মেয়ে ডাকাত

মেয়ে ডাকাত

একা একা পার্কের ভেতর বসে বাদাম খাচ্ছি। হঠাৎ একটা মেয়ে কাদতে কাদতে এসে আমাকে বলছে ভাইয়া আমাকে একটু হেল্প করবেন। আমি বললাম জী বলেন। মেয়েটা আমাকে বলল আমার আব্বু ভীষন অসুস্থ পাশেই একটা হাসপাতালে ভর্তি আছে খুব জরুরী এক ব্যাগ রক্ত লাগবে। আপনার রক্তের গ্রুপ কি?

আমি বললাম O পজেটিভ। মেয়েটা আমাকে বলল ভাইয়া আর দেরি করবেন না আমার আব্বুর রক্তের গ্রুপ ও O পজেটিভ। প্লিজ তাড়াতাড়ি চলেন তানাহলে আমার আব্বু.. বলেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল।

আমি বললাম কান্না করবেন না প্লিজ। চলেন তাড়াতাড়ি।মেয়েটা চোখটা মুছে আমাকে নিয়ে চলতে শুরু করল। যাওয়ার পথে তার সাথে অনেক কথা হল। যেই মেয়েটা একটু আগে কাদছিল সেই মেয়ে এখন আমার সাথে মুচকি করে মন ভুলানো হাসি দিচ্ছে আর আমার সাথে কথা বলছে ।

মেয়েটার সাথে হেটে চলেছি। আমাকে বলেছিল ২-৩ মিনিট হাটলেই হাসপাতাল পেয়ে যাব। আপাতত ১০ মিনিট হাটা হয়ে গেছে। মেয়েটাকে যতই জিজ্ঞাসা করি আর কতদুর। আর একটু আর একটু বলেই কথা ঘুরিয়ে নিচ্ছে। সে আমাকে নানা ধরনের প্রশ্ন করছে আমি উত্তর দিচ্ছি সাথে আমিও প্রশ্ন করছি। এক পর্যায়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করে বসল ভাইয়া আপনি রক্ত দিয়েছেন শুনলে আপনার জিএফ বকবে না। আমি বললাম আমার তো কোনো জিএফই নাই তবে আম্মু শুনলে বকবে। মেয়েটা আমাকে বলল ভাইয়া আমারো কোনো বয় ফ্রেন্ড নাই। আমার মেয়েটার উপর অনেক সন্দেহ হল। প্রায় ১৫ মিনিট হাটার পর মেয়েটা আমাকে এক চিপা নোংরা ফাকা এক গলির মধ্য হাটতে শুরু করল। আমি বললাম এদিক দিয়ে না গেলে হয়না।

মেয়েটা বলল এই রাস্তা দিয়ে গেলে খুব দ্রুত পৌছে যাব। সামনে একটু এগোতেই দেখলাম কয়েকটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা ভয় হল। সামনে এগোতে ভয় লাগছে তাই দাঁড়িয়ে পরলাম। মেয়েটা আমাকে বলল ভাইয়া আসেন। আমি বললাম এদিক দিয়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না বোধ হয় চল অন্য রাস্তা দিয়ে যাই। মেয়েটা বলল ভাইয়া কোনো ভয় নাই আসেন আমাদের তাড়াতাড়ি যেতে হবে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে লাগলাম। কাছে এগুতেই দেখতে পেলাম যে কয়জন দাঁড়িয়ে আছে তাদের সবার হাতে ছুরি। সাতপাচ না ভেবে পেছন দিকে দৌড় দিতে যাব এমন সয়য় মেয়েটা হুট করে আমার শাটের কলার চেপে ধরে বলল কই যাস।লোক গুলো আমার দিকে এগিয়ে আসল এবং একজন আমার পেটে একজন আমার গলায় ছুরি ধরে বলল চিল্লাবি না চিল্লালে পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেব।

রিতীমত আমার হাত পা ঘামতে শুরু করে দিছে। গাল শুকিয়ে গেছে মুখ দিয়ে জোর করেও কোন কথা বের করতে পারছি না। সেই মেয়েটা এবার বলল শালারে অনেক কষ্টে আনছি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক বড়লোক যা আছে বাইর করে নে। আমি তো পুরাই টাসকি খেয়ে গেলাম। মেয়েটার কথা মত আমার পকেট থেকে সাধের ফোন,আর মানিব্যাগ বের করে নিল। এক জন বলে উঠল শালা বাইরে থেকে দেখতে যেমন বড়লোক তেমন না। একজন আমার গালে চড় মেরে বলল শালা এত সুন্দর সুন্দর কাপড় পড়িস পকেটে টাকা অল্প কেন। মেয়েটা বলে উঠল আরে যা পাইছিস ছাড় একটা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না।

একজন আমার গা থেকে শাটটা খুলে নিল আর বলল খুব পছন্দ হয়ছে নিলাম মাইন্ড করিস না। যাওয়ার সময় মেয়েটা বলল ভাইয়া সরি আসলে আমার আব্বু হাসপাতালে না জেলে । দুই বছর আগে ডাকাতি করতে যেয়ে ধরা খেয়ে ১০ বছরের জেল হয়ছে তাই আব্বুর এই দলটার ভার এখন আমার উপর। সব নিয়ে ওরা চলে গেল আর একটা শিকারের উদ্দেশ্য আর আমি হেল্প করতে এসে সবকিছু হারিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত