টিউশনি

টিউশনি

নতুন একটা টিউশনি পেয়েছি।
ছাত্রী আমার অসম্ভব সুন্দরী।
কিছু বাধ্যবাধকতার জন্য আমি তার দিকে তাকাই না তেমন একটা।
এমনিতেই বেলার জন্য আমার মেয়ে স্টুডেন্ট পড়ানো নিষেধ।
যদি একবার শোনে সুন্দরী মেয়ে স্টুডেন্ট পড়াচ্ছি,তাইলে দেখা যাবে ট্রাম্পের কাছে বিচার চলে গেছে।
পড়াতে গেলেই আমি তার চোখের দিকে তাকাই না লজ্জাতে।সে কি একটা অবস্থা,স্টুডেন্ট আমাকে বলে স্যার এইদিকে তাকান।আর আমি তাকিয়ে থাকি খাতার দিকে।
স্টুডেন্টের ছোট ভাই আবার আরেকটা বজ্জাত।আমার জন্য নাস্তা দিয়ে গেলে আমি তো লজ্জাতে খেতে পারিনা। অথচ সে সব গোগ্রাসে গিলে যায়।কিছু কইতেও পারিনা, ওই যে লজ্জা করে।
স্টুডেন্টের মা স্টুডেন্টের চেয়েও বেশি সুন্দরী।একেবারে লাক্স তারকা মেহজাবিনের মতো।দুইমাস পড়ানোর পর থেকে দেখি স্টুডেন্টের মা নাস্তা দিতে এসে আর যায় না।দরজার সামনে দাঁড়াইয়া থাকে।আর না হয় টেবিলের পিছনে সোফায় বসে থাকি।সে কিয়েক্টাবস্তা,কিছু কইতেও পারিনা, সইতেও পারিনা।ওই যে লজ্জা।
কিছুদিন এভাবে দেখার পর আমার এক বন্ধুর কাছে বিষয়টা শেয়ার করলাম।বন্ধু আমার হেসেই খুন,আমারে বলে
-দোস্ত,স্টুডেন্টের মা তোর প্রেমে পড়ে গেছে মনে হয়!তোর তো কপাল রে দোস্ত।টিউশনিতে ঢুকেই এরকম একটা অফার পেয়ে যাচ্ছিস।তোর স্টুডেন্টের বাপ কি করে?
-সে তো বিসিএস ক্যাডার।রাজশাহীতে থাকে।
-বলিস কি দোস্তো, তাইলে তো খালি টাকাই রে।
বন্ধুর কাছ থেকে মুক্তি নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে শুধু ভাবছি,স্টুডেন্ট তাকাইলে তাও মেনে নেয়া যাইতো।বিয়ের জন্য অনেকদিন ধরে সাইডবেঞ্চে বসে আছি।আব্বায় বিয়া দেয় না।বলে তোর বয়স হয় নাই।তাই বলে স্টুডেন্টের মা?লা হাওলা………
সিদ্ধান্ত নিলাম স্টুডেন্টের মাকে জিজ্ঞাসা করবোই আজ,সে কেন দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে।
কিন্তু ওই যে লজ্জা আছে।ওটা বারবার আমাকে বাধা দেয়।
তেইশটা বসন্ত পার করে দিলাম তবুও লজ্জাকে পার করতে পারলাম না।
সেদিন পড়াতে গিয়ে দেখি স্টুডেন্ট নিজেই নাস্তা নিয়ে আসলো।পুরো বাড়ি ফাঁকা,স্টুডেন্টের ছোট ভাই ও নেই।এইটাই সুযোগ।
আমি আমার স্টুডেন্টকে জিজ্ঞাসা করলাম,
-আচ্ছা শ্রাবণী,একটা কথা জিজ্ঞাসা করি।কিছু মনে করো না।
-জ্বী স্যার বলেন!
-তোমার মাকে বলবানা কিন্তু।সিক্রেট কথা, আমার আর তোমার।
-জ্বী,স্যার বলেন!
-আচ্ছা,আমি যখন পড়াই।তখন তোমার মা এসে এভাবে দরজায় দাঁড়াই থাকে,সোফাতে বসে থাকে।কারণটা কি?আমার কিন্তু কেমন জানি লাগে!
স্টুডেন্ট আমার প্রশ্ন শুনে আগে দুই মিনিট হেঁসে নিলো।আমিও তাকে হাসতে দিলাম,হাসাহাসি করলে মন পরিষ্কার হয়ে যায়।যদি এই সুযোগে তার মন থেকে সব সত্যি কথা বের হয়।
-স্যার, আসলে কাহিনী কি শুনবেন?
মা আপনাকে বিশ্বাস করতে পারে না?
-মানে কি?কি কও,চেয়ারম্যান দ্বারা সত্যায়িত করে সেদিনও ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছি।দরকার লাগলে তোমার মাকে আমি দেখাবো।
-স্যার কাহিনী ওইটা না,আমার আব্বু আম্মু প্রেম করে বিয়ে করেছে।
-তাতে কি?তাই বলে আমাকে নিয়ে সন্দেহ?
-স্যার,আব্বু আম্মুর টিচার ছিলো
এতক্ষণে বুঝলাম।লজ্জা!লজ্জা!

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত