মোরগ পোলাও

মোরগ পোলাও

সন্ধ্যায় শুয়ে শুয়ে ফেসবুক গুতাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে গার্ল ফ্রেন্ড এর এস এস এম এলো আমার ফোনে। এই শুনো আমি না আজ মোরগ পোলাও খেয়েছি বাবা নিজ হাতে খাইয়েছে। কিন্ত দেখো না আমার কেমন জানি হজম হচ্ছে না। তোমাকে না খিলাতে পারলে হজম হবে না, তাই আমি চাই তুমি অতিশীঘ্র আমার বাসায় চলে আসো। (গার্ল ফ্রেন্ড)

তুমি চিন্তা কর না আমি চলে আসবো তুমি যেহেতু বলছো না এসে পারি নাকি!! জীবনে যা না তাই আজ হইলো। গার্ল ফ্রেন্ড দেখি বিয়ের আগেই স্বামী ভক্ত হয়ে গেলো। বাহ!! এমন গার্ল ফ্রেন্ড আরো দু চারটা হইলে তো বাপের টাকাই বেচে যেতো। গার্ল ফ্রেন্ড এর বাসা আর আমার বাসা প্রায় কাছাকাছি হেটে গেলে ১০ মিনিট এর রাস্তা। বাসায় না খেয়েই বের হইলাম হবু শশুরের বাসার দিকে। যাওয়ার সময় পাক্কা এক বোতল টমেটো সস সাথে নিয়ে গেলাম বেশ মজা করে খাওয়া যাবে এই ভেবে। শুনেছি শাশুড়ির হাতের রান্না নাকি বেশ সুস্বাদু।

দেখতে দেখতে শশুর বাড়ি চলে এসেছি। কিন্ত একি!! এই কুত্তা গুলো আমায় দেখে ঘেঊ ঘেঊ শুরু করলো কেন! শালার শশুর আবার কুত্তা পালন শুরু করলো কবে। থাম! থাম! না থামার তো কোন চিহ্নই দেখি না। আর এভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না তাই উপায়ন্তর না পেয়ে আম গাছে উঠে পড়লাম। কুত্তার ঘেঊগেয়ানিতে আমার হবু শশুর লাইট নিয়ে বাহিরে বের হয়ে এসেছে। যাক অল্পের জন্য রক্ষা পেলাম তা না হলে চোর পিটুনি খাইতাম। শশুর মহাশয় গাছের নিচ দিয়ে হেটে হেটে হয়ত চোর খুজে বেড়াচ্ছে। আসল চোর তো গাছে যে তার মেয়ের মন চুরি করেছে। হঠাৎ করে মোবাইলে এস এম এস এলো, এই তুমি কি এস এম এস পেয়ে বাসায় এসেছো নাকি?? (গার্ল ফ্রেন্ড)

=হুম,তুমি নিজেই না আসতে বললা। তাই চলে এসেছি মোরগ পোলাও খেতে। (আমি)

আরে রামছাগল এস এম এস টা আমি দেই নাই। সকালে তোমাকে আমাকে বাবা দেখে ফেলেছে তাই বাসায় এসে আমাকে ইচ্ছা মত ধোলাই দিছে দোষ তো আমার একা না তাই তোমাকে আমার সিম দিয়ে বাবা ডেকে এনেছে ধোলাই দেওয়ার জন্য। (গার্ল ফ্রেন্ড)

=ওরে রাক্ষসী কি করলি এটা কথা ছিলো মোরক পোলাও খাওয়াবি আর খিলাবি কিনা মার (আমি) তুমি এখন কই চলে যাও (গার্ল ফ্রেন্ড)

=আমি এখন গাছে আমার নিচে তোর বাপ দাঁড়িয়ে আছে (আমি)

একে তো ভয়ে শেষ তার মাঝে গার্ল ফ্রেন্ড এর নেকামি। কখন যে হাতের চাপে সস এর বোতলে চাপ দিয়েছি খেয়াল নেই। সস গুলো সব শশুরের টাক মাথায় গিয়ে পড়েছে। ভালো করে পরখ করে দেখে উপর দিকে লাইট ধরতেই আমার চাঁদ মুখটা লাইটের আলোয় ঝকমক করে উঠলো। ইয়া বড় এক লাঠি এনে শশুর কি কেলানি না কেলালো। কোন মতে অল্প বস্র নিয়ে পালাতে সক্ষম হলাম। আমার ফাদে পা দিবি না আবার আয় আরো কিছু মোরগ পোলাও খেয়ে যা। (শশুর)

সেটা বিয়ের পরে এখন আর খামু না পালাতে পালতে আমি। তবে রে!!!! আবার পাইলে খবর আছে তোর (শশুর) আহ!! বেচে গেলাম,।জীবনে আর মোরগ পোলাও খামু না। এর টেস্ট যে এত ভালো আগে জানা ছিলো না। বুড়ো হয়েছে কিন্ত শক্তি আগের মতই আছে কি প্যাঁদান না প্যাদাইলো

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত