এটাই বুঝি ভালোবাসা

এটাই বুঝি ভালোবাসা

শুক্রবার দিনটা চরম বাজে কাটে আমার।কারন,সেদিন আমার ইউনিভার্সিটির সাথে সাথে

আব্বার অফিসও অফ থাকে।আব্বা সকাল থেকে একগাদা উপদেশ দিতে থাকেন।তিনি বুঝতেই চান না

যে একটা অনার্সপড়ুয়া মেয়ের এত্ত উপদেশ সহ্য হয়না।সেদিনও তাই করছিলেন।দেরি করে ঘুম

থেকে ওঠার অপকারিতা নিয়ে লেকচার চলছিল।চায়ের মগটা নিয়ে ছাদের দিকে রওনা দিলাম।দরজা

খুলে পা বাইরে রাখতে না রাখতে ইয়া বড় এক খাটের পায়ার সাথে খেলাম বাড়ি। নতুন ভাড়াটিয়া

উঠছে উপরতলায়।মাথাটা ভেঙ্গে ফেলার অপরাধে বিরাট এক ঝাড়ি দেয়ার জন্য মাত্র মুখ

খুলেছি।শুনতে পেলাম,”ও মাই গড!বেশি লেগেছে?কি যে করে ব্যাটারা!”কিছু বলার জন্য মুখ

খুলেছিলাম।কথা বের হলনা।আমার সামনে কোত্থেকে যেন এক রাজপুত্র চলে এসেছে।লাজশরমের

মাথা খেয়ে হা করে তাকিয়েই রইলাম।মুচকি হেসে রাজপুত্র বললো,”আমি তনু।চারতলায় উঠছি

আমরা।পরে কথা হবে,কেমন?”বলেই উঠে গেল উপরে।আর হুঁশ ফিরল আমার!না জানি কি ভাবল আমাকে

ছেলেটা!

বিকেলে ছাদে দাঁড়িয়েছিলাম।যথারীতি সামনের ছাদের বান্দরটা টাংকি মারার চেষ্টায়

আছে।অন্যদিন হলে বিরক্ত হতাম।আজ চোখেই পরছিলনা।সকালে চারতলার ভাড়াটিয়াটাকে দেখার পর

থেকে মাথা আউলে গেছে।এত সুন্দর হয় মানুষ!

“সকালে তো কথাই হলনা আপনার সাথে।এখন কি আপনার নামটা জানা যাবে?”হায়

খোদা!রাজপুত্র!কোনরকমে বললাম,”তানিশা”।

-কোথায় পড়েন?

-ঢাকা ইউনিভার্সিটি।

-আরে আপনি তো মহা লাজুক মেয়ে!কথাই বলানো যায়না!ডিটেইলস বলেন!

আমি ফার্স্টইয়ারে জানার পর দুম করে বলে বসলো,শোন পিচ্চি,আমি বুয়েটে পরছি।EEE,থার্ড

ইয়ার।তাই তোমাকে তুমি করেই বলব।এখন বলতো ওই পোলা কতদিন ধরে জ্বালায়?দাঁড়াও,ওনার

ব্যবস্থা হবে।

সারাটা বিকেল যে কখন কেটে গেল টেরও পাইনি।

এরপর থেকেই হুট করে আমার গার্ডিয়ান হয়ে গেল তনুদা।কোন ছেলে কিছু বলল,তো উনি গিয়ে

বেশ একখান ঝাড়ি মেরে আসলেন।পিছলে পড়ে ব্যাথা পেলাম।আম্মুকে এসে “আন্টি,এই হাবলুটাকে

বিয়ে দিয়ে দেন।জামাই দেখে শুনে হাঁটতে শেখাবে।“বাসায় ফিরব।কার্জনের সামনে রিকশা

খুজছি,উনি এখানেও এসে হাজির।“ওই পিচ্চি,বাইকের পিছনে ওঠ।আরে গাধি,কোমর ধরে

বস।নাহলে,উল্টে পরবি।নাহ,আমি উলটে রাস্তায় পরলাম না।ধপাস করে উনার প্রেমে পড়ে

গেলাম।বলেও ফেললাম একদিন।যা ভেবেছিলাম।পাত্তাও দিলনা।হাসতে হাসতে মরে,”তুই আবার

প্রেমের কি জানিস?রসায়নের স্টুডেন্টরা আবার প্রেমে পড়ে নাকি?হাহাহা”।

ধুর!এর প্রেমে কেন পরলাম আমি!রাগে দুঃখে দেখা হলে কথা বলিনা।কার কি!সে তার মত

খুনসুটি করেই যাচ্ছে।একদিন বৃষ্টিতে ভিজে জ্বরে পড়লাম।সে কি জ্বর!অজ্ঞানের মত ছিলাম

কদিন।একটু সেরে ওঠার পর মাকে জিজ্ঞেস করলাম,”মা,কেউ দেখতে আসেনি আমাকে?”আসলে জানতে

চাই ওনার কথা।মা বলেন,”হ্যা।এসেছে তো।অনেকেই এসেছে।আর তনুটা তো একটু পরপরই এসে খোঁজ

নিল।“

বিকেলেই আসলেন উনি।“কিরে হাবলু,আমি পাত্তা দেইনি বলে জ্বরের প্রেমে পড়লি?”রাগে পাশ

ফিরলাম।শুনলাম,”বুঝলি হাবলু,তোকে দেখে শুনে রাখার জন্য একটা জামাই দরকার।“

কত সহ্য হয়!রাগে ফুসতেঁ ফুঁসতে বললাম,আমাকে নিয়ে তোমার ভাবার দরকার নাই।যাও ভাগো।

বললো,”না ভেবে কি করব?তোকে কে বিয়ে করবে?তাই ভাবছি আমিই তোর জামাই হব।“

আমার কি কানটা খারাপ হয়ে গেল!অবাক হয়ে চেয়ে রইলাম।ফান করছে নিশ্চয়ই।আবার বললো,”আমার

চেয়ে ভাল জামাই আর পাবিনা।কি বলিস?” হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম।এত সুখের কান্না আর কি

কেউ কখনো কেঁদেছে!!

লিখেছেন – ফারজানা তাবাসসুম শীলা |

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত