পুরাণকথা

পুরাণকথা

মিথ নিয়ে আগ্রহ নেই এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আসলে মিথলজি এমন এক বিষয়, তা সে যে ধর্ম বা জাতিরই হোক না কেনো সব সময়ই সমান জনপ্রিয়। গ্রিক মিথ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। গ্রিক মিথের তিন মহারথি জিউস, পোসাইডন আর হেডিসের কথা পুরাণপ্রিয়দের অজানা নয়। এদের তিনজনকে ‘বিগ থ্রি অব অলিমপাস’ বলা হয়।

টাইটানরাজ ক্রনাস বা স্যাটার্নের তিন পুত্র মহাবিশ্বকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিলেন। জিউসের ভাগে পড়ল আকাশ আর নভোমণ্ডল। পোসাইডনের ভাগে সমুদ্র আর হেডিসের ভাগে পাতাল। এই তিন ভাই হলো অলিমপাসের তিন প্রধান দেবতা।

এদের মধ্যে জিউস হলেন একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি দেবরাজ- নভোমণ্ডল, বৃষ্টি আর মেঘের দেবতা। তার চিহ্ন হলো তিন ফলাবিশিষ্ট বজ্র। সকল দেবতার সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও তার ক্ষমতা বেশি। তাকে রোমানরা ডাকত ‘জুপিটার’ বলে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো তাকেও বোকা বানানো যেত। গ্রিক পুরাণে দেবতারাও নিয়তির বাইরে যেতে পারতেন না- এমনকি দেবরাজও!

জিউসের চরিত্রে যে লাম্পট্য অর্পণ করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা হল যে কোনো শহরে বা অঞ্চলে যখন জিউসের পূজা আরম্ভ হতো তখন সে অঞ্চলে আগে যে দেবতা ছিল তার সঙ্গে জিউস ধীরে ধীরে একিভূত হয়ে যেতেন আর ওই দেবতার স্ত্রী বা প্রণয়িনী জিউসের কাছে হস্তান্তরিত হতো। আর এভাবেই জিউসকে নিয়ে সেইসব কাহিনি গড়ে ওঠে।জিউসের স্ত্রী ছিলেন ন্যায়ের দেবী ‘হেরা’(জুনো)। নিজের প্রণয়গুলো হেরার কাছ থেকে লুকাতে সর্বদা তৎপর থাকতেন জিউস।

তিন ভাইয়ের মধ্যে সমুদ্রের দেবতা হলেন পোসাইডন। জিউসের পরেই তার স্থান। তাকে রোমানরা ‘নেপচুন’ বলে ডাকত। পোসাইডনের একটি রাজপ্রাসাদ ছিল সাগরের নিচে। তবে তাকে অলিমপাসেই বেশি দেখা যেত। টাইটান ওস্যানের নাতনী আম্ফিত্রিতি ছিলেন তার স্ত্রী।

পোসাইডনকে নিয়েও কাহিনি কম নেই। তার চরিত্রও জিউসের মত লাম্পট্য দিয়েই চিত্রায়িত হয়েছে। কথিত আছে, মেডুসা যখন সুন্দরী ছিলেন তখন পোসাইডন তার সঙ্গে সহবাস করেছিলেন এথেনার মন্দিরে। আর এথেনার কোপে পড়ে মেডুসা দানবীতে পরিণত হন। দানব বৃষাসূর বা মিনোটর-এর পিতা যে গরু সেটি পোসাইডনই ক্রিটের রাজা মিনোসকে দান করেছিলেন।

পোসাইডনের চিহ্ন ত্রিশূল। এটি দিয়ে তিনি সবকিছু নাড়িয়ে দিতে পারেন। তাকে ভূমিকম্প প্রদানকারী বলা হয়। সেমিটির ধর্মগুলির শয়তান বা লুসিফারের চিত্রিত রূপটিতে তার ত্রিশূলের সঙ্গে পোসাইডনের ত্রিশূলের অদ্ভুত মিল আছে।

পাতালের অধিপতি হলেন হেডিস। তার রানী প্রসারপিনা বা পারসিফোন। তাদের প্রণয়ের কাহিনি বিখ্যাত। তিনি ধনসম্পত্তিরও দেবতা। তাকে ‘প্লুটো’ও বলা হয়। তিনি পাতাল ছেড়ে অলিমপাসে খুব একটা আসতেন না।

কারো কাঙ্ক্ষিত দেবতা ছিলেন না হেডিস। তবে তিনি ন্যায় ও নিষ্ঠাবান। অপর দুই ভাইয়ের মত তার চরিত্রে লাম্পট্য নেই। তিনি মৃতদের অধিপতি কিন্তু মৃত্যুর দেবতা নন। মৃত্যুর দেবতা থানাটোস। তার চিহ্ন তিন মাথাবিশিষ্ট দানবাকৃতির হাউন্ড।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত