অস্তিত্ব

অস্তিত্ব

আজ অনেক দিন পর দেশের মাটিতে পা রাখলো বিখ্যাত ডাক্তার অনামিকা সেন.| এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার লম্বা পথ প্রায় ঘণ্টা দুয়েক এর রাস্তা| রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে অতীতের পথে অনেকটাই পিছনে ফিরে যায় রাই | রাই অনামিকা সেন এর ডাকনাম|

বরাবরই মেধাবী রাই| অনির্বাণ সেনের বড় সন্তান | বড় পরিবারের সন্তান হলেই যে সবার ছোটবেলা সোনার চামচ মুখে দিয়ে কেটে যায় সেরকম কিছু রাই এর জীবনে অন্তত ঘটেনি | অনির্বাণ বাবু আর তার মা বরাবরই চেয়েছিলেন ছেলে হোক কিন্তু বিধাতার হয়তো অন্য কিছু চিন্তা ছিল | সেন পরিবারেরএক বংশধর অনির্বাণ বাবুর ছোটো ছেলে নাতি অভি কর্মসূত্রে বাইরে কোথাও থাকে |

যদিও তারা একই সঙ্গে বড় হয়ে উঠেছে বরাবর তাদের মধ্যে একটা বিভেদ থাকতো | সে পাতে বড় মাছ পাওয়া থেকে শুরু করে ভালো স্কুল কলেজ সবটাই বরাদ্দ ছিল নাতি বাবুর জন্য | রাই এর মা মিতা দেবী কষ্ট পেলেও মুখে প্রকাশ করতেন না| শুধু রাই কে বলতেন রাই মা সাধারণ স্কুল এ পরেও অসাধারন হয়ে ওঠা যায় চেষ্টা করো| সত্যিই রাই পেরেছিল যখন বিদেশ থেকে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ আসে সেদিন রাই প্রত্যক্ষ করেছিলো এক সাধারণ মায়ের অসাধারণ হওয়ার কাহিনী সবার বিপক্ষে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন মিতা দেবী রাই এর সপক্ষে|তার সমস্ত গয়না দিয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন রাই কে সবার বিরুদ্ধে গিয়ে |

আজ রাই এর বাবা অসুস্থ তাই মায়ের কথা রাখতে আসতে হয়েছে বাবা কে জীবন দেওয়ার একটা চেষ্টা করতে সেই বাবা যে কোনোদিন ভালো করে মুখ দেখেনি | বাবার ভালোবাসা কী চোখেও দেখেনি রাই বাবা থেকেও ছিলোনা তার সবটাই ছিল মা | বহুবার মা কে নিয়ে যেতে চেয়েছে রাই নিজের কাছে রাজি হননি মিতা দেবী | বাবার রিপোর্ট সব দেখেছে রাই ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়া কোনো রাস্তা নেই সব ডাক্তার জবাব দিয়ে দিয়েছে মিতা দেবী তাই মেয়েকে ডেকে পাঠিয়েছেন শেষ চেষ্টা করতে | বাড়ি ঢুকে সঙ্গে সঙ্গেই মিতা দেবী কে বললো রাই পাশের হাসপাতাল এ নিয়ে যেতে আজই সার্জারি করা দরকার | অনির্বাণ বাবুর তখন জ্ঞান নেই | রাই অপারেশন এর আগে মিতা দেবী কে প্রণাম করে শুধু জিজ্ঞেস করলো ভাই এলো না? জবাবে জানতে পারলো তাকে ফোন করা হলে সে জানিয়েছে

কোনো খরচের দরকার হলে জানো জানানো হয় আসার মত সুযোগ তার হবে না |
প্রায় তিন ঘণ্টার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাই জানালো মিতা দেবী কে অপারেশন ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে অনির্বাণ বাবু বিপদ মুক্ত | জ্ঞান ফেরার পর সব শুনে অনির্বাণ বাবু রাই এর হাত ধরে বললেন রাই মা আমায় ক্ষমা কর তোকে মেয়ে বলে কখনো কাছে আসতে দিইনি | যাকে বংশের প্রদীপ বলে আগলে রেখেছিলাম আজ সে আমায় দেখতেও এলো না | ক্ষমা কর মা হাজার হলেও তুই তো আমার মেয়ে |

চোখের কোন টা জলে ভিজে রাই এর | আলতো করে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো ক্ষমা তোমায় অনেক আগেই করেছি তাই আজ আমি এখানে কিন্তু আমায় তুমি ক্ষমা করো তোমার মেয়ে আমি কোনোদিন হয়ে উঠতে পারবোনা আমি শুধুই আমার মায়ের মেয়ে আমার অস্তিত্ব এটাই আমি আমার মায়ের মেয়ে সেন বাড়ির প্রদীপ নাহয় অন্য কেউ হল| মিতা দেবীর চোখ দিয়ে তখন অশ্রু ধারা| মেয়ের অস্তিত্বের মধ্যেই কোথাও জানো আজ এক জয়ী মায়ের অস্তিত্ব |

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত