প্যারা

প্যারা

“দুপুরের খাওয়া শেষে একটু বিছানায় আরাম করতে যাচ্চিলাম ঠিক হঠাৎ করেই মীমের ফোন আসলো… ফোন ধরা মাত্রই মীম বলে উঠলো –

– ইমু কোথায় তুমি ??

— এইতো বাসায়, কি হইছে ??

– সর্বনাশ হয়ে গেছে, এখনই বেড়িয়ে পড়ো…

— কি বলো মাত্রই তো আসলাম দেখা করে বাসায়… কি হইছে সেটা বলো আগে…

– উফফ ! এখন কিছু বলতে পারবো না, আসতে বলছি চলে আসো…

আমি আর কিছু বলতে সুযোগই পেলাম না… আসতে বলেই ফোনটা কেটে দিছে… কি আর করার, আরামের বিছানা ছেড়ে উঠে পরলাম মীমের সাথে দেখা করতে… অথচ আমিও জানিও না কি হইছে, একটু টেনশন ও ফিল হচ্ছে… দেখা হওয়ার সাথে সাথেই মীমকে বললাম –

— কি হইছে এভাবে আসতে বললা কেন ??

– কেন আমার সাথে থাকতে ভালো লাগেনা ??

— ভালো কেন লাগবেনা, কিন্তু কি হইছে সেটাই তো বললা না ??

– বলবো, বসো আগে…

— হুম এখন বলো…

– বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলছে…

— কিহ ?? এটা বলার জন্য আমাকে ডেকে আনলা ??

– হ্যাঁ, কেন কি হইছে ??

— কেন মানে, এটা নতুন কিছু নাকি ?? প্রতি সপ্তাহেই তো এই কথা বলে আসো…

– এবার সত্যি সত্যি বিয়ে দিয়ে দিবে, কালকেই ছেলে পক্ষ আসবে দেখতে…

— প্লিজ মীম, অনেক হইছে… এক কথা শুনতে আর ভালো লাগেনা, চুপ করো…

এটা বলার পরই মীম একেবারে চুপ হয়ে গেলো… আর কিছুই বলতেছেনা, ঝগড়াও করতেছেনা… আমি একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম মীম সত্যিই বললো নাতো আবার… একটু মাথাটা ঘুরিয়ে দেখি মীম মাথা নিচু করে কাঁদতেছে… এবার আমি সিরিয়াস ভয় পেয়ে গেছি… আমতা আমতা করে মীমকে বললাম –

— সরি, আমি আসলে ভাবছিলাম তুমি এবারো মজা করছো…

– তুমি তো সিরিয়াস কথাও মজাই ভাবো…

— সরি বললাম তো, এবার একটু বুঝিয়ে বলতো কি হইছে আসলে ??

– বাবা আজকে অফিসে না গিয়ে তার অফিসের এক কলিগের সাথে ছেলে দেখতে গিয়েছিলো…

— পরে…

– বাবার পছন্দ হইছে ছেলেকে… বিসিএস ক্যাডার নাকি ছেলে…খুব শিঘ্রই বিয়ে করতে চায়…

— হা হা, এটার জন্য তুমি টেনশন করতেছো… পছন্দ হইছে কিন্তু বিয়ে তো হয় নাই…

– সিনেমার কথা বলে হিরো সাজতে হবেনা… আমি এখন কি করবো বলো ??

— কি আর করবা ?? বাসায় চলে যাও, আর আমি তো আছিই টেনশনের কিছু নাই…

– না, কোন একটা সমাধান না করে আমি যাবো না…

— মানে কি করবা তুমি এখন ??

– বিয়ে করবো…

— মানে ??

– হ্যাঁ, আমরা এখনই বিয়ে করবো…

— পাগল হইছো নাকি ?? বিয়ে কি বললেই হয়ে গেলো ??

– আমি সব ভেবেই বলছি, এছাড়া আমার আর কোন পথ নাই…

— কিন্তু আমি তোমাকে এই মুহূর্তে বিয়ে করতে পারবোনা, পরে অনেক খারাপ কিছু হয়ে যাবে…

– পারবেনা মানে ?? আমাকে ভালোবাসোনা ??

— উফফ, এখনে ভালোবাসি কি বাসিনা সেটা প্রশ্ন না… বিয়ে করে কই রাখবো তোমায় ?? আমার বাসায় কি বলবো ?? তাছাড়া আমার জবটাও পার্মানেন্টলি হয়নি এখনো…

– আমি এতকিছু বুঝতে চাইনা, আজকের মধ্যে যদি আমাকে বিয়ে না করো তাহলে রাতেই আমি সুইসাইড করবো আমি আর কিছুই বললাম না, কারণ বলেও আর লাভ নাই… যে বুঝে অল্পতেই বুঝে, আর যে বুঝেনা সারাদিন বুঝালেও বুঝবেনা  বড় ঝামেলায় পড়ে গেলাম… অবশেষে মীমের কথামতই বিয়ে করতে রাজি হলাম… বললাম –

— ঠিক আছে চলো, আমরা আজই বিয়ে করবো…

– সত্যি ??

— হুম…

– ঠিক আছে তাহলে চলে কাজি অফিসে চলে যাই…

— কিন্তু টাকা পাবো কথায় ?? কিছু টাকা তো লাগবে আর সাক্ষী ??

– এতকিছু ভাবতে হবেনা, টাকা সাক্ষী সব আমার কাছে আছে…

— ওকে…

তারপর রিকশা নিয়ে কাজি অফিসের দিকে রওনা দিলাম… এদিকে আমার মাথায় টেনশনের শেষ নাই, নির্ঘাত আজকে বাসায় কেয়ামত হয়ে যাবে… যতই হোক মীমকে ছাড়া আমিও কিছু ভাবতে পারছিনা… কিন্তু হঠাৎ লক্ষ্য করলাম মীম মুচকি মুচকি হাসতেছে… ঠিক বুঝতে পারছিনা, বললাম –

— কি হইছে হাসতেছো কেন ??

– এমনি…

— এমনি মানে ?? আমি টেনশনে মরে যাচ্ছি আর তুমি হাসতেছো…

– আরেহ এতো টেনশন করতে হবেনা, একটুপর সব ঠিক হয়ে যাবে…

এবার আমার মনে সন্দেহ জাগতে শুরু হলো… মানে মীম এবারো এসব মজা করে করছে নাতো… যদিও এর আগে এতটা সিরিয়াস ছিলোনা বিয়ে নিয়ে… কিছুই বুঝতেছিনা আসলে কি হচ্ছে… কাজি অফিসে আসলেই সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে… কাজি অফিসে আসা মাত্রই রিকশাওয়ালাকে বললাম –

— মামা এখানে রাখেন অমনি মীম বলে উঠলো –

– না মামা এখানে না, সামনে যে পার্কটা আছে ঐখানে নামিয়ে দেন আমি অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে মীমের দিকে তাকিয়ে বললাম –

— মানে ?? পার্কে কেন ??

– এখনো বুঝো নাই…

— না

– বেকুব, আমি তো এতক্ষণ মজা করতেছিলাম তোমার সাথে…

— কিহ ???

– সরি, আসলে তোমাকে বোকা বানাতে আমার হেব্বি লাগে…

— উফফ,, কিন্তু কাজি অফিসে নিয়ে এসে বলার মানে কি ??

– আসলে আমি দেখতে চাইছিলাম তুমি সত্যিই আমাকে মন থেকে বিয়ে করতে চাও কিনা ??

আমি আর কিছুই বললাম না… কখনো কখনো অতি রাগে, অতি আনন্দে ও অতি খুশিতে কিছুই বলা যায়না… শুধু মনে মনে বলতে হয় – ‘আল্লাহ উঠাইয়া নাও’

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত