হাফ হার্ট

হাফ হার্ট

বাহিরে ঝিরিঝরি বৃষ্টি হচ্ছে নিধি বায়না করছে বৃষ্টিতে ভিজবে কিন্তু অনিক কিছুতেই রাজি হচ্ছে না – এই, চলো না একটু আমার খুব ভিজতে ইচ্ছা করছে
– তুমি একা যাও, আমি যাবো না
– তুমি যাবে না তাহলে?? ( রাগি কণ্ঠে) – নাহ, যাওয়া সম্ভব না, তুমি তো জানোই আমার বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসে, ঠান্ডা লাগে।
-….. ( রাগ করে বসে আছে কোনো কথা বলছে না)
কিছুক্ষণ যাওয়ার পর দেখলো যে আজ যদি তার সাথে না ভিজে তাহলে মেয়েটা সত্যি অভিমান করবে। তাই রাজি না হয়ে পারলো না
– ছাদে চলো
– যাবো নাহ
– যাবে না মানে???
– যাবো না মানে যাবো নাহ মেয়েটার রাগ ভাঙ্গানোর জন্যে তাকে কোলে নিয়ে সেই চার তলার উপড়ে উঠলো। ছাদে গিয়ে তারা ঝিরিঝরি বৃষ্টিতে কিছুসময় বৃষ্টি বিলাস করলো । রাতের বেলা অনিক শুয়ে আছে কাথাঁ গায়ে দিয়ে, হ্যাঁ সত্যি তার জ্বর এসেছে। সে জানতো তার জ্বর আসবে, কারন এ পর্যন্ত সে যতবার অনেক্ষন বৃ্ষ্টিতে ভিজেছে ঠিক ততবার ই তার জ্বর এসেছে। নিধি তার পাশে বসে মাথায় হাত বুলাচ্ছে। — আমার জন্যেই তোমার এরকম হলো তাই না??
– আরে নাহ, তোমার জন্যে হবে কেন? আমার আগে থেকেই এরকম হয়
— মিথ্যা বলো কেন?? ( কান্না করতেছে) — সত্যি জান।আর তুমি কান্না করতেছো কেন? ঠিক হয়ে যাবো তো।
—- হুম সব দোষ আমার।
— — কি যে বলো না পাগলি, এখন শুয়ে পড়ো।
যদিও শুয়ে পড়লা কিন্তু সারারাতে সে এক মিনিটের জন্যেও চোখের পাতা এক করতে পারে নি চিন্তায় এবং সারারাত কান্না করেছে।
সকাল ৯ টার বেশি বেজে গেছে, অনিকের কলেজে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। ( অনিক সরকারি কলেজের প্রভাষক)
— আজ তোমার যেতে হবে না।
— আরে কোনো সমস্যা হবে না, চিন্তা করো না
– —- তুমি যাবে না বলছি যখন যাবে না, প্রিন্সিপালের কাছে বলে দাও তুমি অসুস্থ তাই আসতে পারবে না।
—- আচ্ছা আচ্ছা বলে দিচ্ছি তোমার হাত থেকে তো আর রেহাই নেই।
— আমি তোমাকে অনেক প্যারার মধ্যে রাখি তাই না। যাও আর কখনই তোমাকে কিছু বলবো না।আমি চলে যাবো না ফেরার দেশে
নিধির শাসন গুলো অনিকের কাছে মোটেও বিরক্ত লাগে না বরং খুব ভালো লাগে। —- এসব কি বলো, এসব কথা মুখেও আনতে নেই তুমি না থাকলে আমিও বাঁচতে পারবো না।
কারন তুমি হলে আমার “” হাফ হার্ট “”। — হয়ছে এখন শুয়ে থাকো আমি অন্যান্য কাজ সেরে আসি।
— সারাদিন শুয়ে শুয়ে বোরিং লাগে, চলো না বিকেলে কোথাও ঘুরে আসি। — যাবো যদি তোমার শরীর ঠিক হয়। —- আচ্ছা।
বিকেলে তারা রেডি হচ্ছে বেরুবে বলে —- তুমি কিন্তু সেই শাড়িটা পড়বে যেটা আমি তোমাকে প্রথম বিবাহ বার্ষিকী তে দিয়েছিলাম।
—- ওকে, আর হ্যাঁ তুমি কিন্তু সেই পাঞ্জাবি টা পড়বে।
তাদের বিয়েটা এরেঞ্জ ম্যারেজ হলেও তাদের মাঝে ভালবাসার কমতি নেই। দুজনে দুজনকে ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। তারা নদীর ধারে বেড়াতে এসেছে, নদীর কিনারা দিয়ে সাদা কাশফুল। কি মনোরোম দৃশ্য দেখেই তাদের মন ভরে গেলা।
দুজনে বসে কথা বলছে, দুজনে কথা বলছে বললে ভুল হবে নিধি শুধু কথা বলেই চলছে আর অনিক তার দিকে তাকিয়েই আছে, আর তাকিয়ে থাকবেই না কেন? নিধিকে আজকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে, চুলগুলো খোলা, বাতাসে উড়তেছে যা তার সৌন্দর্য কে আরো বাড়িয়ে তুলছে
—- কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?? ( তখন ও তার হুশ ফেরেনি)
—- এই যে মিঃ, যে ভাবে তাকিয়ে আছেন মনে হয় কোনো দিন দেখেন নাই —- তুমি এতো কিউট কেন?? পুরাইর কিউটের ডিব্বা।
—- হাইরে পাম
—- আমি তোমাকে পাম দিচ্ছি এটা বলতে পারলা??
—- হুম, পাম ই তো।
—- হ, আমি তো তোমাকে পাম ই দেই ( অভিমান করে)
—- ওরে মা, আমার বাবু টা দেখি অভিমান ও করতে পারে।
—-হুম, এখন চলো।
কয়েকদিন পর রাত এগারটা পনের বাজে তখন —- শোনো, একটা কথা বলবো রাখবা?? —- তোমার কোনো কথা কি আমি আজ পর্যন্ত না রেখে থেকেছি?,
— তা বটে
—– হুম, বলো কি?
—- আমার জন্যে আইসক্রিম নিয়ে আসো —- কিহ!!! এখন??
— জানতাম তুমি এরকম করবে, তাই বলতে চাচ্ছিলাম না।
—- এখন কি দোকান খোলা আছে?? আমার তো মনে হয় না।
— তা জানি না, যেখান থেকে পারো নিয়ে আসো, আমার খুব খেতে ইচ্ছা করছে। মেয়েটা মাঝে মাঝে অদ্ভুত অদ্ভুত আবদার করে বসে, আর সেগুলো অনিক অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে। আর পূরন করবেই না বা কেনো, তার কাছে তো নিধি টাকা পয়সা, দামি গহনা কিচ্ছু চায় না, শুধু মাঝে সাঝে আজব আবদার করে বসে।
নিধির কথা মতো অনিক বেড়িয়ে পড়লো আইসক্রিম আনতে।
কিন্তু নিকটস্থ কোনো দোকান ই খোলা পেলো না। তাই সে গাড়ি নিয়ে একটু দূরেই চলে গেলো।
আইসক্রিম নিয়ে বাসায় আসলো —- এবার খুশি তো?
—- হুম, তুমি আমাকে এতো ভালবাসো কেন??
—- কৈ তোমাকে ভালবাসি।।। আমি তোমাকে ভালবাসি না
— তাহলে এতো কষ্ট করে আমার আবদার গুলো পূরণ করো কেন??
— আমার হাফ হার্টের হাসিমুখ দেখার জন্যে, যে মুখের দিকে তাকালেই আমি স্বর্গীয় সুখ পাই।
আজ ১৮ তারিখ , তাদের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী। তাই অনিক শপিং এ গিয়ে তার জন্যে গিফট কিনে আনলো। তাদের বাসার ছাদটা মনের মতো করে সাজালো অনিক, তাকে চমকে দিবে বলে। অপরদিকে নিধিও তাকে জীবনের বেস্ট গিফট দিবে আজ।
পুরো ছাদটা খুব যত্ন করে সাজিয়ে — একটু ছাদে আসো তো
—- ছাদে কেন আবার??
— আরে আসই না
ছাদে গিয়ে দেখলো অন্ধকার তাই ফিরে আসতে ঘুরে তাকাতেই অনিকের ফোন — পিছনের দিকে তাকাও
পিছনে তাকিয়ে সে চমকে উঠলো, কারন অনেকগুলো ক্যান্ডেল জ্বালিয়েছে অল্প সময়ে, পুরাই ম্যাজিকের মতো। — আজকের দিনের কথা মনে আছে? ( অনিক) — হুম, ভু্লার মতো না
— হুম, আজকে তোমাকে তোমার একটা গিফট দিবো।
—- কি??
— এখন খুলবে না, পরে খুলে দেখবে। — আমিও তোমাকে আজ সবচেয়ে বড়, একটা গিফট দিবো। শুনলে তুমি খুশিতে আত্নহারা হঢে যাবে।
— বলো , বলো কি??
— তুমি বাবা হতে চলেছো।। ( কথাটা বলার পর লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে গেলো।) — কিহহহ!!! এটা তুমি আগে বলো নি কেনো !!!
— সারপ্রাইজ দিবো বলে।
—- এজন্যেই তো তুমি আমার হাফ হার্ট। আর হ্যাঁ আমাদের সন্তানের নাম কিন্তু নিঝুম রাখবো (ছেলে হলে) আর মেয়ে হলে ইফতি। অতঃপর দুজনের একটা হাসির ইমু…

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত