হাসিনা মান জায়েগি

হাসিনা মান জায়েগি

” এই তুই কোথায় বল তো ? আমি আর কতক্ষন হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকব!?” ফোনের ওপার থেকে চিল্লিয়ে জিজ্ঞেস করল কুঁড়ি।

অমিতের এক হাত পকেটে আর এক হাতে মোবাইল কানে ধরা। সে স্টেশনের সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে জবাব দিল,” আরে হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকবি কেন!? হাঁ বন্ধ কর!”

” ফাজলামি মারিস না অমিত। একে লেট করেছিস, আমার প্রচন্ড খিদে পাচ্ছে, আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আর মাথা খাস না আমার! কোথায় তুই ?” ভোকাল কর্ডে রানী মুখার্জি মার্কা হাস্কিনেস এনে একটু শান্ত শান্ত অথচ গুরু গম্ভীর গলায় বলল কুঁড়ি।

” আরে বাবা আসছি আমি। এই তো স্টেশনে পৌঁছে গেছি। বালিগঞ্জ থেকে যাদবপুর যেতে কত সময় লাগবে আর! তুই একটু দাঁড়া আমি আসছি। বাই দ্যা ওয়ে, তুই কোথায় দাঁড়িয়ে আছিস ?” সিঁড়ি থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মের একটু সামনের দিকে এগিয়ে গেল অমিত। বালিগঞ্জ থেকে একটা স্টেশন পরেই যাদবপুর। ট্রেনে মেরে কেটে দশ মিনিটের গল্প। সে পকেট থেকে হাত বের করে অন্য হাতে ফোনটা ধরতেই কুঁড়ি ওপাশ থেকে বলল, ” আমি বাবর্চির সামনে দাঁড়িয়ে আছি।”

” ওক্কে! দাঁড়া, হম অভি আতে হ্যা।”
” তাড়াতাড়ি আয়।”
” আসছি। এই রাখছি এখন, ট্রেন ঢুকছে। গিয়ে কথা হবে।” টক করে ফোন কেটে দিল অমিত।
প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢুকে গেছে। অমিত ফোনটা পকেটে রেখে ট্রেনে ওঠার জন্য রেডি হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড পরে ট্রেন থামতে উঠে পড়ল সে।

আজকে ছুটির দিন। কলেজ ছাড়া যেকটা হাতে গোনা ছুটির দিন পাওয়া যায় তার কিছু কিছু দিন ওরা নিজেদের জন্য বেছে নেয়। দুজনে। মানে ওই কলেজ লাইফে যা হয় আর কি! একটু এদিক ওদিক যাওয়া, কোন ফিক্সড ডেস্টিনেশন নেই জাস্ট হ্যাফাজার্ডলি শুধু একসাথে বেড়ানো। কোথাও একটা বসে আড্ডা, একটু খাওয়া দাওয়া আর মাঝে মাঝে টাইম কুলালে সিনেমা। আদতে এই হল দি লাইফ অফ ইয়ংস্টার্স! আজকে কুঁড়ি ওর এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে কোন এক অসুস্থ মাসির সাথে দেখা করতে গেছে যাদবপুর। খানিকটা মায়ের জোরাজুরিতেই যেতে হয়েছে। তা যখন বাড়ি থেকে বেরিয়েইছে তখন দিনটা আর ওয়েস্ট হয় কেন! অর্থাৎ অমিতকে ফোন করে যাদবপুরে তলব করেছে সে। আজকের লাঞ্চটা ওখানেই সেরে নেবে দুজনে।

ট্রেনে খুব একটা ভিড় নেই। বারোটার আগে বলেই বোধ হয় তাই। কারণ বারোটা বাজার পর থেকে শিয়ালদহ থেকে যে ট্রেন গুলো দক্ষিণের দিকে যায় সেগুলোতে ওঠা দুস্কর। রীতিমত দুম দাম মারপিট, দু চারটে কিল, পাঁচ ছ’টা ঘুষি, গোটাকতক খিস্তি না মারলে সাউথ লাইনের ট্রেনে ওঠা কারুর সাধ্য নয়। ট্রেনে উঠতে একটা আলাদা লেবেলের ক্যাপা লাগে বস!

ট্রেনে বসার সিট খালি আছে। একটা স্টেশন পরেই নামবে বলে সিটে না বসে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল অমিত। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে দিয়েছে কিছুক্ষন আগে। ধীরে ধীরে নিজের গতি বাড়িয়ে চকচকে লোহার পাতের উপর দিয়ে এগিয়ে চলল যান্ত্রিক শুঁয়োপোকা। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে বেশ মজা লাগে অমিতের। দমকা হাওয়া ধুপ ধাপ করে মুখে এসে লাগছে। বেকার জীবনের ল্যাদপূর্ন চাল চলনে প্রশান্তির প্রলেপ পড়ছে। ট্রেনের গতি যত বাড়ছে পাশের বাড়ি ঘর, গাছপালা, মানুষজন তত দ্রুত গতিতে পেছনে সরে গিয়ে গতিময় শুঁয়োপোকাকে আগে যাওয়ার জায়গা করে দিচ্ছে। এই আপেক্ষিক গতিতে নিজেকে খুব হালকা মনে হল অমিতের। কুঁড়ির সাথে প্রায় রোজ দেখা হয়, বিষয়টা প্রতিবারই রোমাঞ্চকর। কিন্তু তার থেকেও বেশি রোমাঞ্চকর দেখা করার আগের মুহূর্তটা। অপেক্ষা। দেখা করার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কু ঝিক ঝিক হার্ট রেট বেড়েই চলে অবাধ্য বাউলের মত।

কিছুক্ষন পর ট্রেনের গতি একটু স্লো হতেই অমিত বুঝল ট্রেন স্টেশনে ঢুকছে। ওর কামরাটা স্টেশন ছুঁতেই সাইন বোর্ডের দিকে নজর গেল অমিতের। স্টেশনের নামটা পড়া মাত্র হৃৎপিন্ডটা হুশ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল ।লেক গার্ডেন্স!!সর্বনাশ!!! আজ আর রক্ষে নেই। পুরো ভুল ট্রেনে উঠে উল্টো পথে চলে এসেছে ও। বালিগঞ্জ স্টেশনে কুঁড়ির সাথে ফোনে কথা বলছিল বলে অ্যানাউন্সমেন্ট শুনতে পায়নি এবং না দেখে ভুল করে বজবজ লোকালে উঠে পড়েছে । বজবজ লোকাল বালিগঞ্জ থেকে ডান দিকে বেঁকে যায়। আর যাদবপুর গেলে সোজা যেতে হবে। ব্যাস!! এখন কেস পুরো জন্ডিস! পরের স্টেশন টালিগঞ্জ। ওখানে নামলেই একমাত্র আনোয়ার শাহ রোড হয়ে এইট বি পৌঁছানো যাবে। এছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। দেরি তো হবেই উপরন্তু কুঁড়ির রুদ্রমূর্তির রোষে আজ ভস্ম হওয়ায়ই কপালে আছে। না!! কিছু একটা ব্যবস্থা নিতেই হবে। নিজের উপর খুব রাগ হল অমিতের। এরকম ভুল সচরাচর হয় না ওর। এরকম আহাম্মকের মত কেস সে বহুদিন খায়নি।

টালিগঞ্জ আসতে ট্রেন থেকে নেমে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল অমিত। অ্যালার্জির মত ভয় পকেট থেকে উঁকি মারছে। দশ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন আধ ঘন্টার উপর সময় লাগবে । কুঁড়ি ফোন করলে কি জবাব সে দেবে কে জানে!! রোদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বেচারি নির্ঘাৎ তেঁতে বোম হয়ে আছে, তারপর একবার যদি এই যাত্রা বিভ্রাটের কথা জানতে পারে তাহলে তো হয়েই গেল!

স্টেশন থেকে নেমে বড় রাস্তা ধরে একপ্রকার ছুটতে শুরু করল অমিত। অটো স্ট্যান্ড একটু দূরে। কোনরকমে সেখানে পৌঁছে একটা ফাঁকা অটো পেয়ে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে পড়ল সে। সৌভাগ্যক্রমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোতে বাকি আরো তিনজন উঠতে ড্রাইভার অটো ছেড়ে দিলেন। অমিত ঘামছে। কপাল থেকে ঘাম ঝরে চশমার উপর পড়ছে টুপ টুপ। পকেটে রুমাল আছে, কিন্তু সেদিকে ওর কোন ভ্রূক্ষেপই নেই। কোনরকমে বসে রইল সে চুপটি করে।

অটো সবেমাত্র আনোয়ার শাহ মোড় ক্রস করে বাম দিকে টার্ন নিয়েছে। হঠাৎ ফোন বেজে উঠতেই ঠিকরে উঠল অমিত। “……. দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে ….।” কুঁড়ি ফোন করলে এই রিংটোনটা বাজে অমিতের মোবাইলে। কুঁড়ি নিজেই এটা সেট করে দিয়েছে।

অমিত প্রথমে ভাবল ফোনটা ধরবে কিনা! ধরলেই বা কি বলবে! একে তো দেরি হয়ে গেছে, উপরি পাওনা হিসেবে রাস্তার জ্যাম। তারপর চাঁদি ফাটা রোদ। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা গন কেস! অবশেষে দুরু দুরু বুকে ডান হাত দিয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করে ধরল অমিত।

” কোথায় ?” ওপার থেকে শুকনো কটকটে গলায় জিজ্ঞেস করল কুঁড়ি।
” এই তো এসে গেছি।” তুরন্ত জবাব দিল অমিত। এমন হাবভাব যেন এক পা ফেললেই পৌঁছে যাবে।
” এসে গেছিস তো কোথায়!! আধ ঘন্টা হয়ে গেল অমিত। কতক্ষন আর দাঁড়িয়ে থাকব বল তো!” কুঁড়ির গলার ঝাঁঝ অমিতের টিমপ্যানিক মেমব্রেন ভেদ করে যথেষ্ট প্যানিক সৃষ্টি করতে সক্ষম হল।
” তুই দু মিনিট ওয়েট কর! প্লিজ! আমি এই এলাম বলে!”

” দ্যাখ, আমি অনেক্ষন থেকে এই রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি একা একা। আমি চললাম রেস্টুরেন্টের ভেতরে। তুই এসে ভেতরে ঢুকে যাবি। আর যদি দশ মিনিটের মধ্যে না আসিস তাহলে আমি চললাম বাড়ি! বাই।” বলেই ধাঁই করে ফোন রেখে দিল কুঁড়ি। অমিত কিছু বলার সুযোগ তো দূরের কথা, ট্যাঁ ফুঁ করারও সময় পেল না। বীভৎস রেগে গেলে কুঁড়ি এরকমটা করে। অমিতকে জাস্ট কিছু বলার জায়গা দেয় না।

অমিত ভাবল, আজ কপালে দুঃখ আছে। দশ মিনিটে সে কোনদিন পৌঁছতে পারবে না। সামনে সাউথ সিটির জ্যাম, তারপর যাদবপুর থানার আরো বেশি জ্যাম। পৌঁছতে মোটামুটি কুড়ি মিনিট তো লাগবেই। কপাল বাবাজির অশেষ দুঃখ আজ।

যাই হোক, সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে এইট বি পৌঁছতে কুড়ি মিনিটের একটু কম সময় লাগল। বাসস্ট্যান্ডের গায়েই বাবর্চি। যাদবপুরের নামকরা রেস্টুরেন্ট। অমিত রাস্তা ক্রস করে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। বাবর্চিতে ওরা এর আগেও খেতে এসেছে। রেস্টুরেন্টে ঢোকার মুখে বাম দিকে একটা ফুলের দোকান দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল অমিত। সেই পুরানা ওল্ড ফ্যাশন্ড ট্রিক আর কি!! গোলাপ দিয়ে রনচন্ডী প্রেমিকার রাগ ভঞ্জন। এই ট্রিকটা আগেও বেশ কয়েকবার অ্যাপ্লাই করেছে অমিত। সাকসেস রেট খুব ভালো। কুঁড়ি বলে আগের গোলাপগুলো নাকি সে সব বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছে। বিশ্বাস হয়না অমিতের, কিন্তু শুনতে ভালো লাগে। সুতরাং গোলাপ ইট ইজ। ফুলের দোকানের সামনে এসে সামনের একগোছা লাল টকটকে গোলাপের দিকে তাকিয়ে সে দোকানদারকে বলল, ” দাদা, একটা গোলাপ দিন তো।”

” কোনটা দেব ?” দোকানদার ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন।
অমিত হাত দিয়ে একটা বেশ হৃষ্ট পুষ্ট গোলাপের দিকে আঙুল দিয়ে দেখাল। দোকানদার সেটা হাতে নিয়ে বললেন, ” রাংতা শেষ হয়ে গেছে দাদা। খবরের কাগজ মুড়ে দিলে হবে ?”

আমিতের ওসব ভাবা ভাবির সময় নেই এখন। সে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলতে দোকানদার একটা খবরের কাগজে লাল গোলাপটা মুড়ে অমিতের হাতে দিয়ে দিল। নিচের অংশটা কাগজে মোড়া, শুধু উপরে মাথা বের করে আছে গোলাপ। দোকানে টাকা মিটিয়ে রেস্টুরেন্টের দিকে পা বাড়াল অমিত।

সিঁড়ি দিয়ে উঠে দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকল সে। ঢুকে ডান দিকে চোখ যেতেই কোনের দিকে দু জনের টেবিলে কুঁড়ি’কে দেখতে পেল সে। কুঁড়ি গালে হাত দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। সামনের কিছু অবাধ্য চুল চশমার

উপর দিয়ে মুখের উপর পড়ছে।দেখে মনে হয় বরফের মত শান্ত। কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে হাজার হাজার লাভা অমিতের জন্য অপেক্ষা করছে সেটা অমিত ছাড়া আর কেউ জানে না। অমিত গোলাপ ফুলটা পেছনের দিকে করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে কুঁড়ির সামনে বসল। কুঁড়ি একবার আড় চোখে অমিতকে দেখে এক হাত দিয়ে মেনু কার্ডটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিল। তারপর আবার বাইরের দিকে ফিরে তাকাল।
অমিত বুঝল পরিস্থিতি জটিল। সে একটু নড়ে চড়ে বসে গলা ঝাড়ল,” উম হম হম হম….।”
” তোর হাতে কি ওটা পেছনে ?” আমিতের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় প্রশ্ন করল কুঁড়ি।
অমিত পেছন থেকে হাত সামনে এনে গোলাপটা কুঁড়ির দিকে এগিয়ে দিল। মুখে এমন একটা ভাব যেন ভাইভা টেবিলে বসে আছে। কুঁড়ি কয়েক সেকেন্ড গোলাপটার দিকে তাকাল, তারপর অমিতের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে একটা বাঁকা আলতো হাসি এনে বলল,” আমি জানতাম তুই এমন কিছু একটা করবি! শয়তান ছেলে কোথাকার!”

” সরি,রাগ করিসনা প্লিজ!” গলা বাঁকিয়ে বলল অমিত।
কুঁড়ি হাত বাড়িয়ে অমিতের হাত থেকে গোলাপটা নিয়েই চিৎকার করে উঠল, ” আ আ..”

” আরে কি হল ?”
কুঁড়ি গোলাপ ফুলটা টেবিলের উপর রেখে নিজের ডানহাতের বুড়ো আঙুলের দিকে তাকিয়ে বলল,” কি আবার হবে! আপনার উপহারে আমার একটু সংহার হল আর কি। হাতে কাঁটা ফুটে গেল!”

” এমা!!” অমিত কুঁড়ির হাতের দিকে তাকিয়ে দেখল আঙুল থেকে রক্ত বেরোচ্ছে। অল্প।
” খবরের কাগজের ভেতর থেকে কাঁটা বেরিয়ে ছিল! খেয়াল করিনি আমি।” ঠান্ডা গলায় বলল কুঁড়ি।
” আরে দোকানে রাংতা শেষ হয়ে গেছিল। তাই খবরের কাগজ মুড়ে দিল।” বলল অমিত।

হঠাৎ কুঁড়ি কোন কথা না বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ল। অমিত ব্যাস্ত হয়ে বলল, ” এই দেখো! আরে চল্লি কোথায়! সরি বললাম তো! প্লিজ যাস না! কথা দিচ্ছি আর কোনদিন দেরি করে আসব না। আর কোনদিন রাংতা ছাড়া গোলাপও আনব না। মাইরি বলছি।”

কুঁড়ি হেঁসে বলল,” ধুর! ওয়াশরুম যাচ্ছি হাঁদারাম। হাত ধুতে। রক্ত হাতে খাব নাকি!”

” ও।” দাঁত কেলিয়ে বলল অমিত।

কুঁড়ি চলে যাওয়ার পর অমিত গোলাপ ফুলটা হাতে নিল। দেখল নিচের দিকে দুটো কাঁটা বেরিয়ে আছে। ওখানেই হাত লেগেছে কুঁড়ির। মন খারাপ লাগল অমিতের। ওর জন্যেই কুঁড়ির হাতে কাঁটা ফুটল। মনে মনে ফুল দোকানিকেও হেব্বি খিস্তালো সে। শালা ফুল বিক্রি করছে অথচ রাংতা নেই!

ধীরে ধীরে খবরের কাগজটা গোলাপফুল থেকে খুলে নিল অমিত। গোলাপ ফুলটা পাশে রেখে দিয়ে খবরের কাগজের টুকরোটা সোজা করে টেবিলের উপর রাখল। তারপর বুক পকেটে থেকে পেন বের করে খবরের কাগজের উপর লিখল, ” আমি জানি আমি হাঁদারাম, ভীষণ রকম আগলি/ যাই হই তোর’ই আছি, রাগ করিস না পাগলী!” কাগজটা কুঁড়ির চেয়ারের সামনে রেখে সে আসার অপেক্ষা করতে থাকল অমিত। কুঁড়ি চেয়ারে বসলেই সামনে কাগজের লেখাটা দেখতে পাবে।

কিছু সময় পর কুঁড়ি জায়গায় ফিরে এল। অমিতের বুক ধুক ধুক করছে একটু আধটু। মন বলছে ইস বার ভি হাসিনা মান জায়েগি। কুঁড়ি চেয়ারে বসে সামনে কাগজের লেখাটি দেখল। মুখ নিচু করে লেখাটা পড়ে ফিক করে হেসে আমিতের দিকে তাকিয়ে বলল,” তুই না যা তা একেবারে!!”

অমিত বুঝল বরফ গলেছে। সে একটু কনফিডেন্স পেয়ে গলা ছেড়ে সুর করে বলল,” সুন্দরী গো, দোহাই দোহাই মান কোরো না।”

” এই ছাগল, কি হচ্ছে কি! চুপ কর…, চুপ চাপ খাবার অর্ডার কর। আমার খিদে পেয়েছে খুব।” অমিত কে থামিয়ে দিল কুঁড়ি।

” ওক্কে জানেমান!” টেবিল থেকে মেনু কার্ড হাতে নিল অমিত। যাত্রা বিভ্রাট আপাতত মেনু কার্ডের তলায় চাপা পড়ে গেল।

দুপুরের কোলকাতা লাঞ্চ সারল ভালোবাসার আল আ কার্টে!

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত