৩১ আগষ্ট

৩১ আগষ্ট
দেখতে দেখতে ২০ বছর শেষ হয়ে ২১ বছর এ পা রাখলাম।কি ভাবে যে এতো গুলো দিন পার হয়ে গেলাম ভাবলেই অবাক হই।চলুন ফিরে যাই আজ থেকে ২০ বছর আগে চট্টগ্রাম শহরে একটা ছোট পরিবারে।রাত তখন বেজে ২ টা।হঠাৎ প্রসব যন্ত্রণায় কেদে উঠে এক মহিলা।পরিবারের সবাই তাকে নিয়ে ফেয়ার হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ডা.শাহানা তখন সেই মহিলাটিকে দেখে।মহিলাটিকে দেখার পর সে চেকআপ করে এবং সব রিপোর্ট দেখে।ডাক্তার এর পর মহিলাটির স্বামীর সাথে সে কথা বলে।তখন ডাক্তার বলে মহিলাটির স্বামীকে আপনি আপনার স্ত্রী চান না সন্তান চান।আপনার স্ত্রীর অবস্থা খুব খারাপ। যে কোন একজনকে আমি বাচাতে পারবো।ওই মহিলার স্বামী তখন বলেছিল ডাক্তার আপা আপনি যে ভাবে হোক আমার স্ত্রীকে বাচান।এরপর ডাক্তার একটা বন্ড সই নিয়ে অপারেশন থিয়েটার এ মহিলাটিকে নিয়ে যায়।এরপর মহিলাটিকে অপারেশন থিয়েটার এ নেওয়ার পর সে ডাক্তারকে বলে আপনি যে ভাবে হোক আমার সন্তানকে বাচান।
অবশ্য ডাক্তার শেষ পর্যন্ত দুইজনকে বাচাতে পেরেছেন।এর মধ্যে একজন হলাম আমি আরেক জন হল আমার মা।
পরিবারের সবাই খুশি একটা ছেলে সন্তান হয়েছে তাই। কিন্তু একটা সন্তানের জীবন এ তার মায়ের ভূমিকাতো এই সময় দিয়ে শুরু হয়।যেমন আমার বেলায়ও। এরপর আম্মুর পাশে যখন আমাকে দেওয়া হয় তখন আমি আম্মুকে দেখে একটা হাসি দিয়ে আমার হাত আম্মুর হাতের দিকে আমার হাতটি বাড়িয়ে দেই। আম্মু সেই সময় আমার হাতটি ধরে আজও সেই হাত একই ভাবে ধরা আছে।আমার আম্মু সরকারি চাকরি করে। সারাদিন কাজ করে এসে যখন দেখতো আমি কান্না করছি তখন আম্মু নিজে না খেয়ে আমাকে ধরে আমার কান্না থামাতো।ভালোবাসাতো এইখানে। যখন বেড়ে উঠতে থাকি তখন আমার জীবন এ আমার মা-বাবাই আমার কাছে আপন হয়ে উঠে। সময় যতই বাড়ে জীবন এ অনেক লোক আসতে থাকে।।
এখন মনে পড়ে আম্মুর হাত ধরে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন।আম্মু আমাকে চকলেট কিনে দিয়ে বলছে আব্বু আজ থেকে তোমার নতুন জীবন শুরু।তোমাকে বড় কিছু হতে হবে।প্রকৃত একজন ভালো মানুষ হতে হবে।
আম্মুর উপদেশ আজও আমার কানে বাজে।হয়তো আজও আম্মুর স্বপ্নের সেই ছেলে হয়ে উঠতে পারি নাই।চেষ্টা করি বাকিটা উপর আল্লাহর ইচ্ছা। আমার জীবন এ আমার আব্বুর চেয়ে আম্মুর ভূমিকা অনেক অবশ্য আব্বুর ভূমিকা কম না।সে টাকা না দিলে আর আমার ইচ্ছা পূরণ না করলে আমি হয়তো গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যেতাম। বড় যত হতে থাকি তখন আমার জীবন এ বন্ধু-বান্ধুবীদের আগমণ হতে থাকে।কারোর আগমণ হয় ক্ষণিকের জন্য আবার কারোর জীবন এ শেষ পর্যায় পর্যন্ত। আমার জীবন এ প্রথম বন্ধুর নাম মিজান আর রিয়া।অবশ্য আজ তারা দুইজন দেশের বাহিরে। একজন অস্ট্রেলিয়ায় আরেক জন কানাডায় থাকে। তারপর আম্মু যখন বরিশাল এ বদলি হয়ে আসে।তখন উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই।
শুরু হয় নতুন পথ চলা।এখনো মনে আছে ক্লাস ৩ সেই ক্লাসে আমার প্রথম বন্ধু সিয়াম।এরপর আর আমার বন্ধুর অভাব হয় নি।কিন্তু আজ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ে তখন আমার বন্ধু হয়ে আছে ওমি,ইমন, মম,অর্পিতা,দীপ্ত, দিবা, সিয়াম এরা আমার খারাপ সময় সব সময় পাশে ছিল আজও আছে আমার বিশ্বাস আগামীতেও থাকবে।
জীবন এ অনেক ভালবাসা রুপ নিয়ে আগমন করেছে আবার চলে গেছে।কিন্তু আমার জীবন এ সব সময় আমার আব্বু আম্মু আর বোন ঐশী আগেও পাশে ছিল আজও আছে। ৩১ আগষ্ট আমার জীবন এ আসবে আর যাবে। হয়তো আমিও একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবো।কিন্তু আমার মা-বাবা আমার সাথে সব সময় আছে আগামীতেও থাকবে।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত