মিচুয়্যাল ঝগড়া

মিচুয়্যাল ঝগড়া

পাশ ফিরে শুয়ে আছি। দু দিন আদির সাথে কথা বলিনা। বলতেও ইচ্ছে হয়না। কি করে পারে ও আমার সাথে ঝগড়া করতে?

—প্রেম করে বিয়ে করেছি আমরা আজ পাঁচ বছর। অথচ প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন বিষয় নিয়ে আদির আমার সাথে ঝগড়া করা চাই। বিয়ের পর আমরা দুজনে কিছু বিষয় নিয়ে মিচুয়্যাল করি। সেটা হলো মশারিটা প্রতিদিন ও টানাবে। বিছানা আমি ঝেড়ে দেবো।

—মোবাইল ফোন প্রতিদিন দুজনেরটা আমি চার্জ দেবো। আর কাপড় চোপড় ও আয়রন করবে। কিন্তু আজকাল আদি ওর কাপড় চোপড় আয়রন করে অফিসে যাচ্ছে। আর আমার গুলো এলোমেলো করে ওয়ারড্রবে রেখে দিচ্ছে।

এই অবস্থা দেখে আমিও কিছুদিন যাবত শুধু আমার ফোন চার্জ করি ওর ফোনের খবরও রাখিনা। আর আমার উপর ভরসা করে ফোন চেক না করে ও অফিসে চলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে ওর ফোনের চার্জ যায়যায় অবস্থা। আজ অফিস থেকে এসেই হামকি তুমকি শুরু করলো। তন্দ্রা ……! কই তুমি ? ষাঁড়ের মতো চিল্লাচিল্লি করছো কেনো? বলো ডাকলে কেনো? তোমার না আমার ফোন চার্জ দেয়ার কথা! তো ….! দাওনি কেনো তাহলে? আমি কি তোমার কেনা গোলাম যে, প্রতিদিন নিয়ম করে ফোন চার্জ দিবো। হ্যাঁ কেনা গোলামই তো, কাবিন দশ লাখ দিয়ে বিয়ে করেছি কেনা গোলাম তো অবশ্যই।

কি বললে আমি গোলাম? হ্যাঁ ….আমি গোলাম বলাতে চটে গেলে, তুমি যে ষাঁড় বললে সে কিছুনা না! নাহ্ ষাঁড়কে ষাঁড় বলেছি, চেঁচাচ্ছো তো কি বলবো? আজব, তুমি কথার বরখেলাপ করেছো ফোন চার্জ না করে। আর তুমি কি করলে? আমার সব ধোয়া জামাকাপড় কুঁচকে ওয়ারড্রবে রেখে মহান কাজ করেছো? এটা কি আমার কাজ তুমিই বলো? তাহলে ফোন চার্জ ও নিশ্চয়ই আমার কাজ নয়। আজ থেকে যারযার কাজ সে সে করবে। ব্যাপরটা কি ভালো হচ্ছে তন্দ্রা! নাহ্ তোমাকে বিয়ে করেই তো খারাপ করেছি, আর নতুন করে খারাপ কি হবে? তুমি কিন্তু শুধু শুধু ধ্যাত তোমার সাথে কথা বলাই উচিত না।

যাও বলতে হবেনা। গত দুইদিন এভাবেই টুকিটাকি ঝগড়া আদির সাথে আমার হচ্ছিল। আজ ও অফিস করে আসার পর আমি কিছু না বলে লাইট অফ করে শুয়ে পড়ি। প্রায় ঘন্টা খানেক পর ও রুমে এসে তন্দ্রা তন্দ্রা বলে ডাকাডাকি শুরু করে। আমি না শোনার ভান করে চোখ বন্ধ করে রাখি। ও আস্তে আস্তে লাইটটা জ্বালিয়ে দেখে আমি ঘুমুচ্ছি, এই ভেবে মশারিটা টানিয়ে কাঁথা গায়ে দিয়ে পাশের রুমে চলে যায়।

আমার কেমন জানি খারাপ লাগা কাজ করছিলো। ঘুমানোর অনেকক্ষণ চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোনভাবেই ঘুম আসছেনা। তাই আমিও পা টিপেটিপে পাশের রুমে গিয়ে দেখি লাইটটা জ্বালিয়ে আদি ঘুমিয়ে পড়েছে। গভীর নাক ডাকাতে ব্যস্ত। আমায় ছাড়া ঘুমিয়ে পড়লো ভেবে মনটা খারাপ হলো। কি আর করা, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর ফোনটা নিয়ে এসে চার্জে লাগিয়ে দিলাম। আর রুমে এসে এপাশ ওপাশ শুরু করলাম। ধ্যাত ক্যান যে ঝগড়াটা করলাম এই ভেবে। ভোরবেলার দিকে দু চোখ জুড়ে ঘুম আসলো। এলার্ম বাজতে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসের জন্য রেডি হতে গিয়ে দেখি আমার ওয়ারড্রবের ড্রয়ারের অগোছালো সব কাপড় আয়রন করা।

অবচেতন মনে একটা হাসি দিয়ে, আদির পছন্দ করা সেই জাম রংয়ের শাড়ি আর সাদা ব্লাউজটা নিলাম। শাড়ি পরে বের হবো অমনি আদি চিল্লাচিল্লি শুরু করলো। আজকাল ঠিকমতো মোবাইলটা ও খুঁজে পাইনা। মোবাইলের কি হাত, পা গাজালো নাকি ঠিক জায়গায় পাইনা! আমি ওর মোবাইলটা চোখের সামনে ধরে বললাম, হ্যাঁ মোবাইলেরও মশারির মতো হাত, পা গজায় না হলে আপনা আপনি কি আর মশারি খাটের উপর ঝুলে থাকে! আদি একটু আবদারের স্বরে বলল,খুব মিস করেছি তোমায় তন্দ্রা সারারাত ঘুমুতে পারিনি। আমার দম বন্ধ লাগছিলো আর পারছিনা। কি পারছোনা? মিচুয়্যাল ঝগড়া করতে! মানে কি আদি?

তুমি না কিছুদিন আগে বললে, সবার হাজব্যান্ড, ওয়াইফের কত ঝগড়া হয় আমাদের একটু হয়না। তাই ইচ্ছেকৃত মিচুয়্যাল ঝগড়া করলাম। কিন্তু তোমাকে ছাড়া খাপছাড়া লাগে সব। হুম তাইতো দেখলাম, এজন্যই তো রাত জেগে নাক ঢেকে সারারাত ঘুমালে! হ্যাঁ আমি ঘুমালে তোমার এত্তগুলা কাপড় চোপড় কে সারারাত গুছালো? হয়েছে আর বলতে হবেনা। চল অফিসে যাই, নাস্তাটা না হয় আজ মিচুয়্যালভাবেই করি!

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত