ভালবাসার জয়

ভালবাসার জয়

কলেজ থেকে বাসায় ফিরছি ,হঠাৎ
কারো সাথে ধাক্কা খেলাম তাকিয়ে দেখি,
একটা কাকের বাঁসার মত চুল ওয়ালা,
একটা বকাটে ছেলে , ধ্যাত ভাল্লাগেনা
আমার মোবাইলটাই পরে গেলো।
-স্যরি আপু নিন (আমার মোবাইল ওপেন করতে করতে)
– হয়েছে নায়ক ভাব ধরছ হু
ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়ে স্যরি
-সত্যি আপু আমি খেয়াল করিনি।
.
এর কয়েক দিন পর
.
-তুমি আমার দিকে আর কখনোই তাকাবেনা।
-OK
-তাকাবেনা বলে তো ঠিকই আমাকে দেখলেই
তাকিয়ে থাকবা, তোমার কথা
কখনোই ঠিক থাকেনা….!
-কি আমার কথা ঠিক থাকেনা
আইচ্ছা আমার চোখ এখন থেকে আর কখনোই তোমার
দিকে যাবেনা প্রমিস
-আবার চোখ দিলে কেন?
-দিলে কি হইছে
-তুমি যে প্রমিস করলে তোমার চোখ
আমার দিকে তাকাবে না
-এই যে এইটা ডিজিটাল প্রমিস
-ও এই প্রমিস এর অর্থ ইকটু পর
ভুলে গেছি ।
-এইজন্যই তো চোখে চসমা দিয়া তাকাইছি
-বুদ্ধু একটা আমার!
-আমি তোমার দিকে না তাকালে
তুমি যদি আমাকে ভুলে যাও
-অই তোমাকে ভুলব কেমনে হুম একটা লাথি দিমু তুমার
গুয়ায়
-হা হা হা
-মশা ঢুকবে মুখে
-তুমি বের করে দিবা
-তুমি তো অনেক দূরে লাথি দিবা ক্যামনে
-কেন্ চোখ বন্ধ করে ।
-হি হি হি অকে।

—- এই শুন্ ফোন কাটবিনা
—- কেন?
—- আমি বলেছি তাই
—– ইস্ শখকত বললেই হলো আমি রাখলুম।
—- তোকে এত বকা দেই,তোর লজ্জা নেই?
—- অই কি করছি আমি লজ্জা লাগবে ?হুম
—- তুই আজকেও বৃষ্টিতে ভিজছিস
—অই আমি বৃষ্টিতে ভিজলে তোর কি সমস্যা ?
—- আমারই তো সমস্যা, তোকে ফোন করলে
খুক খুক করতেই তো থাকিস। কথা তো বুঝিনা।
—-বেশ করছি আরও ভিজব। তুই আমার
কথা না শুনলে আমার কি।
—- ঠ্যাং ভাইঙ্গা হাতে তুলে দিব আর যদি
বৃষ্টিতে ভিজতে দেখি।
—তোর বকা শুনেতে আমার ভাল্লাগেনা
— হারামী পেত্নি
—- কি
— কাছে থাকলে এখন না কানের নিজে একটা
দিতাম।
—- আহারে আমার বাপের আহ্লাদি জামাই
আমাকে মারবে।
— হুম মারবোই তো,তোকে পিটুনি দিয়ে
দিয়েই ঠিক করব।
—– এই জন্য ই ত তোকে আমার ইত্তো ভাল্লাগে।
—- হি হি হি ,
—- আচ্ছা রাখি ,পরে কথা বলছি
— OK

.টুম্পা আমাকে ভালবেসে ফেলল । । আমি অবাক
হয়েছি। হেসেছি খানিকক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে ,
তারপর আমি আকাশের দিকে হাজারো
তারার মধ্যের একটা মাএ চাঁদটার দিকে
তাকিয়ে উদাস হয়ে থেকেছি কিছুসময় ।
আমার মত
ছেলেকে কেউ ভালবাসতে পারে …
লেখা পড়া করিনি …
মাঝ রাতে
খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে তারাদের সাথে কথা
বলি , যারা
দেখে তারা আমাকে বলে পাগল । মা প্রায়ই বলে – ”
বাবা একটু দায়িত্ব নিতে শেখ , নাইলে তো কোন
মেয়ে তোকে ভালবাসবে না , বিয়ে করবে না আর
সেই ছেলেকে ভালবেসে ফেলা ।। কি হাস্যকর তাই হা
হা হা…
না !!
টুম্পা একদিন আমাকে বলল –
– কিছু একটা কাজ কর,এরপর
আমাকে নীল গোলাপ ফুল তো দিতে পারো !”
সেই থেকে আমি এখন ছোট জব করি ।
শাহবাগে ফুলের দোকানের মামার সাথে হলো
খাতির। সে প্রতিদিন দোকানের সবচাইতে তাজা নীল
গোলাপ আমি যাবার ঘন্টাখানেক আগে আলাদা
করে রেখে দিতো। দুপুরে বললো আজ নাকি
তাকে ফুলের টাকা দিতে হবেনা।তার
বান্ধবীকে নাকি এই দিনে ফুল নিয়ে
দেখা করতে যাওয়ার কথা, পথে তার বান্ধবী মারা যায়।
কতো ধরণের ভালোবাসা যে আছে পৃথিবীতে। মা
ইদানিং টের পেয়েছে তার ছেলে আর আগের মতো
নাই। বেসুরো গলায় যখন তখন রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়।
একা একা কি ভেবে হাসে। টেবিলের কোণে ঠাঁই
পেয়েছে নির্বাচিত একশো একটি প্রেমের কবিতা
আর যে ছেলে আয়নার সামনে মাসে একবার দাঁড়াত
না সেই ছেলে সময় পেলেই আয়নার সামনে দাড়িয়ে
পরে … সবচেয়ে বড় কথা ছেলেটি এখন আর রাত
হলেই পথে বের হয় না …
একদিন মাকে বললাম –
– মা লাল , নীল কাঁচের চুড়ি ভালো কোথায়
পাওয়া যায় বলতো !
মা শুনে হেসেছিল … কানমলা দিয়েছিল , আমি হয়ে
গেছিলাম লজ্জায় লাল । আচ্ছা টুম্পা কি
কাঁচের চুড়ি পরে এভাবে লজ্জায় লাল হবে ?? আর
আমি বলবো –
– এই মেয়ে তুমি কি জানো তোমার এই লজ্জায় লাল
হওয়া মুখ দেখলে লাল রঙ ও লজ্জায় মুখ লুকাবে সে
আর কি এমন লাল বলে ।।
কিভাবে যেন অসম্ভবকে সম্ভব ঘটিয়ে ফেললাম
আমি,ছোটখাটো চাকরিটা নিয়ে ভালোই আছি ।
তাতেই কি খুশি টুম্পা ! শখ করে রিকশায় উঠলাম
অনেকদিন পর। কোন এক হোটেলের কাছে নেমে
রিক্সাআলা ভাইসাহেবকে প্রস্তাব জানালো
আমাদের সাথে ভাত খাবার জন্য । রিকশাওয়ালা
ভদ্রলোক আবেগী মানুষ। অল্পতে খুশি হয় ধরণের।
লুঙ্গির কোচা দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে
স্নিগ্ধ হাসিতে বললো –
– “চলেন ”
টুম্পা বড় সাধ সমুদ্র দেখবে। আমার কাঁধে মাথা
রেখে … আমার হাত ধরে মন ভেজাবে।
আমার মন জুড়ে এক অদ্ভুত শান্তির রেশ। আমার
টুম্পার আছে। যে ভালোবাসাটা বোঝে। ভালো
বাসাটা নয়……….

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত