতাম বলুন তো? আমি জানি না আপনি এখন কি ভাবছেন। কিন্তু এই মুহুর্তে আপনাকে আমার শুভ্রমাখা ভোরের শিশির মনে হচ্ছে।জানেন এমন শিশিরের মাঝে আমার চোখ দুটো ভিজাতে খুব ইচ্ছে করে।” জেনিয়া আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো তারপর বললো “আপনিও দেখছি খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারেন।” আমি মৃদু হাসি দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। জেনিয়া বললো “সন্ধ্যা হতে বেশিক্ষন নেই। আকাশ কেমন লালচে রুপ ধারন করেছে দেখুন। আকাশ এমন করে সাজলে আমার কেন যেন খুব গাইতে ইচ্ছে করে।আচ্ছা আপনার সাথে যদি আমার বিয়ে হয় আর বিয়ের পর যদি মাঝেমাঝে একটু গান গাই তাহলে কি আপনি রাগ করবেন?” এই কথার কি প্রত্যুত্তর দিব আমার জানা ছিল না। আমি শুধু চুপ করে অনুভব করছিলাম এমন একটা লাল রঙ্গা আকাশ প্রত্যেহ নিজের চোখে বন্ধি করতে এমন চমৎকার ভালোবাসার এক মানবী থাকা কি প্রয়োজন নয়? আকাশে লালচে রঙ্গের পৃথিবীর অদ্ভুত এক দৃশ্যের মাঝে জেনিয়া তাকিয়ে থেকে গুনগুন করতে লাগলো…

হারিয়ে গিয়েছি, এইতো জরুরী খবর
অবাক দু চোখে, ছায়া কাঁপে ভয়ে অভিমানে
হারিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই এখানে
হারাবো বলে, পা টিপে এগোতে গেলেই
গোটা শহর বাতি জ্বেলে সতর্ক
পায়ে পায়ে হারাবার জায়গা খুঁজে মরি…

গান শুনে আমার ভিতর একটা আশ্চর্য টাইপের অনুভুতি হলো।আমার মনে হলো ভালোবাসার একটা সমুদ্রের মধ্যে আমি পরে গেছি।এমন সমুদ্রের মাঝে হাবুডুবি খেতে ইচ্ছে করছে।আমার তাকানো দেখে জেনিয়া বললো “এমন করে তাকিয়ে আছেন কেন আশ্চর্য।ফ্রিতে গান শুনিয়েছি অন্তত ধন্যবাদ হলেও দিন জনাব।” আমি একটু হাসলাম। তারপর খুব গভীর হয়ে বললাম “আমি জানি না এই মুহুর্তে কোন অনুভূতিতে জড়াচ্ছি।আপনার মায়াকাড়া চোখের দিকে তাকিয়ে রাত্রির আকাশের রুপালি চাঁদের আলোর নিচে রোজ গান শুনতে ইচ্ছেটা বেড়ে গিয়েছে। এই ইচ্ছের অনুভুতিটা হঠাৎ করে কেন আমাকে আচ্ছন্ন করলো সেটাও বুঝতে পারছি না। এমন অনুভুতিটা সবসময়ের জন্য নিজের মধ্যে বন্ধি করে আমার দেয়ালের চারপাশে ছড়িয়ে একটা ভালোবাসার সাতরঙ্গা রং ধনু অঙ্কন করলে কি খুব খারাপ দেখাবে?।” জেনিয়া চুপ হয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো।তার চুপ হয়ে যাওয়া দেখে তার চোখের মাঝে একটা লজ্জা লজ্জা ভাব আচ করতে পেরেছিলাম। আমি কি বলতে চেয়েছি জেনিয়া নিশ্চয় বুঝতে পেরেছিল। তারপর সে পরিস্তিতি স্বাভাবিক করে বললো “চলুন যাওয়া যাক অনেক কথা বলেছি।”

পুকুর বা দিঘীর কাছে আসলে আমার কেমন যেন একটা ভয় ভয় কাজ করে। এই ভয়ের কারনটা হচ্ছে আমি সাতার জানি না। কি ভয়ানক ব্যাপার এই বিষয়টা কাউকে বলতে গেলেও লজ্জা লাগে।সকালের দিকে যখন জেনিয়াকে ফোন দিয়ে টুকটাক কথা বলতে বলতে বললাম “আজ তো অফিস ছুটি আমার।জেনিয়া আপনার সাথে বিকেলে কফি খাওয়ার সুযোগটা কি পেতে পারি? আজকের আবহাওয়াটা অনেক সুন্দর। এমন সুন্দর আবহাওয়াটা হাতছাড়া করতে মন সায় দিচ্ছে না।” ও প্রত্যুত্তর দিল “জ্বি না জনাব, বিয়ের আগে আপনার সাথে কোথাও বের হচ্ছি না।জানেন জাহেদ সাহেব আমরা মানুষেরা অপেক্ষাকে একটু সময় নিয়ে গ্রহন করতে পারি না।আমাদের মানুষের ধের্য্য শক্তি খুব কম।এই অপক্ষার অনুভূতি আমাদের মাথার উপর যে একটা নীল আকাশ আছে তার মত বিশাল। কিন্তু এই বিশালত্ব আকাশটাকে কেউ কি গভীরভাবে উপলব্দি করেছে? এই অনুভূতিটা যে আমাদের মানুষের ভিতরটাকে একেবারে নাড়িয়ে দিতে পারে।” আমি তখন চুপ করে অনুভব করছিলাম এমন মায়ামাখানো শব্দ দিয়ে কিভাবে কথা বলে মেয়েটা? এই মায়ামাখানো শব্দ দিয়ে আমার একটা স্বপ্ন আঁকতে ইচ্ছে করে।যদিও সে রাজি হয়নি। কিন্তু দুপুরের দিকে সে নিজেই ফোন দিয়ে বললো “শুভ্র মাখানো অনুভূতির স্পর্শে মানুষ কিভাবে কেপে উঠে তা আজ আপনাকে উপলব্দি করাবো।

পারবেন তো?” আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম “এমন অনুভূতি স্পর্শ করতে পারলে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হবে। এই সুযোগ কি করে হাতছাড়া করি বলুন তো?” আমি এখন জেনিয়ার সাথে এই বিকেল বেলার শেষ মুহুর্তে অনুভূতি উপলব্দি করতে আসছি। পুকুরের পানির দিকে আমার এমন তাকানো দেখে জেনিয়া বললো “এই যে আপনি কি ভাবছেন? জুতো খুলে আমার মত পা ডুবিয়ে রাখেন পানিতে।তারপর এই জল স্পর্শকে অনুভব করুন।পুকুরে পা ডুবিয়ে রাখার মাঝেও একটা অনুভুতি আছে।” আমি চুপ করে ওর কথা মত জুতো খুলে পা ডুবাই পানিতে। তাকে দেখতে যাওয়ার পরদিনই আম্মাকে বলেছিলাম “অফিসে কাজের চাপ বাড়ছে। সামনে আরও বাড়বে।তাই দ্রুত বিয়ের কাজটা সমাপ্ত করো।” আম্মা অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো “ওই কি বুঝাতে চাচ্ছিস?” আমি কিছু বলিনি।আমি কিছু না বললেও আম্মা ঠিকি বুঝতে পেরেছিল কি বলতে চেয়েছিলাম।জেনিয়া পানিতে পা নাড়াচড়া করতে থাকে।এই নাড়াচড়ার জলস্পর্শের শব্দ আমার ভিতরে একটা ভালো লাগার মোহ কাজ করে।আমি কখনো ভাবিনি এতোটা চঞ্চল আর চমৎকার একটা মেয়ের সাথে আমার দেখা হবে।সে যেভাবে কথা বলে যেন তার সাথে কত আগের পরিচয় আমার সাথে। সে আকাশের দিকে তাকিয়েই বললো “এমন করে কি দেখেন হ্যাঁ। নজর লাগবে তো।” আমি হাসি দিয়ে বললাম “আমার নজর একটু লাগতেই তো পারে তাই না? একটু নজর লাগলে খুব কি বেশি ক্ষতি হবে?” এবার সে আমার দিকে তাকায় তারপর বললো “জ্বি না জনাব, আমি এখনো আপনার বউ হইনি।আচ্ছা এই কয়দিনে তো আপনাকে এটা কখনো বলা হয়নি, আপনি কখনো প্রেম করেননি?” আমি হাসতে হাসতে বললাম “আমার মত ভ্যাবলার সাথে কে প্রেম করবে বলুন তো?এই দেখুন না আপনার সাথে এখানে এসেও কেমন চুপচাপ টাইপের আচরণ করছি।আমার সাথে কি প্রেম করা যায়?” আমার কথা শুনে সে হাসতে লাগলো। আমি এই হাসির মাঝে তাকিয়ে থাকি।এই শুভ্রমাখানো হাসির শব্দটা আমার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে একটা ভয়ানক আলোড়ন তৈরি করে।এই আলোড়নের শিকর স্বপ্নের আলোতে পৌছায়।যে স্বপ্নতে ভালোবাসার নীল পদ্মকে আমি অনুভব করি।এই স্বপ্নের নাম পদ্মমাখানো জেনিয়া।

ওর সাথে সময় কাটাতে কাটাতে যখন সন্ধ্যার আলোকচ্ছটা এই শহরের বুকে নেমে পড়লো আমি তখন ওর পাশাপাশি হাটি।হাটতে হাটতে হঠাৎ করেই আমার একটা অদ্ভুত সাহসের কাজ করতে ইচ্ছে জাগলো। ওর আঙ্গুলটা ছোয়ার চেষ্টা করতে। কিন্তু মনের ভিতর ভয়টা এসে আবার ঢুকে পড়লো। জেনিয়া হাটতে হাটতেই বললো “কি বৃথা হয়েছেন? আমি একটা ছেলে হলে না, আজ আমার চার পাঁচটা গার্লফ্রেন্ড থাকতো বুঝছেন?” এটা বলেই ও একটু হাসলো।কিন্তু আমার মনের ভিতরে একটু লজ্জিতবোধ অনুভব করলাম। এই রকম সাহসের চেষ্টা করা আমার একদম উচিৎ হয়নি।আমি পরিস্থিতির আকস্মিকতায় নিজেকে স্বাভাবিক করে বললাম “এই সাহসটা জমা থাকলো।বিয়ের পর কিন্তু এই হাত ছাড়ছি না।” আমার কথা শুনে জেনিয়া হাটা বন্ধ করে আমার দিকে চুপ করে তাকিয়ে থাকলো।তার কিছুক্ষন পর একটু সময় নিয়ে ইতস্তত হয়ে খুব গভীর ভাবে বললো “আমার মাঝে আপনার স্বপ্ন আঁকতে পারবেন? আমার যখন মন খারাপ হবে আমি তখন এই আঁকা স্বপ্নের মাঝে মিশে ভালোবাসার কাব্য তৈরি করবো।” আমি কি বলবো বুঝতে পারি না। আমি শুধু ওর নয়নজোড়াতে তাকিয়ে থাকলাম। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে একটা অদেখা ভালোবাসার স্বর্গ আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

অফিসে এসে নিজের ডেস্কে বসতেই আফসার ভাই এসে ইতস্তত করে বললো “শুনেছি বিয়ের জন্য নাকি মেয়ে দেখে আসলা?” আমি একটু অবাক হয়ে উনার দিকে তাকাতেই উনি আবার বললেন “আহা, চেহারা এমন করতেছো কেন? এসব বিষয় কি চাপা থাকে?” আমি বললাম “হ্যাঁ যা শুনেছেন সত্য।কি করবো বলুন। আব্বা আম্মা বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লাগছে।কিন্তু এসব জানলেন কিভাবে?” উনি দু হাতে জোরে একটা তালি মেরে বললেন “আহা আমি জানলাম কিভাবে সেটা বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে মেয়ে দেখতে কেমন?” আমি উনার কথা শুনে হাসি।এই মানুষটা অনেক মিশুক টাইপের।আমার প্রায় মনে হয় প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে এই রকম একটা করে মানুষ আছে। যারা অন্য কলিগদের সাথে মিশে একটা অনুভুতি তৈরি করে জায়গা দখল করে। আমি বললাম “আফসার ভাই, মেয়ে দেখতে মা শা আল্লাহ। নাম জেনিয়া। তবে সমস্যা হচ্ছে মেয়ে ঘুমের মাঝে নাক ডাকে।” উনি কথাটা শুনেই ভ্রু কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন “তুমি স্ব চোক্ষে দেখছো?” আমি মাথা নেড়ে না সূচক ইশারা দেই। আফসার ভাই আবার বললেন “ঘটনা ক্লিয়ার। নাক ডাকাডাকি সেটা বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে মেয়ের অন্য কারো সাথে লাইন আছে।তাই মিথ্যে বলে বিয়ে ভাঙ্গার জন্য বা তুমি যেন তাকে অপছ্ন্দ করো এগুলা বলতেছে।খুব সাবধান।” আমি চুপ করে থাকি। কিছু বলিনা। তখনি বিথি অফিসে এসে তার ডেস্কে বসতে বসতে বললো “কার যেন বিয়ে ভাঙ্গার কথা শুনলাম” আমি চুপ করে থাকি। আফসার ভাই বিথির আওয়াজ শুনে বিথির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে ইশারা করে বললো “হাই বিথি। আরে আমাদের জাহেদের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখছে।মেয়ে বলছে, মেয়ে নাকি ঘুমের মাঝে নাক ডাকে।আচ্ছা বলো এই রকম একটা কথা মেয়ে কেন বলবে? আমার তো মনে হয় মেয়ে অন্যজনকে ভালোবাসে।” বিথি তার ডেস্কের উপরের ফাইলটা অন্যপাশে রেখে বললো “আফসার ভাই আপনি একটু বেশি বুঝেন।জাহেদ ভাইয়া উনার কথায় কান দিবেন না” আমি কি বলবো বুঝতে পারি না।

আফসার ভাই বললেন “আহা আমি বেশি বুঝি সেটা বড় কথা না।বড় কথা হচ্ছে একটি ভুল সিদ্ধান্তে বিয়ে মানে সারা জীবনের কান্না।” বিথি চোখ বড় বড় করে বললো “এই কথা আপনাকে কে বলেছে? দেবের কি যেন একটা সিনেমা আছে না।ওই খানে একটা মাতাল আছে ওটার ভুত আপনার ঘাড়ে চাপছে।” আমি বললাম “আফসার ভাই, বিয়েটা আমার। আমি না হয় ভাববো এটা নিয়ে।” আফসার ভাই আমার দিকে তাকিয়ে একটু চুপ করে থাকলো। তারপর বিথির দিকে তাকিয়ে বললো “রাগতেছো কেন? আচ্ছা জাহেদের বিয়ে জাহেদ ভাববে। কিন্তু সেটা বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে তুমি আজকে শাড়ি পড়ে আসছো খুব সুন্দর লাগছে।মাঝে মাঝে শাড়ি পড়ে আসতেই পারো।” আমি হাসি উনার কথা শুনে।বিথি কোমড়ে দু হাত রেখে বললো “ভাবীর নাম্বার কিন্তু আমার কাছে আছে।ফোন দিব? আফসার ভাই কথাটা শুনে মুখ গোমড়া করে নিচের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে হেটে গিয়ে তার ডেস্কে বসতে বসতে বললো “ফোন দিবা সেটা বড় কথা না।বড় কথা হচ্ছে সব সময় কথার মাঝে আমার বউ এর প্রসঙ্গ টান দাও কেন?জানোই তো বউকে ভয় লাগে।এমনি এমনিই কি বলি একটি বিয়ে মানে সারা জীবনের কান্না।” বিথি হাসতে লাগলো। আমার হাসি আসলেও কেন যেন আমার হাসতে ইচ্ছে করলো না। আমি জেনিয়ার কথা ভাবি। এই কয়দিনে এই মায়াকাড়া মেয়েটার সাথে যত কথা বলেছি যত মিশেছি আামার তো এমনটা মনে হয়নি।কিন্তু তারপরও আফসার ভাই এর এমন কথা শুনে আমার ভিতরটা এমন ধক করে কেন উঠলো?

ছাদে রাত্রির আকাশের দিকে তাকিয়ে পায়চারি করতে করতে বিশাল আকাশটার বুকে ছোট্ট চাঁদটাকে দেখে মনে হলো চাঁদটা কত অসহায়।এমন অসহায় চাঁদটার জন্য আমার কেন যেন মায়া হয়।তারপরই একটা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে মনে কত প্রশ্ন নিয়ে জেনিয়াকে ফোন দিলাম।কিন্তু এই প্রশ্ন কি আমি করতে পারবো জানি না। সে রিসিভ করেই বললো “আমাকে নিয়ে ভাবছেন বুঝি? ভাবতেই ভাবতেই ফোন দিলেন তাই না?” আমি একটু স্বাভাবিক ভাবেই বললাম “কি করে বুঝলেন?” সে প্রত্যুত্তর দিলো “বারে আমার কথা মনে পড়েছে বলেই তো আমাকে ফোন দিয়েছেন। এতে না বুঝার কি আছে?” আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে হুম নামক শব্দ উচ্চারন করি। আমার এমন হুম করা শব্দ শুনে জেনিয়া বললো “আপনার কি মন খারাপ? বা কোন কিছু নিয়ে চিন্তিত? না মানে কেমন ফ্যাকাশে ফ্যাকাশে টাইপের কথা বলছেন। আবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন।” আমি কি প্রত্যূত্তর দিব বুঝতে পারি না।আচ্ছা ওকে কি আমার একবার জিজ্ঞেস করা উচিৎ জেনিয়া আপানার জীবনে কি কেউ ছিল? আমার চুপ থাকা শুনে জেনিয়া বললো “চুপ করে আছেন যে? আমাকে কি কিছু বলতে চান? মনের সংকোচের জন্য কিছু বলতে পারছেন না। আপনি তো আবার নিরামিষ ছেলে। তাই বলতে না পারাতে চুপ করে আছেন।” কথাগুলো শুনে আমি একটু অবাক হলাম।কি করে এই মেয়েটা আমার মনের কথা গুলা বুঝে ফেলছে। আমি বললাম “না না এমন কিছু না।” সে বললো “আচ্ছা এতোদিন তো আমাদের কথা হলো। আমার সম্পর্কে আপনার জানতে ইচ্ছে করে না?”

আমি বললাম “কি জানবো? সে বলে “এই ধরুন আমার কি করতে ভালো লাগে।কি খেতে ভালো লাগে।কি করলে আমি রেগে যাই।” আমি কিছুক্ষন চুপ করে রইলাম।কিন্তু ঠিকঠাক মত প্রশ্ন না করে বললাম “আপনি কি কাউকে ভালবাসতেন?” আমার কথা শুনে সে ঝিম মেরে যায় যা আমি এপাশ থেকে বুঝতে পারছি।আমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বললাম “কি হলো। এমনি বললাম।” কিন্তু জেনিয়া বললো “হঠাৎ এই কথা কেন জিজ্ঞেস করলেন জাহেদ সাহেব?” আমি কি বলবো বুঝতে পারি না। স্বাভাবিক ভাবেই একটা হাসি দিয়ে বললাম “আরে বাবা এমনি বলেছি। আপনি এখন কোথায় বলুন তো।আমি এখন বিশাল আকাশটার নিচে। একা চাঁদটা আমার মাথার উপর তার রুপালি আলো নিয়ে জ্বলে আছে।” সে কিছু্ক্ষন চুপ করে থেকে বললো “কাউকে ভালোবাসতাম এই কথাটা শুনার পর আমার ভিতরটা কেমন করে যেন উঠেছে। এমন কথা কেন মনে করিয়ে দিলেন? ভালোবাসার মাঝে একটা অদ্ভুত শক্তি আছে জানেন। আপনি এখন যে রুপালি চাঁদের আলোর কথা বলেছেন ভালোবাসা আমাদের ইন্দ্রজালে এমন হাজার হাজার রুপালি চাঁদের আলো তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই রুপালি চাঁদের আলোর সৌন্দর্য্যটা আমরা ঠিক ভাবে অনুভব করতে পারি না জাহেদ সাহেব।” এটা বলেই জেনিয়া একটু থামলো। আমি মাথার উপর বিশাল আকাশটার দিকে তাকাই।চারপাশটা কেমন নিরব হয়ে আছে।তার এমন মায়ামায়া কথার কি প্রত্যুত্তর দেওয়া উচিৎ আমি কিছু বুঝতে পারি না। জেনিয়া ওপাশ থেকে খুব গভীর হয়ে বললো “আমি তখন কলেজে পড়তাম।আমার সাথেই পড়তো ছেলেটা। ছেলেটা খুব সুন্দর ছবি আঁকতে পারে। তার আঁকা ছবির মাঝে একটা কিছু আছে যা মানুষের মনকে গভীর ভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে।আমার সাথে অল্প স্বল্প কথা হতো। ফারাজ ওর নাম।

একটা সময় ও নিজেই আমার খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করলো আমাদের কথার মাত্রা বাড়তে লাগলো। আমি খানিকটা অবাক হয়েছিলাম হঠাৎ ওর এরকম আচরণে। ওর বাসা অন্য পথে হলেও সে বাসে করে আমার সাথে আসতো। একদিন আমি বলেছিলাম “তোমার বাসা তো এদিকে না। কেন আসো তুমি আমার সাথে? সে একটা হাসি দিয়ে বলেছিল “তুমি বুঝবা না।” আমি চুপ করে ছিলাম। বুঝলাম ফারাজ হয়তো আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু এই বুঝার ধারনাটা ভুল ছিল আমি জানতাম না।” সে আবার থামে। আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললাম “ছেলেটাকে কিভাবে হারালেন?” সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো “ফারাজকে হারায়নি ।আমি নিজেই হারিয়ে গিয়েছিলাম একটা ভুল পথে। আমাদের দিন গুলো ওভাবেই চলছিল।তার এই ভাবে চলার কারনটা আমি ধরে নিয়েছিলাম আমাকে ভালো লাগে কিন্তু সে মুখ ফুটে বলতে পারছে না। আমি ভাবলাম আমি না হয় বলি। কিন্তু আমি বলতে পারতাম না।কথা গুলো ভিতরেই আটকে থাকতো। একদিন সত্যি সত্যি আমার ভালো লাগার কথা জানালাম। সে শুনে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বললো “আবার একটু বলবে?” আমি লজ্জা পাই। এই লজ্জাকে উপেক্ষা করে বললাম “আমার সাত রঙ্গা রঙ ধনু হবে?” সে ইতস্তত হয়ে খুব গভীর ভাবে বললো “এই কথা গুলো কলেজের সবার সামনে বলতে পারবে জেনিয়া?” আমি খানিকটা পুলকিত অনুভব করে বললাম “সবাইকে কেন বলতে হবে। সবাইকে জানিয়ে তো তোমার প্রতি আমার ভালো লাগা জন্মাইনি ফারাজ। কিন্তু তারপরও আমি সবার সামনে এই ভালো লাগার বিষয়টা বলেছিলাম।

আমার জন্য যে একটা ভয়ংকর কষ্ট অপেক্ষা করছিল কে জানতো। আমার কথাটা বলার পরই ফারাজ হাসতে হাসতে সবাইকে বললো “বাজিতে জিতে গিয়েছি দেখলি তো? বলছিলাম না ও আমার প্রেমে পড়বে। অভিনয় কিভাবে করতে হয় শিখে নে তোরা।ছবি আঁকা ছাড়া যে আমার আরেকটা গুন আছে এবার বুঝলি তো।?” এটা শুধু একটা বাজি ছিল জাহেদ সাহেব আর কিছুই না। এই রকম মিথ্যে কিছু অনুভুতিতে হারিয়ে গিয়ে একটা ভয়ংকর কালো ছায়া আমাকে ঘিরে ফেলেছিল।একসময় নিজেকে অনেক বোকা মনে হলো। এই সামান্য চাওয়া পাওয়ার অনুভূতিটা বিষাদ নীল হয়ে আমাকে ক্রমশ তাড়া করতে লাগলো। কেন যেন ফারাজের প্রতি আমি একটু রাগ দেখাইনি। আমার জীবনে এটা ভালোবাসা ছিল কিনা আমি জানি না। তবে এই ভয়ংকার ঘটনাটা ঘটার পর দ্বিতীয়বার আমার মনে কারও প্রতি ভালো লাগা তৈরি হতে ইচ্ছে হয়নি। একটা সময় এটাকে আমি শুধু মাত্র একটা স্বপ্ন ভেবে ভুলে গেলাম। কেন এই বাজে একটা স্বপ্নকে আমি মনে করতে যাবো বলুন? কেন এই বাজে স্বপ্নের কথা আমি কাউকে বলতে যাবো? সিদ্ধান্ত নিলাম বাবা মা যার সাথেই বিয়েই দিবে তাকেই আমার রং ধনুর মত চাইবো।”এটাই বলেই ও আবার থামলো। এই মুহুর্তে আমার কি বলা উচিৎ আমি জানি না। আমি চুপ করে রইলাম। আমার চুপ থাকা দেখে জেনিয়া বললো “ভালো লাগছে না জাহেদ সাহেব।মাথাটা ধরেছে হঠাৎ করে। ভালো থাকবেন শুভ রাত্রি।” জেনিয়া ফোনটা রেখে দেয়। আমি চুপ করে আকশটার দিকে তাকিয়ে থাকি। অনুধাবন করি আমি কেমন করে এমন ভালোবাসার চমৎকার মানবীর মন খারাপ করে দিতে পারলাম? কাজটা কি আমার ঠিক হয়নি, একদম না।

আমি নিঃশব্দে এই ভর দুপুরে অভার ব্রীজের রেলিং দু হাতে ধরে জরাজীর্ণ শহরটার আঁকা বাকা রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি। আজ অফিস থেকে দুপুর বেলাই বের হয়ে গিয়েছি। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জেনিয়ার কথা ভাবি। গতকাল রাত থেকেই আমার কেন যেন খুব খারাপ লাগছে মেয়েটার জন্য।গভীর রাতে আমার যখন ঘুম ভেঙ্গে গেলো খুব ইচ্ছে করছিলো ওকে ফোন দিয়ে বলতে আমি খুব দুঃখিত জেনিয়া আপনার মন খারাপ করে দেওয়ার জন্য।কিন্তু এতো রাতে এই কথা বলার সাহস ছিল না আমার। ভালোবাসা নামক এই জিনিসটায় কি এমন আছে যা মানুষের ভিতরটাকে শেষ করে দিতে পারে? এমন ভালোবাসাকে আমার ভয়ংকর ভয় লাগে।

সন্ধ্যে বেলা আমি একটা সাহসের কাজ করলাম। এই কাজটা করতে আমার কেন ইচ্ছে হলো আমি নিজেও জানি না।আমি শুধু এইটুকু অনুভব করছিলাম এই চমৎকার মানবীকে আমি ভালোবাসতে শুরু করেছি। ভালোবাসার কথা ভালোবাসার মানুষের নয়নে নয়ন রেখে বলতে হয়।ওর বাসার নিচে গিয়ে ফোন দিয়ে বললাম “একটু নিচে আসবেন? আমি আপনাদের বাড়ির গেইটের সামনে আছি।” ও আমার এমন কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ করে রইলো। তারপর বারান্দায় এসে গ্রিল দিয়ে আমাকে দেখলো। আমাকে ফোনে বললো “হঠাৎ এখানে?” আমি খুব ইতস্তত হয়ে বললাম “এই সন্ধ্যে বেলায় আমার রং ধনু দেখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সন্ধ্যে বেলা কি রং ধনু উঠে? আমি জানি আপনার নয়নজোড়াতে আপনার সাত রঙ্গা রং ধনু লুকিয়ে আছে। আকাশের সাত রঙ্গা রং ধনু দেখার আমার ইচ্ছে নেই।আমি আপনার সাত রঙ্গা রং ধনুকে অনুভব করতে চাই। এই সুযোগটা কি দিবেন?”

সে আবার চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমি জানি এই কথাগুলা আমার বলা একদম মানায়নি।কিন্তু আমার বদ্ধ এই মনের ভিতর যে সুর বইছে সেই সুরে এমন কথা বলাতে আমার কেন যেন একটুও লজ্জা লাগেনি। সন্ধ্যে বেলার রাস্তার ল্যাম্পোস্টের কমলা হলুদ রঙ এর আলোর মাঝে জেনিয়া একটা চাঁদর গায়ে জড়িয়ে আমার পাশে হাটছে।এই মেয়েটাকে আমার এখন কি বলা উচিৎ বুঝতে পারছি না। “আমি বললাম “একটু একটু ঠান্ডা লাগছে। শীত চলে আসছে তাই না। আপনার শীত ভালো লাগে?” সে আমার দিকে একটু তাকিয়ে আবার হাটতে লাগলো। আমি হাটতে হাটতেই ভাবি ওকে আর কি বলা যায়।যেই আমি কিছু বলতে যাবো সে হাটা থামিয়ে কাঁদতে লাগলো। আমি তার দুচোখে জল দেখি। আমি কি বলবো বুঝতে পারি না। সে আমাকে বললো “আমাকে এমন করে ভয়ংকর ভালোবাসার কথা গুলো কেন বললেন জাহেদ সাহেব?” আমি তার চোখে জলের দিকে তাকিয়ে বললাম “আমি আপনার চোখে জল দেখতে আসিনি জেনিয়া।আমি আপনার চোখে ভালোবাসার সাত রঙ্গা রং ধনু দেখতে এসেছি।” সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমিও চুপ করে তাকিয়ে আর একটা সাহসের কাজ করলাম তার দুচোখের জল মুছে দিয়ে আমার ভালোবাসার সাত রঙ্গা রং ধনুর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমার এই ভালোবাসার সাত রঙ্গা রং ধনুর মাঝে ঝকঝকে নীল আকাশ আর ভালোবাসার একটা নতুন কৃষ্ণচূঁড়া ফুল দেখতে পাচ্ছি…

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত