অতৃপ্ত ভালোবাসা

অতৃপ্ত ভালোবাসা

কিভাবে নিধির সাথে আমার পরিচয় হলো, তা তো আপনাদের বলাই হলো না৷ তো চলুন ১ বছর ফ্লাশ ব্যাকে চলে যাই। অনেক দিন পর আজ কলেজ যাচ্ছি। তাই অটো থেকে নেমে স্টেশনে যাচ্ছিলাম। হটাৎ দেখি আমার পিছে পিছে একটা মেয়ে অনেক জোরে জোরে হেঁটে আসতেছে, মনে হয় পাগলা কুকুর তাড়া করছে। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসে নিলাম। এটি মধ্যে ট্রেন চলে এসেছে। আমার জন্যে কয়েকজন ফ্রেন্ড অপেক্ষা করতেছিলো। যাওয়া মাত্রই…………………..

আবিরঃ তোর এতক্ষণ লাগে আসতে। কতবার ফোন দিয়েছি।

আমিঃ আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু লেট হয়েছে,,,। আর কতবার ফোন দিয়েছিস মানে,,,,,,,,,

আবিরঃ ফোনটা বের করে দেখ।

আমিঃ SORRY রে টের পাইনি।

নিশাদঃ মহারাজ তো টের পাবেইনা,,,, উনি তো সবসময় কল্পনার জগতে ভাসতে থাকে। উনি যে কাল্পনিক কবি।

হা হা হা হা হা…………….. ( সবাই হেসে উঠলো)

আমিঃ এবার তোরা হাসি থামা,, চল ট্রেন ছাড়লো,,,,,

রহিতঃ হুম চল।।

সবাই ট্রেনে উঠলাম। উঠে দেখি সেই মেয়েটি একটা সিটে বসে আছে,,, আর পাশের সিটটা ফাঁকা আছে। দেখেতো আমি মহাখুশি। আবিরকে বললাম, দোস্ত আমার মাথা ব্যাথা করতেছে,,, কিছু ভালো লাগছে না, আমি সিটে বসলাম,,, তোরা দরজায় থাক,,, তোদের তো দরজায় দাড়িয়ে থাকায় অভ্যস্ত। ( মাথা ব্যাথার কথা মিথ্যা বললাম)

আবিরঃ ঠিক আছে যা।

নিশাদঃ কাল্পনিক কবি তো, এখন সিটে বসে কল্পনার জগতে হারিয়ে যাবে।

রহিতঃ নিশাদ চুপ করতো, ওর হয়তো সমস্যা হচ্ছে, তাই বসতে চাচ্ছে। রাফি দোস্ত যা তুই বস গিয়ে।

আমিঃ ঠিক আছে তোরা থাক,,, আর টিটি আসলে আমার কাছে পাঠিয়ে দেস। (যেতে যেতে বললাম)

রহিতঃ ঠিক আছে।

আমিঃ Excuse me ম্যাডাম একটু সরে বসুন,।

মেয়েটিঃ এইযে মিস্টার শোনেন, যে টুকু জায়গা ফাঁকা আছে, চাইলে বসতে পারেন, না হলে চলে যান।

আমিঃ কি দেমাক মাইরি,,,,,। (একটু আস্তে করে বললাম)

মেয়েটিঃ কি বললেন?

আমিঃ কই না তো, আমি কিছু বলিনি।

মেয়েটিঃ কিছু না বললেই ভালো।

আমিঃ হুম,,,,,,,,।

মেয়েটিঃ হুম কি,,,,,,?

 আমিঃ ও কিছু না,,,, বলছিলাম একটু সরেন বসি। আপনার নামটা জানতে পারি।

মেয়েটিঃ উমমমমম,,,,,,,,, আপনাকে কেন বলবো,,,, বসতে দিলে দেখি শুইতেও চায়।

আমিঃ ঠিক আছে বলতে হবে না। (একটু ভাব নিলাম)

কানে হেডফোন দিয়ে গান চালু করে FB তে ঢুকলাম। ঢুকে গল্প পড়তেছিলাম, হটাৎ করেি টি.টি চলে আসলো।

টি.টিঃ ভাইয়া টিকিট হয়েছে?

আমিঃ না হয়নি, ৪টা টিকিট দেন।

টি.টিঃ এইযে নেন,,, আপনারা কোন ৪জন?

আমিঃ দরজায় ৩জন আর আমি।

টি.টিঃ ঠিক আছে। ম্যাডাম আপনার টিকিট হয়েছে?

মেয়েটিঃ না হয়নি।

টি.টিঃ তাহলে ভাড়া দেন।

মেয়েটিঃ ধরেন নেন।

টি.টিঃ আমার কাছে তো খুচরা নাই।

মেয়েটিঃ আমার কাছেও তো নাই।

আমিঃ এই যে ভাই কি Problem?

টি.টিঃ ওনার কাছে খুচরা নাই আর আমার কাছেও।

আমিঃ ও বুঝতে পারছি। ঠিক আছে ওনার টাকা ফেরত দেন, আমি ভাড়া দিচ্ছি।

অতঃপর ট্রেন থেকে নেমে দেখি মেয়েটি নাই। আমরা কয়েকজন একসাথে কলেজে গেলাম।

এসে দেখি মেয়েটি আমাদের ক্লাস রুমে। তো আমি রুমে গেলাম, যাওয়া মাত্রই,,,,,,,,,,,

মেয়েটিঃ এইযে মিষ্টার আপনার মতলব কি,,,, সেই তখন থেকে আমার পিছু নিয়েছেন কেন? আপনার মতো ছেলের জন্য আমরা ঘর থেকে বেরোতে পারিনা।

তানিয়াঃ এ নিধি কি বলছিস এসব। ওকে জানিস?(মেয়েটিকে থামিয়ে বললো)

নিধিঃ এসব ছেলেকে আমার চেনার/জানার দরকার নাই। (দেমাক দেখিয়ে বললো)

মিমঃ দেখ নিধি না জেনে কাউকে দোষারপ করা ঠিক না। রাফি দোস্ত কিছু মনে করিস না, এ নতুন আসছে তো এখনো তোর সম্পর্কে কিছুই জানে না।

আমিঃ ঠিক আছে তোরা আড্ডা দে, আমি একটু ও ঘুরে আসি।

অধরাঃ দোস্ত যাসনা, তোরে ছাড়া তো আড্ডা জমবে না।

(আমি কিছু না বলে আমার মতো চলে আসলাম)

তানিয়াঃ নিধি তুই এটা কি করলি? তোর মনে আছে, আমি বলতাম আমার এক কাল্পনিক কবি ফ্রেন্ড আছে। যার প্রশংসা তোর কাছে সবসময় করতাম। তুই তাকে দেখার জন্য পাগল হয়েছিস। যার জন্যে এ কলেজে ভর্তি হয়েছিস,। এটাই সেই ছেলে, আর ওর নাম রাফি। তোকে সারপ্রাইজ দেবো জন্যে, ওকে ফোন করে নিয়ে আসলাম। আর তুই এটা কি করলি? ছি নিধি ছি।

নিধিঃ SORRY দোস্ত আমি বুঝতে পারি নি। যাকে না দেখেই মনে জায়গা দিয়েছি, তাকেই অপমান করলাম। (কান্না কান্না কন্ঠে) 😭

তানিয়াঃ আমাকে SORRY বলে কি লাভ? SORRY বলতে হলে রাফি কে যেয়ে বল।

নিধিঃ হুম চল। ( অনেকটা খুশি হয়ে)🤓

তানিয়াঃ হুম চল।

অধরাঃ নিধি ঐ যে রাফি গাছ তলায় বসে আছে, মনে হয় কোনো কবিতা লিখছে। ( কিছুদুর গিয়ে বললো)

নিধিঃ চল চল।

আমিঃ তানিয়া তোরা এখানে কেন?

তানিয়াঃ দোস্ত তোরে ছাড়া আমরা কি কখনো আড্ডা দিছি? আর তোকে আমার এহ বান্ধুবির কথা বলছিলাম, যে তোকে দেখতে চাচ্ছে, এই সেই বান্ধুবি।

আমিঃ ও,,,,,,,,,,,,,,,

নিধিঃ SORRY! (কান্না কন্ঠে)

আমিঃ SORRY কেন?

নিধিঃ না জেনে তোমার সাথে খারাফ ব্যবহার করেছি তাই,।

আমিঃ হা হা হা হা হা,,,,,,,,,,,,,,,,। আমি তো কিছুই মনে করি নি।

নিধিঃ তাহলে ওভাবে চলে এল৷ যে?

আমিঃ ও এমনিতে।

অধরাঃ দোস্ত অনেকদিন পর আসলি, কেন্টিনে চল কিছু খাওয়া,।

নিধিঃ আমার কাল্পনিক কবি, চলো আজ আমি খাওয়াবো, তবে কেন্টিনে না।

আমিঃ কেন্টিনে না, মানে কোথায়?

নিধিঃ ঐ পার্শে একটা ফুচকার দোকান আছে। উনি খুব ভালো ফুচকা বানায়।

আমিঃ ঠিক আছে চলো।

তানিয়াঃ দোস্ত কি ব্যাপার, আমরা এতো দিন তোকে বলে ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে যেতে পারলাম না। আর নিধি একবার বলাতে রাজি হয়ে গেলি।

আমিঃ কি বলিস এসব। রাফিকে এখনো চিনলি না। আমি সব কিছুতেই অভ্যস্ত।

নিধিঃ চলো তো,,,।( আমার হাতটা ধরে বললো)

(আমি তো ৫৬০ ভোল্টেজের শক খেলাম।)😱

আমিঃ মামা ৬ প্লেট ফুচকা দেন।

নিধিঃ আমার টাতে টক ঝাল বেশি করে দেন।

আমিঃ আমার টাতেও বেশি করে দিয়েন। (চাপা মারলাম)

ফুচকাওয়ালাঃ ঠিক আছে দিচ্ছি।

অনেক মজা করে সবাই মিলে ফুচকা খাইলাম। আমার মুখ জ্বলে যাচ্ছিলো। আসলে আমি ঝাল খাইতে পারি না। অনেক গুলো পানি খেলাম। ক্লাস শেশ করে বাড়ি যাইতেছিলাম। নিধি ও আমার সাথে।

নিধিঃ তোমার FB আইডি আর মোবাইল নাম্বারটা দাও।

আমিঃ ওকে নাও www.facebook.com/smrafi.s

আর মোবাইল নাম্বার ০১৭……….৩১।

নিধিঃ তোমার নাকি একটা পেজ আছে যেটাতে গল্প লেখো, সেইটাও দাও।

আমিঃ হুম আছে www.facebook.com/smrafi.rs

 নিধিঃ বাই রাফি,,,,, রাতে FB তে কথা হবে।

আমিঃ ওকে বাই,,,,,,,

(কেমন লাগলো গল্পটি)

নেক্সট পর্বটি খুব দ্রুত পাবেন।

যারা আগের পর্বটি পাননি তারা আমার পেজে গেলে পাবেন।

আমার পেজ লিংক www.facebook.com/smrafi.rs

কাল্পনিক লেখক

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত