৫০০ টাকার নোট

৫০০ টাকার নোট
বাবার পকেট থেকে কচকচে ৫০০ টাকার নোট,চুরি করা মেয়ে আমি। অথচ আমি তখন চিনতামও না,কোনটা ৫০০ টাকা বা কোনটা ৫ টাকা। টাকাটা পকেট থেকে নিয়েই দৌড়ে আইসক্রিম ওয়ালার কাছে গিয়েছিলাম। আইসক্রিম ওয়ালা ৫০০ টাকার নোট দেখে আমাকে দুই টাকা দামের আইস্ক্রিম টা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন,আগামীকাল টাকা দিয়ে দিও। নিয়ে যাও এই টাকা। উনি ভালো ছিলেন বলেই হয়তো সেদিন আমার টাকাটা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। নয়তো চারশত আটানব্বই টাকা তিনি খুব সহজেই গায়েব করে ফেলতে পারতেন। তার মধ্যে মানবতা যে ছিলো। তারপর টাকাটা নিয়ে আমি একটা মশার কয়েলের প্যাকেটের ভেতর রেখে দেই।
আমি আবার ছোট বেলায় মশার কয়েলের প্যাকেটের ভেতর টাকা জমাতাম। কেউ টাকা দিলে ওখানে রেখে দিতাম। কিন্তু নিজের টাকা খরচ করতাম না। আম্মুর কাছ থেকেই চেয়ে বা আব্বুর কাছ থেকেই চেয়ে চেয়ে নিতাম,কিছু খেতে ইচ্ছে হলে। কিন্তু সেদিন আইসক্রিম ওয়ালা গান বাজাতে বাজাতে চলে যাচ্ছিলো,আর আব্বু আম্মু কাউকেই আমি পাচ্ছিলাম না তাই টাকাটা নেই। কিন্তু রাতে হঠাৎ আব্বু টাকা খোঁজা শুরু করেন। ধমকাতে থাকেন আম্মুকে,টাকা গেলো কই।টাকা গেলো কই।
আমি ভয়ে চুপ করে আম্মুর কানে কানে গিয়ে বলি,টাকাটা কয়েলের প্যাকেটে। আমি নিয়েছিলাম। কিন্তু কেন বা কিসের জন্য কিছুই বলা হয়নি আর। আব্বু সেদিন রাগ টাকে কন্ট্রোল করে আমাকে আদর করে বোঝায়, এইভাবে না বলে কারো কাছ থেকে টাকা বা কোন কিছু নিতে হয়না। এটাকে তাহলে চুরি বলে। আর চুরি করলে আল্লাহ্‌ তায়ালা অনেক বড় গুনাহ দেন। আমি সেদিন বুঝে গিয়েছিলাম চুরি কি।
আর চুরি করলে যে গুনাহ হয়।আর আমি আমার সব বন্ধুদের বলে দিয়েছিলাম চুরি কি আর চুরি করলে কি হয়।
আজ প্রায় ১৬ বছর পরও আমি বাবার পকেটে হাত দেই।এবং প্রতি মাসেই দেই। কিন্তু বাবার পকেট থেকে টাকা নিতে নয়,বাবার শূন্য পকেটে টাকা রাখতে।
গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত