বন্দিনী

বন্দিনী

চেতনায় ধরা পড়ল এটা একটা অপরিসর কারাকক্ষ, তবে এবার তিনি বুঝতে দিলেন না তাঁর চৈতন্য ফিরে এসেছে। স্মৃতি যেন স্রোতের প্রবল তোড়। শেষবার যখন তিনি ওদের হাতে ধরা পড়লেন, তাঁর চোখে উপলব্ধির আলো দেখতে পেয়েছিল ওরা—কীভাবে যেন সেটাকে নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুই বেঁধানোর ব্যথাটা মনে আছে তাঁর, মনে আছে প্রতিটি ইউনিফর্ম একই রকম, তারপর আবার কিছু না-জানার জগতে হারিয়ে যাওয়া। এবার তিনি ধৈর্য হারাবেন না, বুদ্ধি খাটাবেন, কোনোমতে ওদের হাতে ধরা পড়বেন না। চোখের পাতা বন্ধ রাখছেন, তথ্য আর জ্ঞান তালা দেওয়া থাকুক। আঙুলগুলো নাড়াচাড়া করছেন। এখনো আড়ষ্ট, তবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। অসীম ধৈর্যের সঙ্গে একটা হাত লম্বা করে আবার টেনে আনলেন, কোথাও আটকাল না। এবার হাত দুটো বাঁধেনি ওরা। কবজির ভোঁতা ব্যথাটা মনে করিয়ে দিচ্ছে কয়েক দিন আগেও তাঁকে বেঁধে রাখা হতো। একটা পা নাড়লেন, বুঝতে পারলেন টিউবটা এখনো ওটার সঙ্গে টেপ দিয়ে আটকানো। আচ্ছা, ওরা তাহলে এখনো হাল ছাড়েনি—যন্ত্রণাটা, মানে সেই টিউব, এখনো জায়গামতো রয়েছে; ওটার ভেতর দিয়েই তো জ্বালাময় তরল পাম্প করা হয়। ওটা ঢোকানোর সময় ওদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছিলেন তিনি, চেয়েছিলেন যত জোরে পারা যায় চেঁচাতে, কিন্তু ফুসফুসে বাতাস এত কম ছিল যে প্রায় কোনো আওয়াজই বের করতে পারেননি। গতকাল…গত সপ্তায়…কিছুদিন আগে…আরও বেশি নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করেছে ওরা, টেনে সোজা রাখার জন্য তাঁর পায়ের ওপর কী সব ওজন চাপাতে চেয়েছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাতে চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি এমন এক জায়গায় পালাতে সমর্থ হন, পিছু নিয়ে যেখানে ওরা পৌঁছাতে পারবে না। ব্যথায় দব দব করছে তাঁর মাথা। এসব কেন করছে ওরা? এটা কী করে সম্ভব যে এই লোকগুলো এখানে কাউকে ধরে আনবে, অথচ কেউ কিছু বলবে না, কেউ একটু বাধা দেবে না? রাকিব আসছে না কেন, তাঁকে খুঁজে বের করছে না কেন, এখান থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে না কেন? এই নির্যাতন কেন্দ্রে সব মিলিয়ে কতজনকে রাখা হয়েছে? প্রথমদিকে ওদের সঙ্গে যুক্তিসংগত আচরণ করেছেন তিনি। যে মুখই তাঁর চোখের সামনে আসুক, প্রত্যেককে তিনি বলেছেন, ‘আমি সত্যি কিছু জানি না। আমি আপনাদের কোনো কাজে আসব না। আমাকে আপনারা ছেড়ে দিন।’ কিন্তু তাঁর একটা কথাও ওরা বিশ্বাস করেনি। কয়েকবারই সুস্থতার প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন তিনি, দুই গাল বেয়ে অঝোর ধারায় পানি গড়িয়েছে, কাকুতি-মিনতি করে বলেছেন তাঁকে রেহাই দেওয়া হোক, কিন্তু ওরা শুধু হেসেছে—এখানে সবাই ওরা হাসতে খুব পটু—তারপর নতুন ধরনের কোনো নির্যাতন শুরু করেছে। ওহ্ আল্লাহ্, ভাবলেন তিনি, শুধু যদি জানতাম আমাকে দিয়ে ওরা কী বলাতে চায়, সব গড়গড় করে বলে দিতাম। জানি, আমি সাহসী নই; ওরা কী শুনতে চায় জানা থাকলে কিছুই লুকাতাম না। কিন্তু যখনই আমি কোনো প্রশ্ন করেছি, শুনে হাসাহাসি করেছে ওরা, তারপর শক্ত করে জাপটে ধরে আরেকটা ইনজেকশন দিয়েছে। সপ্তাহ…কতগুলো?…পার হলো। একসময় তিনি উপলব্ধি করলেন রাকিব এখানে তাঁকে কোনো দিন খুঁজে পাবে না; এ-ও উপলব্ধি করলেন, লোকগুলো এখানে যা করছে তার পেছনে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ বা যুক্তি নেই। লোকে যেমন কিছু একটা করে, ওরাও সে রকম কিছু একটা করছে, ওদের কাছে এটা স্রেফ একটা রুটিন কাজ, তার বেশি কিছু না। সেই থেকে চুপ হয়ে গেছেন তিনি। মাঝেমধ্যে ভুল করে ওরা, তখন কিছুক্ষণের জন্য হলেও আবার সচেতনতা ফিরে পান তিনি। প্রথমবার এ রকম যখন ঘটল, অত্যন্ত বোকামির পরিচয় দিয়েছেন, শক্ত টেবিল থেকে লাফ দেন, বুঝতে পারেননি ওটার সঙ্গে স্ট্র্যাপ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তাঁকে। সেবার দল বেঁধে আসে ওরা, সবার মুখ থমথম করছে, ঝুঁকে আছে তাঁর ওপর, প্রতিটি হাতে তাঁর বিরুদ্ধে বাগিয়ে ধরা চকচকে অস্ত্র। পরে আরেকটা সুযোগ পান তিনি। সেবার খুব সতর্ক ছিলেন। এক এক করে সব স্ট্র্যাপ খুলে ফেলতে সমর্থ হন এবং সত্যি সত্যি নিজের পায়ে দাঁড়াতেও পারেন, কিন্তু ওষুধের প্রভাবে তাঁর শরীর এমন শ্লথ হয়ে পড়েছিল, সাড়া দিতে এতটাই অসমর্থ, ধরা পড়ার আগে মাত্র কয়েক পা এগোতে পেরেছিলেন। পর মুহূর্তে যে চিৎকার-চেঁচামেচি আর তিরস্কার শুরু হয়, সে সব এখনো তাঁর মাথার ভেতর প্রতিধ্বনি তোলে। হে আল্লাহ্, ওহ্ আল্লাহ্, আমার ওপর কী করছে ওরা যে একটা চিন্তাকে ধরে রাখতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি? আমার শরীর এ রকম বিরূপ হয়ে উঠল কী কারণে যে, আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনুসারে সাড়া দিতে চাইছে না? ওদের তুমি আমার ওপর এ রকম করার অনুমতি দিলে কেন? কোনো উত্তর নেই, পাবেন বলে তাঁর প্রত্যাশাও ছিল না। এটা এমন এক জায়গা যেখানে আল্লাহ নেই। ডাকার মতো একা শুধু তিনি নিজে আছেন। উদ্ধার যদি পেতে হয়, নিজের চেষ্টাতেই সেটা তাঁকে পেতে হবে। তাঁর সামনে দিয়ে একটা ছায়া সরে গেল। চোখ বন্ধ থাকলেও তা তিনি অনুভব করতে পারলেন, কারণ এই জায়গা কখনো অন্ধকার হয় না—ছোটখাটো হলেও, আরেকটা সূক্ষ্ম নির্যাতন: আলো অফুরন্ত। কখনো অন্ধকার নয়, সারাক্ষণ আলো। মানুষ আশীর্বাদ করে—তোমার ওপর আলোক বর্ষিত হোক। কিংবা—তুমি আলোকিত হও। আর ওই যে—লেট দেয়ার বি লাইট! ইস্, মানুষ যদি জানত আসলে আলো চাওয়া উচিত নয়। এর চেয়ে বোকামি আর কিছু হতে পারে? এর চেয়ে অত্যাচার কিছু হতে পারে? আলো, ঝকমকে সাদা আলো, শুধু শোয়ার সময় উজ্জ্বলতা একটু কমানো হয়—প্রায় অসহনীয় একটা ব্যাপার, তবে পুরোপুরি নয়—এই জায়গায় সবকিছুই অসহনীয় পর্যায় থেকে চুল পরিমাণ কম করা হয়, ভুক্তভোগীরা যাতে কিনারা থেকে খসে পড়ে পুরোপুরি পাগল না হয়ে যায়। তাঁর ওপর দুটো মূর্তি ঝুঁকে আছে। ‘ইনি কথা বলছেন না?’ ‘নাহ্। আমরা সব রকম চেষ্টা করে দেখেছি।’ ‘ঠিক আছে, চেষ্টা চালিয়ে যান। একটা কিছু রেজাল্ট তো পেতেই হবে, তাই না? মোটকথা, আমাদের সুখ্যাতিটা যেন বজায় থাকে।’ পায়ের আওয়াজ দূরে সরে গেল। ক্ষীণ একটু হাসলেন তিনি, কেউ যাতে ধরতে না পারে। এবার ওদের বোকা বানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওদের প্রায় হতাশ মনে হয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে, ওদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী তিনি; এত রকমের নির্যাতন করার পরও তিনি ভেঙে পড়েননি, টিকে আছেন এবং এখন যখন তিনি নিজের সম্পর্কে আবার পুরোপুরি সচেতন হয়ে উঠেছেন, প্ল্যানটা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। এবার কেউ তাঁকে বাধা দিয়ে রাখতে পারবে না, তিনি পালাবেনই। স্মৃতির পাতা ওল্টাচ্ছেন তিনি। মনের পর্দায় এই কামরার নকশাটা ফিরিয়ে আনলেন। দরজার পাশে অন্তত একজন গার্ড সব সময় থাকবেই থাকবে। কাজেই দরজা দিয়ে পালানোর চিন্তা বাদ। বাকি রইল ভেন্টিলেটর আর জানালা। ভেন্টিলেটর অনেক বেশি উঁচু, প্রায় সিলিংয়ের কাছাকাছি, তত বড়ও নয়—শরীরটা সহজে গলবে বলে মনে হয় না। জানালায় গরাদ না থাকলেও, কাচ আছে, কিন্তু ওটাও কম উঁচু নয়। তবে একটা সুখবর আছে। জানালার সামনে একটা টেবিল থাকার কথা। হ্যাঁ, আছে বলেই মনে পড়ছে। টেবিলে ওঠাও বেশ কষ্টকর হবে…না, টেবিলের এপারে একটা গদিমোড়া টুলও আছে। প্রথমে টুলে উঠতে হবে, তারপর টেবিলে চড়ব, সবশেষে ফ্রেমে বাঁধানো কাচ সরাব। কাচটা সরবে, নাকি ভাঙতে হবে ওটাকে? কাচ কি সত্যি ফ্রেমে আটকানো, ফ্রেমটা কি এদিক-ওদিক সরানো যায়? তিনি ভাবলেন—সরাই বা ভাঙি, যা দরকার করলাম, ওটা খুব বড় কোনো বাধা হতে পারে না। আমার কাজে গতি থাকতে হবে, নীরবতা থাকতে হবে, আর সুযোগের মুহূর্তটি চিনতে ভুল করা চলবে না—এগুলোই হলো সাফল্যের শর্ত। আলো খানিকটা নিস্তেজ হলো। তার মানে এখন বেশ রাত। জেলখানার বাইরে এখন অন্ধকার। তা হলেও, তারা আছে আকাশে। হয়তো যেকোনো আকৃতির একটা চাঁদও আছে। আচ্ছা, কত দিন হলো চাঁদ-তারা দেখা হয়নি তাঁর? স্মৃতি উত্তর দিতে পারছে না। অন্ধকার, চাঁদ-তারা, ঠান্ডা বাতাস আর মুক্তি: সব তাঁর গ্রহণ করার অপেক্ষায়, ঠিক যখন আদর্শ সময়টি হাজির হবে। ধীরে ধীরে এক চোখের পাতা খুললেন তিনি। দরজার বাইরে ট্রের ওপর ঝুঁকে কী যেন খাচ্ছে গার্ড। নির্দয় ইস্পাতে লাগা আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিতে চাইল। ভাগ্য ভালো হলে ওই একই খাবার এই জায়গার বাকি কয়েদির জন্যও তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানেন আরও অনেককে বন্দী করে রাখা হয়েছে এখানে, গোঙানি আর চাপা কান্নার আওয়াজ শুনেছেন তিনি। হে আল্লাহ্, ওরা যেন ভাবে আমার জ্ঞান ফেরেনি! ওরা যেন আমার চেতনা কেড়ে নিতে ফিরে না আসে, এটাই আমার এখান থেকে মুক্তি পাওয়ার শেষ সুযোগ। দরজার বাইরে ফেলা টুল ছেড়ে সরে গেছে গার্ড। লোকটাকে তাঁর দৃষ্টিপথে কোথাও দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। চিনামাটির প্লেট-পেয়ালা ধোয়ার ভোঁতা আওয়াজ বলে দিল কাজটা শেষ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এখনই, এখনই সময়! এবার উঠতে হয় তাঁকে, যেতে হয়। বিছানার ওপর খাড়া উঠে বসলেন। জানেন ব্যথাটা শুরু হবে, সহ্য করার জন্য আগেভাগেই ঠোঁট কামড়ে প্রস্তুতি নিলেন, দুই পায়ের মাঝখান থেকে ঘৃণ্য টিউবটা ধরে টান দিলেন জোরে, আরেক টানে খুলে ফেললেন হাতে আটকানো টিউবটা। গার্ড ফিরে এসেছে কি না দেখার জন্য সময় নিলেন না, নিতম্ব হড়কে দিয়ে বিছানা থেকে মেঝেতে নেমে গেলেন। পা দুটো এত ভারী লাগছে, তাঁর ভার বহন করতে পারবে তো? এগোও, বোকা, এগোও! কাঁপা কাঁপা পা ফেললেন। একটার পর আরেকটা। কতদূর? বিশ কদম? পনেরো? ব্যথা তাঁর হাড়গুলোকে গুঁড়ো করছে। মনে মনে গুনছেন তিনি: এক, দুই, তিন, চার… কামরার মাঝখানে একটা পিলার। কুৎসিত কংক্রিট, পলেস্তারা করা হয়নি। তবে ভালো আড়াল দিচ্ছে। গার্ড দরজার সামনে ফিরে এলেও এখন আর দেখতে পাবে না তাঁকে। জানালাটা সরাসরি সামনে। পিলারে হেলান দিয়ে আধ মিনিট বিশ্রাম নিলেন। এই কামরার ভেতর আর যেসব ভুক্তভোগী আছে তাদের আলাদা ও আড়াল করে রেখেছে খয়েরি রঙের সুতি পরদা। কাজেই নিঃশব্দে সারতে হবে সব, তা না হলে বাকি বন্দীরা জেগে উঠে চেঁচামেচি শুরু করে দেবে। সতর্ক হওয়া ছাড়া এ ব্যাপারে আর কিছু করার নেই তাঁর, খুব বেশি হলে মনে মনে আবেদন জানাতে পারেন: ‘আমাকে তোমরা দেখো না, আমি কিছু না, অতি নগণ্য, স্রেফ খানিকটা বাতাস, কিংবা ধরে নাও ভবঘুরে ইঁদুর, আমাকে তোমরা দেখো না।’ প্রায় পৌঁছে গেছেন তিনি। ওই তো, সামনেই টেবিল। টেবিলের সামনে…না, ছোট্ট টুলটা টেবিলের সামনে নয়, একটু দূরে। ওটাকে বয়ে আনা কোনো ব্যাপার না। এখানে আসার আগে ওটার চেয়ে অনেক ভারী জিনিস বহন করেছ তুমি! আল্লাহ্, টুলের পায়া মেঝেতে যেন ঘষা না লাগে। এত হালকা একটা জিনিস বয়ে আনতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে তাঁর। ব্যথা যেন তরল আগুন। তাঁর দৃষ্টি স্থির থাকছে না। জলদি গো, জলদি! এ রকম সুযোগ আর কখনো পাওয়া যাবে না। পালাও, পালাও, পালাও! প্রচণ্ড চেষ্টায় টুল থেকে টেবিলে উঠে পড়লেন তিনি। উল্লাসের ফুলে ওঠা ঢেউয়ে ভেসে যেতে যেতে লোহার ছিটকিনি খুলে ফ্রেমে আটকানো কাচ সরিয়ে দিলেন একপাশে। জানালা এখন মুক্ত, তাঁকে মুক্তি দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বাইরেটা অন্ধকার। অন্ধকার মখমল। বাতাস ঠান্ডা। ফুলের সুবাস প্রাণ জুড়ায়। আর একটু এগোতে হয়। নিতম্ব ঘষে সামনে বাড়ো, হে! তুমি নারী হয়েছ, তাতে কী! তুমি বিজয়িনী! আরেকটু, আরেকটু, চৌকাঠের ওপর উঠে পড়ো। হয়েছে! মুখ আকাশের দিকে, রাতের দিকে, তারার দিকে তোলা। সব আলো, সাদা কর্কশতা, অফুরন্ত উজ্জ্বলতা তাঁর পেছনে। ওপর দিকে এবং সামনের দিকে লাফ দিলেন, লাফ দিলেন স্বাধীনতা আর মুক্তির দিকে। যন্ত্রণাময় আলো, প্রহরী আর কারাগারকে চিরবিদায় একটা দমকা বাতাস তাঁকে নিচের গাছপালা আর অন্ধকার খোলা মাঠের দিকে বয়ে নিয়ে গেল। খোলা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসা আলোর আভায় হাসপাতালের খয়েরি দেয়াল খানিকটা আলোকিত হয়ে আছে। ক্ষোভ মেশানো, অভিযোগপ্রবণ কয়েকটা কণ্ঠস্বর পরস্পরকে প্রশ্ন করছে: ৮৫ বছরের একজন মানসিক রোগী, যার কোমর ভাঙা, যিনি কিডনি ইনফেকশনে ভুগছেন, বিছানা ছেড়ে কীভাবে চারতলার জানালা খুলে নিচে লাফিয়ে পড়লেন!

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত