শহরতলির সেই ছেলেটা

শহরতলির সেই ছেলেটা

– “এ বাবুউউউউউউউউ তোর জামাকাপড়গুলো সার্ফের জলে ভিজাবো।কোনগুলো কাচতে হবে রে??বাবুউউউউ এই বাবুউউউউউ

খুব মন দিয়ে amazonএ হেডফোনের দামগুলো দেখছিল মায়ের বাবু ওরফে নিউটন বটব্যাল।Redmi companyর ফোন,হেডফোন দেয়নি একেই,গতবছর কোনোক্রমে বাবাকে পটিয়ে ফোনটা হাতিয়েছে।এমনিতেই ছয়মাস পর থেকেই ফোনটা গার্লফ্রেন্ডের মেল বেস্টফ্রেন্ডের মত ব্যবহার করছে,দুমদাম হ্যাং করে গিয়ে মটকা গরম করে দিচ্ছে,তার উপর পাড়ার পাঁচুদার দোকান থেকে কেনা একশোটাকার হেডফোন ব্যাটাচ্ছেলের একটা দিক দিয়ে শোনা যায়না।তাই দিয়েই এতদিন চালিয়েছে।তা পেপারে পড়ল আজ নাকি amazon এ ভালো offer দিচ্ছে তাই একটু খোঁজ নিচ্ছিল আর কি!বড় সাধ গলায় sony র হয়া বড় হেডফোন,গায়ে ব্ল্যাক লেদারের জ্যাকেট,পায়ে black shoe, হাতে fast-track এর দামি ঘড়ি পড়ে royal enfield এ চড়ে ভটভট করতে করতে যাবে যখন লোকে বলবে হ্যা,ছেলে যাচ্ছে বটে একটা।কিন্তু কপালের নাম গোপাল!চাকরি আর গার্লফ্রেন্ড চুলোর পিন্ডি কেউ আসছে না,হুররররর।মা ওদিক থেকে পোঁ ধরেছে

– “বাবুউউউউউউউউ এই বাবুউউউউ”
অতিষ্ট হয়ে শেষ অব্দি মুখ খুলল মায়ের বাবু।

– “আরে,আলনার left side এ যে yellow আর green দুটো tshirt আছে?ঐ দুটো বাদ দিয়ে সব কেচে দাও।দেখো red shirtটা দিয়ে কিন্তু রঙ উঠছে,সাবধানে”

বাবুর বাবা সবে বাজার থেকে মৌরলা মাছ এনে চা মুখে তুলতে যাবেন,বাবুর কথা শুনে মাথাটা 180 ডিগ্রি বেঁকা পচা শুকনো লঙ্কার মত জ্বলে গেল

– “অ্যা, হারামজাদা উচ্চমাধ্যমিকে কাতরাতে কাতরাতে ইংলিশে পাশ করে বলে yellow জামা,red জামা!!left side,right side..এই যে নবাবপুত্তুর এখন লাল নীল বলতে লজ্জা পাচ্ছে!এই তো সেদিন একটা english এ application লিখতে গিয়ে বন্ধুদের ফোন করছিল বারবার!হতভাগা অপদার্থ”

ঠিক এইসময়টায় হেডফোনটা দরকার হয়,হাই ভলিউমে “যাওয়ার দেখা হলো কথা হলোনা”গান বাজানোর জন্য।কিন্তু না হেডফোনটাও অব্দি পুরো পালিয়ে যাওয়া বৌ এর মত ব্যবহার করছে।কি লাইফ শালা!!যে পারছে এসে চেটে দিয়ে চলে যাচ্ছে??দুমদাম করে কোনক্রমে গায়ে গেঞ্জিটা গলিয়ে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল নিউটন।পিছনে তখনও বাপ গর্জাচ্ছে

“আইজ্যাক নিউটনের জন্মদিনেরদিন জন্ম বলে নাম রেখেছিলাম নিউটন!কে জানবে ইংরেজিতে এতটা ধ্যারাবে?জানলে লালু কালু জাতীয় কিছু একটা রেখে দিতাম,এই যে মৌরলা মাছটা এবারে বিড়ালে নিয়ে যাবে।সারাদিন শুধু আরেকজন কেচেই যাচ্ছে জামাকাপড়!এই যে শুনতে পাচ্ছ?এই যেএএএএএ”

ক্লাবে তখন জোর ঝগড়া শুরু হয়েছে।টুবাই,শানু আর পটলা BJPর সাপোর্টার।অন্যদিকে কেলে আর হোঁতকা TMC র।হালকা থেকে ঝগড়া শুরু হয়ে এখন গালাগালির পর্যায়ে চলে গেছে।নিউটন চুপ করে বেঞ্চে বসে খৈনি ডোলছিল হাতে।

-“এ ব্যাটবল একটা বিদেশী মুভি নিবি?HD..সেই সেই মুভি!পুরো একঘর,উফফফফ দেখলে জাস্ট পাগল হয়ে যাবি।”

-“আমার টাইটেল বটব্যাল রে পাঁঠা,ব্যাটবল না।তা হিন্দিতে ডাবিং তো রে গোপলা?”

-“হুর ক্যালানে,অশিক্ষিত।আমি ওসব জালি জিনিস দেখি না।”
ইংরেজিতে অনার্স বলে গোপলার সেই রোয়াব।আজকাল হলিউডের গান ছাড়া অন্য গান শুনলে ওর নাকি সেই ফিলটাই আসেনা।মাথাটা গরম হয়ে গেল নিউটনের।বাড়িতে বাবার চিল্লানো এখন এ মদন।

– “ঐ ক্যালানে কাকে বললি বে?কোন অফিসারের চাকরি করছো ভাইপো?ঐ তো সেদিন পিকনিকে বাংলা খেয়ে পাগলু2 র গানে মাতালড্যান্স দিলি,এখন বুলি কপচাচ্ছো?ফের যদি বেশী বলেছিল কচুকাটা করে রেখে দেব।দে আমার সিগারেটের টাকা ফেরত দে।”

– “কোন সিগারেট বে ব্যাটবল?”

– “গত সপ্তাহে খেলি আমার টাকায় ভুলে গেলি?নিজের তো ‘রোনাল্ডো বিড়ি’ ছাড়া জোটে না।”

– “তাই নাকি?তা তোকে সেদিন কচুরি কে খাওয়ালো বে?”
ঝগড়াটা আরো এগোতো যদি না সামনের চায়ের দোকানে হনুমান ঢুকে বিস্কুটের প্যাকেট নিয়ে পালাতো আর সবিতা বৌদি হুলুস্হুলু বাঁধিয়ে দিতো।

B.ED শেষ হয়ে গেছে গত একবছর হলো।কলেজ ও শেষ।মেয়ে হলে অন্তত বিয়েটা দিয়ে দিত,ছেলেদের তো সে গুড়ে বালি!কাড়ি কাড়ি টাকা ইনকাম করো নইলে বউ জুটবে না,আরে ভাই বৌ না জুটুক কমসে কম একটা সান্ত্বনা পুরস্কার গার্লফ্রেন্ড?না তা হবে কেনো??এটা কি লাইফ ভগাদা?জীবনটা পুরো আদা হয়ে গেল আদা!ওহ্ বলাই তো হয়নি,b.ed কমপ্লিট!SSC বিঁশবাও জলে,যবে চাকরি হবে মানে যদি হয় ততদিনে ex গার্লফ্রেন্ডের মেয়ের বিয়ের বয়স হয়ে যাবে।তো এই ভাবে তো টিউশন করে তীর্থের কাকের মত SSCর ভরসায় সারাজীবন হোঁদলকুতকুত হয়ে তো বাঁচা যায় না,তাই একটা জায়গায় কমপিটিটিভ পড়তে যায় নিউটন।

” ‘নন্টেফন্টে স্টাডি সেন্টার’ একবছরের মধ্যে চাকরি,নয়তো টাকা ফেরত”,হোডিংটা দেখে ভরতি হয়েছিল ‘আশায় বাঁচে চাষা’ মার্কা ফিলিংস নিয়ে,তা সে একবছর গড়িয়ে দুবছর হতে এলো,চাকরি তো দূর written পরীক্ষাতেও পাশ করতে পারেনি।গনশা দা মানে যে পড়ায় দিব্যি প্রতিমাসে ভুঁড়ি নাচিয়ে কটকি লুঙ্গী পড়ে টাকাটা নিয়ে যাচ্ছে!শালা অঙ্ক ইংরেজিতে মাথা থাকলে কি b.ed করত?মাধ্যমিকের উপপাদ্য নাকি সম্পাদ্য কি সব চুলোর পিন্ডি আছে,ছবি আঁকতে হয়?কেমন একটা ভটভটি সাইকেলের মত ছবি আঁকা এসেছিল!তারপর বাঁশ বাঁদর;ভুয়ো কনট্রাক্টরের করা চৌবাচ্চার অঙ্ক,আরে ভাইপো,একনল দিয়ে জল বেড়োয় আরেক নল দিয়ে ঢোকে!ফাজলামি নাকি?তারপর কিসব বাপছেলের বয়স!মনে আছে,পরীক্ষায় ছেলের বয়স বাপের বয়সের থেকে বেশী হয়ে গেছিল!সেকি চাপ উরে বাপ্ রে!তারপর কিসব হরিমতী স্যরি পরিমিতি,কয়লা করে দিলো লাইফ ব্রান্ডেড কয়লা!

পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এসে ওলাই চন্ডি ঠাকুরকে পেন্নাম ঠুকেছিল নিউটন,জীবনে আর এই চ্যাঙ্কি পান্ডে ফ্লেভারের সুপারিকিলার অঙ্কের মুখ দেখবে না!কে শোনে কার কথা?ঠিক অঙ্ক মালটা আবার লাইন মারছে,গোদের উপর বিষফোঁড়া এখন আবার ইংলিশে অংঙ্ক।কত শখ ছিল,ইতিহাসে অনার্স,জোর কদমে বাবর থেকে ইংরেজ সবকটাকে SSCতে দুমাদুম গিলে ঝিঙ্কু মার্কা একটা চাকরি পাবে,তা না!মামা পরীক্ষাটাই হয়না।কি দিন দেখালে ভগাদা?আগে পরীক্ষার ভয়ে ন্যাপথলিন খাওয়ার উপক্রম হতো?আর এখন পরীক্ষা হলে যেন বেঁচে যায়।

ব্যাচে পৌঁছে দেখে ততক্ষণে পড়া শুরু হয়ে গেছে,গনশাদা বুনিপের মত চোখ পিটপিট করে নিউটনকে একবার দেখে “এ অংক করাচ্ছি,প্রশ্ন লেখ্ খাতায়” বলেই আবার ইংলিশ মিডিয়ামের লাল্টুস মামণ “অশ্বত্থামা তলাপাত্র”র দিকে অমায়িক ভাবে তাকিয়ে আছে।

– “ও গনশাদা, বাইনোকুলারের ইংলিশ বানান টা বলো”
নিউটনের কথা শুনে ইংলিশ মিডিয়ামের মামণের হাসি যেন থামে না,”ভাই H.S এ ডাব্বা খেয়েছিলি নাকি?এই easy spellingটা জানিস না?আবার WBCS এর জন্য পড়ছিস?oh god!”

গনশাদা টাও সুর মিলিয়েছে ঐ অশ্বত্থামার সাথে।ওকে ভগবান ভাবে,একটু ভালো ইংলিশ পারে বলে।ও ভুল বললেও ঠিক।সাথে আরো ছেলেপিলে,যাদের বেশীরভাগই গরীবের হিরো আলম।ফেসবুকে মেয়েদের ছবিতে ভুলভাল ইংলিশে “osum,nise,qute”কমেন্ট করে নিজেকে জ্যাকি শ্রুফ ভাবে।

এখানে এসেও ভুল বানান লিখবে তাও নজ্জাতে জিজ্ঞেস করবে না গনশাদাকে।রোজ এক জিনিস।

মাথাটা হঠাৎ চায়না মোবাইলের মতো গরম হয়ে গেল নিউটনের
-“এ তলাপাত্র বল্ কুজ্ঝটিকার বানান বল্ সাথে মানে।”

-“what টিকা?এসব আবার কি word?”

-“পারলিনা তো?পারবিও না।তোর অওকাত নেই,কি হলো গনশাদা এবার হাসো?ইংলিশ বানান জানিনা বলে তো হেসে খুন হচ্ছিলে,এখন ও বাংলা বানান পারলোনা,হাসলে না তো?”

-“look নিউটন,আমি ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্ট!এসব আলফাল word জানিনা।”

-“মদন আমার,ইংলিশ না জানলে গোমুখ্যু আর বাংলা না জানলে বিশাল গব্বের কথা?কতই রঙ্গ দেখবো দুনিয়ায়!”
‘গনেশ চন্দ্র মাল’ তখন কেসটা সুবিধার ঠেকছে না বলে ধমকধামক দিয়ে দুজনকেই চুপ করিয়ে দিলেন।পড়ার ব্যাচের শেষে তখন নিউটনের বাইকের স্পিডের জন্য একটু কাদা লেগে গেছে অশ্বত্থামার নতুন বৌ থুড়ি রয়্যাল এনফিল্ড টার গায়ে,

– “এ কুত্তা নিউটন”
নিউটন অনেকদূর এগিয়ে তখন চিল্লাচ্ছে “এ তলাপাত্র বাংলাতে গালি দিচ্ছিস কেনো?ইংরেজিতে দে।”
রাস্তায় হঠাৎ দেখা “ঊর্বি” সাথে,নাইন টেনে একসাথে ব্যাচে পড়তো,ফুলটু ক্রাশ খেয়ে গেছিল মেয়েটার উপর।দিনে দশবারোবার ওর বাড়ির সামনে দিয়ে চক্কর খেতো যুবশ্রী স্যরি ওর তো মাগনায় কিছুই জোটেনি,বাপের কিনে দেওয়া লাল সাইকেলে চেপে,আর বেল বাজাতো।ঊর্বির কাছ থেকেও গ্রীণ সিগনালই এসেছিল।দাঁড়িয়ে থাকত বারান্দায়।মহাভারতের কর্ণের বৌ এর নাম ঊর্বি,শুনে নিজেকে কেমন যেন কর্ণ কর্ণ ফিল হতো নিউটনের,এই ফিলিংস এর ঠেলায় চ্যাংরামো করতে গিয়ে একদিন সাইকেলে সহ ল্যাম্পপোষ্টে জোর ধাক্কা খেয়েছিল।তারপর মাধ্যমিকের পর নিউটন ‘আইজ্যাক নিউটন’এর নামের কলঙ্ক হয়ে আর্টস নিলো,আর ঊর্বি সায়েন্স।বাংলা ইংলিশ ব্যাচটায় একসাথে পড়ত।দুএকদিন ব্যাচ কামাই করে অন্ধকার কলেজ মাঠে দুজনে,মানে যা হয় আর কি!আহ্ ভাবলেও নিউটনের রোমাঞ্চ জাগে!এরপর আর কি,ঊর্বি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে সাঁই করে কলকাতা।যোগাযোগ রাখল না।ফেসবুকে এখন দেখে ছোটোখাটো দিশা পাটানি হয়ে গেছে,বয়ফ্রেন্ডটাও সেই একঘর!হিরো হিরো দেখতে।ব্রিজের উপর,অটোর নীচে,নর্দমার পাশে যেখানে সেখানে ফটোশুট করে বেড়াচ্ছে।পুণেতে চাকরি করে ঊর্বি!রাস্তায় ওকে দেখে নিজেকে কেমন যেন ক্যালানে কার্তিক ফিল হতে লাগল,ex girlfriend চাকরি করে আর ও নিজে এখোনো কাঠবেকার।দুপ করে সবিতা বৌদির দোকানে বসে চিল্লালো

-“বৌদি,লাল চা আর দুটো লেড়ো বিস্কুট।”
দুবছর প্ল্যানিং এর পর আজ পাড়ার ক্লাব থেকে দীঘা যাওয়া হচ্ছে,সবকটা টিউশনি পড়ায়,খেটেছুটে টাকা জোগাড় করেছে।এর হয়তো ওর হয়না।গতবার সব ঠিকঠাক,হোঁতকাটার ঠাকুমা মারা গেল।এই ভাবে ছোঁড়াটাকে ফেলে যাওয়া যায়?গেল প্ল্যান ক্যান্সেল।এবার যাওয়া হচ্ছে।ছেলেপিলে সেই খুশি।কেলে একটা ক্যাটক্যাটে সবুজ রঙের প্যান্ট আর গোবরের কালারের রুটি সেঁকা তাওয়ার মত চশমা অনলাইন থেকে কিনে সেই ভাও খাচ্ছে,শানু আর টুবাই এর গার্লফ্রেন্ড হাইফাই লেভেলের জাঁদরেল মহিলা,certified কুটনি।ওদের বেড়াতে যাওয়াই হতো না,যাওয়া হচ্ছে একটাই শর্তে ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন করে আপডেট দিতে হবে।ট্যাংরা সব শুনে ফোড়ন কেটেছে,

-“হুহহ্ গরীবের আবার আপডেট”!

ট্রেন ছাড়ল হাওড়া স্টেশন থেকে বেলা গড়িয়ে তখন চারটে।নিউটনের গ্যাং তো ফুল অন মেজাজে,খালি মিনিটে মিনিটে ফোন আর sms এর কুঁইকুঁই আওয়াজ,মটকাটা ফুলটু গরম হয়ে গেলো নিউটনের,ঘুরতে এসেছে এখানেও ডিউটি করছে ছোটোলোকগুলো

– “এ বাপের ছেলে,বাড়ীতে কতবার ফোন করেছিস বে?খালি সোনা মনা বাবু পুচু করেই যাচ্ছিস?যা না যা সোনাবাবুর সাথে ঝুনঝুনি নিয়ে খ্যাল গা হ্যাপি পড়ে।আমাদের সাথে এসেছিস কেন ছোটোলোক গুলো?”

পরদিন রাতে তখন হোটেলের ছাদে সবকটা একসাথে উঠেছে,রাতে সমুদ্রে যাওয়া মানা।ফুরফুরে হাওয়া ছাদ থেকে সমুদ্র দেখা যায়,জোছনা রাত,পেটে সুরা পড়েছে ভালো মতো!আহা আর কি চাই?মনটা কেমন রোমান্টিক

রোমান্টিক হয়ে উঠেছে।শানু টুবাই গোপলা হোঁতকা পুঁটে আর খাবলা তখন sms এ গার্লফ্রেন্ডের সাথে চ্যাটে ব্যাস্ত।গুল মেরে ফোনে কথা বলছে না,বললেই ধরা পড়ে যাবে।আর মদ খেয়েছে শুনলে বিয়ে না হতেই হালকা করে ডিভোর্স!ট্যাংরা পটলা আর নিউটন সিঙ্গলদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর!হঠাৎ কুঁইকুঁই করে কেঁদে উঠল নিউটন!ছেলেপিলে সেই চমকান চমকেছে!ব্যাটাচ্ছেলে কাঁদে ক্যান?ট্যাংরা কানে হেডফোনে অরিজিৎ সিং লাগিয়ে কোন জন্মে ক্লাস ফাইভে কোন গলিতে হিসু করে ফেরার পথে কোন মেয়েকে দেখেছিল তার কথা ভেবে সেই সেন্টু খাচ্ছিল।ছেলেপিলের চিৎকারে হেডফোন খুলে তখন নিউটনকে দেখে গীতা দত্তের গলায় তখন সুর তুলেছে
– “নিউটন,কাঁদছিস কেন ভাইপো?”

– “ভাই,ঊর্বির কথা হেব্বি মনে পড়ছে।”

ট্যাংরা কিছু না বলে হঠাৎ ফাটা বাঁশের মত গলায় গান ধরল,

“মুড অফ হলে চাঙ্গা করে নিতে
বাটলির খুলি ছিপি !
ব্যাচেলার লাইফ ‘মাঙ্গে মোর’ তাই-
করি কিছু কেস গুপি;
বিন্দাস আছি বাপের হোটেলে,
নেই শুধু বুলবুলি
রিসোর্টে যাওয়ার মাল্লু তো নেই
ছুটে যাই অলিগলি…”

দীঘা থেকে ফিরে ঝুরো কাকের মতো বদন নিয়ে কলকাতাতে নিউটন আর টুবাই গিয়েছিল একটা পরীক্ষা দিতে,উরি কঠিন প্রশ্ন কারে কয় দাদা?সব ইনজিরি সব, হনুলুলুর প্রেসিডেন্টের নাম এসেছে,দেখেই রাগে মাথায় নাড়িভুড়ি উঠে গিয়েছিল নিউটনের।আর অংক?ভাই করবে কি?ইংরেজি থেকে বাংলায় translate করতে করতেই তো অর্ধেক টাইম পগার পাড়।পাশে হিন্দি ভার্সানটা দেখে কয়েকটা জোড়াতালি দিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে।সেভেনে ঐ সংস্কৃত টাকে যাতা লেভেলের গালমন্দ করেছিল,এখন ঐ বাপধন ই কাজে আসছে হিন্দি বুঝতে।

ফেরার পথে টুবাইয়ের পাল্লায় একটা হাইফাই লেভেলের রেষ্টুরেন্টে গিয়ে বসল দুজন।হাফহাফ করে ছয়শো টাকায় কাজ চালাতে হবে।তাও ভালো পিসি এবার এসে হাতে একহাজার টাকা দিয়ে গেছে।

– “এ টুবাই দুটো বিরিয়ানি বলে দে”

-“হুর শুয়োর,ওটা তো খাস,এখানে অন্য কিছু খাবো।কুলচা আর ডালমাখনি বলি।আর সাথে ব্রিনজেল BBQ with red onion and chilli flakes”

-“অতটাকা নাই আমার,তোর বাপের অনেক টাকা।তুই খা”

-“শালা international ভিখারী,আমার বাপ তো অম্বানির মামাতো ছেলে!”
যাইহোক শেষ অব্দি কুলচা খেয়ে হেব্বি খুশি টুবাই,নিউটন তবু নাক সিঁটকাচ্ছিলো। “পোড়া পোড়া গুন্দো”!টুবাই জোর ক্ষেপে নিউটনেরর পায়ে এক লাথি মেরে বলছে “মায়াকোলের গাঁইয়া যা ছাতুমুড়ি খা।”
ব্রিনজেন BBQ আসতেই এক চিল্লালো নিউটন “এ ভাই,এতো পেঁয়াজ লঙ্কা দিয়ে মাখানো বেগুনপোড়া ! মা শনি মঙ্গলবার করে।শালা এই ভাবে ইংরেজি নাম দিয়ে ঠকিয়ে দিলো?টাকা দেব না দেখ্।”

খাবার দেখে টুবাইয়ের আক্কেলও গুরুম,নিউটনের সামনে প্রেস্টিজ খেয়ে গেল।মনে মনে বাছা বাছা কটা গালি দিলো হোটেলের ম্যানেজারকে।

কদিন ধরেই ফেসবুকে গনশাদার ব্যাচের এক মেয়ের সাথে ভালোই কথা হচ্ছে নিউটনের,পুস্পিতা।মেয়েটা গতবার H.S পাশ করে ওপেনে গ্রাজুয়েশনের সাথেই compititive পড়ছে।নিউটনের থেকে পাঁচ বছরের ছোটো।বুদ্ধির কাজ করেছে।ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারেই কথা হতো,এখন পড়ার ব্যাচের গ্রুপে whatsapp নম্বর পেয়ে whatsapp এই কথা হয়।ভালোই লাগে বেশ মেয়েটাকে,বেশ কটা কবিতাও লিখেছে নিউটন।কেমন একটা প্রেম প্রেম ফিল আসছে।পুস্পিতাকে অবশ্য বলেনি।যা জাঁদরেল মেয়ে,মেরে ধরে না দেয়!

ক্লাবের ছেলেপিলে সেই ধরেছে প্রোপোজ করার জন্য।
– “নিউটন বৌদিকে বলে দে”
– “এ ঘাপলা,পুস্পিতা তোর বৌদি হলো কবে থেকে?”
-“আরে হবে তো?”

গালাগালি দিতে গিয়েও থেমে গেল নিউটন,ফোনটা কোথায়?কে নিলো?
লাফাতে লাফাতে বাইরে এসে দেখে ছেলেপিলে ফোন নিয়ে কি সব কীর্তি করে অমায়িক হাসি দিচ্ছে।

– “নিউটন,তোর হয়ে পুস্পিতাকে ফেসবুকে প্রোপোজ করে দিয়েছি।sms seen করেছে।”
মুহুর্তের মধ্যে নিউটনের মনে হল বুকে কারা যেন ডুগডুগি বাজাচ্ছে উইথ ভটভটি!
– “এ ভাই এটা কি করলি?এবার কি হবে?সর্বনাশ করে দিলি”

– “অব্বে থাম,নাটক করিস না।প্রেমে তো হাবুডুবু খাচ্ছো,পেটে খিদে মুখে লাজ?ঐ মেয়ে তোর চেয়ে অনেক ছোটো,তোর চাকরি পাওয়া অব্দি ওর বিয়ের চাপ আসবে না।হেব্বি সুযোগ ভাই।”

ট্যাংরা আবার একধাপ এগিয়ে “নিজে লজ্জা পেলে আমায় দিয়ে দে,গরীব মানুষ আমি।একটা গার্লফ্রেন্ড পেয়ে একটু বাঁচি।”

ওদের কাছ থেকে ফোন নিয়ে সাঁই করে ফেসবুক whatsapp সব উড়িয়ে দিল নিউটন।আর কথা বলবেনা পুস্পিতা।মালগুলো কি ঘটনাটাই না ঘটালো।ইসসসসস্ ভগবান।

দুদিন পড়তে যায়নি।গনশাদা ফোনে খোঁজ নিয়েছে,এক সপ্তাহ আমাশা হয়েছে বলে চালিয়ে দিয়েছে নিউটন।পরের সপ্তাহ চোখে পিচুটি বলে।বাবা জানেনা ভাগ্যিস!জানলে কেলোর কীর্তি বাঁধিয়ে দিত।তবে পুস্পিতাকে হেব্বি মিস করে নিউটন আজকাল,কেমন যেন মাতাল দেবদাস দেবদাস ফিল হয়।

রাতে ফোনে টেক্সট smsআসলো যখন নিউটন youtubeএ ‘বস্তির মেয়ে রাধা’দেখছিল,unknown নম্বর।

“আমি চাকরি পেলে বিয়ের পর ঐ টাকা দিয়ে কিন্তু শুধু মনভরে জামাকাপড়,ফোন,আর সাজের জিনিস কিনব।তোমার টাকায় সংসার চলবে।আমায় তখন এটা কিনোনা ওটা কিনোনা বলে আটকালে কিন্তু হবেনা।রাজি?
পুস্পিতা”

বুকটা কেমন যেন করতে লাগল নিউটনের,গুটকা খেলে যেমনটা হয়।Sms এর উত্তর না দিয়েই নিউটন ফোন লাগানো টুবাই শানু ট্যাংরাদের।কনফারেন্স,সবকটা তখনও জেগে।নিশাচর।কোনো কথা না বলে সেই দীঘার মত কান্না জুড়েছে।অশ্রাব্য গালি দিয়ে যাচ্ছে শানু

– ” বলবি শালা কি হয়েছে?রাতবিরেতে বৌ এর ফোন রেখে তোর ফোন ওঠালাম কি না কি হয়েছে ভেবে, আর এ মাল না বলে নাটক করছে।”

কয়েকবছর বাদে “গোদাডাঙা ভাইভাই সংঘ”এর ফুল টিম তখন চলেছে নিউটনের বিয়েতে।সবার বিয়ে হয়ে গেছে,বাকি শুরু শানু আর গোপলা।সামনের বছরেই এরাও বন্দি হওয়ার তালে আছে।সবচেয়ে প্রথম বিয়েটা হয়েছিল ঐ ল্যাংড়া আমের জাতভাই ট্যাংরার।নিউটন টুক করে sms পাঠালো পুস্পিতাকে

“তোমার চাকরির টাকায় শুধু সাজের জিনিস ই কিনবে?দু পাঁচ টাকা আমায় ও ডোনেশন দিও,বিয়ার খাবো দুজন মিলে বিয়ের পর।”

হঠাৎ কি মনে হলো জানিনা,নিউটন আচমকা জড়িয়ে ধরল গোপলাকে,গোপালও ফুল সেন্টু খেয়ে গেছে।
ওদের দেখে শানু ঘাপলা ট্যাংরাদের ফুল টিম ঝাঁপিয়ে পড়ল ওদের উপর,নিউটনের ঘরে… জোছনা পায়েসের বাটি উল্টে ধুয়ে যাচ্ছে ওদের ক্লাবঘরটা,লেড়ো বিস্কুটের গুড়ো মেখে দাঁড়িয়ে একটা গলি ব্যাচেলর লাইফের স্বপ্ন নিয়ে।পাড়ার মোড়ে,গলির বাঁকে তখন কটা ভাঙাচোরা সাইকেলের আওয়াজ মেখে দাড়িয়ে থাকে পথ,ঝালমুড়ি আর প্রথম কাউন্টারের ধোঁয়া ফুটবল মেখে বলে যায় ক্ষীরকদমের গল্প।

প্রেমিকার ভালবাসা আর ভালবাসার রকবাজি টিপকলে ভরে রাখে রাত,
“ভাড়া করা সাইকেল রেসগুলো
ছুটছে ব্যাক পাসে।
খালি গায়ে নৌকার ছাইগুলো,
উড়ছে একপাশে।
সেলোফেনে মুড়ে রাংতারা-
সাদাকালো অ্যালবামে!
সন্ধ্যের আরতির শাঁখ বাজে বন্ধুর ডাকনামে।”

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত