দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ

দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ

সুবীর রায়।মাথায় উসকোখুসকো চুল।সিগারেট ধরাতে ধরাতে একটা দৃশ্য দেখে থমকে দাড়ায়।একটা মেয়ে একটা ছেলে হাত ধরে পাশাপাশি হেটে যাচ্ছে।হেসে হেসে।তার নন্দিনীর কথা মনে পড়ে।কেমন আছে মেয়েটা?কে জানে?প্রায় বছর দেড়েক হল মেয়েটার কোন খোজখবর নেই।মোবাইলে নাম্বার ছিল।সেটা আর খোলা নেই।বিরক্ত হয়ে অন্য সিম লাগিয়ে নিয়েছে।সুবীর এমন সময় একটা মেয়ে দেখে থমকে যায়।মেয়েটা তার দিকেই আসছে।খুব পরিচিত পরিচিত লাগছে।তার বুকটা ধক ধক করতে থাকে।বুকটা ধক ধক করছে কেন,বুঝতে পারছে না।মেয়েটা হাত ধরে বলে-এ যে সুবীর দা?
সুবীর বিস্মিত হয়ে যায়।যে হাত ধরেছে সে অন্য কেউ নয়।তার নন্দিনী।
-এমনভাবে হা হয়ে তাকিয়ে আছেন কেন?
সুবীরের বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না।
-কি কথা বলবেন না আমার সাথে?
সুবীর মৃদু গলায় বলে-বুঝতে পারছি না?
-কি?
-এসব কি হচ্ছে?
-কি হচ্ছে মানে?
-আমি কি স্বপ্ন দেখছি।
-না জনাব,আপনি একটি রক্ত মাংসের মেয়ের হাত ধরে বসে আছেন।

সুবীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে নন্দিনীর দিকে বড় বড় করে তাকায়।তার মাথা ঠিক আছে কিনা,বুঝতে পারে না।
-কি হল,এমন এমন বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন কেন?
-না,আমি বুঝতে পারছি না,আমার মাথা কি পুরোপুরি গেছে নাকি কিছুটা আছে?
-আপনার মাথা যাবে কেন?
-তোমার সাথে দেখা হল।সাথে সাথেই এসেই তুমি আবার হাত ধরলে।এমন তো তুমি কখনো করতে না।
-আমার হাতটা ধরেন।সব দূর হয়ে যাবে।

নন্দিনী হাতটা এগিয়ে দিল।সুবীর হাতটা ধরল না।নন্দিনী গায়ের সাথে গা লাগিয়ে দিয়ে হাতটা ধরল।সুবীরের শরীর দিয়ে কেমন জানি একটা স্রোত বহে গেল।আকাশের দিকে তাকাল।অসাধারণ লাগছে আকাশটা।হঠাৎ করে আকাশটা এত ভাল লাগছে কেন,বুঝতে পারল না।তারা দুজন পাশাপাশশি হাটতে থাকে।
-দাদা এখন আমরা বৃষ্টিতে ভিজব।নাচানাচি করব।
-একেবারে ঝকঝকে চকচকে আকাশ।এ আশা তোমার মিটবে না।
এ কথা বলার সাথে সাথেই ঝপঝপ করে বৃষ্টি পড়তে থাকে।সুবীর অবাক হয়ে যায়।নন্দিনী নাচতে থাকে।গান বাজতে থাকে-
এমন যদি হত
আমি পাখির মত
উড়ে উড়ে বেড়ায় সারাক্ষণ।
বৃক্ষতলে শুয়ে তোমার দুঃখ শুয়ে
ঘুম আসে না,ঘুম আসে না……।
এ গানটা সুবীরের খুব পছন্দ।নন্দিনী কিভাবে বুঝল,এ গানই তার পছন্দ।
-এই কি হল?

সুবীরও গানের তালে নাচতে শুরু করে।ভিজে ভিজে ঝপঝপে হয়ে গেছে।রাস্তার পাশে এক গাছের নিচে দুজনে বসে।সুবীর নন্দিনীর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়।নন্দিনীকে দেখতে কি যে ভাল লাগছে,ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।সুবীর হেসে বলে-এখন কি করি বলতো?দুজনে তো ভিজে একাকার।
-কি আর করব?সারাদিন এই ভিজা ড্রেসেই দুজনে ঘুরে বেড়াব।
-পাগল নাকি,তোমার শরীর খারাপ করবে।
-করলে করবে।

এই বলে নন্দিনী হাসতে থাকে।হাসছে কেন,বুঝতে পারল না।তখন দেখল তার ড্রেজ আর ভিজা নেই।নন্দিনীর দিকে তাকাল।নন্দিনীরটাও না।অথচ বৃষ্টি এখনো হচ্ছে।এ অবস্থায় পোশাক কিভাবে শুকাল,মাথায় কিছু ঢুকছে না।
-এসব কি হচ্ছে?
-কি?
-পোশাক শুকাল কিভাবে?
-আমি চেয়েছি,তাই শুকিয়েছে।
-এর মানে কি?
-এখন আমি যা চাই তাই হয়।
-কিভাবে সম্ভব?
-জানি না,শুধু এটুকু জানি,যা চাই তাই হবে।
-তোমার নাম্বারটা বল।বছর দেড়েক ধরে তোমার সাথে কথা বলতে পারি না।কত কষ্টে গেছে দিনগুলো,বুঝতে পার?
নন্দিনী খুব সহজ গলায় বলল-না জনাব।আমিতো মোবাইল ব্যবহার করি না।
-তাহলে গান বাজল কিভাবে?
-আমি চেয়েছি তাই হয়েছে।
-এ গানটা বাজল কেন?
-কারণ গানটা তোমার খুব পছন্দ।
-তোমাকে একটা মোবাইল কিনে দিব।তোমার সাথে আর কথা না বলে একদিন থাকতে চাই না।

নন্দিনী হেসে বলে-আচ্ছা দিও।চল এবার আমরা আকাশে উড়ব।
সুবীর কিছু বুঝার আগেই দুজনে উড়তে থাকে।তাদের পাশ দিয়েই একঝাক টিয়া পাখি উড়ছে।নন্দিনী হাত দিয়ে একটি টিয়া ধরে।
-দাদা,ধরে দেখ।খুব মজা।
সুবীরও ধরে।পাখিটা বেশ ছটফট করছে।দুজনে মেঘের উপর দাড়ায়।
-এখানে আমাদের ঘর হলে কেমন হবে?
সুবীর হেসে বলে-খুব ভাল হবে।

আনন্দে নন্দিনী মেঘের উপর নাচতে থাকে।মেয়েটা এত সুন্দর নাচতে পারে,আগে জানতো না।
-দাদা,ঠিক প্রায় দেড়বছর ধরে আপনার সাথে কথা বলা বন্ধ ছিল।আপনি হয়তো ভেবেছেন,আমি অন্যছেলের সাথে প্রেম করছি।ঘটনাটা ঠিক এমন না।ঠিক বছর দেড়েক আগে।আমি এক রোড এ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়।
সুবীর বিস্মিত হয়ে বলে-মারা যাও মানে?
-মারা যাও মানে মারা যায়।কিন্তু আপনার এত ভালবাসা,তাই স্বর্গ হতে একদিনের জন্য চলে এলাম।হাতে আর বেশি সময় নেই।
সুবীর হাত ধরে বলে-না,আমি যেতে দিব না।কিছুতেই তোমাকে যেতে দিব না।
-সে কি আর হয়?যেতে যে আমাকে হবেই।
-তবে আমাকেও নিয়ে যাও।
-সেতো আমি চাইলেই পারি না।
-তুমি যে বলেছিলে,তুমি যা চাও তাই হবে।
-না পারি না,সব পারি না দাদা।
এই বলে হাত দিয়ে বিদায় জানায়।নন্দিনী ভেসে ভেসে দূরে যেতে থাকে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত