টেককেয়ার

টেককেয়ার

ছোট ভাইয়ের যন্ত্রণায় আর সকালে ঠিক করে ঘুমাতে পারলাম না। কানের কাছে এসে হেসেই যাচ্ছে, হেসেই যাচ্ছে।

বললাম ‘ কী হইছে? গরুর মতো ভ্যাটকাইতেছিস ক্যান? ‘

হাসতে হাসতে বলল ‘ মিতু আজকে আমারে কইছে, যদি বর সাজো গো… আরো সুন্দর লাগবে গো! ‘
.
শুনে আমিও হাসছি। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর মেয়ে প্রপোজ করেছে! তাও এইভাবে!
বললাম ‘ সমস্যা নাই এখন থেকেই পাঞ্জাবি, মুকুট পরা শুরু করে দে। ‘ ভাই দেখি সত্যি সত্যিই পাঞ্জাবি পরা শুরু করে দিয়েছে। তাও আমার!
.
সকিনা প্রথমে মফিজকে বলল ‘ আমার লম্বা চুল একদম পছন্দ না ‘ মফিজ চুল কেটে ছোট করে ফেলল।

তারপর সকিনা বলল ‘ আমার ছোট চুল একদম পছন্দ না ‘ মফিজ এবার চুল কেটে একেবারে টাক হয়ে গিয়েছে।

এবার সকিনা বলল ‘ আমার টাক মাথা একদম পছন্দ না ‘ এবার মফিজ কী করবে?
.
এজন্যই কবী বলেছেন ‘ সবসময় প্রেমিকার কথা শুনতে হয়।
আবার মাঝে মাঝে প্রেমিকার গালে দুয়েকটা থাপ্পড় না দিলে ভালবাসা শক্ত হয় না ‘
.
মানুষের টেইক কেয়ার বা খোঁজ খবর নেয়ার একটা লিমিট আছে। অতিরিক্ত হয়ে গেলে সেটা আর টেইক কেয়ার থাকেনা।

প্যারা হয়ে যায়।

যেমন ধরুন একধরণের প্রেমিকা প্রজাতি আছে তারা এরকম করবে ‘ বাবু ঘুম হইছে রাতে ঠিক করে?

ঘুম পাতলা হইছে না ভারি?, বাবু কী খেয়েছ?

খাবারে লবণ কম হইছে না বেশি?, বাবু তোমার জ্বর আসছে? কী মাথা ঘোরায় না পেট খারাপ করে? ‘
.
আরেক ধরণের প্রেমিক প্রজাতি আছে তারা এরকম করবে’ বাবুনি তুমি রৌদে যেয়োনা কিন্তু।

তোমার স্কিনটা নষ্ট হয়ে যাবে। বাবুনি তুমি কী জামা পরেছ আজকে?
জামাটার কী রং? আচ্ছা বেগুনী না গোলাপি? জামাটা কোন মার্কেট থেকে কিনেছ? বাবুনি তোমার বমি আসে?
চিন্তা করো না। বমি হয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ‘
.
খাবারে লবণ কম হলেও খাবার সুস্বাদু হয় না আবার বেশি হলেও সুস্বাদু হয় না। প্রেমিকাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভালবাসুন।

বেশি বাসলে আপনার দামটুকুই কমে যাবে আবার কম বাসলে অন্য কারো হয়ে যাবে।

প্রেমিককে পর্যাপ্ত পরিমাণে টেইক কেয়ার করুন।

বেশি কেয়ার করলে আপনার কেয়ার তার কাছে প্যারা হিসাবে রূপান্তরিত হবে। আবার কম কেয়ার করলে ভাববে। আপনি তাকে ভালই বাসেন না।
.
ব্যাপারটা হচ্ছে এরকম। একবার এক ছাত্রকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তার অপরাধ সে সিখারেট খায়।
তখন পাশে থাকা তার বন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে বলল ‘ স্যার আমি সাক্ষী, আপনার কসম বন্ধু এখন আর সিগারেট খায় না। ‘
স্যার তার কথা মেনে নিয়ে যে সিগারেট খায় তাকে মাফ করে দিল। পাশের বন্ধু আবারো দাঁড়াল। স্যার বলল ‘ কী ব্যাপার?

‘ বন্ধু বলল ‘ ঐ একটু আধটু মদ খায় আরকি স্যার। তবে স্যার সিগারেট কিন্তু একদম খায় না! ‘

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত