গরুর গোস্ত

গরুর গোস্ত
আমার আম্মু গরুর গোস্ত খায়না।এমন কি রান্না করা তরকারি কোন দিন ছুঁয়েও দেখেনা।অথচ মুসলিম যারা আছেন সবার প্রিয় খাবার গরুর গোস্ত।আম্মুকে কোন দিন গরুর গোস্ত খেতে দেখিনি।অথচ আম্মু খুব মজা করে এই মাংস রান্না করে।যদি বলি তুমি নাও না কেন আম্মু?আম্মু বলে আমার গরুর গোস্তে এলার্জি। অথচ কোন দিন পাতিলে তাকিয়ে দেখিনি কত টুকু মাংস রান্না করা হয়েছে। আমার আব্বু রিক্সাচালক।দিন আনে দিন খায়। তবুও কোন দিন আমার কোন ইচ্ছে অপূর্ণ রাখেনি। আব্বুর কাছে অনেক দিন যাবত গরুর গোস্ত খাওয়ার জন্য বায়না ধরেছিলাম। কিন্তু আব্বু কিনা নিয়ে এলো ছোট্ট একটা মুরগি। দেখে খুব রাগ হয়েছিলো। আমি খেতে চাইলাম গরুর গোস্ত।আর আব্বু মুরগি নিয়ে এলো।। সেদিন রাগ করে সারাদিন ভাতই খাইনি। কিন্তু এই টুকু খেয়াল আমিও করিনি,
আমার সাথে সাথে যে আমার বাবা মা ও না খেয়ে আছে। পরের দিন আব্বু যখন গরুর গোস্ত কিনে আনে। আর আম্মু রান্না করে দেয়।তখনই আমি আমার রাগ ছেড়ে ভাত খাই। খাওয়ার সময় আব্বুকে জিজ্ঞেস করলাম,আম্মুর না হয় গরুতে এলার্জি।তুমি খাবেনা?তুমি কেন নাওনা? আব্বু উত্তর দিলো, মারে!তোর মায়ের মত আমারো এলার্জি হইয়া গেছে। তুই খা।মন ভইরা খা।আমরা তোরে চাইয়া চাইয়া দেখি। কিন্তু সেদিন আমি খেয়াল করেও দেখিনি আমার বাবা এক কেজি মাংসও যে কিনে আনতে পারেনি।আধা কেজি গোস্ত এনেছে তত টুকু তারা আমার জন্য দু দিন করে রেখে দিয়েছে।সাথে বড় বড় দুইটা আলু দিয়ে আমাকে ঝোল করে রেঁধে দিয়েছে।সেখানে তাদের খাওয়ার মত টুকরো কই? অনেক দিন পর!!
আম্মু আব্বু নিজেদের গায়ের ঘাম ঝরিয়ে আমাকে বড় করলো,লেখাপড়া শেখালো। আমি পড়াশোনা শেষ করে চাকুরীতে জয়েন করলাম। বাসায় গরুর গোস্ত নিয়ে এলাম। আর নিজ হাতে রান্না করে আম্মু আব্বুর মুখে তরকারি দিয়ে ভাত মেখে মুখে তুলে দিয়ে বললাম, এত দিনে তোমাদের এলার্জি নিশ্চই চলে গেছে।তাইনা? আব্বু আম্মু চোখের জল মুছে উত্তর দিলো, হ রে মা।যেদিন থাইকা তুই বড় হইছস।চাকরী ধরছস।নিজের পায়ে দাঁড়াইছস। সেইদিন থেইকা আমাগো এলার্জিও ভাগছে।
গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত