বাস্তব প্রতিচ্ছবি

বাস্তব প্রতিচ্ছবি

সেই বিকেল ৪টা থেকে বসে আছি পার্কে। এখন ৪:৫৭ বাজে কিন্তুু যার সাথে দেখা করার কথা তার কোন ছায়া ও নেই! অথচ তার আসার কথা ছিলো ৪:২০ মিনিটে। কিন্তুু এখনো তার আসার নাম নেই। ও হ্যাঁ আমি আলী। আর যার সাথে দেখা করতে এসেছি সে হলো আমার হবু বউ অরিন।
পরিচয় দিতে দিতেই অরিনের আগমন।

অরিন : রাস্তায় জ্যাম এ আটকে পড়েছিলাম তাই আসতে দেরি হয়ে গেলো।তুমি কখন আসলে?(কথাটা এমন ভাবে বললো মনে হয় আমাকে সে ইচ্ছা করেই বসিয়ে রেখেছে জ্যাম এর দোহাই দিয়ে)
আমি : তোমার দেওয়া সময়ের ২০মিনিট আগে।(একটু রাগী স্বরে । কি আর রাগ করবো বলুন সুন্দরী মেয়ে দেখলে রাগ এমনিতেই পানি হয়ে যায়)
অরিন : আচ্ছা চলো ঐ দিকটাই বসি।
আমি : হ্যাঁ চলো।
অরিন : বাসার সবাই কেমন আছে?
আমি : হুম ভালো আছে।তোমার বাসার সবাই?
অরিন : ভালো।
আমি : আচ্ছা অরিন কিছু খাবে?
অরিন : হুমমমম বাদাম খাওয়া যেতে পারে।
আমি : তুমি একটু বসো আমি বাদাম নিয়ে আসি ।
অরিন : ওকে।

কিছুক্ষন পর….
আমি : এই বাও বাদাম।
অরিন বাদাম খাচ্ছে আর আমি দেখছি সুন্দরি মেয়েদের খাওয়া দেখতে কেমন লাগে।অবশ্য অরিনের বাদাম খাওয়া দেখতে বেশ ভালই লাগছে।
অরিন : তোমার কাজকর্ম কেমন চলছে?
আমি : ভালেই।
এভাবে কথা বলতে বলতে বলতে অরিনের জীবনের লক্ষ্য কি জানতে ইচ্ছা হলো। জিঞ্জেস করবো কি করবো না ভাবতে জিঞ্জেস করেই ফেল্লাম ”আচ্ছা অরিন তোমার জীবনের লক্ষ্য কি?
অরিন : ডাক্তার হওয়া।কিন্তুু সেটা সম্ভব না।
আমি : কেনো?
অরিন : আমার পরিবার থেকে আমাকে ডাক্তারি পড়ানো সম্ভব না।
আমি : তাতে কি হয়েছে? আমি তো আছি নাকি? আমি তোমাকে ডাক্তারি পড়াবো।
অরিন : সত্যি? (অবাক হয়ে)
আমি : হ্যা সত্যি।
অরিন আনন্দে আমাকে জ্বরিয়ে ধরলো।।।দেখলাম মেয়েটা কাঁদছে।কাঁদুক সমস্যা নেই এটা সুখের কান্না।
আমি : অরিন!
অরিন : হুম
আমি : আজকে বাসায় যায় চলো সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
অরিন : হ্যাঁ চলো।

…..কিছু দিন পরে….
অরিন মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরিক্ষা দেয় এবং ভাগ্য ক্রমে চান্স ও পেয়ে যায়।তারপর আলী অরিনকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করায় দেয়।এতে যে অরিন এতো খুশি হবে ভাবতেই পারে নি।

কিন্তুু সেই খুশি আর বেশি দিন টিকলো না।অল্প দিনেই অরিন আলীকে এড়িয়ে চলা শুরু করে। ফোন দিলে কথা বলে না।আগে অরিনই বেশি বেশি ফোন দিতো।

একদিন অরিনের আম্মু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এই খবরটা অরিনকেজ্বানানোর জন্য আলী অরিনকে ফোন দেয়।অরিনের ফোন সাইলেন্ট ছিলো না তাই ক্লাসের মধ্যো ফোন বেজে ওঠার জন্য ক্লাস টিচার তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়।অরিন অরিন দেখে যে আলী মেডিকেল কলেজের বারান্দায় দ্বারিয়ে আছে।অরিন আলীর কাছে গিয়ে ঠাসসসস ঠাসসসস ২টা চড় মারে আলীকে এবং বলতে থাকে ” তোমার এই ফোনের জন্য আমাকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।তোমার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে যখন ইচ্ছা ফোন দিবা? আলী শুধু অরিনের কথা গুলো মুখবুজে শুনেই গেলো।তারপর বললো তোমার আম্মু খুব অসুস্থ তাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এটা জ্বানানোর জন্য ফোন দিয়ে ছিলাম।বলেই আলী সখানে আর এক মুহুর্ত না দ্বাড়িয়ে চলে আসে।আজ অরিন শহরের বড় ডাক্তার। সবাই অরিনকে বড় ডাক্তার হিসেবে চিনে।অন্যদিকে আলীর পরিবার থেকে অরিনকে বিয়ে করে নেওয়ার জন্য বলে।তার জন্য আজকে আলী অরিনের সাথে দেখা করার জন্য বলে।

অরিন : বলো কি জন্য ডেকেছ?
আলী : বাসা থেকে তোমাকে বিয়ে করে নেওয়ার জন্য বলছে।
অরিন : কি? বিয়ে করবো তোমাকে?সেটা সম্ভব নয়।
আলী : কি বলছো এসব? মজা করছো তাই না?
অরিন : মজা করছি না।আমি সত্যি বলছি তোমাকে আমি বিয়ে করবো না।
আলী : কি বলো এ সব কিছুই তো আমার মাথায় ঢুকছে না। তুমিই তো বলেছিলে তুমি ডাক্তার হয়ে গেলে বিয়ে করে নিবে।
অরিন : বলছিলাম এখন বলছি আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না।
আলী : কিন্তু কেনো?
অরিন : তোমার আমার স্ট্যাটাস দেখেছো?কোথায় তুমি আর কোথায় আমি।তোমার লেভেলের কোন মেয়েকে বিয়ে করে নিও।বামন হয়ে আকাশের চাঁদের ছোঁয়ার আশা কইরো না।””কথা গুলো বলেই অরিন চলে যায়।আলী বিশ্বাস করতে পারছে না অরিন তাকে ছেড়ে চলে গেলো।সে মনে মনে ভাবলো যে চলে যাওয়ার সে তো চলে যাবেই।

বি:দ্র: মানুষ যখন বিপদ থেকে মুক্তি পায় তখন আর তার মনে থাকে না উপকারের কথা।।। তেল ফুরানোর পর বাতির যেমন দাম থাকে না ঠিক তেমনি বিপদ মুক্ত হলেই উপকারীর কথা মনে থাকে না এটাই বাস্তবতা।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত