প্রিয় পিতামাতার বকবকানি

কি রে ফরহাদ? এতো রাত জেগে কি করছিস এখনো? পড়াশোনার তো কোন খোঁজখবর নেই। শুধু মোবাইল টেপাটেপি করেই রাতদিন পার। আর শ্যামলকে দেখ! এখনো ওর রুম থেকে পড়াশোনার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আর আমার গাধাটি শুধু শুনেই যাচ্ছে। হয়েছে – এখন মোবাইল রেখে ঘুমিয়ে পরলে খুশি হতাম।

উঁহু! সেকি গন্ধ? বাঁদরটা সিগারেট খেয়ে ঘরের অবস্থা একদম…। এই বয়সে আবার সিগারেট। এক পয়সা কামাই করার সে কোন মুরোদ নেই সেই পোলা আবার সিগারেট খায়। এই যে নবাব সাহেব এখন উঠুন। খেয়েদেয়ে কলেজে গিয়ে আমাকে রক্ষা করুন। নইলে আপনার বাপ জান দেখলে আমারে আর আস্ত রাখতো না।

এই ঘরের মধ্যে বসে ফিসফিস করে কার সাথে বলিস? আমি কি কিছুই বুঝিনা ভাবছিস? আমি সব বুঝি। কালো জিরার গন্ধ যায়নি সেই ছেলে আবার প্রেম করে। আমিও বুঝিনা – এরকম কোন মেয়ে আছে যে আমার ছেলের সাথে প্রেম করে তাও যদি আবার একটু-আধটু পড়াশোনা করতো। আমারতো কপাল পুড়ছে মেয়েটারও কপাল পুড়ছে। বেশ কথা হয়েছে। এখন যা বাজার করে নিয়ে আয়।

কোন টাকা হবে না। বন্ধুদের সাথে আবার ঘুরতে যাবে। স্টাডি ট্যুর! আমার স্টাডি ট্যুর লাগবে না। যে ছেলেকে কখনো পড়ার টেবিলে দেখলাম না সে কি না যাবে আবার স্টাডি ট্যুরে। পড়াশোনা তো আমরাও করেছি। আমাদের সময়তো স্টাডি ট্যুর ছিলো না। আবার বেগ ধরেছে। যাও যাও। যেখানে যেতে ইচ্ছে যাও। পেটে যখন টান লাগবে তখন মিউমিউ করে একাই চলে আসবে।

কি রে? এতো রাগ কিসের? বাবা না হয় একটু বকেছেই তাই বলে কি চলে যাওয়া লাগবে? কাছে টাকা আছে? জানিতো নেই। এই নে। বন্ধুদের সাথে ঘুরে আয়। এই ফরহাদ তা কোথায় যাচ্ছিস তোরা?

জাহান্নামে।

যেখানে যাচ্ছিস যা, তবে শুক্রবারের আগে ফিরে আসিস।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত