পায়েস

পায়েস
সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম আম্মুর চিৎকার। আজ শুক্রবার বলে হয়তো বাবা একটু ঘুমিয়েছিল।মা বাজারে যাওয়ার জন্যে তাগাদা দিচ্ছে । আমাকে দেখা মাত্র মা বললো, এই রাজকুমার তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে বাবার সঙ্গে বাজারে যান। সকালে উঠেই মায়ের মুখে রাজকুমার ডাক শুনে মনটা ভরে গেল। কি আর করব রাজকুমার ফিল নিয়ে আবার বিছানায় গেলাম। ঘুম যে আমার অত্যাধিক প্রিয়।
অল্পতেই ঘুম চলে আসল। কিছুক্ষণ পর মায়ের তীব্র হুঙ্কারে ঘুম ভাঙল। চোখ খোলার সাথে সাথে দেখলাম,মা একটা ঝাড়ু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ ডলতে ডলতে ওয়াশরুমে ঢুকলাম। ওদিকে মা বকতেছে, তোর আর তোর বাবার গায়ে কিগন্ডারের চামড়া? বলি একটা, করিস অন্য একটা। যাইহোক ওয়াশরুম থেকে বের হতেই মা একটা বাজারের লিষ্ট হাতে ধরিয়ে দিল। বাবা ও দেখলাম ধড়ফড় করে বেরিয়ে এসে বলল, চল মারুফ তাড়াতাড়ি যাই। কি আর করব সকালে কিছু না খেয়েই বেরিয়ে পড়লাম বাবার সাথে। বাজারে যাওয়ার পর বললাম: বাবা চলো বিরিয়ানি খেয়ে তারপর বাজার করা শুরু করি । বাবা বলল: তুই খেয়ে নে।
আমি তোর মাকে ছাড়া কি ভাবে খাব? আমি বললাম: বাবা তুমি টেনশন করোনা।আমরা খেয়ে আম্মুর জন্য একটা পার্সেল নিব। বাবা বললো, তুই কি পাগল হয়েছিস? আমি বললাম: কেন বাবা? বাবা বলল, তোর মা বলছে তাড়াতাড়ি বাজার করে নিয়ে যেতে এরমধ্যে যদি শোনে আমরা রেষ্টুরেন্টে বিরিয়ানি খেয়েছি তাহলে নির্ঘাত রাতের খাবার বন্ধ করে দিবে। তুই এককাজ কর বাজারের লিষ্ট টা আমাকে দিয়ে তুই বিরিয়ানি খেয়ে আয়।
কি আর করব,বাবার কথামতো সেটাই করলাম। বিরিয়ানি খেয়ে এসে দেখলাম বাবা দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই বলল: দ্যাখ তোর মায়ের বকুনিতে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পাঞ্জাবী উল্টো করে পড়েছি সেটা খেয়াল রাখছস? বাবার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সত্যেই তো পাঞ্জাবী উল্টো। বাবা বললো: ঝামেলা বাঁধছে অন্য জায়গায় । বাজার করার পর পাঞ্জাবীতে হাত দিয়ে দেখলাম পকেট নেই। পকেট পাব কেমনে!পকেট তো উল্টো দিকে। পকেট না দেখেই ম্যানিব্যাগটা রাখছিলাম মনে হয় বাসায় কোথাও পড়ছে। তুই এক কাজ কর,বাসায় গিয়ে চুপচাপ ম্যানিব্যাগটা খুঁজে নিয়ে আসবি। সাবধান!তোর মা যেন কোন ভাবেই টের না পায়।
আমি মসজিদে গিয়ে পাঞ্জাবী ঠিক করে পড়ে আসি। বহু কষ্টে নিজের হাসি চেপে রেখে বাসায় গেলাম। বাসায় পা দিতেই মায়ের হুঙ্কার! কিরে! তোর অপদার্থ বাবা ম্যানিব্যাগ উঠানে ফেলে গেছে তুই এটা নিতে আসছিস না? আমি মনে মনে ভাবলাম, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় বাবা বলছিল মা যেন না জানে উল্টো মা জেনে বসে আছে। আমি আমতা আমতা করে বললাম: হ্যাঁ মা, ম্যানিব্যাগটা নিতে আসছিলাম। মা বলল তুই ও ঠিক তোর বাবার মতোই বোকা হয়েছিস । তোদেরকে নিয়ে আর পারছি না আমি! শুন, আজকে আমার বান্ধবী তিন্নি আসবে।ওর প্রিয় খাবার পায়েস কিন্তু বাসায় তো চিনি নেই।
এবার গিয়ে চিনি নিয়ে আসতে বলিস তোর বাবাকে। যাইহোক ম্যানিব্যাগ নিয়ে আবারো বাজারে আসলাম। বাবার সাথে বাজার নিয়ে চলে আসলাম বাসায়। বিকেল বেলা ঘুমিয়েছিলাম, আম্মুর বকাবকিতে ঘুম ভাঙল। রুম থেকে জানালা দিয়ে দেখলাম: বাবার সামনে এক বাটি পায়েস রাখা। আম্মু বলছে বাবা যেমন অপদার্থ ছেলেটা ও। বাটিতে যতোগুলি পায়েস রাখছি সব শেষ করে উঠবা। রাতে ও এই পায়েস খাবা। রাতে ভাত বন্ধ। আমার মনে পড়লো, আসলে মা তো আমাকে চিনি নিতে বলছিল কিন্তু ভুলে বাবাকে লবনের কথা বলছি! তাহলে মা ভুলে চিনির পরিবর্তে লবন দিয়ে পায়েস রান্না করছে?
বাবাকে দেখলাম আম্মুর সামনে শুধু পানিই পান করছে।পায়েস আর মুখে নিচ্ছে না। মা এক হাতে ঝাড়ু নিয়ে বলল: দেখি তোমার গুণধর ছেলের কি অবস্থা তোমার ছেলেকে আমি পায়েস লাঠি দিয়ে মুখের মধ্যে গুঁজে দিব। আম্মুর কথা শুনে কোন রকমে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে আসলাম। বাবার কথা চিন্তা করে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে আমার।
গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত