ম্যাজিক বউ

ম্যাজিক বউ

দেড় ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে বাড়িতে আসতেই মা ঝাটা নিয়ে তাড়া করলো। ঘটনা এত তাড়াতাড়ি ঘটেছে যে বুঝতেও পারলাম না কি হয়েছে।জান বাঁচানো ফরজ,এই সূত্র মেনে উলটো পথে দৌঁড়ানি দিলাম। মা কি কারণে এমন করতেছে সেটা শোনার মতো অবস্থাও নাই।পিছন থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা পড়ার মতো গর্জন শোনা যাচ্ছে।আমি আরেকটু দৌঁড়ে হাপিয়ে পড়লাম।এমনিতেই ক্লাস শেষে যখন বাড়ি আসি তখন নিজেকে কয়লা খনির কামলা মনে হয়।আরেকটু গিয়ে দেখি আব্বা আসতেছে।এতদিন মা যতবার মারতে গিয়েছে ততবার আব্বার পিছে গিয়ে দাঁড়াইছি।আজকেও দাঁড়াতে যাবো,তখুনি আব্বা দেখি আমারে ধরে বলে পিটাও। এইরকম ছেলেরে পেটে ধরছিলে কেন, পিটাও। আমি দুজনের থেকে নিরাপদ দুরত্বে গিয়ে বললাম,

-আমি কি করছি?

-করিস নাই কি?আল্লাহগো,এতকষ্ট করে মানুষ করলাম।নিজে না খাইয়া তোদের খাওয়াইছি।আর সেই তুই আজ এইরকম কাজ করলি।আমার এই কথা শোনার আগে মরণ হলো না কেন?(মা)

-মা ন্যাকামো বাদ দিয়ে বলো তো কি করছি?

-শোনোছো,তোমার ছেলে কি বলতেছে।আমি বলে ন্যাকামো করতিছি।(আব্বাকে উদ্দেশ্য করে মা)
একসময় তোর বাপ জ্বালাইছে, আর এখন তুই।আমার জীবনটাই এমন,আল্লাহ মরণ ও দেয় না।

-মা, বাজে কথা বাদ দিয়ে বলবা কি করিছি!পেটের ভিতর কিন্তু ছুঁচো দৌঁড়াচ্ছে।খিদা লাগছে,বাড়িতে চলো ভাত খাবো।

আমরা তিনজন বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বলতে দেখি আশেপাশের বাড়ির মহিলারা আমার মায়ের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। তখন মনে হচ্ছে আমি সুলতান মাহমুদ,১৮ বারের বার ভারতবর্ষ আক্রমণে এসে ধরা খেয়েছি মহিলাদের হাতে।আর মহিলারা আমার মায়ের সৈন্যের মতো পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

-ছিঃ,ছিঃ রাশেদ,তোমারে তো ভালো ছেলে মনে করতাম।আর তুমি এইরকম একটা কাজ করবা,জীবনেও ভাবি নাই।তোমার মা তো তোমারে নিয়ে কত গর্ব করতো।এখন গর্ব করা আসবে কোথা থেকে দেখবোনে।(বাড়ির পাশের চাচী)

এ মহিলা ঠিক কাকে বাঁশ দিচ্ছিলো বুঝতে পারছিলাম না।

-ও চাচী,আল্লাহর দোহাই লাগে একবার বলেন না আমি কি করছি? আমার প্রশ্ন করা শুনে আমার মা এবার সত্যি সত্যি ঝাটা ছুঁড়ে মারলো। আমি ততক্ষণে বড়ভাবির আঁচলের তলায়।

-পরের বউয়ের আঁচলের তলায় না লুকিয়ে নিজে বিয়ে করে কোথায় রাখে আসছিস, সেটার আচঁলের তলায় যা।(মা)

-মানে কি,আমার বউ আসলো কোথা থেকে।আমার কি বিয়ের বয়স হয়ছে নাকি?

-তুই আজ বিয়ে করছিস?কুষ্টিয়া কাজি অফিসে!

-ও মা, কি বলো তুমি?আমি এখনো না বালক!

-তোর মামা একটু আগে ফোন দিছিলো।তুই নাকি কুমারখালী স্ট্যান্ডে কোন মেয়েরে নিজের বউ বলেছিস সবাইরে। এতক্ষণে সব বুঝলাম।আসলে হয়েছে কি,কলেজ থেকে গাড়িতে করে আসার সময় একজন জিজ্ঞাসা করে বসলো,

-কোথায় গিছলি রে? হাতে বই থাকা সত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করায় ইয়ার্কি করে বললাম,বিয়ে করতে গেছিলাম।

-তো হাতে বই কেন?

-বই না ভাই,এইটা কাজি অফিস থেকে বউ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দিছে। এই কথা গুলো যখন বলেছি তখন গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল।আর আমার মামা সেটা এভাবে প্রচার করেছে।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত