চুমু

চুমু
পাশের ফ্লাটের ভাবির পাঁচ বছরের মেয়ে ঐশী এসে আমাকে বলল-
“- আন্টি তোমার ছেলে আমাকে চুমু খেয়েছে।
মেয়ের কথা শুনে আমি আকাশ থেকে জমিনে পরলাম। আমার ছেলে চুমু খেয়েছে। যার নিজের বয়সই সাত। ক্লাস ওয়ান এ পড়ে। আমার ছেলে প্রচুর ফাস্ট তিন বছর বসয় থেকেই ওর কথা একদম ক্লিয়ার। সে পাকনা জানতাম, তাই বলে যে চুমুু দিবে তাও পাশের ফ্লাটের পিচ্চিকে এটা জানা ছিল না। আবার মেয়ে নালিশ নিয়ে এসেছে। আমি চিন্তিত গলায় বললাম-
“- ঐশী মা তুই এসব কি বলছিস?
“- ঠিক বলছি। ও আমাকে চুমু খেয়েছে। তাও আবার আমার ঠোঁটে।
আমার ছেলে রুমে টিভি দেখছে। এবস কথা শুনে আমার মাথা ঘুরতেছে। বাচ্চা ছেলে-মেয়ে এসব কি করে আল্লাহ। ছেলেকে ডাকলাম –
“- নিশাত, বাবাই বাইরের এসো। ছেলে বাইরের এসে ঐশীকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে। আমি ওর দিকে চোখ গরম করে তাকাতেই –
“- মাম্মাম ডেকেছো।
“- তুই নাকি ঐশীকে চুমু খেয়েছিস? তুই এসব করিস কিভাবে? পাশের বাসার মেয়েকে চুমু খাওয়ার শিক্ষা দিয়েছি তোকে। তাও বয়স কত তোর বল আমাকে? (জর ধমক দিয়ে)
– এহ্হ্ আমি একা চুমু দিয়েছি নাকি। ঐশীও আমাকে জাড়িয়ে ধরেছে। হাই আল্লাহ এসব শুনে আমার মাটির নিচে চলে যেতে ইচ্ছা করছে। পাশ থেকে আমার সু পুত্রের গুণধর পিতা হেসে হেসে বলে উঠলেন-
“- সাবাশ! বেটা, একদম বাপ কা বেটা। রানা চৌধুরীর ছেলে বলে কথা। জড়িয়ে ধরলে চুমু খেতেই হবে। রাইট পাপা? ছেলে উত্তর দিল-
“- ইয়েস পাপা। পিতা পুত্রের কথা শুনে মনডা চাইতেছে কচু গাছই শেষ অবলম্বন আত্নহত্যা করার জন্য। ইতিমধ্যে ঐশীর মা, বাবা, দাদী চলে এসেছে। চুমু খাওয়ার বিচার চাইতে।
“- ভাবি আপনার ছেলে আমার মেয়ে চুমু খেয়েছে কোনো? জানতে চান ওর কাছে? (সাথে বাকিরা তাল দিল) নিশাতের পাপা বলে উঠলেন-
“- ভাবি আপনার সু কন্যাও আমার পুত্রকে জড়িয়ে ধরেছে তার বেলায়। এবার ভাবি ক্ষেপে গেলো।
“- দেখুন ভাই আমার মেয়ে ছোট বুঝে না তাই, আপনার ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছে। আপনার ছেলে কি কচি খোকা ও আমার মেয়েকে চুমু খেলো কেনো?
“- আপনার মেয়ে ছোট, আর আমার ছেলে কি বুড়ো হয়ে গেছে। না হয় চুমু খেয়েছে তাতে কি হয়ছে?
নিশাতের পাপা এই কথা বলার সাথে সাথে তুমুল আকারে বেধে গেলো? ওরা সবাই, আর নিশাতের পাপা একাই। সে কি ঝগড়া। আমার স্বামী ঝগড়াটে আমি জানতাম। তাই বলে এইভাবে মহিলাদের সাথে ঝগড়া করবে। এ যে আমি ভাবতেই পারছি না। আমি নিরবে শুধু দেখে যাচ্ছি। আমার ভীষন কান্না পাচ্ছে। একপর্যায়ে আমার ছেলে জরে বলে উঠলো-
“- সবাই চুপ (চেঁচিয়ে) আমার কথা শুনো। এবার সবাই নিশাতের দিকে তাকালো। খুব আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছে। নিশাত আবার বলল-
“- আমি ঐশী কে ভালোবাসি। ওকে দেখলে আমার শুধু চুমু খেতে ইচ্ছে করে। ঐশী কে আমি অনেক বলেছি ওকে আমি ভালোবাসি। কিন্তু ও আমাকে বলছে। আমরা শুধু বন্ধু। তাই ওকে জোর করে চুমু খেয়েছি বেশ করেছি। এবার আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না ধপ করে ফ্লোরে বসে পরলাম। এ আমি কেমন ছেলে জন্ম দিলাম। ইয়া আল্লাহ। নিশাত আবার বলে উঠলো ঐশীর বাবা-মা কে উদ্দেশ্য করে-
“- আন্টি আঙ্কেল আপনারা রাজি থাকলে আমি ঐশীকে বিয়ে করতে চাই। এবার কান্না আটকে রাখতে পারি নাই। গড়িয়ে পরেই গেলো। ছেলেকে বললাম-
“- বাপ, আমার তুই তো নিজের ফিডার খাস। তুই আবার বিয়ে করতে চাস। বউরে কি খাওয়াবি। আমার কথা শুনে আমার স্বামী বলে উঠলো-
“- তুমি চিন্তা করো না ইশা। আমি আর একটা ফিডার কিনে আনবোনি। তুমি ছেলে আর ছেলের বউকে একসাথে ফিডার বানাই দিও। আর ভাবি আপনারা বিয়ের ব্যবস্থা করুন। আমি ঐশীকে তাড়াতড়ি পুত্রবধূ করতে চাই।
আমার একমাত্র ছেলের ইচ্ছা বলে কথা। এই কথা শুনার সাথে সাথে ভাবি আমাকে বললেন-
“- ভাবি কি বলছে ভাই। সে কি পাগল হয়ে গেলো? আমি কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই আমার গুণধর স্বামী রানা জবাব দিলেন-
“- আরে ভাবি চুমু খাওয়া কি এমন বেপার। আমি ও তো কত মেয়েকে চুমু খেয়েছি জীবনে। কই তারা তো বাড়ি বয়ে নালিশ করতে আসে নাই। তবে আমার ছেলের সাথে আপনার মেয়ের আজই বিয়ে দিব। আমার ছেলের ভালোবাসার দাম আছে না? এবার আর সহ্য করতে পারি নাই আমি উঠেই রানার কলার ধরে বললাম-
“- তুমি তো আমাকে বলেছিলে আমিই তোমার প্রথম ভালোবাসা। তাইলে তুই অন্য মেয়েদের চুমু খাইলি কেমনে? (চেঁচিয়ে)
“- মিথ্যা বলেছিলাম। তুমি প্রথম ছিলে না।
আগে আরো ছ-সাত জন ছিল। (করুন গলায়) আমাদের এসব কথা শুনে ভাবিরা ঐশীকে নিয়ে চলে গেলো আর বলে গেলে, পাগলের দলের কাছে আমরা আইছি চুমুর বিচার চাইছে। এসব কথা শুনে মেজাজ একদম খারাপ হয়ে গেলো। রাগে থরথর করে কাঁপছি। কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হচ্ছে। রানাকে রেগে চিৎকার করে বললাম-
“-তুই থাক বাপ ছেলে মিলে তোদের চুমু নিয়ে। আমি এখনি বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছি।
“- বউ দাঁড়াও।
গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত