ঈদ অনুগল্প- অজ্ঞান

ঈদ অনুগল্প- অজ্ঞান

ঈদ গিফট হিসেবে বাবার কাছে ১টা ল্যাপটপ চেয়েছিলাম।
আমি আনিতা,বাবার ওয়ান & একমাত্র মেয়ে।বাবা আমার কোটিপতি না হলেও মোটামুটি স্বচ্ছল একজন ব্যবসায়ী। আমাকে চরম এক ঝাড়ি মেরে বললেনঃ
-“তুই বাড়িতে আয় আগে।তোরে বিয়ে দিবো,তারপর শুধু ল্যাপটপ কেনো ডেক্সটপ, হ্যাপটপ,ক্যাপটপ যা চাইবি সব দিবো….”
বাকী কথা শুনার অপেক্ষা করি নি,কুট করে লাইন টা কেটে দিলাম।এরপর সোজা ফোন টা সুইচ অফ।মেজাজ টা ই বিগড়ে গেলো।
উফফ!আমি আছি কত্তো প্যাঁড়ায়,আর বাবা আছেন আমাকে বিয়ে দেওয়ার ধান্ধায়!! যাহ শালা,ঈদে বাড়িতে যাবোই নাহ এবার।আমাকে ক্ষ্যাপানোর মজা এবার হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে ছাড়বো।ফ্রেঞ্জিট খেয়ে মাথা ঠান্ডা করতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
আজ ঈদের ৪র্থ দিন।এই সময়টাতে সবাই সাধারণত পরিবারের সাথেই আনন্দে সময় কাটায়।আর আমি?? ওই যে বাবার সাথে রাগ করে….
সাত দিন কেটে গেছে অলরেডি। ফোন আর ওপেন করি নি।আমার সময় কাটছে হোস্টেলের চার দেয়ালের মাঝে ঘুমিয়ে,শুয়ে-বসে থেকে।ঈদের জন্য প্রায় সব ছাত্রীরা ই চলে গেছে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে।আর রান্না করার বুয়া ও ঈদের ছুটিতে।তাই নিজের রান্না নিজেকেই করতে হয়।উফফ,কী যে প্যাঁড়া।
আজ খুব সকালে ঘুম ভাংলো।চোখ মেলে দেখি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।তাই আর নামলাম না বিছানা থেকে।কম্বল টা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম।ঘুম ভাংলো বেলা ৩টায়।প্রচণ্ড টায়ার্ড লাগতেসে।ক্ষুধা ও পেয়েছে,কিন্তু রান্না করতে ইচ্ছে করতেসে নাহ।তাই ভাবলাম নতুন রেস্টুরেন্ট টা থেকে ই খেয়ে আসি দুপুরের টা।যেই ভাবা সেই কাজ।
ফ্রেশ হয়ে বের হলাম হল থেকে।আমাদের ভার্সিটির পাশেই রেস্টুরেন্ট টা,আমার হল থেকে ৭-৮মিনিটের পথ।এখন বর্ষাকাল,আকাশে একটুও রোদ নেই।তাই রিকশা নিলাম নাহ,হেটেই পৌছুলাম।
প্রায় পুরো রেস্টুরেন্ট টা ই ফাকা।খাবারের অর্ডার করলাম,কিছুক্ষণ পর ওয়েটার খাবার দিয়ে গেলো।আস্তে আস্তে খাচ্ছি,হঠাৎ মাথা উঁচু করতেই দেখলাম পুরো রেস্টুরেন্ট ভরে গেছে কাপলে।ছেলেগুলা কি রোমান্টিক ভাবে মেয়েদের হাত ধরে আসছে।আমার প্রচুর হিংসে হচ্ছে।ইশশ,আজ একটা বফ থাকলে…
গফ-বফ জোড়ায় জোড়ায় বসে আছে।চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে দেখলাম আমি ই শুধু একা আসছি।আর সবার সাথে গফ-বফ আছে।কয়েকটা ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে মুচকি হাসতেসে।কি একটা যন্ত্রনা,আজ বফ নাই বলে কি শান্তি মতো খেতে ও পারবো না!!
খাওয়ার ইচ্ছে টা পুরোপুরিভাবে চলে গেছে।কেমন একটা অসস্থি হতে লাগলো।শেষমেশ খাওয়া বাদ দিয়ে বিল পে করে বের হয়ে আসলাম।
মেজাজ ঠান্ডা করতে ফোন টা ওপেন করলাম।সাথে সাথে বান্ধবী তিশার ফোন।
-“হ্যালো”
-“হারামী,কুত্তা,বিলাই।
এত্তো সেলফিশ ক্যামনে হইলি তুই!
আমায় না বলে ক্যামনে বাড়িতে চলে গেলি!!
আর তোর ফোন অফ ক্যান!!!”
-“আমাকে কিছু বলতে দিবি?নাকি শুধু জিজ্ঞেস করেই যাবি!!”
-“আচ্ছা বল।”
-“শোন,আমি বাড়িতে যাই নি,ঢাকায় ই আছি।”
-“হোয়াট!
কি বলিস তুই এগুলা!!
এখন কই আছোস তুই!!!”
-“Bay Inn এর সামনে।”
-“আচ্ছা তুই ওখানেই থাক,আমি ২০ মিনিটের মধ্যে আসতেসি।”
তিশা আসতেসে।যাক বাবা,কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে,ঘুরাফিরা করে মন টা একটু হাল্কা করা যাবে।স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।কিন্তু এই ২০মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা কিভাবে পসিবল!বসার ও তো কোনো যায়গা দেখতেসিনা।ঘাড় ঘুরাতেই দেখলাম,রাস্তার পাশে একটা R15 দাড় করানো।চট করে মাথায় বুদ্ধি চলে আসলো।বাইক টার উপর হেলান দিয়ে বসে ফেসবুকে ঢুঁ মারলাম,ঈদ মোবারক ম্যাসেজ গুলার বাসী রিপ্লাই দিতেসি।
হঠাৎ ফোনের স্ক্রিন থেকে নজর সামনের দিকে ছুটে গেলো।একটু দূরে দাঁড়িয়ে একটা ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসতেসে রাস্তার অপোজিট সাইডে।আবার চুল ও ঠিক করতেসে।ছেলেটাকে চেনা চেননা মনে হচ্ছে।ওহ হ্যা!!এইতো সেই ছেলেড়া যাকে একটু আগেই তার গফের সাথে রেস্টুরেন্ট এ দেখলাম।
ছেলেটা হেলেদুলে আমার দিকেই আসতেসে।মেজাজ টা আরো বিগড়ে গেলো।একটা তে পোষায় নাহ,এখন আমার সাথে লাইন মারতে আসতেসে।শালা ছ্যাসড়া।ফাজিল পোলা কাছে আয়,চাপড়ে তোর গফের নাম ভুলিয়ে দিবো।ভাবতে ভাবতে ছেলেটা সামনে হাজির।আমি ওকে না দেখার ভান করেই নিউজফিড স্ক্রল করতে লাগলাম।ছেলেটা একমূহুর্ত ইতঃস্তত করলো,তারপরঃ
-“এক্সকিউজ মি।”
-“কি?কিছু বলবি?”
– “ইয়ে মানে হ্যা।”
-“কি হ্যা কি অই? রাস্তাঘাটে সুন্দরি মেয়ে দেখলেই গায়ে পড়ে কথা বলতে ইচ্ছা করে তাইনা!!”
-“না মানে আপু…”
-“কি?আপু কি?? কি বলবি টা কি তুই হ্যা!!
আমি সুন্দরী তাইতো?আমার সাথে পরিচিত হতে চাস এইতো? তারপর ফোন নাম্বার চাইবি,দেন নাম্বার দিলেই ফ্রেন্ডশিপ।হঠাৎ একদিব প্রপোজাল দিবি,সেটিং,তারপর ডেটিং। এরপর বলবি তোমার সব টা চাই,তারপর আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে একদিন…”
ছেলেটা হাসতেসে মুখে হাত দিয়ে।উফফ,কি দাঁত ক্যালানো হাসি!!
-“এই শোন,আমার বফ আছে।ওই যে,ওই দোকানটাতে গেসে ফ্লেক্সি করতে।আইসা যদি দেখে না যে তুই আমার সাথে কথা বলতেসোস,তোকে মেরে হাড়গোড় গুড়ো করে দিবে একদম।”
আমার কথা শুনে ছেলেটা হো হো হো করে হেসে উঠলো সজোরে।আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম নাহ।চড় দিতে নিসি,চট করে হাত ধরে ফেলসে।
-“তবে রে..দাড়া!!”
-“চুউউউপ!একদম চুপ।অনেক বিনোদন হইসে,আর নাহ।বাইকের পাশ থেকে সরে দাঁড়ান,আমি বাসায় যাবো।”
বাইক টা যে ছেলেটার তা বুঝতে আমার বিন্দুমাত্র দেরী হলো নাহ।এরপর??
এরপর আমি অজ্ঞান!!

মোরালিটিঃ “বেশীর ভাগ মেয়েই পরের ধনে পোদ্দারি করতে জানে খুব ভালো মতো।”
“আর সবাই কে এক পাল্লায় বিবেচনা করা ঠিক নয়।”

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত