প্রাপ্তি

প্রাপ্তি

-এগুলা কি?
-আমাকে দেওয়া তোমার সকল গিফট।
-তো আমাকে দিচ্ছ কেন?
-এসব দেওয়ার জন্যে এখন পার্মানেন্ট কেও হয়ে গেছে।
-আচ্ছা।তো বিয়ের কার্ড আনোনি?
-আনতে চেয়েছিলাম।
-চেয়েছিলে।তো আনোনি কেন?
-খাবার আইটেমে বিরিয়ানি নেই,তাই।
-পোলাও মাংস তো আছে?
-হ্যা সেটা আছে।
-এগুলাও আমার বেশ পছন্দ।
-এই নাও পাঁচশ টাকা,যাওয়ার সময় হোটেলথেকে খেয়ে যেও।
-তবুও বিয়ের কার্ড দেবে না?
-ওখানে আমার ফ্রেন্ডরাও থাকবে।
-তাতে কি?
-ওরা তোমায় দেখলে চিনে ফেলবে।
-মুখ রুমাল দিয়ে ঢেকে যাব।
-লাগবে না।
-ছেলে পছন্দ তোমার?

-না হওয়ার কিছু নেই।বেশ ভাল জব করে।
-আমার চেয়ে কি বেশি ভালবাসবে?
-সেটা বিয়ের পরই দেখা যাবে।
-যদি প্রতিরাতে নেশা করে এসে তোমাকে পেটায়?
-জানতাম এরকম ভেজালে প্রশ্ন তুমি করবে।
-উত্তরটা দিলে না যে।
-ইচ্ছে নেই।
-ওর কি গার্লফ্রেন্ড নেই?
-গার্লফ্রেন্ড থাকলে আমাকে বিয়ে করতো না,তাকেই করতো।
-কোই,তোমারও তো বয়ফ্রেন্ড আছে,তুমি তোতাকে বিয়ে করছো না।
-আর কিছু বলবে?
-যদি বিয়ের পরও ওনার গার্লফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক থাকে?
-তুমি কি বলতে চাচ্ছ ও বিয়ের পর পরকিয়া করবে?
-কোই বললাম।আমি বলেছি করতেও পারে।
-করলে করবে।
-বেশ ভালই হবে।মাসের অর্ধেক এবাসায়,আর অর্ধেক ওবাসায়।
-এবার কিন্তু আমি রেগে যাচ্ছি।
-আচ্ছা এসব বাদ।কিন্তু যদি তোমার শ্বাশুডি যদি একটু ফাজিল হয় তাহলে তো তোমায় না খায়িয়ে রাখবে,তখন?

-হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসবো।
-টাকা পাবে কোই?
-ও দেবে।
-ও তো তখন ওই বউয়ের কাছে থাকবে।
-জানতাম তুমি একটু পেচাবে,কিন্তু এভাবে যে পেচাবে বুঝতে পারিনি।
-আমার সাথে থাকলে অবশ্যই বুঝাতাম।কিন্তু আফসোস।
-আফসোস কেন?
-ওই যে,না খেয়ে থাকতে হবে।
-আবারও শুরু করেছো।
-তবে একটা বিষয় নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত।
-কোন বিষয়?
-এই যে তোমার উনি যখন পার্টিতে যাবে তখন তো তোমাকেও সাথে নিয়ে যাবে।
-হুম যাব।
-কিন্তু যখন ওই ছোট ছোট কাপড় পড়তে বলবে তখন কি করবা?
-সেটাও পড়বো।
-যখন ওনার বসের হাত ধরে নাচতে বলবে,তখন?
-তখন তোমার গলা চেপে ধরবো।ফাজিল একটা।
-এর থেকে কিন্তু আমিই বেটার ছিলাম।
-নাহ তোমার সাথে আর পারা গেল না।

ভাবলাম আমার বিয়ের কথা শুনে তোমার মনটা খারাপ হয়ে যাবে,আর আমি দেখবো আর মজা নেবো।কিন্তু উলটো তুমিই মজা নিচ্ছ।

-তো কি বুঝলে?
-বুঝলাম এখন আর বাসায় যাওয়া চলবে না।
-কোথায় যাবে?ওনার গার্লফ্রেন্ডের কাছে,থ্রেট দিয়ে আসবে নাকি?
-ভেজালে কথা বলবা না।চলো।
-কোথায় যাচ্ছি?
-কাজি অফিস।
-কেন?
-বিয়ে করতে।
-কাকে?

-এই পাগলটাকে।যতটুকু বুঝলাম তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না।
-কিন্তু উনি কিন্তু পরকিয়া নাও করতে পারো। ভেবে দেখো।
-সেই দু বছর হলো ভাবছি,আর ভাবতে পারবো
না।
-তাহলে আসতে বলো তোমার ওনাকে?
-কেন?
-আমাদের বিয়ের সাক্ষী হতে হবে না।
-তুমি না,একটুও বদলাবে না।
-জানো তোমার সাথে আজ কেন দেখা করতে আসছি?
-জানি তো, আমি আসতে বলেছি তাই আসছো।
-না,একটা ভাল খবর আছে।তবে আমার জন্যেখারাপ?
-তো বলো শুনি।
-আমার চাকরিটা হয়ে গেছে।বেশ ভাল অংকের সেলারি।
-আগে বলোনি কেন?
-দেখলাম তুমি এই বেকার ছেলেটাকে ছেড়ে যাও কিনা।
-তো কি দেখলে?
-ছেড়ে গিয়েছিলে কিন্তু টেনে ধরাতে আর যেতে পারোনি।
-তাই না,আমি বেকারটাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।কিন্তু এই খুশির খবর তোমার কাছে খারাপ মনে হলো কেন?

-প্রতিদিনের সকালের ঘুমটা নষ্ট হয়ে গেলো।
-তোমার মত আলসে আমি আজ প্রথম দেখলাম।
-এই দু বছর দেখোনি?
-দেখেছি, তবে আজকে আবার নতুন করে দেখলাম।
-আমি জানি তোমার এখন কি করতে ইচ্ছে  করছে?
-তো বলো।
-আমাকে জড়িয়ে ধরতে।
-কিভাবে বুঝলে?
-যেভাবে বুঝেছিলাম তোমার উনি পরকিয়াকরবে।
-চুপচাপ বসে থাকো।
-ভালবাসো?
-হুম।
-আমিও।
-কি?
-পরকিয়া করবো না।

আমার কথায় সুপ্তির মুখে সেই রাগি ভাবটা আবার ফুটে উঠলো।তবে কিছু বললো না।কিছু বলার সুযোগ দিলে তো বলবে।মেয়েটাকে তার আগেই বেশ শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি। যেটা এখন ছাড়তে ইচ্ছে করছে না।কোন ভাবেই না,কোন মতেই না।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত