একটি রাতের অভিজ্ঞতা

একটি রাতের অভিজ্ঞতা

সন্ধ্যে আটটা। বাবা মার সাথে তর্ক, ঝগড়া করে বাবার কথায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল ১৪ বছরের অরিত্র। ঝগড়া অশান্তির কারণ হল মোবাইল ফোন। অরিত্রর একটা স্মার্টফোন চাই।

শ্রীজীব ও সৌরদীপ দুজনেই অরিত্রর ভালো বন্ধু। সমবয়সী। একই পাড়াতে থাকে। একই ক্লাসে ও একই স্কুলে পড়ে।  শ্রীজীবের বাবার সম্প্রতি অফিসের সৌজন্যে একটি আইফোন প্রাপ্তিযোগ ঘটেছে। সেই সুবাদে বাবার পুরনো স্মার্টফোনটির বর্তমান মালিক শ্রীজীব। তাছাড়া ওর বাবা বাড়ি থাকলে তার আইফোনটিতেও শ্রীজীবের অবাধ বিচরণ।

সৌরদীপেরও একটি নিজস্ব স্মার্ট-ফোন রয়েছে। ও সেই ফোন দিয়ে ভিডিও তুলে, তা নানাভাবে সম্পাদনা করে, স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছায়াছবি তৈরি করে। আর সেগুলো ইউটিউবে আপলোড করে।

অথচ অরিত্রর কোনও মোবাইল ফোন নেই। আর বাবা-মায়ের ফোন ধরারও অনুমতি নেই তার। মোবাইলে গেম খেলার নেশা অরিত্রর। সুযোগ পেলেই ও মার কিম্বা বাবার ফোন নিয়ে গেম খেলে। সেটা ওর বাবা-মার পছন্দ নয়।  তা নিয়েই অশান্তি। মা ছেলের তর্কাতর্কি শুরু হল।

শ্রীজীব,সৌরদীপ দুজনেরই স্মার্টফোন আছে। ওদের দুজনের বাবারই আইফোন রয়েছে। আর আমাকে তোমরা ফোন ধরতেই দাও না। ফ্রেন্ড সার্কেলে যখন ফোন নিয়ে ডিসকাশন হয়, তখন আমার প্রেস্টিজ পুরো পাঞ্চার হয়ে যায়।

রেজাল্টটা যখন সৌরদীপের মত হয় না, তখন প্রেস্টিজ পাঞ্চার হয় না? সৌরদীপ পড়াশোনাটা ঠিক রেখে সব করে। তাই ওর বাবা-মার কিছু বলার থাকে না। তুইও সৌরদীপের মত ক্লাসে ফার্স্ট হ। আমি নিজে তোকে স্মার্টফোন কিনে দেবো।

সবাই ক্লাসে ফার্স্ট হয় না। শ্রীজীব তো পড়াশোনায় অর্ডিনারি। হাফ-ইয়ার্লিতে আমার থেকেও খারাপ রেজাল্ট করে ছিল।

ও পড়াশোনায় না হলেও খেলাধুলোয় ভালো। আন্ডার সিক্সটিন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে ম্যান অফ দা ম্যাচ হয়েছিল। ওর মা ফেসবুকে শ্রীজীবের কাপ হাতে ছবি পোস্ট করেছিল। কত লাইক, কত প্রশংসা। গর্বে ওর বাবা-মার বুক ফুলে উঠেছিল। তোর কোন কাজের জন্য আমরা গর্ব করতে পারি?

শ্রীজীবকে ওর বাবা ক্রিকেট কোচিং-এ ভর্তি করে দিয়েছে। ছোটো থেকেই আমার দাবা খেলতে, কুইজ করতে ভালো লাগে। তোমরা আমাকে দাবা ক্লাসে ভর্তি করেছ? কোনও কুইজ কম্পিটিশনে নিয়ে গেছ? তোমরা তো নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। আমার জন্য তোমাদের সময় কোথায়? এখন আমাকে মোবাইলটা দাও। আমি গেম খেলবো না। অন্য দরকার আছে।

কথা বলতে বলতেই অরিত্র মায়ের হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নিলো। অরিত্রর বলিষ্ঠ চেহারা। ওর শক্তির সাথে ওর মায়ের পেরে ওঠার কথাও নয়। অরিত্রর এক ধাক্কায় সোফায় ছিটকে পরল ওর মা।  ফল স্বরূপ রাগে মায়ের গলার আওয়াজ সপ্তমে চড়ল।

অরিত্রের বাবা পেশায় ডাক্তার। হসপিটালে নাইট ডিউটি ও প্রাইভেট চেম্বার সেরে বিকেলে ফিরে ঘুমচ্ছিলেন। চ্যাঁচামেচিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ক্ষিপ্ত মেজাজে শোবার ঘর থেকে বেড়িয়ে এলেন তিনি।

তোমাদের জ্বালায় কি একটু বিশ্রামও করতে পারবো না? আমি নাইট করে এসেছি। তোমাদের কি কোনও মনুষ্যত্ব বোধ নেই?

বাবা, শ্রীজীব সৌরদীপের মতো আমারও স্মার্টফোন চাই।

কারো সাথে তুলনা করতে আমি চাই না। তোমার মোবাইল ব্যবহার করার সময় এখনো হয়নি। আই.সি.এস.ই পাশ করো। তারপর ফোন পাবে।

না আমার এখনি চাই।

বলেছি তো পাবে না। তাতে তোমার এখানে থাকার ইচ্ছে হলে থাকো, না হলে যেখানে খুশি চলে যেতে পারো।

বাবার কথায় বেশ অভিমান হল অরিত্রর। ও ঘরের জামা-কাপড় পরেই পায়ে চটি গলিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গেল।

আরে, বেরিয়ে যাচ্ছিস যে? কোথায় চললি? এতো রাতে কে তোর খাবার আগলে বসে আছে? অরিত্রকে আটকানোর চেষ্টা করল ওর মা। কিন্তু অরিত্র কোনও কথা না শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

কিগো, তুমি ছেলেকে ঘর থেকে বার করে দিলে?

আমি কি ওকে সেই ভাবে বলেছি? ও রাগের মাথায় বেরিয়ে গেছে। পেটে টান পড়লে সুড়সুড় করে ঘরে ফিরবে।

রাত বেড়ে চলল। অরিত্র ফিরল না। অরিত্রর ঠাকুরদা, ঠাকুরমা, কাছেই একটা আলাদা ফ্ল্যাটে থাকেন।  ওখানেও যায়নি অরিত্র। সম্ভাব্য কোনোখানেই খোঁজ করে পাওয়া গেল না ওকে। অরিত্রর ঠাকুরদা ছেলে, বৌমাকে তিরস্কার করলেন।

ছেলের ওপর পিতৃত্ব ফলাচ্ছ! নিজেরা কতটুকু সময় দাও ছেলেটাকে? শুধু টাকা খরচ করলেই বাবার কর্তব্য পালন করা হয় না। অভিমানে ছেলেটা আজ যদি ভালো-মন্দ কিছু করে বসে, তোমাদের আমি হাজত বাস করাবো বলে দিলাম।

নাইট করে, চেম্বার করে ফিরে শুয়েছিলাম। চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। তাই মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। রাগের মাথায় ছেলেটাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলাম। ও যে সত্যি সত্যি বেরিয়ে যাবে, আর বাড়ি ফিরবে না, বুঝতে পারিনি।

তোমাদের এতো অল্পেতে মাথা গরম কি করে হয় বুঝিনা। নিজেরা সর্বক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে আছো। আর ছেলে-মেয়ে সেটা চাইলেই ওদের দোষ? আজ যদি একটা মোবাইল ফোন ছেলেটার কাছে থাকতো তাহলে কি ওকে খুঁজে বার করতে কোনও সমস্যা হোতো?

রাত যত বাড়ল, দুশ্চিন্তা ততই বাড়ল। অরিত্রের মা কান্নাকাটি শুরু করল। অরিত্রের বাবা গাড়ি বার করে নানা জায়গা ঘুরে বেড়াল। সারা রাত ধরে তর্কাতর্কি, চেঁচামেচি, কান্নাকাটি, ফোনাফুনি, ছোটাছুটি, নানা রকম আলোচনা, প্রভৃতি চলল। পাড়া-প্রতিবেশীরা পি.এন.পি.সি করার ও আলোচনা, সমালোচনা করার একটা নতুন বিষয় পেল। কিন্তু সেই রাতে কোথাও অরিত্রর খোঁজ পাওয়া গেল না।

(২)

রাগ করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হেঁটে চলেছে অরিত্র। রাগে অভিমানে জর্জরিত ও। একটা হতাশা গ্রাস করেছে ওকে। বাবা-মা কেউ ওকে বোঝে না। কেউ ওকে ভালোবাসে না। না হলে ওকে বাড়ি থেকে বার করে দিতো? নিজের ছেলের থেকে ওদের কাছে মোবাইল ফোন বেশী হল? ও আর বাড়ি ফিরবে না।  কিন্তু কোথায় যাবে কিছু জানে না। প্রায় ঘণ্টা খানেক হাঁটছে অরিত্র। ক্লান্তিতে ওর পা আর চলছে না। অচেনা পাড়া, অজানা পরিবেশ। হঠাৎ ওর বয়সী একটা ছেলেকে ওর দিকে দৌড়ে আসতে দেখল। রাস্তার আলোতে ছেলেটিকে চিনতে পারল অরিত্র। উন্মেষ। ওদের স্কুলে, ওদের ক্লাসেই পড়ে।

কিরে উন্মেষ, হন্তদন্ত হয়ে চললি কোথায়?

আমার বাবা, আমার ওপর রাগারাগি, চেঁচামেচি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তাই ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছি।

চল আমিও তোর সাথে যাচ্ছি।

উন্মেষ, বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। ওর দিদি ওর থেকে ১২ বছরের বড়। দিদির গত বছর বিয়ে হয়েছে। উন্মেষের বাবার বয়স ষাটের কাছাকাছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল। অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বাড়ির কাছেই এক ডাক্তারের বাড়ি। তাকেই ডেকে নিয়ে এলো উন্মেষ। উনি এসে পরীক্ষা করে দেখলেন উন্মেষের বাবা আর বেঁচে নেই। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে ওঁর মৃত্যু হয়েছে।

বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেল। উন্মেষ, অরিত্রকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। অল্প সময়ের মধ্যেই খবরটা ছড়িয়ে পড়ল। উন্মেষের দিদি, কাকা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতরা এক এক করে এসে উপস্থিত হল।

জীবনে প্রথম অরিত্র চোখের সামনে এমন একটা মৃত্যু দেখল। ওর সমবয়সী কাউকে পিতৃহারা হতে দেখল। চোখের সামনে বন্ধুকে বাবার শোকে কাতরাতে দেখল। বন্ধুর ব্যথায় ও নিজেও ব্যথিত হয়ে পড়ল।

শ্মশান-যাত্রার আয়োজন চলল।  উন্মেষের কাকা অরিত্রকে উন্মেষের সাথে থাকতে বলল। অরিত্র নির্বাক। খিদেতে পেট ও পিঠ এক হচ্ছে। সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ মায়ের হাতে বানানো স্যান্ড-উইচ খেয়েছে ও।  মা থাকলে ওর ক্ষুধা অনুভব করে এতক্ষণে ওকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিত। এখানে ওকে খাওয়ানোর কেউ নেই। এতো লোকের ভিড়েও ও ভীষণ একা।

রাত দুটোয় শ্মশান যাত্রা করল ওরা। শব-বাহী গাড়িতেই অরিত্র ও উন্মেষ উঠল। সেই গাড়ির সাথে বেশ কয়েকটা গাড়ি চলল শ্মশানের পথে। অরিত্র আগে কখনো শ্মশানে আসেনি। এই পরিবেশ সম্পূর্ণ অচেনা ওর। কত মানুষ তাদের প্রিয়জনকে হারিয়ে ভিড় করেছে ওখানে। প্রত্যেক মানুষের নিশ্চিত ও অন্তিম পরিণতি চাক্ষুষ করছে অরিত্র। একটা হাহাকার, একটা আর্তনাদ হচ্ছে ওর মনে। ও কোনও প্রিয়জনকে হারায়নি। তবু বিষাদে ভরে গেছে ওর মন। বাবা-মার জন্যে মন কাঁদছে। ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে তাদের কাছে। জড়িয়ে ধরে বলতে ইচ্ছে করছে, আমি তোমাদের কাছে কিচ্ছু চাইনা। শুধু ভালোবাসা চাই।

উন্মেষের বাবার দেহ চুল্লিতে ঢোকানো হয়েছে। বাইরে একটা চায়ের দোকানে উন্মেষের আত্মীয়- স্বজনদের সাথে অরিত্র এসে বসেছে। বসে বসে ভাবছে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই উন্মেষের বাবার দেহটা সাদা ছাই হবে। আর কোনোদিন কেউ ওনাকে চোখের দেখাও দেখতে পাবে না। ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল ওর।

সকলের সাথে অরিত্রও চা বিস্কুট খেল। চা বিস্কুট দিয়েই ডিনার সারল ও। তাও শেষ রাতে। বাস্তব জগতের সাথে অরিত্রর আজ আলাপ পরিচয় হচ্ছে। কল্পনা ও বাবা-মার স্নেহের আড়াল সরে গিয়ে বাস্তবের সঠিক রূপ ওর কাছে ধরা পড়েছে।

অস্থি বিসর্জন ও শ্মশান-ঘাটের যাবতীয় নিয়ম মেনে গাড়িতে উঠল উন্মেষ। অরিত্র, উন্মেষের অন্য এক আত্মীয়দের গাড়িতে উঠল। যে গাড়িটা ওকে ওর বাড়ির কাছে পৌঁছে দেবে।

অরিত্র যখন ওদের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছল, তখন রাতের অন্ধকার কেটে সবে ভোরের আলো ফুটেছে। ওখানে পৌঁছে দেখল ওর মা অ্যাপার্টমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। অরিত্রের বাবা নিজের গাড়িটা নিয়ে সারা রাত নানা জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছে। কাছাকাছি নার্সিংহোম, হাসপাতাল কিছুই বাদ দেয়নি ও। থানায় মিসিং ডায়রিও করেছে। সারারাত দুজনেই আহার নিদ্রা ত্যাগ করেছে।

ছেলেকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে বুকে জড়িয়ে ধরল ওর মা।  তারপর নিজেকে একটু সামলে অরিত্রের বাবাকে ফোন করে দিল ও।

কোথায় গিয়েছিলি? এই মায়ের কথা একটুও মনে হল না। বাবা-মায়ের থেকে তোর ফোন বড় হল? তোর কটা ফোন লাগবে? এই নে। আমার ফোনটাও আমি তোকে দিয়ে দিলাম।

আমার কিচ্ছু চাইনা মা। আমার শুধু তোমাদের ভালোবাসা চাই। তোমরা শুধু আমাকে ছেড়ে কখনো চলে যেও না। প্রমিস, আর কোনোদিন কোনও কিছু চাইবো না আমি।

মা ছেলে, দুজনেরই চোখে জল। আনন্দ-অশ্রুতে দুজনেই স্নান করেছে। এমনি ভাবে অ্যাপার্টমেন্টের সামনে দাড়িয়েই নিজেদের অজ্ঞাতসারে কিছুটা সময় ব্যয় করল ওরা। অরিত্রর বাবার গাড়ির হর্নে সম্বিৎ ফিরে পেল মা ও ছেলে।

এখানে দাঁড়িয়ে থেকে শোভা বর্ধন করে লাভ নেই। ফ্ল্যাটে চল।

বাবা, মা, ছেলে ফ্ল্যাটে ঢুকল। ঘরে ঢুকেই বাবার হাত ধরে অরিত্র বলল, আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও বাবা। আমি তোমাদের কাছে কোনোদিন কিছু চাইব না। তোমরা খুশি হয়ে যা দেবে, তাই হাসি মুখে নেব।

এক প্রাপ্তবয়স্ক অরিত্রর পরিচয় পেল ওর বাবা। এক অচেনা অরিত্র। এক রাতে যেন অনেকটা বয়স বেড়ে গেছে ওর।

কোথায় ছিলে সারারাত?

শ্মশানে। আমার এক বন্ধুর বাবা মারা গিয়েছিল। ওর সাথে ছিলাম। আর যেন ওখানে আমাকে কোনোদিন যেতে হয় না বাবা।

ছলছল চোখে বাবাকে জড়িয়ে ধরল অরিত্র। অরিত্রর বাবার মুখে কোনও কথা নেই। চোখ বন্ধ করে ছেলের স্পর্শ অনুভব করছে। গতকালের রাতটা ওদের ছেলেকে দিয়েছে সঠিক পথের সন্ধান। তাই এই রাতটার কাছে ওরা চির কৃতজ্ঞ থাকবে।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত