নারী

নারী

নারী , ছোট একটি শব্দ । যার তাৎপর্য অনেক । কিশোরী তার আরেক রূপ । যুবতী তার অন্যরুপ । মা যার অন্যতম রুপ । বার্ধক্য যার জীবনের প্রায় শেষের রুপ । একজন মেয়ের জীবন চক্রাকারে ঘুর্নায়মান । কখনো তার স্থায়িত্ব বাবা ঘরে কখনো তার স্থায়িত্ব স্বামীর ঘরে । কখনো সে মেয়ে , কখনো সে বোন , কখনো সে বউ , কখনো সে মা , কখনো সে শ্বাশুড়িমা ।

এইসবের মাঝেও সে একা । প্রশ্ন কিভাবে একা ? তাহলে উত্তর , সে তো একাই হলো কারণ তার নিজের অস্তিত্ব কোথায় রইলো ? সে এক পর্যায়ে বাবার ঘরে তারপর স্বামীর ঘরে তারপর সন্তানের ঘরে আর তারপর বৃদ্ধাশ্রমে আর তারপর শেষ ঠিকানা হয় কবরে । এই ঘুর্নায়মান জীবনে অনেকে সাফল্য অর্জন করে আবার কেউ বা কষ্টের মাঝেই জীবনের ইতি টেনে দেয় । জমা থাকে অনেক না বলা কথা , জমা থেকে যায় হাজারো না ব্যক্ত করা অনুভূতি । যার অতল গভীর থেকে সবাই নিজেকে বাচাতে পারে না ।

পুরুষ : পুরুষ , আরেকটি তিন অক্ষরের শব্দ যার সমন্বয়ে গঠিত হয় আরও কিছু সম্পর্ক । যার এক রুপ নাবালক , তারপর সাবালক , তারপর সে যুবক , তারপর সে স্বামী , আর তারপর সে বাবা । তারও বার্ধক্য সুনিশ্চিত ।

একজন পুরুষের জীবন , মেয়েদের জীবনের চেয়েও কঠিন । যখন সে সাবালক বাবা মায়ের কাছ থেকে পকেট মানি নিতে তার বিবেক আহত হয় । যখন সে যুবক , বেকারত্বের চিন্তায় তার রাতের ঘুম হারাম হয় । যখন সে ইনকামের পেছমে ছুটে তার বিয়ের বয়স একটু হলেও পিছিয়ে যায় । এই সবের মাঝে সে যখন বাবা তার সন্তানের চিন্তায় সে চিন্তিত । যেই জায়গাউ একজন মেয়ে এস,এস,সি এর পর পরই স্বামীর ঘরে যেতে পারে সেই জায়গায় ছেলেটি তখন বাবা মায়ের কাছ থেকে পকেট মানি নিতে হাত পাতে ।

এইসবের মাঝেও সে অনেক সময় বিষন্ন । যদি প্রশ্ন হয় কেন বিষন্ন তাহলে উত্তর , তাকেও অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় । কখনো বউয়ের মন রক্ষা তো কখনো মায়ের মন রক্ষা । সব মিলয়ে একজন পুরুষ তখনই ব্যর্থ হয় যখন সে কারো মন রাখতে পারে না ।

স্ত্রী : স্ত্রী , সে যখন সব ছেড়ে অন্যের ঘরে অসহায় হয়ে আসে তখন তার হাতটা ধরতে হয় । বউ বলে অবহেলা করে দূরে ঠেলে দিতে হয় না । যে মানুষটা সব ছেড়ে অন্যের ভরসায় অন্যের হাত ধরে আরেক নতুন পরিবেশে আসে তাকে আগলে রাখতে হয় , সম্পর্কের দোহাই দিয়ে ফেলে দিতে নেই । স্ত্রী তাকেও দায়িত্বে সাবলীল হতে হয় , সব দিক আগলে রাখতে হয় । তাকে বুঝতে হয় তখন সে মেয়ে থাকে না তখন সে বউ হয়ে অন্যের সংসারের রমনী । তাকে বুঝতে হয় তার স্বামীর সুখ দুঃখ গুলো । তাকে বুঝতে হয় তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সুবিধা অসুবিধা । আর তাকে হয়ে উঠতে হয় সবার চোখে একজন আদর্শ বউ অথবা আদর্শ মা অথবা আদর্শ স্ত্রী ।

স্বামী : কবুল পড়ে একজন মেয়েকে স্ত্রী বানিয়ে ঘরে নিয়ে এনে রাতে বিছানায় শোয়াটাকে স্বামী বলে না । রাতে এসে বউকে বিছানায় টেনে ধরে শরীরের চাহিদা মেটানোকে স্বামী বলে না । স্বামী তো সেই হয় যে স্ত্রীর সুখ দুঃখ গুলো ভাগ করে নিবে । স্বামী তো সেই হয় যে সারাদিন পর এসে স্ত্রীকে দেখে মুচকি হেসে দিয়ে বলবে কেমন আছো তুমি ? খেয়েছো তো ? শরীরটা ঠিক আছে তো ? এক রাতে স্ত্রীকে কাছে টেনে সন্তান তো সব স্বামীরাই দিতে পারে কিন্তু সন্তানসম্ভবা সেই স্ত্রীকে মানষিক এবং শারীরিক ভাবে প্রশান্তি কয়জন স্বামী দিতে পারে ?

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আমার ছেলে আমার মেয়ে তো সব স্বামীই বলতে পারে কিন্তু সন্তান জন্ম দেয়ার সময় প্রসব যন্ত্রণাটা কয়জন স্বামী অনুভব করতে পারে । প্রায় ৯ মাস নিজের মাঝে একজনকে ধারণ করে রাখার ক্ষমতাটার যেই কষ্ট তা কয়জন স্বামীর অনুভূতিকে নাড়ায় । স্বামী তো সেই হয় যে কিনা সব কিছুর মাঝেও তার স্ত্রীকে একটু নিরবে নিভৃতে জড়িয়ে নিবে । যে কিনা তার স্ত্রীর চোখের পানি গুলোকে নিজের করে নিবে ।

এইসব কথা আমরা লিখে তো ফেলি অতি সহজেই কিন্তু কয়জন মানতে পারি বা পারবো । মুখে বলা যায় আমি এমন না আমি এমন হবো না কিন্তু বাস্তবটা হয়তো ভিন্ন হয়ে রয় ।

উভয়পক্ষকেই বুঝতে হবে । একজন শুধু বুঝবে অন্যজন শুধু কষ্ট পাবে তা তো নয় । স্ত্রীকে বুঝতে হবে স্বামীর আর স্বামীকে বুঝতে হবে স্ত্রীর । বোঝাপড়ার মাঝে মেলবন্ধন হলে ভালোবাসা টা না হয় এমনি এমনিই হয়ে যাবে । ভালোবাসা যে থাকতেই হবে তার মানে নেই , ভালোবেসে কয়জন কি করেছে ? কিন্তু বন্ধুত্বের উদ্দেশ্যে একটা সম্পর্কের শুরু করে তাকে ভালোবাসায় রূপ দিতে বেশি সময় লাগবে না । অন্যথায় টাকা পয়সা হয়তো থাকবে কিন্তু সুখ থাকবে না ।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত