নিশ্চুপ মেয়েটি

নিশ্চুপ মেয়েটি

প্রতিদিনের মতো রিকশা থেকে নেমে পার্ক এ গেলাম। মেয়েটি আজকে ও বসে আছে। তার সামনে দুইটা পাখি।
২মাস হলো এই এলাকায় এসেছি।প্রথম থেকে ই মেয়েটাকে দেখি বসে থেকে ২টা পাখির সাথে কি যেন কথা বলে নির্দিষ্ট সময়ে আবার চলে যায়।যতো দিন যাছে মেয়েটাকে ততো ভালো লাগছে।মেয়েটা দেখতে আহামরি সুন্দরি না। গায়ের রঙ শ্যামলা। কিন্তু চেহারায় অসম্ভব রকমের একটা মায়া আছে। এই মায়ার টানে ই প্রতিদিন আসি। এখানে আসার পরে মেয়েটাকে দেখার পর খোজ খবর নিই। মেয়েটার নাম তমা।

এই এলাকায় ই থাকে। যাই হোক এবার আসি তমা কেনো প্রতিদিন এভাবে বসে থাকে।কারণ টা জানার পর আমি ই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম। ৩মাস আগে তমা র একটা বয়ফ্রেন্ড ছিলো। ছেলেটার নাম আকাশ। ২জন ২জন কে খুব ভালোবাসতো।তাদের মধ্য ভালোবাসার পরিমান টা অনেক বেশি ছিলো। এই পার্ক এ ই ২জন গল্প করতো।আর ২টা পাখি ছোট গাছটাতে থাকতো। তমা আর আকাশ পাখি ২টির নাম দিয়েছিলো লিলিপুট। হাহা নাম টা অদ্ভুত না??তমা মেয়েটা ই এরকম অদ্ভুত। ২ জন প্রতিদিন পার্ক এ আসতো আর আর লিলিপুট দের সামনে রেখে গল্প করতো। একদিন পার্ক এ আসার পথে ই তাদের রিকশা টাকে একটা ট্রাক ধাক্কা দেয়।

তমার মাথায় হালকা চোট লাগলে ও আকাশ সেই এক্সিডেন্ট এ মারা যায়।তমাকে ছেড়ে চলে যায় অনেক দূরে। না ফেরার দেশে। আকাশের মৃত্যুর কথা শুনার পর তমা ২দিন জ্ঞ্যান হারিয়ে ছিলো। মাথায় চোট আবার আকাশ কে হারানোর যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে মেয়েটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সব ই করতো কিন্তু কারোর সাথে কথা বলতো না। সারাদিন ঘরে বসে থাকতো আর বিকেলে লিলিপুট দের সাথে কথা বলতে যেতো। একদিন কান পেতে শুনছিলাম পাখি ২টিকে কি বলে ও। বলছিলো “”লিলিপুট এই তোদের মনে আছে তোদের আকাশ ভাইয়া কি বলেছিলো??বলেছিলো তোদের আমদের সাথে নিয়ে যাবে। অই দেখ তোদের আকাশ ভাইয়া চলে এসেছে( আমি এদিক অদিক চোখ বুলিয়ে দেখলাম কই কেউ ই নাই।এটা তমার কল্পনা)।

তারপর অদৃশ্য কিছু একটা র সাথে তমা কথা বলতে থাকে।কথাগুলো এরকম””আজ দেরী হলো কেনো আকাশ। তোমার কথা ই এদের বলছিলাম””

এইটুকু শুনার পর আমি আর ওখানে থাকতে পারিনি।চোখ দিয়ে এমনি ই পানি।বের হয়ে গেছিলো। একটা মেয়ে যে একজন কে এতো ভালোবাসতে পারে তা তমা কে না দেখলে জানতে পারতাম না।

মেয়েটির প্রতি অনেক দুরবল হয়ে পড়ি। ওর মা বাবার সাথে ও কথা বলি ওর ব্যাপারে। কয়েকদিন পর নাকি তমার অপারেশন হবে। অপারেশনে যদি ঠিক হয় তাহলে মানসিক ভারসাম্য ফিরে পাবে।কিন্তু যদি মানসিক ভারসাম্য ফিরে না পায় তাহলে তমা নাকি আর কোনোদিন ই ঠিক হবে না। তবুও স্বাভাবিক জিবনে ফিরিয়া আনতে হলে তমার অপারেশন টা জরুরি।তমার মা বাবার সাথে অনেক টাই ফ্রি হয়ে গেছি।

কয়েকদিন পর আজ তমার অপারেশন হবে। সবার সাথে আমিও গেছিলাম হসপিটালে। অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানোর সময় কেমন জানি বুকের মধ্য চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছিলো।

আধা ঘন্টা,,,এক ঘন্টা,,,২ঘন্টা,,৩ঘন্টা পরে ডাক্তার বের হলো। বলল তমা ঠিক হয়ে যাবে।তখন যে কতো খুশি হয়েছি বলে বুঝাতে পারবো না। ডাক্তার বলল সাভাবিক হতে কয়েকদিন সময় লাগবে। আর আকাশের অবস্থানে কাওকে থাকতে হবে।। তমার মা বাবার অনুরোধে আকাশের জায়গা টা আমাকে ই নিতে হলো। আমিও নিলাম কারন তমা কে বড্ড বেশি ই ভালোবেসে ফেলেছি। তারপর এইতো তমা সুস্থ হয়ে গেছে। ওর চেহারায় মায়াটা আর ও বেড়ে গেছে।

পড়াশুনা শেষকরে আমি ও একটা চাকরি করছি। আমার মা বাবা আর তমার মা বাবা আমদের ২জন এর বিয়ে ঠিক করেছে। আমিও অমত করিনি অমত করার কোনো প্রশ্ন ই উঠে না। খুব খুশি আমি মায়াবতিটাকে সারজিবনের জন্য পেয়ে যাবো। যাই হোক এখন তমার সাথে লিলিপুট দের সাথেদেখা করতে যাবো। আপনারা থাকেন।। বাই বাই।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত