আসামীর প্রেম

আসামীর প্রেম

এই প্রথম কেয়া একা একা চট্রগ্রাম যাবে I যদিও বাবা আসতে চেয়েছিল কিন্তু অতশত ভেবে অার আসা হয়নি I কেয়া শবে মাত্র অনার্স তৃতীয় বর্ষে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে I প্রথম দিকে ছোট ভাই রাহুল অতবা বাবা আনা নেওয়া করত I কিন্তু এখন সব কিছুই চেনা জানা তাই আর কেউ অানা নেওয়ার দরকার হয় না I গোধূলিতে করে যাবে কেয়া I তাই ট্রেন আসার পনের মিনিট আগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল ষ্টেশনে যথারীতি অপেক্ষা করতে লাগল I ভ্রাম্যমাণ যাত্রীদের অপেক্ষা করা কক্ষটা তেমন পছন্দ না হওয়ায় কেয়া পায়চারি করতে লাগল I আচমকায় অাষাঢ়ের বৃষ্টির মত হঠাৎ ঘোষণা করল রেল কর্তৃপক্ষ I যে_ মাঝপথে রেল সংযোগ সমস্যা থাকায় আরো এক ঘন্টা পরে রেল আসবে I ঘোষণা শুণার পর কেয়ার যেন অপেক্ষারত আরেকটা ঘন্টার মুখোমুখি হতে হবে ভাবছে I এই ভেবে কি করবে তখন কেয়া I তাই হাতব্যাগ থেকে পুরানো একটা ম্যাগাজিন পড়া আরাম্ভ করল I এ পড়াতে যে বিন্দু মাত্র মনোযোগ নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না I
আকাশের নীলে নীলিমার লাল আভা ভর করল I একে একে সব ল্যাম্পপোস্ট জ্বলে উঠল I কিন্তু এখনও সেই কাঙ্খিত এক ঘন্টা শেষ হলনা কেয়ার I স্টেশনের অপরিচিত লোকদের কর্মকাণ্ড একদম পছন্দ হচ্ছে না।যা ইচ্ছে তাই করছে I কি আর করা I এমনটাও হচ্ছে না বাড়িতে ফিরে যাওয়ার I এ ভাবতেই হুইসেল বেঁজে উঠল ট্রেনের I কি যে অনন্দ I মনে হল বৃষ্টি দিনে গোমড়ো মুখে ক্লাসে বসে থাকা I হঠাৎ দপ্তরির ঘন্টা বেঁজে উঠার মত I ডং ডং শব্দে করে চলেছে ট্রেন I জানালার পাশে বসে এমন একটা ভ্রমন মোটেও মন্দ নয়। ভাবছে কেয়া I
দুপুরের সেই তাড়াহুড়ো করে খাবারের পুষ্টি শরীরে এই মুহূর্তে নেই কেয়ার I সামনে স্টেশনে নেমে অনন্ত দুটো কলা আর একটা কেক হলেও খেতে হবে I ট্রেন থামল I কলা কেক কেনা হল I কিন্ত খাবে কি করে কেয়া I মুখোমুখি সিটে বসে আছে একটা মাঝ বয়সী লোক। আবার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েও আছে I কি যে করি I যাই হোক অন্তত ভদ্রতা বলেও তো একটা কথা আছে I একবার বলি,কলা আর কেক সমান ভাগ করল I এবং বলল এই যে নিন I এবড়ো তেবড়ো ভাবে তাকিয়ে আছে লোকটি। কিচ্ছু বলছেনা, আবার খাচ্ছেও না I এবার আমার খেতে হবে I খাওয়া শুরু হল কেয়ার I কিন্তু তখন আমতা আমতা করে লোকটিও খাচ্ছে I সে সময়ে কেয়ার অজানা মৃদু হাসিটা লাগছে বেশ I লোকটিও এক গাল হেসে নিল I
ট্রেনে এরকম করে খাওয়ানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ I আমার নাম রাকিব I কেয়া থমকে গেল I উনাকে তো আমি বলিনি পরিচয় দেয়ার জন্য I তবুও কেন বাড়িয়ে পরিচয় দিচ্ছে I যথা তথা ভেবে কেয়া বলল, ধন্যবাদের কি হল I এটা তো নূন্যতম ভদ্রতা I হা হা হা I হাসছেন কেন? না__ আপনার শিষ্টাচার সত্যিই ভাল লেগেছে আমার I যদিও এ ভাল লাগাটা এই মুহুর্তে কেয়ার কিচ্ছু যায় আসেনা I তবুও এরকম একা একা বসে থাকার চেয়ে একটু আধটু কথা বললে খুব একটা মন্দ নয় ভাবছে কেয়া I
কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাবলুকে ধরার জন্য পুলিশ লোভনীয় টাকা পুরস্কার ঘোষনা করল I আনাচে কানাছে লিফলেট বিতরণ করা হল I মৃত অথবা জীবিত যেভাবেই হোক বাবলু কে ধরতেই হবে I কিছু জনসাধারণও টাকার লোভে হণ্যে হয়ে খুঁজছে বাবলুকে I কিন্তু বাবলু ফালালো চট্রগ্রামে I নিজের নাম বাবলু গোপন করে পরিচয় দেওয়ার যুবকটিই কেয়ার চোঁখে রাকিব I
-হ্যালো রাকিব I তোমাকে আজ আমি খাওয়াব I ঠিক
দুপুরে হোটেল তৃপ্তিতে এসে পড়বে কিন্তু I
-রাকিব: না সোনা I দুপুরে একটু কাজ আছে I আমরা এক সাথে রাতের খাবার খাব কেমন ( গা ঢাকা দিয়ে দিন রাত পাড় করছে রাকিব I কেউ চিনি ফেলবে করে দিনে বেরুতেই ভয় রাকিবের I কিন্তু কি করবে কেয়ার নাছুড়বান্দা পাগলামীকে জিবন বাঁজি রেখেই পালন করতে হয়) I আচ্ছা তোমার দিনে দেখা করতে কি এমন অসুবিধা? কই না তো I তেমন অসুবিধে নেই I টুকটাক কাজ থাকে সেজন্য রাতেই ভাল লাগে তোমার হাত ধরে ফুটপাতে হাঁটতে I হয়েছে হয়েছে আর ভালবাসা দেখাতে হবেনা (হেসে কেয়া) I এক চিমটি হাসে রাকিবও (কিন্তু কি কাজ করে রাকিব I সেটা এখনও জানা হলনা কেয়ার) I
রাকিব ভাবে, এভাবে বিয়ে করাটা মোটেও ঠিক হয়নি I কি আর করা__ কেয়ার যথারীতি প্রেশারে বিয়ে করতে বাধ্য হল রাকিব I ক’দিন ধরে রাকিবের মনটা বেশ ভাল নেই I সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকে রাকিব I তবে কেয়ার প্রাণবন্ততায় রাকিব বেশ সুখেই অাছে I চলছে রাকিব অার কেয়ার দাম্পত্যজীবন I
কেয়া প্রেগন্যান্ট I প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে I এখানে এমন কেউ নেই যে একটু হলেও কেয়াকে দেখভাল করবে I কিন্তু রাকিব কিভাবে রুম থেকে বেরুবে ঠিক মাথায় আসছেনা I কেয়ার এরকম অবস্হায় রাকিব ছাড়া কে হাসপাতালে নিবে দ্বিতীয় এমন নেই I এদিকে কেয়ার অবস্হা অসম্ভব খারাপ I নয় দশ ভেবে রাকিবই কেয়াকে নিয়ে হাসপাতালে গেল I কেয়াকে এডমিট করতেই স্হানীয় লোকজন রাকিবকে (বাবলু) চিনে ফেলল I মুহূর্তেই পুলিশ ধরে নিয়ে রাকিবকে I
আগামী সোমবার রাত ১২:০১ মিনিটে রাকিবের ফাঁসি I জেলখানায় বসে রাকিব ভাবে, সোমবার একটি প্রেমের ফাঁসি হবে I যদি জানতাম প্রেম এত মধুর এত মায়ার I তাহলে হয়ত হাতে অস্ত্র নিতামনা I

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত