বিয়ের কার্ড

বিয়ের কার্ড

বাসায় বিয়ের কার্ড আসছে তাও আবার আমার একমাত্র আপন বেষ্টুর বিয়ের কার্ড। কার্ড দেখেই পরী ভাবি মুচকি হাসি দিয়ে বলল,

___ ” বাবু রেডি হও আজকে সামত আছে তোমার কপালে।”

___ ” কেন ভাবি কি হইছে? ” আমি মাথার চুলে ক্লিপ দিতে দিতে বললাম। ভাবি মুখের বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে বলল

___ ” প্রিয়ার বিয়ের কার্ড দিয়ে গেছে। এখন আমি এটা আম্মারে দিতে যাচ্ছি।” ভাবির কথা শুনেই আমার বুকের পানি তো ভালই মুখের লালাটা পর্যন্ত শুকিয়ে গেল। ভাবি এবার শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে বলল,

___ ” কানে তেল তুলা দিয়ে রেডি হও আম্মা তার সাউন্ড বক্স নিয়ে আইতেছে।” ভাবিরে কিছু বলতে যাব এমন সময় খালা এসে হাজির। ভাবির দিকে তাকিয়ে হাতে কার্ড দেখে প্রশ্ন করল,

___ ” কি ব্যাপার পরী তোমার হাতে কার্ড কিসের?”
___ ” আম্মা বাবুর বান্ধবী প্রিয়া আছে না ওর বিয়ের কার্ড।” ভাবি বাঁকা চোখে তাকাতে তাকাতে বলল। আমি আস্তে আস্তে পা পিছনে দিয়ে পিছাতে লাগলাম। কিন্তু কথায় আছে না যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়। খালা হুংকার ছেড়ে বলল,

___ ” বাবু দাঁড়া।” আমি আর্মিদের মত স্ট্যান্ড আপ হয়ে গেলাম। তখন খালা শুরু করল,
___ ” দেখছত দেখছত প্রিয়ার বিয়ের কার্ড আসছে বাসায়।”
___ ” জি খালা দেখছি।”
___ ” খালি দেখলেই হবে তুই বিয়ে সাদি করবি না? কে আছে তোর মত এখনও আবিয়াইত্তা আমারে দেখা? ” খালা পাগল মহিষের মত ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলল। আমি হয়ে ভাবি যেন মুখ ফসকে বলে ফেলল,

___ ” আম্মা সালমান খান এখনও আবিয়াইত্তা “।
___ ” এই সালাম খাঁ আবার কে? পাশের বাসার ওই মটকু সালামের কথা বলতেছ? ওর বিয়ে হবে কি করে ওরে মেয়ে দেবে কে? ” ভাবি যেন কোন মতে হাসি গিলে আমার দিকে তাকালো। আমিও যেন কিছুতেই হাসি আটকাতে পারতেছি না। সালমান খানরে যে সালাম খাঁ বানাইতে পারে তার সাথে তর্ক করা বৃথা। খালা ভাবিরে বুঝ দেওয়া বাদ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

___ ” দেখ বাবু তোরে এক সপ্তাহের সময় দিলাম,হয় তোর পছন্দের ছেলে ধরে নিয়ে না হয় আমি ছেলে পছন্দ করি। এক সপ্তাহ পরে আমি হাঁটতে বের হয়ে সকালে যারেই দেখবো প্রথমে, তার সাথেই তোর বিয়ে দেবো।”

___ ” আম্মা সকালে তো বুড়া বুড়া ব্যাটারা হাঁটতে বের হয় তাদের পোলাপান নাতিনাতনিও থাকে।” পেছন থেকে ভাইয়া এসে টিপ্পনী কাটলো। খালা দাঁত বের করে ভেঙচি কেটে বলল,

___ ” আসেন আসেন আপনি ছাড়া আসর জমতেছিলই না। এত দেরি করে আসলেন কেন স্যার?”

___ ” আম্মা কি যে বলেন না আপনি এত সম্মান দিতেছেন কেন আমারে?” ভাইয়া খুশিতে গদগদ হয়ে বলল। এবার খালা দাঁতে কিড়মিড় দিয়ে বলল,

____ ” হারামজাদা এক চড় দিয়ে তোর চৌষট্টিটা দাঁত ফেলে দেবো তোর। আইছে উনি ইয়ারকি মারতে।” এতক্ষন চুপ করে শুনতেছিলাম সবার কথা। হঠাৎ করেই বললাম,

___ ” খালা ভাইয়ার বেশি হলে বত্রিশটা দাঁত আছে। তাও মন্দ হয় আক্কেল দাঁত এখনও উঠে নাই তাহলে আপনি ভাইয়ার চৌষট্টিটা দাঁত ফেলবেন কেমনে?” আমার চোখ মুখে বিশাল বিষ্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলাম? খালার এবার মারমুখী ভঙ্গিতে বললেন,

___ ” আমি জানতাম তুই বা হাত দিবিই তাই তোর বত্রিশটা সহ বলেছি।” খালার হুমকি ধামকি দেখে বুঝলাম আজকমে পিঠে আলু কচুর চাষাবাদ হতে পারে। তাই আর দেরি না করে একদৌড়ে রুমে এসে দরজা দিয়ে আল্লাহ আল্লাহ করতেছি। রুমে আসার সময় শুনতেছিলাম ভাইয়া ভাবিরে বলতেছে,

___ ” বেডি তাড়াতাড়ি দৌড় দে, তুই কি চাস এই বয়সে তোর বর তার মায়ের হাতে মাইর খাউক।” এই হল জীবন এক বিয়ার কার্ড আইলে কাহিনী মাইর পর্যন্ত গড়ায়।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত