ভাইয়া

ভাইয়া

হবু বউয়ের মুখে কথা ফুটেছে! আড়াই বছর পর বউ আমার কথা বলছে।এখন কি আর দেরি করা যায়। মহাআনন্দে নেচে নেচে চলে গেলাম শ্বশুর বাড়ি। সোজা শাশুড়ি আম্মার কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম জান পাখি কই? হেসে বললেন, এতো জলদি খবর কে দিলো? আমার আর তর সইছে না, আবার বললাম বলো না মা? মা একটু ব্যঙ্গ করে বললেন, যাও প্রিয়তমা তোমার দাদি শাশুড়ির ঘরে। কথা না বাড়িয়ে চলে এলাম নানির ঘরে। জান পাখিকে দেখার জন্যে হার্টবিট বন্ধ হয়ে আসছিলো। কতো স্বপ্ন মনে বউ আমার ওগো বলে ডাকবে। সবার সামনে আমি লজ্জায় লাল হয়ে যাবো। সে মার আচলে মুখ লুকিয়ে হাসবে। নানির ঘরে আসতেই নানির ও একি প্রশ্ন,

–কিরে? তরে কে খবর দিলো?
–আরে বুড়ি খবর কি আর দেওয়া লাগে! মনের একটা টান আছে না? ভালোবাসার একটা অনুভূতি আছে না!
— হইছে হইছে, আর ফিল্মি ডায়লগ মারতে হবে না।

বুড়ির সাথে কথা বলার ইচ্ছে নাই এখন,হবু বউয়ের কাছে বসলাম। হাতে ডেইরি মিল্কের বড় প্যাকেটটা দিয়ে বললাম কি করো ডার্লিং?? কিছু না বলে একটা আঙুল ধরে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবলাম দেরি করায় রাগ করেছে হয়ত। রেশমি চুলে হাত বুলিয়ে বললাম ডার্লিং রাগ করেছো বুঝি?? আচ্চা বাবু সরি! আর কখনো দেরি হবে না।এই কান ধরলাম। হ্যা আমার কথাই ঠিক। বাবু দেরি করায় রাগ করেছে। এবার মুখের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেললো। সাথে আরো একটা জোরালো কন্ঠের হাসি যোগ হলো। মা ও হাসছেন! কিছুটা লজ্জা পেলাম। কিন্তু বেহায়াদের লজ্জা বেশীক্ষণ কি টিকে! লজ্জা টা কাটিয়ে নিয়ে বললাম,

–মা তুমি কি রুমে ঢুকার নিয়ম জানো না? নক করে ঢুকবে না? মা বললেন
— বাবা এটা তোমাদের রুম না। আমার শাশুড়িরর রুম।

ডার্লিং হাত ছেড়ে দিয়েছে। মা পাশে এসে বসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন সুইটি বলোতো ও কে? নিচের দিকে তাকিয়ে বললো

— ভাইয়া!

শব্দটা কানে পৌছার সাথে সাথে মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। ৪৪০ ভোল্টের শক খাইলাম। প্রবল জোরে কান্না এলো, সুইটি কি তবে আমায় ছেড়ে অন্য কাউকে?! ছিঃ ছিঃ ভাবতেও পারছি না। কিন্তু তা ভেতরে চেপে আবার ভাঙা গলায় জিজ্ঞেস করলাম

— আমি কে?
— উমমম.. ভাইয়া।

সাথে সাথে চোখে বাপ্পারাজের ছবি ভেসে উঠলো, মনে প্রেমের সমাধি। আ আ আ আ আ আমার দিকে তাকিয়ে মা আবার জোরে জোরে হাসতে লাগলেন। মাথাটা ত পুরা গরম। রেগেমেগে মাকে জিজ্ঞেস করলাম,

–তোমার মেয়ে না সব বলতে পারে, তাহলে আমায় ভাইয়া বললো কেন? পূর্বেকার হাসি বলবত রেখে বললেন,
— কে বলল তোকে? এতো দিনের চেষ্টায় আজ শুধু মা আর ভাইয়া ডাকছে।

টেম্পারেচার এবার আরো হাই। মামাতো ভাইটাকে খোজতে বেরুবো দেখি তার শনি তাকে টেনে নিয়ে এসেছে। ডেকে কাছে এনে আচ্চা মতো কেলানি দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, সালা! তুই না বললি সুইটি সব বলতে পারে! তবে আমায় ভাইয়া বললো কেন? আর কিছু ডাকতে পারলো না কেন? কেঁদে কেঁদে বলল,

— সবাইকে ত ডাকলো। হু উ উ উ! চাচি কে মা ডাকলো আমাকে ভাইয়া ডাকলো।

পাছায় আরেকটা লাত্তি দিয়ে বললাম, সালা তুই আর আমি কি এক হলাম। নাহ। এক মুহূর্ত আর এখানে থাকা যাবে না সোজা বাড়ি চলে এলাম। বাড়ি এসে আম্মাকে সব খোলে বললাম। কিভাবে আমায় ডেকে নিয়ে সবাই মিলে হৃদয়টা ভেঙেছে। আম্মাও দেখি অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লেন। আমার বিষণ কান্না পেলো তাদের ঠাট্টা দেখে। আম্মা আমার কান্না দেখে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন

–বাবা ও ত বাচ্চা মেয়ে। বয়েস মাত্র আড়াই বছর। এখন কি করে বুঝবে যে তোমায় ভাইয়া না, অন্যকিছু বলতে হবে?
— হু হু। যদি বুঝেই না তাহলে ভাইয়া বলল কেন? কিছু না বললেও ত পারতো?
— আরে বাবা বড় হলে ত সব ডাকবে। তুমি একটি ধৈর্য ধরো।

মা চলে গেলেন। চিন্তা করে দেখলাম কথা তো সত্য! মাত্র আড়াই বছরে ও কি বুঝবে। নিজের উপর নিজেরি হাসি পেলো। সালা এখনো নিজেই বুঝে না সব কিছ, ১৩ বছরে বউ বউ করছে! আপনারা হয়তো ভাবছেন সুইটি আমার হবু বউ কেম্নে হলো? আসল ঘটনা বলি।

ছোট মামার যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স ১০। বয়স থেকে বেশি পেকে যাওয়ায় ইয়ং মামি কে মামি ডাকাটা কিরকম লাগতো, তাই মা ডাকতাম । এ নিয়ে সব্বাই মাতামাতি শুরু করলো, সবাই ছোটমামি ডাকে। আমি কেন মা ডাকি? সব্বার মুখের উপর বললাম মামিকে শাশুড়ি বানাবো। সবাই এই প্রশ্ন বন্ধ করলেও অন্য কথা জোড়ে দিলো। যাকগে সেসব কথা।

মা আমায় একদিন জিজ্ঞেস করলেন, বাবা তুমি যে শাশুড়ি বানাবে, আমার ত মেয়ে নাই। আমি মুখের উপর বলে দিলাম নাই ত কি হইছে? প্রথম ট্রিপে মেয়ে আনবে। ব্যস! সেদিন থেকে মা আর কিছুই বলে নি। কদিন পর সুইটি চলে এলে শাশুড়ি পার্মানেন্ট হয়ে গেলেন। আর আমি হবু জামাই। এর পরথেকে স্বপ্ন প্রথমেই সুইটি ওগো….. বলে কথা শুরু করবে। তার পর কতো কথা হবে। সারা দিন রাত। বড় ভাইদের মতো গুনগুন করে ফোনে কথা হবে। আরো কতো ভাবনা! কিন্তু সে কি করলো ভাইয়া বলে হৃদয়টাকে ভেঙ্গে গুড়ে চুরমার করে দিলো!!

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত