জীবনের গল্প নোনা বর্ষায়

জীবনের গল্প নোনা বর্ষায়

মৃন্ময়ীর যখন খুব কান্না পায় সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার পড়ার টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখা ঠাকুরের মুর্তিটার দিকে। এখন আর চিৎকার করে কান্না করেনা, মনে হয় সয়ে গেছে সব কিছু। এইতো ২মাস আগেও সে খুব চঞ্চল স্বভাবের ছিল। গুন গুন করে গান গাইতো। প্রতি বৃহঃস্পতিবার রাতে চোখে কাজল দিত, কপালে টিপ আর শাড়ি পড়তো। তবে অবশ্য জামার উপর দিয়েই শাড়ি পেচিয়ে নিত। আর প্রিয় মানুষটার সাথে যখন ফোনে কথা বলতো তখন মাথায় ঘোমটা টেনে দিত। হঠাত কি হল হঠাত সেই মানুষটা সাফ সাফ জানিয়ে দিল মৃন্ময়ীকে বিয়ে করতে পারবে নাহ। হিন্দু মেয়েকে কোন দিন তার বাবা মা মেনে নিবে নাহ। এর পর মৃন্ময়ীর কোন কথায় মানুষটা শুনতে চাইলো নাহ। সব কিছুই মানুষটা নিয়ে গেলো সার্থপরের মত। একবারও জানতে চাইলোনা তার কথা। এখন রাত ২ টা। সারা পৃথিবী নিঃশব্দে ভোরের অপেক্ষা করছে। আর মৃন্ময়ী অপেক্ষা করছে মৃত্যুর জন্য। একটু আগেই বাবার ঔষধের বাক্সের সব কয়টা ঔষধ খেয়েছে। অনেকক্ষণ হয়ে গেছে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। মৃন্ময়ী ভয় পাচ্ছে যদি না মরে যায় তাহলে অনেক সমস্যা হবে। কারন বাবা মার ঘরে একটা চিঠি লিখে এসেছে। সে হেলতে দুলতে গিয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিল। শেষবারের মত ফোন করলো সেই মানুষটাকে যাকে ভালবেসেছে সবটুকু দিয়ে। নাম্বার ওয়েটিং…আবার করলো ওয়েটিং.. মৃন্ময়ী নিজের অজান্তেই জোড়ে হেসে উঠলো। চোখের পাতার উপর সুর্যের তীক্ষ্ণ আলো যখন এসে পড়ে মৃন্ময়ী তখন আরও জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে থাকে। সে জানে মা এই কাজটা করেছে। সকালে জানালার পর্দা সড়িয়ে দেয়া তারই কাজ। মৃন্ময়ী অপেক্ষা করছে মা এসে তার মাথার পাশে বসবে। ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছে। এই নিয়মের ব্যাঘাত হয়নি কখনো। তার মা অনেক আদুরে গলায় বলবে-এই আমার মা লক্ষ্মী উঠীস না কেন, উঠ উঠ…কিন্তু যে এগিয়ে আসছে গাঁয়ে আশটে গন্ধ এইটা মা হতেই পারেনা।
-এই যে শুনছেন চোখটা খুলুন..সিস্টার এই মেয়েটার কি নাম?
-স্যার কণা দাস, ভোরে আনা হয়েছে, সুইসাইড এটেম করেছে..
-কি যে হইলো দুনিয়ায় এই বয়সেই চলে যেতে চায়..Strange
মৃন্ময়ী ভয়ে চুপসে গেছে,চোখ আরও জোড়ে বন্ধ করে রেখেছে। এরা কারা! মা কোথায়! ভয়ে ভয়ে চোখ মেলে তাকালো, একজন হামটি ডামটির মত দেখতে সাদা পোশাক পরা মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে পাশে একজন নার্স।
-কি খবর খুকি। এখন কেমন আছো, কোন চিন্তা নেই কালকেই বাড়ি যেতে পারবে।
-আ আ আমি কোথায়!!
-তুমি এখন আমার ক্লিনিকে…
-মা কোথায়,মা.. -কাদছো কেন? মা আসবে তোমার জন্য প্রার্থনা করছে।
-শুনো খুকি নিজেকেকে ভালবাসতে শিখো তারপর অন্যকে, কাল তোমাকে ছেড়ে দিবে, আর হয়তো তোমার সাথে দেখা হবে না ভালো থেকো।
মৃন্ময়ীকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। সব কিছুই স্বাভাবিক আছে। বাসায় মাত্র তিনটা প্রাণী বাবা মা আর মৃন্ময়ী। এই ঘটনা কাউকেই জানানো হইনি। হয়ত মেয়ের দূর্নাম হবার ভয়েই বাবা মা চেপে গেছে। মৃন্ময়ীর শরীর প্রচন্ড দূর্বল। হয়ত আরও কিছুদিন সময় নিবে পুরোপুরি সুস্থ হতে। সকালে তার একমাত্র বেস্টফ্রেন্ড অবন্তী এসে দেখে গেছে। অনেকক্ষণ ছিল অবন্তী, অনেক কথা বলেছে দুজনে। অবন্তী ঐ মানুষটার কথা তুলতেই মৃন্ময়ী কেদে ফেললো।
-কি ভুল করেছিলাম কিছুই বলে গেলো নাহ, তুইতো জানিস ওর জোড়াজুড়িতেই শুরু করলাম কিন্তু কেন?? কেন এমন করল!!মানুষ কেন এমন করে!!
-দোস্ত শান্ত হ.. ওই মানুষটাই ভালোনা, কালকে আরেকজনের সাথে দেখলাম, বাদ দে সব নতুন করে শুরু কর।
মা রাতের খাবার মৃন্ময়ীর ঘরে এনে খাইয়ে দেয় এখন। খেতে খেতে কথা বলতে মৃন্ময়ীর একদম ভালো লাগে নাহ। কদিন ধরে মা খুব জ্বালাতন করছে। বড় মামা নাকি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। মৃন্ময়ী ভাল করেই জানে মা বাবাই তাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে।
-শোন ছেলে খুব ভালো, সরকারী ব্যাংকে চাকরি করে।
-মা এখন কেন!! আমার লেখা পড়াওতো শেষ হয় নাই।
মা আর কথা বাড়ায় না। মৃন্ময়ীর রাগ কে তারা খুব ভয় পায়। পাছে আবার খারাপ কিছু ঘটিয়ে ফেলে তাই জোড়াজুড়ি করে নাহ। এখন অনেক রাত। সবাই ঘুমিয়ে আছে। মৃন্ময়ীর ঘরে আলো জ্বলছে। সে ইচ্ছে করেই জ্বালিয়ে রেখেছে। ভয় পায়, খুব ভয়। কিসের ভয় সে ভেবে পায় না। একটা ‘মানুষের ভয়’ নাকি একটা ‘বস্তুর ভয়’; ভাবতে ভাবতে মৃন্ময়ী জামা তুলে পেটে হাত দেয়। মনে মনে বিড় বিড় করে
-এখানে কে ছিলি আমি জানি নাহ, আমাকে মাফ করে দিস। আমি খুনি নই।
প্রায় একমাস পেরিয়ে গেছে। এখন মৃন্ময়ী পুরাপুরি সুস্থ। কালকে ভার্সিটির হলে চলে যাবে। অবন্তীকে ফোন দিতে হবে। হলের বেডটা খালি আছে কিনা জানতে হবে। বাড়িতেও গোছগাছ চলছে। মা পিঠা তৈরি করছে। বাবা যাবে মৃন্ময়ীকে পৌছে দিতে বাস স্টান্ডে। অনেক দিন পর মৃন্ময়ী মোবাইল চালু করলো। অবন্তীকে ফোন দিল।
-কিরে দোস্ত কেমন আছিস। তোর শরীর কেমন এখন।
-খুব ভালো, কাল আসছি। হল সুপারের সাথে কথা বলেছিস!!
-হ্যা বলেছি তোর বেড খলি করে দিয়েছে। তোরে কতদিন দেখিনা। মিসিং ইউ ডারলিং।
-হা হা হা। পথে যেতে যেতে বাবা বেশি কিছু বলল না। শুধু বারবার বলল-ঠাকুর যা করেন ভালোর জন্যেই করেন। কোন চিন্তা করিস নাহ।
বাবা রুমাল বের করে চোখটা মুছে নিল। এইবার বাস যাত্রা কেমন যেন অসহ্য লাগছে মৃন্ময়ীর। আগে যতবার গিয়েছে খুবই উত্তেজিত থাকতো মানুষটার সাথে দেখা করার জন্য। তাছাড়া ক্যাম্পাসটা খুবই চমৎকার। গাছ গাছালিতে ভরা। কত শত পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে,রাতে জোনাকি, জ্যোৎস্না সব কিছুতেই পরিপূর্ণ। বাসস্টান্ড থেকে ক্যাম্পাস বেশি দূরে নাহ। সেখানে নেমে রিকসা বা অটো নিতে হয়। সবসময় ওই মানুষটাই নিয়ে যেত তাকে। মৃন্ময়ীর চোখ ভিজে যাচ্ছে। নাহ অন্য যাত্রিরা দেখলে সে লজ্জা পাবে। মৃন্ময়ী ওড়না দিয়ে চোখ মুছে ফেলল। হলের ২ তলায় মৃন্ময়ীর রুম। মৃন্ময়ীর হাতে ব্যাগ। সবাই কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। এরা মনে হয় ফাস্ট ইয়ার। ঐতো তুলি দৌড়ে আসছে।
-মৃন্ময়ী আপ্পি আসছে, মৃন্ময়ী আপি আসছে..
-কিরে তুলি কেমন আছিস।
-অনেক ভালো আছি, তুমি এত দেরিতে আসলা কেন? আমি তোমার রুমে এসে প্রতিদিন খোজ নিয়ে যাই। তোমার ফোনও বন্ধ। আমিতো ভাবছি বিয়ে হয়ে গেছে। হি হি হি।
-হা হা হা তুই একটা বাচাল।
-তুমি শুকায়ে গেছো দিদি।
রাতে ডায়নিং এ যায়নি মৃন্ময়ী। মা প্রচুর খাবার দিয়ে দিয়েছে। অল্প একটু খেয়ে অন্যদের দিয়ে দিয়েছে। এই রুমে তিনজন থাকে। অবন্তী, কণা আর মনি। অবন্তী নিজের বিছানা ছেড়ে মৃন্ময়ীর বিছানায় এসে তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। মাঝে মাঝে ফিসফিস করে কথা বলছে।
-এই শুনছিস, একটা কথা জিজ্ঞাসা করি! -কর।
-পেটের ভিতর যেটা ছিল ঐটা দেখতে কেমন রে!!
-আমি কিভাবে জানবো, আমি দেখেনি।
-এই শোন আমাকে তোর কথা জিজ্ঞাসা করছিল তোর কথা। আমি সাফ বলেছি আমি জানি নাহ। ভাল করেছি না!!
-ভালো হয়েছে এখন ঘুমা। তোর বিছানায় যাহ গরম লাগছে। মৃন্ময়ীর মেজাজ কেমন খিটখিটে হয়ে গেছে। অনেকদিন পর ক্লাসে এসে কিছুই ভালো লাগছে নাহ। বার বার তার মনে হয় কেউ তাকে মা বলে ডাকছে। সারাক্ষণ কেমন একটা ঘোর কাজ করছে। এমন তো হবার কথা ছিলো নাহ। মানুষটার লেকচার দেয়ার আলাদা স্টাইল ছিল। কথা শুনতে শুনতে কখন যে ভালোবেসে ফেলেছে মৃন্ময়ী নিজেও জানে না। এখানকার অনেক ছাত্রীই এই মানুষটার জন্য পাগল। মানুষটাকে সে অনেক ভালবাসতো, খুব বিশ্বাস নিয়েই তার একটা অংশ নিজের ভিতরে ধারন করতে চেয়েছিল। তার সেই দিনের কথা এখনো মনে আছে। সেই মানুষটা যেখানে থাকতো সেই ঘরে প্রথমবার গিয়েছিল। মৃন্ময়ী ভেবেছিল কিছুক্ষণ গল্প করেই চলে আসবে। গল্প দিয়েই শুরু হয়েছিল, কিন্তু মানুষটা একটু একটু করে বেশ কিছু সময় নিয়েই বীজ বুনে দিল কিছু বুঝার আগেই। মৃন্ময়ী খুব কেদেছিল। কণার কান্না থামিয়েছে ওই মানুষটাই। বুকে রেখেই প্রতিজ্ঞা করলো বাড়িতে না মানলে আলাদা থাকবে। কিন্তু সেইদিনের পর থেকেই লোকটা কেমন যেন অন্য রকম হয়ে গেল।
-কিরে মৃন্ময়ী কি ভাবছিস।
-স্যার কিছু নাহ। শরীর ভালো লাগছে নাহ।
-নাহ স্যার কিছু নাহ, এমনি..
এই স্যারটা বয়স অনেক বেশি সবাইকে তুই তুই করে ডাকে। মৃন্ময়ীর খুবই আদর করে। স্যারের ডাকেই মৃন্ময়ীর হুশ ফিরে এলো। কিন্তু এইভাবে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়। আগের মত কোন আনন্দ করতে পারছে নাহ, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে পারছে নাহ নদীর পাড়ে। কিভাবে হারিয়ে যাওয়া নিজেকে খুজে নিবে, কেমন করে। মৃন্ময়ী ঠাকুরের নাম জপতে থাকে। একদিন ক্লাস শেষে হলে ফিরছিল মৃন্ময়ী। করিডোরে সেই মানুষটার মুখোমুখি পড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। মানুষটার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গাঁ থেকে ভোস ভোস ঘ্রাণ বেরুচ্ছে, চুলের স্টাইল চেঞ্জ করেছে। হয়ত নতুম কোন উর্বর মাটিতে পাপের বীজ বুনতে চলছে। লোকটা মৃন্ময়ীকে না চেনার ভান করে পাশ কেটে চলে গেলো। রাতে টেবিল লেম্পটা জ্বালিয়ে মৃন্ময়ী পড়তে বসেছে। সবাই ঘুমিয়ে গেছে। নাহ কে যেন ডেকেই চলছে মা মা মা। মৃন্ময়ী কান হাত দিয়ে চেপে ধরলো। তবুও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে।
-মা ওমা আমি কিন্তু একটুও রাগ করিনি, মা তুমি ভয় পেওনা…মা ও মা..
মৃন্ময়ী চিৎকার দিয়ে চেয়ার থেকে পড়ে গেলো। আজ প্রাক্টিকাল ক্লাস। মৃন্ময়ীর কপাল ফুলে আছে, ঠোটে রক্ত জমাট বেধে আছে। কিভাবে হয়েছে তার কিছুই মনে নাই। অবন্তী বলছিল রাতে তার চিৎকার শুনে উঠে দেখে মেঝেতে সে পড়ে আছে। স্যার একটা কবুতর এর পোস্টমর্টেম দেখাচ্ছে। কেচ কেচ আওয়াজ করে বুকটা ফেড়ে দিল। মৃন্ময়ী আর সহ্য করতে পারলো নাহ। দৌড়ে টয়লেটে চলে গেলো। হর হর করে বমি করলো। বিকালে নদীর পাড়ে মৃন্ময়ী একা একাই দাঁড়িয়ে রইলো। ঠিক ঐ জায়গায় যেখানে মানুষটির পা ধরে মিনতি করেছিল তাকে ছেড়ে না যেতে। মানুষটি কোন কথাই শুনলো নাহ। স্রেফ জানিয়ে দিল-আমি কোন ঝামেলায় জড়াতে পারবো নাহ। এখন আমার কেরিয়ারের বুমিং টাইম। পি.এইচ.ডির জন্য অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছি। প্লিজ পা ছাড়ো। যা হয়েছে ভুলে যাও। আর হাসপাতালে গিয়ে ঐটার ব্যাবস্থা করে নিও। মৃন্ময়ী কোন কথাই বলেনি আর। লোকটা একবারও পিছু ফিরে তাকায়নি। মৃন্ময়ী বড় বড় চোখ করে লোকটার চলে যাওয়া দেখছিল। মৃন্ময়ী খুনি হতে চায়নি তাই নিজেকেই শেষ করে দিতে চেয়েছিল।
-এই কণা এই শুনছিস..
-কিরে চিৎকার করছিস কেন!!
-তোরে আমি পুরা ক্যাম্পাস গরুখোজা দিলাম। আর তুই এইখানে।
-কি হয়েছে বল?
অবন্তী অনেক গুলা কথা একসাথে বলতে গিয়ে তোতলাতে শুরু করলো। কথার সারমর্ম হচ্ছে ঐ লোকটা দেশের বাইরে যাচ্ছে পি.এইচ.ডি করতে। সামনের সপ্তাহে নাকি ফ্লাইট। আরও বলল প্রাক্টিকাল ক্লাস থেকে নাকি সার্জিকাল নাইফ চুরি হয়েছে। স্যার খুবই রেগে গিয়েছে। মৃন্ময়ী দুপুরের খাবারের পর হলের বাগানে নেমে এল। মোবাইল থেকে লোকটাকে ফোন দিল। দুবার কল কেটে দেয়ার পর ফোনটার ওপাশ থেকে লোকটার গলার আওয়াজ এল।
-হ্যালো, বার বার ফোন দিচ্ছ কেন?
-এমনি কংগ্রাচুলেশন আপনাকে। আপনার সপ্ন পূরণ হয়েছে।
-হ্যা হ্যা ঠিক আছে, আর কিছু বলবা।
-না তবে শেষ বারের মত আপনাকে একটু দেখতে চাই।
-পাগল হয়েছো, নাহ সম্ভব নাহ।
-প্লিজ সন্ধ্যার পর নদীর পারে, প্লিজ আর হয়ত কখনোই দেখা হবে নাহ। আমার কথাটা প্লিজ রাখবেন। সন্ধ্যার পরে ওপাশটাতে কেউ যায় নাহ, তাই কেউ দেখবে না আমাদের। প্লিজ আসবেন তো!!
-উমম ঠিক আছে আমি আসবো।
ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে গেছে। ৮টার ভিতর হলে ঢুকতে হবে মৃন্ময়ীকে। এখনো বেশ কিছু সময় আছে। মানুষটা মনে হয় ভয় পেয়েছে, তবে মৃন্ময়ীর মন বলছে সে আসবেই। ঐতো মোবাইলের আলো জ্বেলে কে যেন এগিয়ে আসছে।
-কি বলবা জলদি করো।
-আমাকে শেষ বারের মত একটু আদর করবা প্লিজ।
-কি যা তা বলছো।
-কেন লজ্জা পাচ্ছ, সেইদিনতো লজ্জা পাওনি যখন আমার শরীরটা নিয়ে খেলছিলে.. হা হা হা নাকি ভয় পাচ্ছ হা হা হা হা।
মৃন্ময়ী মানুষটাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে অভয় দিল। শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। লোকটা প্রাণপণে নিজেকে ছাড়াবার চেষ্টা করছে। মৃন্ময়ীর কোন হুশ নেই, উপুর্যপুরি আঘাত করলো লোকটার ঘাড়ে। আধারে কিছুই দেখা যাচ্ছে নাহ। তবে সার্জিকাল নাইফটা চকচক করছে মনে হয়। মৃন্ময়ীর ছুরিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোই লাগছে। মানুষটা মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বয়ে যাওয়ার আওয়াজ হচ্ছে। পাপীর কালো রক্ত বয়ে যাচ্ছে ব্রক্ষপুত্রের জলে। তবে মানুষটার চেহারা দেখা যাচ্ছে নাহ। ভালোই হল আজ এই ঘন আধার মানুষটাকে গ্রাস করে নিল। হলে ফিরে মৃন্ময়ী সোজা গোসলে ঢুকল। ঝর্ণার পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে চোখের নোনা জল আর সকল কালিমা। অনেকদিন পর রাতে একা একা মৃন্ময়ী হলের ছেদে উঠেছে। আকাশে চাঁদ উঠেছে বিশাল। মৃন্ময়ীর চোখের তারা জ্বলজ্বল করছে। আজ প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে সে। মনে মনে বিড়বিড় করে বলল-ওরে আমার সোনা মানিক তোকে অনেক ভালোবাসি, অনেক বেশি।
——– উৎসর্গঃ নিভৃতে অনেক প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে, যাবে এইটাই আধুনিক সমাজ। এর সাথে তাল রেখে চলতে হবে, জলাঞ্জলি দিব মনুষ্যত্ব আর মানবতা। সোনামানিক তোরা আধার মানুষ না দেখে ভালোই করেছিস। অনেক ভালবাসা, ভালথাকিস। আমাদের ক্ষমা করিস।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত