হুররে হু

হুররে হু

-ঐ ঐ থাম।
এই শব্দে শিশিরের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। অনিন্দ্য রীতিমত ঘুমাচ্ছে। সাথে যুক্ত আছে বিশ্রী নাক ডাকার শব্দ।এখন আবার বিড় বিড় করে কি যেন বলছে? কি স্বপ্ন দেখছে,কে জানে? শিশিরের রাগ ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। অনিন্দ্যকে হাত দিয়ে নাড়া দিল।
-জান,প্লীজ জান,আর কিছুক্ষণ থাক।
এই বলতে বলতে অনিন্দ্য শিশিরের হাতটা বুকে টেনে নিল। শিশিরের ইচ্ছে করল,চট করে গালে থাপ্পড় মারতে। হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে এক বালতি জল নিয়ে এল।

-জান,হাত ছাড়লে কেন? প্লীজ জান,হাতটা একবার ধর।
-এই যে জান,হাতটা ধর।
এই বলে পুরো বালতি জল গবগব করে ঢেলে দিল। সাথে সাথেই তার বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ল। অনিন্দ্য একেবারে চমকে উঠল।এত জল কিভাবে আসল,বুঝতে পারল না।জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। একেবারে ফকফকে ঝকঝকে আকাশ।
-শিশির,এই শিশির।

কয়েকবার হাত দিয়ে নাড়া দিল।শিশির এমন ভাব করছে যেন প্রচণ্ড ঘুমের ভিতর এখন। অথচ তার পেটফেটে যেন হাসি বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড ঘুমের ভাব আর তার সাথে হাসি চেপে রাখা যে বেশ দুরূহ কাজ,তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
-এই বান্দর উঠ।

এইবার শিশির বিছানা হতে উঠে বসল।চোখ খুললই না। ঝিমাতে ঝিমাতে বলল-কি রে এমন ষাঁড়ের মত চেঁচাচ্ছিস কেন?
-এই তুই আমার উপর জল ঢেলে দিয়েছিস কেন?
এইবার অনিন্দ্যের দিকে তাকায়।বিস্মিত হয়ে বলল-এ কী? এভাবে ভিজে দারিয়ে কেন?বুঝেছি,আজকেও শ্যাম্পু নেই।ড্রয়ারে দেখ,আছে।
-আমি তোর কাছে শ্যাম্পু চেয়েছি?
-বুঝে গেছি,সাবান শেষ হয়ে গেছে। আমার কেসটা বিছানার নিচে।
-ভং মারা ছাড়বি।
-আরে বাবা,ভং মারছি মানে?
-জল ঢেলে মনে করছ,টের পাব না। শালা বাটপার।
-মাইরি বলছি। আমি ঢালিনি।
-তাহলে ভূত এসে জল ঢেলে দিয়ে গেল।
-তাই হবে বোধহয়।তোকেতো সেদিনের ঘটনা বলাই হয় নি।

অনিন্দ্য এবার কিছুটা হকচকিয়ে যায়।
-সেদিন টিভি দেখছি,হঠাৎ করে দেখি একটা বাঘ আমার সামনে দাড়িয়ে। এই বুঝি আমার ঘাড় মটকে দিবে। এরপর দেখি বাঘ আমার সামনে নেই। বাঘটা কুকুর হয়ে গেছে।
এই বলে অনিন্দ্যর দিকে তাকাল। চোখে মুখে ভয়ের আভাস দেখা যাচ্ছে।
–থামলি কেন,থামলি কেন,এরপর কি হল?
থতমত খেয়ে অনিন্দ্য বলল।
-এরপর কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করতে লাগল। তারপর আরও ভয়ানক অবস্থা। দেখি কুকুর আর নেই।সামনে মস্তবড় সাপ।
-এ কি বলছিস?
-অজগর হবে বোধহয়।সে কি মস্তবড় মাথা?আর পেটটা,আমাকে আস্ত গিলে ফেলতেও কোন সমস্যা হবে না। প্রচণ্ড ভয় করছে।আমি কাপছি।
-এরপর কি হল?
-হঠাৎ মনে হল,এইসব ভূতের কর্মকাণ্ড। ছোটবেলায় শুনেছি,ভূতরা আগুন দেখে খুব ভয় পায়। তাই ম্যাচের কাঠি জ্বালালাম।
-আর ভূত চলে গেল।
-ঠিক তাই। এরপর হতে বালিশের নিচে সবসময় ম্যাচ রাখি।

এই বলে বালিশের নিচ হতে একটা ম্যাচ বের করে দেখায়। আর অনিন্দ্য সাথে সাথেই এক বালতি জল ঢেলে দিয়ে বলতে থাকে-শালা চাপাবাজ। চাপাটাও ভালভাবে মারতে পারস না। আরে গল্প বলতে শুরু করিছিস,এমনভাবে বলছিস যেন এটা খুব মজার ঘটনা,মীরাক্কেলের জোক্স,শুনলেই হি হি করে হাসি পাবে। ম্যান এইভাবে হয় না,জাস্ট এইভাবে না।
আনন্দ করুণ দৃষ্টিতে তাকায়। বলে-তাই?
-আরে গাধা উঠ,অনেক হয়েছে,এবার একসাথে গোসল করব। বল-হুররে হু।
দুইজনে হুররে হু হুররে হু বলতে বলতে……

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত